Today 02 Jun 2020
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

খানভবন হরর

লিখেছেন: আরজু মূন জারিন | তারিখ: ১৭/০২/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 649বার পড়া হয়েছে।

horor

অষ্টম পর্ব

ইয়া নবী সালা মালাইকা
ইয়া রাসুল সালামালাইকা।
সালা ওয়া তুল্লা আালাইকা।
তুমি নুরের পরশী

হুজুর একা একা মিলাদ পড়তে লাগলেন।ঘরের চারিপাশে জ্বালিয়ে দিলেন আগরবাতি। হুজুরের দেখাদেখি মিলাদে শরীক হয়ে পড়ল সবাই যদি ওজু ছাড়া টুপী ছাড়া।ওজু করতে হলে ওয়াশরুমে যেতে হবে এমনকি পুরুষদের মনে ভূত প্রেত সংক্রান্ত ভয় ঢুকে গিয়েছে।কেননা অনেক জিনিসের ব্যাখ্যা তারা খুজে পাচ্ছিলনা।

সামিয়ার দুইজন বন্ধু এবং পুলিশের লিডার তাদের ধারনা বড় কোন ক্রিমিনালরা এখানে ঘাটি গেড়ে আছে।তারা চায়না মানুষ সন্ধান পাক তাদের।এজন্য চারিপাশে ভৌতিক পরিবেশ তৈয়ারী করা হয়েছে এবং ইচ্ছাকৃত প্লানমাফিক করা হচ্ছে।

তাহলে আমরা রাস্তাঘাট খুজে পেলামনা কেন? ড্রাইভার বলে উঠল।এখন সে নিশ্চিত এখানে ভূত প্রেতের অছর আছে।

রাস্তা ছিল অন্ধকার।ভয়ে তুমি হতবুদ্ধ হয়েছিলে বলে রাস্তা খুজে পাচ্ছিলেনা ফালতু কথা বলবেনা ।ধমক দিয়ে বলল পুলিশের লিডারটি।যদিও সে নিজে ও এখন সংশয়মুক্ত হতে পারেনি তার হাতে নেকড়ের কামড়ে।

আরেকজন বলল বাথটাবে লাশ ক্লোসেটে কাকের মাথা তারপর এদের আলখেল্লা ধরনের পোষাক।বাপরে একজন ভয়ে কাপুনী সহ বলল।

পরের দুইঘন্টা নিরুপদ্রবে কাটল খানভবন বাসিন্দাদের।এখন বাজছে তিনটা।কোনভাবে আর তিনঘন্টা পার করতে পারলে সকাল ঠিক ছয়টায় এখান থেকে রওয়ানা হয়ে যাব পরে পুলিশ ফোর্স এনে জায়গা ঘেরাও করব।আশা করি আমরা নিরাপদে এখান থেকে ঢাকায় পৌছেতে পারব।

সবাই দুই তিনঘন্টার রেষ্ট করেন আমরা পাহারায় আছি।পুলিশের একজন অভয় দিয়ে সবাইকে বলল।

সবার এই প্রস্তাব মনপূত হল।তাছাড়া সারাদিনের ধকলে নাওয়া খাওয়া ছাড়া সবাই খুবই ক্লান্ত।মেয়েরা কয়েকজন একসঙ্গে কিচেনে আসল।সব রুটি তন্দুরী গুলি চুলায় গরমে দিয়ে দিল।

খাওয়া দাওয়া করল সবাই দীর্ঘ দশঘন্টা পরে।কেও কেও সিগারেট ধরাতে গেলে পুলিশদের দল নিষেধ করল।বন্ধ ঘর দূর্ঘটনা ঘটতে পারে। কয়েকজন এসে পানি গরম দিল চুলায়।একজন খুবই উত্তেজিত কাবার্ডে চাপাতা দুধ চিনি পেয়ে গেল বলে।

না এই দুধ চিনি কেও হাত দিবেনা।আপাতত ফুটানো পানি সবাই খান।ওইসব খাওয়ার কতদিনের পুরানো কে জানে।পুলিশ টি এত কিছু ভেঙ্গে বললনা যে তার সন্দেহ এই চিনি দুধে হয়তবা বিষ মেশানো থাকতে পারে।

হঠাৎ পাকঘর থেকে মেয়েরা চিৎকার শোরগোল করে দৌড়ে আসল ভিতরে।একজন বলল কাপতে কাপতে জানালার বাহিরে আচড়ের আওয়াজ এর মত শুনেছে।

ভয় পাওয়ার কিছু নাই কুকুর হতে পারে।পুলিশের লিডার মেয়েদের অভয় দেওয়ার চেষ্টা করছে।যদি ও ভিতরে ভিতরে সে ও একটু ভয় পেতে শুরু করেছে।

সবাই গোল করে বসে আছে ।কেও কেও আরেকজনের গায়ে হেলান দিয়ে ঝিমিয়ে নিচ্ছে।

আস্তে আস্তে অনেকে ঘুমিয়ে পড়ল।একপর্যায়ে শুধু জেগে রইল শুধু চারজন পুলিশ আর রহমান সাহেব আর সামিয়ার দুইবন্ধু।হঠাৎ তাদের মনে হল আশেপাশের পরিবেশে একটা পরিবর্তন হচ্ছে।আলোর উজ্জলতা কি কমে যাচ্ছে আস্তে আস্তে।কমতে কমতে একপর্যায়ে সবগুলি লাইট নিভে গেল।পুলিশরা সব লাফ দিয়ে উঠে দাড়াল ।চারকোনায় চারজন পিস্তল তাক করে দাড়িয়ে রইল।শুধু একজনের হাতে টর্চ আছে একটা।সে জ্বালিয়ে চারিদিক আলো ফেলতে লাগল।

অন্ধকার অস্বাভাবিক পরিবেশে আস্তে আস্তে সবার ই ঘুম ভেঙ্গে গেল।মেয়েরা ঘুম ভেঙ্গে আতন্কে চিৎকার শুরু করল।

ঠিক তখন ই শোনা গেল অনেকটা করাত দিয়ে কাঠ কাটার আওয়াজের মত।সবাই ভয়ে জমে গেল।আওয়াজের উৎস অনুসরন করতে দেখল শব্দটা আসছে দোতালা থেকে।অর্থাৎ উপরের ছাদে কেও কিছু একটা করাত দিয়ে কাটছে।দেখে শুনে মনে হচ্ছে ছাদটা কাটা হচ্ছে যেন লাফ দিয়ে কেও নীচে আসছে এই ভীত মানুষগুলোকে ধরতে।এখানে লাইট নাই কিন্তু টের পাওয়া যাচ্ছে উপরে লাইট ফ্যান চলছে।অনেকের শোরগোল ও শোনা যাচ্ছে।যেন কোন পার্টি চলছে উপরে।

দুইজন পুলিশ আস্তে আস্তে দোতালার দিকে রওনা হল দেখার জন্য।

উপরে যেহেতু লাইট আছে সিড়িতে একজন দাড়িয়ে রইল টর্চ হাতে।বাকী দুজন ধাক্কা দিতে দরজা খুলে গেল।দরজার কোনা থেকে কয়েকটা ইদুর এসে লাফ দিয়ে পড়ল তাদের পায়ের উপরে।

যাহ বলে পা ঝাকানি দিয়ে ইদুরগুলিকে ঝেড়ে ফেলল পুলিশটি।

টিভি চলছে উপরে।তার শব্দ সম্ভবত নীচ থেকে শোনা যাচ্ছিল।

টিভিতে দেখা যাচ্ছে একজন গাছ কাটছে।

আস্তে আস্তে খুজতে তারা মেইন সুইচ পেয়ে গেল।দেখল সব ঘরের সুইচ নিভিয়ে রাখা হয়েছে।

সব সুইচ জ্বালিয়ে দিতে পুরা বিল্ডিং টি হেসে উঠল যেন।

সিড়ি থেকে চিৎকার করে ডাকল নীচের সবাইকে।

আমরা এখানে আনন্দ করছি নাচ গান আনন্ হচ্ছে এখানে।যার যার ইচ্ছে জয়েন করতে পার এখানে।একজন ঘোষনার ভঙ্গিতে বলে।কোন ধরনের অস্বাভাবিক কিছুর উপপ্থিতি না দেখে উৎফুল্ল সবাই।

যাক মনে হচ্ছে সব অতিরন্জিত করে ভাবছিলাম পুলিশের লিডার টি বলে।

উপরে সবাই যে যার বসে টিভি দেখতে শুরু করে।কেও কেও চ্যানেল চেন্জ করতে ব্যাস্ত হয়ে পড়ে।

অনেকক্ষন ধরে চার পুলিশ চেষ্টা করছে ঘরের দেওয়ালে টোকা দিয়ে কোন ড্যাম্প বা ফাকা জায়গা আছে কিনা।ক্লোসেটের ডালা খুলতে বোটকা গন্ধে রুমের সবার নিঃশ্বাস বন্ধ হওয়ার জোগাড়।

ভিতরের ওয়ালে ধাক্কা ধাক্কি করতে ওয়াল ফাকা হয়ে গেল।বিষ্ময়সূচক ধ্বনি সহ আতন্কে সবাই চিৎকার করে উঠল।ক্লোসেটের দরজা খোলার পর এখানে থেকে ঝুলে আছে সিড়ি।অনেকক্ষন ধাক্কার পর প্রচন্ড গতিতে সিড়িটা এসে ক্লোসেটের সাথে লেগে গেল আবার।

পুলিশ দুইজন লাপ দিয়ে পিছনে সরে গেল নাহলে লোহার সিড়ির আঘাতে আহত হওয়ার আশন্কা ছিল।

সিড়ি আবিষ্কার করার পর সবার মনে আবার নুতুন আতন্ক জমা হল।

সম্ভবত এরা ভূলে গিয়েছে সিড়ির দরজা বন্ধ করতে।একজন বলে উঠল।

আর এটা পরিস্কার এই সিড়ি দিয়ে বাহিরের মানুষ গুলো ভিতরে এসেছিল।হুজুরকে থাপ্পড় দেওয়া বাথটাবে লাশ সম্ভবত শয়তানদের কেও কেও আত্নগোপন করেছিল আমাদের সঙ্গে আমাদের ই অজান্তে।

এরপরে সিড়িটাতে ধাক্কা দিলে আর খুলছেনা।শক্ত হয়ে লেগে গেছে আবার।

এখন আপাতত আমরা নিরাপদ আছি।সিড়ির দরজা যেহেতু বন্ধ বাহিরে কেও ভিতরে ঢুকতে পারবেনা।

ঘড়িতে এখন সময় ৪:৩০।সবাস

কিছুক্ষনের জন্য সবাই একটু শন্কামুক্ত হল।একঘন্টার জন্য কেও আর ঘুমানোর চেষ্টা করলনা।দোতালা তিনতলা নীচে সবাই যে যারমত ঘুরে ঘুরে দলবেধে দেখছে।প্রতিটা রুমে উজ্জল আলোর কারনে সবার মন থেকে আগের অসহনীয় ভীতি একটু দুর হয়েছে।

আবার একটা শব্দ আসল ঠিক উপর থেকে।মনে হল ধুম করে কোন বস্তা জাতীয় কিছু মাথার উপর ফেলা হল।তিনতলা অথবা ছাদ থেকে হতে পারে।অনুমানে তারা এই আশন্কা করল।

আবার আগের ভয়ভীতি মনে ফিরে আসল সবার মনে।

সবাই শব্দহীন হয়ে রইল কতক্ষন।

চল তিনতলা র ক্লোজেট নীচতলার ক্লোসেট সব পরীক্ষা করি।আপাতত এই রুমের সিড়ি টা লক করে দেওয়া আছে।

সাব্যস্ত হল মেয়েরা দোতালায় দুইজনের পুলিশে জিম্মায় থাকুক।

বাকী পুরুষরা পুলিশ সহ তিনতলার দিকে রওনা করল।

দোতলার সবাই রুদ্ধশ্বাসে অপেক্ষা করতে লাগল মনে শন্কা ভয় সহ।

হঠাৎ নীচের সবাই শুনল মানুষের ব্যথায় কাতরে উঠার আওয়াজ তার সাথে পাখীর কক আর ডানা ঝাপাটানোর আওয়াজ।

তিনতলায় পুলিশ ভাইয়ের উপর মনে হয় হামলা হয়েছে একজন কিছুক্ষন পরে ফিসফিসিয়ে বলল ।সবাই শব্দ করে কথা বলার সাহস হারিয়ে ফেলেছে।

শন্কিত ও আতন্কিত হৃদয়ে তিনতলার সিড়ির দিকে তাকিয়ে আছে তারা।

(চলবে)

৮৯৬ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
নিজের সম্পর্কে কিছু বলতে বললে সবসময় বিব্রত বোধ করি। ঠিক কতটুকু বললে শোভন হবে তা বুঝতে পারিনা । আমার স্বভাব চরিত্র নিয়ে বলা যায়। আমি খুব আশাবাদী একজন মানুষ জীবন, সমাজ পরিবার সম্পর্কে। কখনো হাল ছেড়ে দেইনা। কোনো কাজ শুরু করলে শত বাধা বিঘ্ন আসলেও তা থেকে বিচ্যুত হইনা। ফলাফল পসিটিভ অথবা নেগেটিভ যাই হোক শেষ পর্যন্ত কোন কাজ এ টিকে থাকি। জীবন দর্শন" যতক্ষণ শ্বাস ততক্ষণ আশ " লিখালিখির মূল উদ্দেশ্যে অন্যকে ভাল জীবনের সন্ধান পেতে সাহায্য করা। মানুষ যেন ভাবে তার জীবন সম্পর্কে ,তার কতটুকু করনীয় , সমাজ পরিবারে তার দায়বদ্ধতা নিয়ে। মানুষের মনে তৈরী করতে চাই সচেতনার বোধ ,মূল্যবোধ আধ্যাতিকতার বোধ। লিখালিখি দিয়ে সমাজে বিপ্লব ঘটাতে চাই। আমি লিখি এ যেমন এখন আমার কাছে অবাস্তব ,আপনজনের কাছে ও তাই। দুবছর হলো লিখালিখি করছি। মূলত জব ছেড়ে যখন ঘরে বসতে বাধ্য হলাম তখন সময় কাটানোর উপকরণ হিসাবে লিখালিখি শুরু। তবে আজ লিখালিখি মনের প্রানের আত্মার খোরাকের মত হয়ে গিয়েছে। নিজে ভালবাসি যেমন লিখতে তেমনি অন্যের লিখা পড়ি সমান ভালবাসায়। শিক্ষাগত যোগ্যতা :রসায়নে স্নাতকোত্তর। বাসস্থান :টরন্টো ,কানাডা।
সর্বমোট পোস্ট: ২২৯ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৩৬৮৩ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৯-০৫ ০১:২০:৩৫ মিনিটে
banner

৩ টি মন্তব্য

  1. ঘাস ফড়িং মন্তব্যে বলেছেন:

    অনেক ভাল লাগল। সুন্দর লেখার জন্য ধন্যবাদ ।

  2. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    তোমরা হারিয়ে যেয়ো না

  3. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    আপু আবার লেখা শুরু করেন প্লিজ

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top