Today 14 Dec 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

খানভবন হরর (দ্বিতীয় পরিচ্ছদ )

লিখেছেন: আরজু মূন জারিন | তারিখ: ১১/০৭/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 778বার পড়া হয়েছে।

পর্ব -তিন

উপর থেকে উড়ে এক টা বল এসে পড়ল কুকুরটির মাথায়। কুকুরটি আচমকা বাধাপ্রাপ্ত হয়ে ঘেউ ঘেউ শুরু করল। কোন ফাকে বারান্দা থেকে অর্ণব এর বল গড়িয়ে এসে পড়ল যাতে এই যাত্রায় সম্ভবত কুকুরের আক্রমন থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারল নয়ন। কুকুরটার দিশেহারার অবস্থার সুযোগে দরজা খুলে দ্রুত ঘরে ঢুকে ছিটকিনি লাগিয়ে দিল সে। ঘরে এসে ও কিছুক্ষণ লাগল নিজেকে স্বাভাবিক করতে। হাত পা এলিয়ে কিছুক্ষণ সোফায় বসে রইল।

কি হয়েছে কি হয়েছে নীলিমা জিজ্ঞাসা করছে বারবার ব্যাকুল হয়ে।

দাড়াও স্থির হতে দাও একটু সে  খিচিয়ে উঠল। ভয়ে দুঃশ্চিন্তায় স্বাভাবিক ধৈয্য জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে।

কিরে আমি এত ভয় পেলাম কেন পরক্ষণে নিজেকে শাসাল সে। এখন কিছুটা হাসি ও পাচ্ছে ঘরে ঢোকার পর। অন্ধকার নির্জন রাস্তা তার সাথে এই অস্বাভাবিক কুকুর তার মনে  মানসিক দুর্বলতা তৈরী করেছে।

কোথা থেকে এলে ? বাজার কোথায় ?

তক্ষুনি খেয়াল হল নয়নের।

এই যাহ বাজার তো গাড়ির পিছনের বুটে ফেলে এসেছি। কি যে কান্ড আমার।

কেন কি হয়েছে ভুলে গেলে কেন ? নীলিমা আতঙ্কে জিজ্ঞাসা করে।

আর বলনা বের হব গাড়ি থেকে ,ভয়ংকর এক কুকুরের সামনে। বুঝলামনা কোন মানুষজন নাই। এই কুকুর কিভাবে আসল।

দুশ্চিন্তা গ্রস্থ হয়ে বলে সে।

এক সৃষ্টিছাড়া অলক্ষুনে জায়গায় আসছি কি যে করি। কি বলব নীলি একদিনে মন উঠে গেছে এই জায়গা থেকে।

না এত অস্থির হয়না স্বামীকে সান্তনা দেয় সে।

বাজার টা আনতে হবে গাড়ির বুট থেকে। দেখি কুকুর টা চলে গেছে নাকি।

না না এখন যেওনা স্বামীকে আকড়ে ধরে সে। কাল দিনের বেলায় নিলে হবে।

দুধ আর মাংশ আছে। নষ্ট হয়ে যাবে তো। একটু দেখি। জানালা একটু খুলে ফাকা করে দেখল

মনে হচ্ছে কুকুর টা চলে গেছে।

পোর্চের লাইট টা কে অফ করল তুমি ? নয়ন জিজ্ঞাসা করে নীলিমা কে।

নাতো বিস্মিত হয়ে বলে সে। এত সারারাত জালানো থাকে। আশেপাশে অন্ধকার বলে।

সুইচ টিপলো। লাইট জ্বলে উঠে নি

যাহ লাইট ফিউজ হয়ে গেছে মনে হচ্ছে।

তুমি একটু টর্চ টা ধর ওয়াইফ কে বলল , আমি নিয়ে আসি বাজার গুলো।

অনিছাস্বত্তেও স্বামীকে অনুমতি দিল বাহিরে গিয়ে বাজার আনার জন্য যদিও উত্কন্ঠা আশঙ্কায় তার বুক ধকধক করতে লাগল।

আস্তে দরজা খুলে টর্চ হাতে নীলিমা দাড়াল।

দাড়াও এই লাঠি টা হাতে রাখ সাবধানতার জন্য।

গাড়ির বুট খুলে একটা একটা করে বাজার বের করতে লাগল। তখন দৃষ্টি আটকে গেল কিছুটা দুরের এক ক্ষেতে উজ্জল আলোর শিখা যেন এদিকে এগিয়ে আসছে।

রহস্যময় বিড়বিড় করে বলে উঠে।

তখন ই আচমকা কোথেকে কুকুর আবার উদয় হল এবং দৌড়ে আসতে লাগল নয়নের দিকে।

নীলিমার আত্মচিত্কার দিয়ে অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার অবস্থা হল।

হাতের লাইটার জালিয়ে কুকুরটার দিকে ছুড়ে মারল।

কুকুর টা একটু দুরে সরে ঘেউ ঘেউ করতে লাগল।

একটু দুরে কিসের হুটুপুটির আওয়াজ শোনা যাচ্ছে।

দুইহাতে যে কয়টা বাজার পারল নিয়ে লাপ দিয়ে ঘরে এসে ঢুকল। শক্ত করে দরজার তিন ছিটকিনি লাগিয়ে দিল।

বাহিরে এখন ও কুকুরের ঘেউ ঘেউ ডাক শোনা যাচ্ছে। তার সাথে তীক্ষ এক আওয়াজ ভেসে আসছে দুরের বাগান থেকে।

নয়ন কাপতে কাপতে ডায়রি থেকে থানার নাম্বার খুঁজে বের করল।

ফোন করে বসল থানায়।

(পরবর্তীতে )

৮৪৮ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
নিজের সম্পর্কে কিছু বলতে বললে সবসময় বিব্রত বোধ করি। ঠিক কতটুকু বললে শোভন হবে তা বুঝতে পারিনা । আমার স্বভাব চরিত্র নিয়ে বলা যায়। আমি খুব আশাবাদী একজন মানুষ জীবন, সমাজ পরিবার সম্পর্কে। কখনো হাল ছেড়ে দেইনা। কোনো কাজ শুরু করলে শত বাধা বিঘ্ন আসলেও তা থেকে বিচ্যুত হইনা। ফলাফল পসিটিভ অথবা নেগেটিভ যাই হোক শেষ পর্যন্ত কোন কাজ এ টিকে থাকি। জীবন দর্শন" যতক্ষণ শ্বাস ততক্ষণ আশ " লিখালিখির মূল উদ্দেশ্যে অন্যকে ভাল জীবনের সন্ধান পেতে সাহায্য করা। মানুষ যেন ভাবে তার জীবন সম্পর্কে ,তার কতটুকু করনীয় , সমাজ পরিবারে তার দায়বদ্ধতা নিয়ে। মানুষের মনে তৈরী করতে চাই সচেতনার বোধ ,মূল্যবোধ আধ্যাতিকতার বোধ। লিখালিখি দিয়ে সমাজে বিপ্লব ঘটাতে চাই। আমি লিখি এ যেমন এখন আমার কাছে অবাস্তব ,আপনজনের কাছে ও তাই। দুবছর হলো লিখালিখি করছি। মূলত জব ছেড়ে যখন ঘরে বসতে বাধ্য হলাম তখন সময় কাটানোর উপকরণ হিসাবে লিখালিখি শুরু। তবে আজ লিখালিখি মনের প্রানের আত্মার খোরাকের মত হয়ে গিয়েছে। নিজে ভালবাসি যেমন লিখতে তেমনি অন্যের লিখা পড়ি সমান ভালবাসায়। শিক্ষাগত যোগ্যতা :রসায়নে স্নাতকোত্তর। বাসস্থান :টরন্টো ,কানাডা।
সর্বমোট পোস্ট: ২২৯ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৩৬৮৩ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৯-০৫ ০১:২০:৩৫ মিনিটে
banner

১২ টি মন্তব্য

  1. এম আর মিজান মন্তব্যে বলেছেন:

    দারুন!পরবর্তী পর্বের আশায় শুভ কামনা।

  2. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    ভয়ংকর কান্ড কারখানা… আপু বই বের করবা না

  3. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    আগামী বই মেলায় তোমার লেখা বই চাই

  4. জসীম উদ্দীন মুহম্মদ মন্তব্যে বলেছেন:

    কিরে আমি এত ভয় পেলাম কেন পরক্ষণে নিজেকে শাসাল সে। এখন কিছুটা হাসি ও পাচ্ছে ঘরে ঢোকার পর। অন্ধকার নির্জন রাস্তা তার সাথে এই অস্বাভাবিক কুকুর তার মনে মানসিক দুর্বলতা তৈরী করেছে।—— অসাধারন এক রহস্য দানা বাঁধছে মনে হয় !!
    আপনার এই ধরনের গল্প গুলো আমাকে বেশ ভয় পাইয়ে দেয় ——-। এই ভয় থেকে মুক্তির উপায় কী আপি ?

    • আরজু মূন মন্তব্যে বলেছেন:

      ভয়ের গল্প টা ভয় দেখানোর জন্য। তবে এবারের পর্ব গুলি গুছিয়ে লেখা হচ্ছেনা। ক্লান্ত থাকি তো। আগে তো শুধু চলন্তিকায় লেখতাম। আসলে এত ব্লগ ,এত কমেন্টস। ..সময় কোথায় ? এনার্জি থাকেনা নুতুন গোছান চিন্তার।

      ধন্যবাদ জসিম ভাই কমেন্টসের জন্য। শুভেচ্ছা রইল।

  5. দীপঙ্কর বেরা মন্তব্যে বলেছেন:

    Ager lekha ta achhe . Porhe nite Hobe
    khub sundar

  6. সারমিন মুক্তা মন্তব্যে বলেছেন:

    সত্যি ভয় পেলাম।

  7. আরজু মূন মন্তব্যে বলেছেন:

    আহারে কেন ? আমি আছি পাশে। ..ভয় পায়না।

  8. আরজু মূন মন্তব্যে বলেছেন:

    ধন্যবাদ মুক্তা কমেন্টসের জন্য। শুভেচ্ছা রইল।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top