Today 13 Dec 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

খান ভবন হরর (দ্বিতীয় পরিচ্ছদ)

লিখেছেন: আরজু মূন জারিন | তারিখ: ০৩/০৭/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 555বার পড়া হয়েছে।

আর ও দুই বছর পরের ঘটনা। খান ভবনে থাকতে এসেছে এক হিন্দু তরুণ দম্পতি নীলিমা ও নয়ন আর তাদের চার বছরের ছেলে অর্ণব।

সন্ধা  ৭ টা  আমাদের আজকের গল্প শুরু এখান থেকে।

নীলিমা রোজকার নিয়ম মত সন্ধা প্রদীপ জালিয়ে দিল ঘরে।

ইশ অনেক সুন্দর না উচ্ছ্বাসে বলে উঠে সে।

হ্যা দেখ ভাবতে অবাক লাগে মাত্র দশ লাখ টাকা  ভাবা যায় আমি মাত্র এক লাখ দিয়েছি ভদ্রলোক কে নয়ন বলে উঠে খুশি তে।

তাদের ছেলে সারাঘর দৌড়ে বল খেলে যাচ্ছে।

কি বাবা পছন্দ হয়েছে বাড়ি আদর করে ছেলের মাথা নেড়ে জিজ্ঞাসা করে নয়ন।

হ্যা বাবা এ তো ডিজনি প্রাসাদ ছেলে খুশিতে লাফাতে লাফাতে বলে।

নয়ন নীলিমা দুজনের খুশি হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে। তারা বেশ কয় বছর হলো প্রাইভেট ব্যান্ক এ কাজ করছে। অল্প স্বল্প করে সঞ্চয় করছিল একটা জমি কিনার আশায়। সেখানে এক্পরিচিতের মাধ্যমে যখন এই বাড়ির সন্ধান পেল তারা লুফে নিল। দশ লাখ টাকায় তেমন ভাল জমি পাওয়া কষ্টের। সেখানে তারা পেয়ে গেছে রেডিমেড বাড়ি। ব্যান্ক থেকে লোন নিয়ে একটা গাড়ি কিনে ফেলল আর বাড়ির প্রথম কিস্তির টাকা দিয়ে  আজ ই তারা বাড়িতে উঠে এলো। যতটা ভেবেছিল কল্পনায় তার চেয়ে বাড়িটা অনেক বেশি সুন্দর ভিতরে। ফিটিংস সব বাইরের। পুরা বিল্ডিং টাইলস এ করা। ফার্নিশড এবং ফার্নিচার খাট পালংক সোফা এমনকি টিভি আছে একটা দেওয়ালে লাগান। ঘর দেখে তারা অতিশয় সন্তুষ্ট। চারিদিকে এত পরিষ্কার। দেখে মনে হয়না পুরান বাড়ি মানুষ জন ছিলনা এতদিন , না? কি বল স্ত্রীকে আনন্দের সঙ্গে বলে।

রাত বাজে নয়টা

আর ও কিছু গোছানোর কাজ করছে নিচের লিভিং রুম এ একা একা নীলিমা। নয়ন তিনতলায় শো পিস টাঙ্গানোর জন্য ড্রিল ম্যাশিনে দেওয়াল এ ছিদ্র করছে। ছেলে অর্ণব দোতলা ভিডিও গেম খেলছে। কিচেনের সব হাড়ি পাতিল সাজিয়ে রাখছে নীলিমা। কিচেন টা ও এত সুন্দর। মন ভরে যায়। খোপ খোপ করে কাবারড

তাতে গ্লাস ডোর এ ঢাকা। সব কাছের প্লেট ,গ্লাস এনে সাজিয়ে রাখতে লাগল কাবার্ডে।

হটাত মনে হল পিছন থেকে কি একটা খেয়াল করছে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাতে আতকে উঠল। কিচেন এ জানালা দিয়ে কিছু একটা জ্বলজ্বলে চোখের প্রাণীর সাথে চোখা চোখি হল। হাত থেকে কাছের জগ টা পড়ে গিয়ে টুকরা টুকরা হয়ে গেল। তার এত শখের এত দিনের পুরানো ক্রিস্টাল গ্লাসের জগ টা মার কিনে দেওয়া। মনটা আশংকায় ভয়ে ভরে গেল তার ।

জানালা দিয়ে তাকাতে মনে হল কুকুর হবে মনে হয়। কিন্তু এই নির্জন জনবসতি হীন এলাকায় এই কুকুর আসল কিভাবে অবাক হয়ে ভাবতে ভাবতে জানালা বন্ধ করে ভালভাবে ছিটকিনি লাগিয়ে দিল। কাচ পরিস্কার করতে গিয়ে পা কেটে গেল কাচে। মনটা খারাপ হয়ে গেল এই প্রথম বারের মত।

নয়ন উপরের কাবার্ড গুলি গুছিয়ে নিচ্ছে কাপড়ে। লাগেজ উপরে রাখতে গিয়ে চিত্কার করে সে বসে পড়ল। উচু হয়ে সুচাল এক লোহার ছুরি গেথে আছে দেওয়ালে।

নীলি নীলি চিত্কার করে ডাকতে থাকে।

পড়িমড়ি করে উপরে এসে দুইজন দুইজনকে দেখে অবাক। একি হাত কাটল কিভাবে , দৌড়ে স্বামীর হাত ধরল।

ইশ এত গভীর ভাবে কেটেছে।

তাড়াতাড়ি ফার্স্ট এইড এর বক্স টা আন দোতলায়।

দোতলায় এসে ফার্স্ট এইড এর বক্স নিয়ে বের হতে গিয়ে দেখে ছেলে ফুফিয়ে কাদছে।  ছেলে চোখে হাত দিয়ে ভয়ে কাপছে এবং কানছে।

কি হয়েছে বাবা ? ছেলেকে কোলে তুলে নিল সে। ছেলে এখন ও কাপছে কোলের ভিতরে

মা মনস্টার ওই জানালার পাশে দাড়িয়ে ছিল।

বাবা তুমি কল্পনা করেছ বলে ছেলেকে সাহস দেওয়ার চেষ্টা করে। এসে জানালা বন্ধ করতে গিয়ে বাহিরের দিকে তাকিয়ে ছমছম করে উঠলো তার নিজের ই। গভীর নিকষ কাল আধার। আশেপাশে কোন বাড়ি বাতির অস্তিত্ব নাই। তাড়াতাড়ি জানালা লাগিয়ে পর্দা দিয়ে ঢেকে দিল।

ফার্স্ট এইড নিয়ে স্বামীকে ব্যান্ডেজ করতে করতে বলে কিছুটা উদ্বেগের স্বরে কোন ও দোকানপাট বাড়ি কিছু নাই। বিপদে পড়লে যে কি করব তাই ভাবি।

ওসব ভেবনা তো অফিস থেকে আসার পথে সব কিনে আনলে তো হল।

দশটায় রাতের খাওয়ার খেয়ে নিল তারা। কিছুক্ষণ টিভি দেখে শুতে আসল। অর্ণব কে তার রুম এ শোয়ানো গেলনা। সে বলছে এখানে মনস্টার আছে সে বাবা মায়ের সাথে ঘুমাবে। তিনজন মাস্টার বেড রুম এ শুয়ে পড়ল।

ওহ হো লাইট নিভান হলনা। নিভাতে যাবে যখন দেখে ঘরের বাতি র আলো ক্রমশ ক্ষীন হয়ে আসছে। এভাবে ক্ষীণ উজ্জল হতে লাগল।

ভয়ে আতঙ্কে স্বামীকে জড়িয়ে ধরল সে। সঙ্গে সঙ্গে বাতি জ্বলে উঠল । একবার আস্তে আস্তে নিভতে নিভতে আবার জ্বলে উঠছে।

কি ব্যাপার সে বলে উঠে।

ভোল্টেজ লো মনে হয়। দাড়াও দেখছি। এবার সব বাতি একসঙ্গে নিভে গেল । নিকষ কাল অন্ধকার পুরো খান ভবন কে গ্রাস করল যেন।
(পরবর্তীতে )

৬৫৩ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
নিজের সম্পর্কে কিছু বলতে বললে সবসময় বিব্রত বোধ করি। ঠিক কতটুকু বললে শোভন হবে তা বুঝতে পারিনা । আমার স্বভাব চরিত্র নিয়ে বলা যায়। আমি খুব আশাবাদী একজন মানুষ জীবন, সমাজ পরিবার সম্পর্কে। কখনো হাল ছেড়ে দেইনা। কোনো কাজ শুরু করলে শত বাধা বিঘ্ন আসলেও তা থেকে বিচ্যুত হইনা। ফলাফল পসিটিভ অথবা নেগেটিভ যাই হোক শেষ পর্যন্ত কোন কাজ এ টিকে থাকি। জীবন দর্শন" যতক্ষণ শ্বাস ততক্ষণ আশ " লিখালিখির মূল উদ্দেশ্যে অন্যকে ভাল জীবনের সন্ধান পেতে সাহায্য করা। মানুষ যেন ভাবে তার জীবন সম্পর্কে ,তার কতটুকু করনীয় , সমাজ পরিবারে তার দায়বদ্ধতা নিয়ে। মানুষের মনে তৈরী করতে চাই সচেতনার বোধ ,মূল্যবোধ আধ্যাতিকতার বোধ। লিখালিখি দিয়ে সমাজে বিপ্লব ঘটাতে চাই। আমি লিখি এ যেমন এখন আমার কাছে অবাস্তব ,আপনজনের কাছে ও তাই। দুবছর হলো লিখালিখি করছি। মূলত জব ছেড়ে যখন ঘরে বসতে বাধ্য হলাম তখন সময় কাটানোর উপকরণ হিসাবে লিখালিখি শুরু। তবে আজ লিখালিখি মনের প্রানের আত্মার খোরাকের মত হয়ে গিয়েছে। নিজে ভালবাসি যেমন লিখতে তেমনি অন্যের লিখা পড়ি সমান ভালবাসায়। শিক্ষাগত যোগ্যতা :রসায়নে স্নাতকোত্তর। বাসস্থান :টরন্টো ,কানাডা।
সর্বমোট পোস্ট: ২২৯ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৩৬৮৩ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৯-০৫ ০১:২০:৩৫ মিনিটে
banner

১০ টি মন্তব্য

  1. প্রহেলিকা মন্তব্যে বলেছেন:

    এগিয়ে চলুন পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করছি।

  2. মুক্তা খানম মন্তব্যে বলেছেন:

    দারুন হয়েছে৤

  3. আরজু মূন মন্তব্যে বলেছেন:

    ধন্যবাদ মুক্তা তুমি চমত্কার লিখছ। আমার ছোট বোনের মত তাই তুমি বলছি। কিছু মনে করছনা তো ?

  4. আরজু মূন মন্তব্যে বলেছেন:

    ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য। শুভেচ্ছা জানবে।

  5. আরজু মূন মন্তব্যে বলেছেন:

    মুক্তা তোমার লিখা টা আবার পোস্ট কর। মন্তব্য করা যাচ্ছেনা। আমি মন্তব্য করতে গিয়ে ফিরে এসেছি। আনোয়ার ভাই বলেছেন পুন পোস্ট দিতে। সুন্দর তোমার কবিতা।

  6. ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মন্তব্যে বলেছেন:

    আপনি বেশ সুন্দর করে লিখেছেন। বেশ ভাল লাগছে। পরের পর্বের অপেক্ষায় সবাই থাকবে।

  7. আরজু মূন মন্তব্যে বলেছেন:

    সত্যি ভাল লেগেছে আনোয়ার ভাই? আমি খুব দ্রুত লিখেছি এই পর্ব টি । এইজন্য গোছানো হয়নি। তবে পরের পর্ব গুলি ইনশাল্লাহ ভালো ভাবে লিখার নিশ্চয়তা দিলাম। অনেক ধন্যবাদ কমেন্টসের জন্য। শুভেচ্ছা জানবেন।

  8. সাখাওয়াৎ আলম চৌধুরী মন্তব্যে বলেছেন:

    একেবারে গা ছমছম করে উঠছে। সত্যিই চমৎকার লেখার হাত আপনার।

  9. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    গা ছম ছম করে পড়লেও

    ভাল লাগল

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top