Today 14 Nov 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

গরমে শিশুর যত্ন

লিখেছেন: নাসরিন খান রেশমা | তারিখ: ০৪/০৫/২০১৫

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 734বার পড়া হয়েছে।

 

গরমে শিশুর বিশেষ যত্নের প্রয়োজন। এই সময় শিশুর খাওয়া-দাওয়া থেকে শুরু করে গোসল ও পোশাক নির্বাচনের সময়ও মায়েদের বিশেষ যত্নবান হতে হবে। গরমে শিশুরা বড়দের তুলনায় অনেক বেশি ঘেমে যায়। এ সময় মৌসুমজনিত নানারকম সমস্যাও দেখা যায়।

1

তাই শিশুর প্রতি বিশেষ যত্নবান হলে এসব সমস্যা সহজেই এড়ানো সম্ভব। গরমে শিশুদের সাধারণত যে সমস্যাগুলো বেশি হয়ে থাকে তা হচ্ছে জলবসন্ত, র্যাশ বা ফুসকুড়ি, পেট খারাপ, ত্বকের অসুখ, ঠাণ্ডার সমস্যা বা মামস।

 

জলবসন্ত বা চিকেন পক্স

এ সময়টায় শিশুদের জলবসন্ত হয়ে থাকে। এটা সাধারণত এক থেকে পাঁচ বছরের শিশুদের বেশি হয়। তবে চিকেন পক্সের টিকা নেয়া থাকলে এ রোগটি হওয়ার আশঙ্কা অনেকাংশে কমে যায়। এ অসুখের সময় শিশুর বিশেষ যত্ন নিতে হবে। তাকে নরম সুতি কাপড় পরাতে হবে। তরল বা গরম জাতীয় খাবার খাওয়াতে হবে। বেশি করে পানি খাওয়াতে হবে। এর সঙ্গে অবশ্যই মায়ের দুধ খাওয়াতে হবে।

 

ত্বকের র্যাশ বা ফুসকুড়ি

শিশুদের ক্ষেত্রে এ সমস্যাটা বেশি দেখা যায়। এটা সাধারণত ঘামাচি বা চামড়ার ওপরে লাল দানার মতো ফুসকুড়ি হয়ে থাকে। এই র্যাশ বা ফুসকুড়ি চুলকানোর কারণে শিশুকে অবশ্যই পরিস্কার রাখতে হবে। নিয়মিত গোসল করিয়ে পরিস্কার জামা পরাতে হবে। ফুসকুড়ির জায়গাগুলোতে বেবি পাউডার লাগাতে পারেন। এতে চুলকানি কিছুটা কমে যাবে।

 

প্রতিবার কাপড় বদলানোর সময় শিশুকে নরম ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে পাউডার লাগিয়ে দিতে হবে। অনেক সময় ডায়াপারের কারণেও শিশুর ফুসকুড়ি হতে পারে। তাই খেয়াল রাখতে হবে, ভেজা ডায়াপার যেন শিশুর গায়ে বেশিক্ষণ না থাকে। ডায়াপার নষ্ট হয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে তা খুলে নতুন ডায়াপার পরিয়ে দিন। তবে গরমের সময় বেশিক্ষণ ডায়াপার না পরিয়ে রাখাই ভালো। অনেক সময় র্যাশ বেশি হয়ে গেলে ঘা হয়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।

 

পেট খারাপ

গরমের সময় সাধারণত বেশি হয়ে থাকে পেট খারাপ। শিশুর পেট খারাপ হলে তাকে ঘন ঘন স্যালাইন খাওয়াতে হবে। সেইসঙ্গে পানি অথবা ডাবের পানি খাওয়াতে হবে। একই সঙ্গে তাকে তরল খাবারও দিতে হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত শিশুর পায়খানা স্বাভাবিক না হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত এই নিয়ম মেনে চলতে হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে যেন শিশুর পানিশূন্যতা না হয় এবং তার প্রস্রাবের পরিমাণ স্বাভাবিক থাকে। এছাড়া শিশুর পায়খানার সঙ্গে যদি রক্ত যায় তবে অবহেলা না করে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। ছয় মাস বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে এ সময় কোনো অবস্থাতেই মায়ের দুধ বন্ধ করা যাবে না। সেইসঙ্গে পানি ও অন্যান্য খাবারও দিতে হবে।

 

ঠাণ্ডার সমস্যা

গরমে শিশুদের ক্ষেত্রে ঠাণ্ডার সমস্যাটাও বেশি হতে দেখা যায়। গরমে অতিরিক্ত ঘামের ফলে ঠাণ্ডা লেগে যেতে পারে। তাই শিশু ঘেমে গেলে সঙ্গে সঙ্গে তার শরীর মুছে দিয়ে কাপড় বদলে দিতে হবে। গরমে শিশুকে নিয়মিত গোসল করাতে হবে এবং তাকে সব সময় পরিস্কার কাপড় পরাতে হবে। এ সময় ঠাণ্ডা লেগে শিশুর মামস হতে পারে। মামস অনেক সময় অল্প দিনে সেরে যায়। কিন্তু বেশি দিন গড়ালে শিশুকে এমএমআর ইঞ্জেকশন দেয়া হয়। এ ছাড়া বিশেষজ্ঞের পরামর্শমত ব্যবস্থা নিতে হবে।

 

নিতে হবে চুলের যত্ন

এই গরমে আদরের ছোট্ট মণির চুলের দিকেও নজর দিতে হবে। গরমে চুলের গোড়া ঘেমে যায়, সঙ্গে ধুলাবালির আক্রমণ তো রয়েছেই। তাই রোগ প্রতিরোধে প্রথমেই শিশুদের চুলের বিশেষ যত্ন নিতে হবে। অনেক সময় অতিরিক্ত গরমে চুলের ত্বকে খুশকি বা ঘামাচি বের হয়। তাই গরমের শুরুতেই চুল ছেঁটে ছোট করে দিতে হবে। এতে চুলের গোড়া ঘামওে তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যায়।

 

এক বছর বা তার কম বয়সে শিশুদের গরমের সময় মাথা অবশ্যই ন্যাড়া করে দিতে হবে। আর চুল একান্তই লম্বা রাখতে চাইলে তার প্রতি আরও একটু যত্নশীল হন। গোসল করার পর চুল ভালোভাবে মুছে নিন। বড় ফাঁকওয়ালা চিরুনি দিয়ে চুলটা ঠিকভাবে আঁচড়ে দিন। এরপর চুল শুকিয়ে গেলে ভালোভাবে বেঁধে দিন। শিশুর চুলে তাদের উপযোগী ও ভালো মানের শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হবে। তাদের জন্য আলাদা চিরুনি ব্যবহার করা উচিত। সপ্তাহে দুই দিন চুলে শ্যাম্পু করা ভালো।

 

লেখক : ডা. মো. আবু তৈয়ব, নবজাতক ও শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ; ঢাকা শিশু হাসপাতাল

৭৩৫ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
সর্বমোট পোস্ট: ৩৮ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ০ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৯-১৭ ১২:৩২:৫৮ মিনিটে
banner

৫ টি মন্তব্য

  1. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ

    অনেকের উপকারে আসবে

    ধন্যবাদ আবারো ভাল থাকুন

  2. সবুজ আহমেদ কক্স মন্তব্যে বলেছেন:

    ভালো পোষ্ট
    বেশ উপকারী
    ভালো লাগলো

  3. দীপঙ্কর বেরা মন্তব্যে বলেছেন:

    দরকারী পোষ্ট
    কাজে লাগবে

  4. টি. আই. সরকার (তৌহিদ) মন্তব্যে বলেছেন:

    বেশ উপকারী পোস্ট । বিশেষ করে যারা বাচ্চাদের খেয়াল রাখার চেষ্টা করেন তাদের জন্য ।
    ধন্যবাদ সুন্দর ও প্রয়োজনীয় পোস্টটি শেয়ার করার জন্য ।

  5. অনিরুদ্ধ বুলবুল মন্তব্যে বলেছেন:

    সুন্দর পোস্ট – অনেকেরই উপকারে আসবে
    শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top