Today 09 Dec 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

গল্প-শান্তিনগর পোস্ট অফিস

লিখেছেন: কবি মাসুম মীকাঈল | তারিখ: ২৭/০৫/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 834বার পড়া হয়েছে।

শান্তিনগর পোস্ট অফিস,ঢাকা-১২১৭। একটা চিঠি পেয়েছিলাম,জিপিও করা মেইল!অনেক দিন কোনো মেইল পাই না, আজকাল মুঠোফোনের ব্যবহারে চিঠি লেখা-লেখি কমে গেছে অনেকখানি । এখন মুঠোফোনে ফেসবুক,টুইটার আরো কত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম রয়েছে,যেগুলোর ব্যবহারে উপকৃত হচ্ছে এই পৃথিবীর মানুষ। নিমিষেই পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তের খবর জানা যায় এবং আদান-প্রদান করা যায় এমনকি ছবি পর্যন্ত দেখা যায় । তাই খুব বেশি আশ্চর্য হয়েই মেইলটা গ্রহণ করি। গত কয়েক বছর আগে যখন খুব একটা মুঠোফোনের ব্যবহার বাড়েনি,একটা মেইল পেয়েছিলাম,তা ছিল আমার বন্ধু প্রিন্সের শোকের মেইল,মৃত্যুর পাঁচদিন পর হাতে পাই, সেই শাহাপুর,বদরগঞ্জ,রংপুর থেকে! হয়ত তখন একটা মুঠোফোন হাতে থাকলে খবরটা তৎক্ষণাৎ পেতাম, যেতেও পারতাম তার জানাযায় ! এই মেইলটা যে কিসের ভয়ই লাগছে,একটু হতবম্ভ হলাম!খামটা খুলে আশ্চর্য শুধু নয় সত্যি সত্যি ভয় পেয়ে গেলাম । খামের মুখটা খুলে ভিতরে হাত ঢুকিয়ে দেখি একটা এইট জিবি মেমোরী কার্ড,একটা চিঠি,আর রক্ত মাখা একটা রুমাল!চিঠিটা ছিল এমন-
বৃন্ত,
ভালোবাসা তুমি শিখিয়েছ,প্রেম তুমি শিখিয়েছ,তোমার শেখানো এই প্রেম-ভালোবাসা রক্ষা করতে পেলাম না। গত মাসে তুমি যখন বাবা-মাকে কথা দিয়ে চলে গিয়েছিলে তখন তোমার জন্য এই রুমালটা আমি বানিয়েছি,এই রক্ত গুলো হাত কেটে তোমাকে দেওয়া,যখন তুমি চিঠিটা পাবে তখন তোমার এই আমি রক্তে রক্তাক্ত হবে, জানি-তুমি উত্তেজিত হবে কিন্তু আমার উপায় নেই,আমি তোমাকে ঠগাতে পারব না । চিঠিটা লেখার এক সপ্তাহ আগে তোমার এই আমিকে হায়েনার মতো চিঁড়ে খেয়েছে ওরা, বাবা-মা চিন্তায় ঘুমোতে পারছে না, আমিও স্বস্তি পাচ্ছি না নিজেকে ভেবে-কি হয়ে গেল আমার! শোনো,ওপাড়ে তোমার জন্য অপেক্ষা করবো,ভেবো না,তুমি একটা লক্ষী মেয়ে দেখে বিয়ে করে সংসার করো! একটা বিষয়,ভেবে পাচ্ছিলাম না তোমাকে জানাবো কি জানাবো না তবুও জানালাম-আমার এন্ড্রয়েড ফোনটা ওপেন ছিল যখন ওরা আমার সাথে খারাপী করছিল,ওদের সমস্ত কীর্তিকলাপ ভিডিও হয়েছে,পাঠানো মেমোরী কার্ডে দেখতে পাবে! আমার বাবা সহজ-সরল মানুষ তুমি তো জানো, তাই এই ভিডিও-এর মেমোরী বাবাকে না দিয়ে তোমার কাছে পাঠালাম। মোবাইলটা আমার কাছে থাকল হয়ত কেউ নিবে,নিক! তোমাকে একটা দায়িত্ব দিয়ে গেলাম,তুমি এসবের সঠিক বিধান করবে,যদি কবর থেকে আমাকে তুলতেও হয় তুলবে,আমি বিহিদ একটা করতে পারতাম কিন্তু চেয়ারম্যানের ছেলেও জড়িত ছিল,থানা পুলিশ সব ওদের কবজায়,আমার বাবার কাছ থেকে প্রমাণের যাবতীয় এভিডেন্স ওরা নিয়ে উল্টো আমাকে দোষী সাব্যস্ত করবে,এমন তো হয়েই থাকে,তাই পারলাম না, সমাজ আর সমাজ নেই,হযরত আলী (রা)-এর একটা উদ্ধৃতি মনে পড়ছে যে,”কখন বুঝবে একটি দেশ ও সমাজ নষ্ট হয়ে গেছে,যখন দেখবে দরিদ্ররা ধৈর্যহারা হয়ে গেছে, ধনীরা কৃপণ হয়ে গেছে,মূর্খরা মঞ্চে বসে আছে,জ্ঞানীরা পালিয়ে যাচ্ছে এবং শাসকরা মিথ্যা কথা বলছে। “মৃত্যুর পর তো আর লজ্জা লাগবে না!তুমি আসবে তোমার অধিকার নিয়ে,জানি তোমাকে ওরা বাধাগ্রস্ত করবে কিন্তু মনে রেখ সত্যের জয় হবে। আমরা নিরুপায়! বাবা মেম্বার-চেয়ারম্যান,থানা-পুলিশ করতে করতে হাঁপিয়ে গেছে,বাসায় শুধু কাঁদে আর কাঁদে! সঠিক বিচার আমাদের কপালে নেই। তুমি বলতে পারো-ফোন দিয়ে তো জানাতে পারতে,তুমি বল-এই লজ্জার কথা তোমাকে জীবীত অবস্থায় আমি বলতে পারি? ক্ষমা করো! জানো, তুমি যখন ট্রেনে করে বাড়ি আসতে তখন আমি ট্রেনের শব্দের অপেক্ষায় থাকতাম আবার যখন চলে যেতে তখন ট্রেনের শব্দ শুনলে আঁৎকে যেতাম,আজ ভয় পাই না ট্রেনের শব্দ……।

ইতি তোমার
মৃত-স্ত্রী

বৃন্তের ঢুকরে কাঁদা ছাড়া আর উপায় নেই। কিন্তু না বৃন্তের হৃদয় পুরুষের-কাঁদবে কেন!মোবাইলটা প্যান্টের পকেট থেকে বের করে সিনফার বাবাকে ফোন করে বৃন্ত। কল রিসিভ করে সিনফার ছোট ভাই সিফাত-হ্যালো,
বৃন্ত-হ্যালো সিফাত,খালুকে দাও তো কথা বলব,
সিফাত-বাবা কথা বলে না!
বৃন্ত-সিনফাকে দাও
সিফাত এবার কেঁদেই উত্তর দেয়-দিদি নেই,দিদি মারা গেছে!
বৃন্ত হতবাক হয়ে যায়,হাত থেকে ফোনটা পরে গিয়ে অফ হয়ে যায় ।
দীর্ঘ সময় পর মোবাইল থেকে সিনফার ছবিটা ওপেন করে দেখতে লাগল,কখন যে চোখের কোণ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ছিল বৃন্ত বুঝে উঠতে পারেনি। গতমাসে ফিরে আসার সময় মুঠোফোনে তোলা ছবি। কত জোড়াজুড়ি করে ছবিটা তুলেছিল বৃন্ত। সিনফা বলেছিল-আর তো একটা মাস তারপর কত ছবি তোলার তুলো,তখন সারাদিন তো তোমার সামনেই থাকব। ” মুঠো ফোনের সেই ছবিটা আগলে ধরে মনটা শক্ত করে বৃন্ত।

চার-পাঁচ দিনে মেমোরী কার্ডের ভিডিও কয়েক কপি করে প্রেসক্লাব,উকিল,মহিলা অধিদপ্তর,কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠন আর সেই উপজেলার থানায় পাঠিয়ে দেয়,সাথে সাথে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়-‘সিনফার অপমৃত্যু , সংসার হলো না”প্রতিদিন কমেন্টস আসতে থাকে,গণমাধ্যমে প্রচার হয় সিনফার জীবনচরিত,বৃন্ত টক শো’তে বিচারের দাবি জানায়,মহিলা সংগঠন গুলির উদ্যোগে বৃন্ত প্রেস সম্মেলন করে,সিনফার বাবাকে দিয়ে গণমাধ্যমের সামনে মেয়ের বিচারের দাবি জানানো হয়। সংসদে সিনফার মৃত্যুর জন্য একমিনিট নীরবতা পালন করা হয়। ধর্ষকদের গড ফাদারসহ উক্ত উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রতিদিনের সংবাদ পত্রে নিউজ হয় সিনফার। জোর তাগিদে ধরা পরে চেয়ারম্যানের ছেলে সহ বাকি চারজন ধর্ষক,মামলা হাইকোর্টে আসে,ফেসবুক বন্ধু,সামাজিক সংগঠন,মানবাধিকার অঙ্গ-সংগঠন,বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী এসে জমা হয় হাইকোর্ট প্রাঙ্গনে ধর্ষকদের রায় শোনার জন্য আর বিজয় উল্লাস করার জন্য। পরিেশষে রায় হয়-একজনের ফাঁসি ও চারজনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড। বৃন্তের মুখে আসে স্বস্তির হাসি। সিনফার বাবা বৃন্তকে ডেকে বলে-বাবা তোমার জন্য ন্যায় বিচারটা পেলাম তুমি দীঘর্জীবী হও,ওর জন্য দোয়া করো,মন খারাপ করো না,সব আল্লাহর ইচ্ছা।তুমি আমার ছেলে হয়েই থাকবে। বিয়ে হলে বউকে নিয়ে এসো তখন সিনফাকে তার মাঝে খুঁজে পাব। যাই বাবা-সুখি হও!
কয়েক মাস কেটে যায়। বৃন্ত বিয়ে করবে না বলে সিদ্ধান্ত নেয়। শান্তিনগর পোস্ট অফিস থেকে নীল খামে চিঠি আসে বৃন্তের।
২৪.১০.১৪ইং

৮২৩ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
সর্বমোট পোস্ট: ৯ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ০ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৪-১০-২১ ১৪:২০:০০ মিনিটে
banner

২ টি মন্তব্য

  1. দীপঙ্কর বেরা মন্তব্যে বলেছেন:

    মোটামুটি গল্প ।
    জীবনের চিত্র
    ভাল লাগল

  2. সবুজ আহমেদ কক্স মন্তব্যে বলেছেন:

    ভালো প্রয়াস

    পড়ে ভালো লাগলো ;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;
    শুভ কামনা রইল

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top