Today 18 Jan 2020
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

গ্রামীণ গা ঘষনি

লিখেছেন: গোলাম মাওলা আকাশ | তারিখ: ০৪/০৪/২০১৫

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 1070বার পড়া হয়েছে।

—-গ্রামীণ গা ঘষনি—

fgg

গ্রাম আমাদের শিকড়। এই শিকড়ে হতে আমরা যারা শহরে এসেছি তারা আজ অনেক দূরে। সবার মাঝে এই প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। একবার কেও শহরে এলে সে আর গ্রাম অভিমুখে ফিরতে চায় না।
ক্লাস নাইনে না টেনের বাংলা ২য় তে একটা রচনা ছিল – চলো গ্রামে ফিরে যাই। সেই রচনায় গ্রাম গুলির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে শহুরে মানুষদের গ্রামে ফিরে যাবার আকুতি ছিল। সেই রচনা কালের পরিক্রমায় আর পড়ানো হয় না।
তা যাউক—আজ সেই গ্রামের মানুষদের ব্যবহার করা এমন একটি জিনিশ নিয়ে আবার আমি হাজির।
গ্রামের মানুষদের জীবনযাত্রা খুব স্বাভাবিক। যদিও শহরায়নের হাওয়া গ্রামেও মানুষদের গায়েও লেগেছে। তাদের জীবনযাত্রায় এসেছে কিছু পরিবর্তন। তবুও কিছু বিষয়ে সেই আদ্যিকালেই রয়ে গেছে গ্রামের মানুষ।
যেমন—পুকুরে গোসল। গ্রামের কি পুরুষ কি মহিলা কি বৃদ্ধ কি শিশু সকলেই গোসল করে পুকুরে। তবে সব পুকুরে আবার গোসল করা যায়না। এই জন্য গ্রামের সবচেয়ে বড় আর কিলকিলা( ঝকঝকে) পানি আছে সেই পুকুরে দলবেঁধে গোসল করে সবাই। আবার সেই পুকুরের পানি ভাত রাধার কাজেও ব্যবহার করার চলও আছে কোথাও।
তবে গোসল করার নির্দিষ্ট কিছু টাইম আছে। মহিলাদের দুপুর ১২টার আগেই গোসল সারতে হবে। তা না হলে দুপুর ৪ টার পর। সেই সময় ঐ দিকে কোন পুরুষ ঘেষতে পারবে না। তেমনি দুপুর ১২টার পর মহিলারা ঐদিকে যেতে পারবেনা।
আর ঘাটের পাশে থাকে–মহিলাদের জন্য চটের ঘের দেওয়া মিনি চেঞ্জরুম।

আমাদের গাওগ্রামে এই পদ্ধতিতেই গোসল এর চল সেই আদিকাল হতে। তবে ধনিরা নিজেদের বাড়ির সঙ্গে কুড়ি( ছোট পুকুর) খুড়ে তাদের বৌ-বেটিদের গোসল করার ব্যবস্থা করে থাকে।
এই গোসল সারার একটা উপলক্ষ হল শরীরে থাকা ময়লা দূর করা। আর এই জন্য ইউনিলিভারের লাইফবয় সাবান গ্রামের মানুষের নিকট আজও প্রিয়। আর সেই সাবান দিয়ে গা ডলে ময়লা তোলার জন্য ব্যবহার করা হয় তরুই/ঝিঙ্গা এর ছোবড়া/জালিকা।
আর আজ গ্রামের মানুষের ব্যবহার করা ঝিঙ্গা/তরুই এর জালিকা/ছোবড়া নিয়েই আজকের লিখা।
—-গা ঘষনি—-
>>ঝিঙ্গা/তরুই এর জালিকা/ছোবড়াঃ
এই ছোবড়া/জালিকা অনেকেই নিজেদের শরীর পরিষ্কার করতে ব্যবহার করেন এই (শহরে)আধুনিক জুগেও। যারা করেননি তারা আজি একখানি সংগ্রহ করে বাথরুমে রেখে দিন। আর গোসল এর আগে সাবান মেখে উত্তম রুপে জালিকাটি দিয়ে গা ডলা দিন। বাপ বাপ করে শরীরে থাকা ময়লা পালিয়ে যাবে।

>>তৈরির প্রক্রিয়াঃ
এই বস্তুটি সাধারণত গ্রামের গৃহিণীরাই তৈরি করে থাকেন। এ জন্য তারা নিজন গাছের বড় দেখে তরই/ঝিঙ্গা বাছায় করে তাকে উত্তমরূপে পাকতে দেন। সেটি পেকে তার চামড়া কালো হয়ে গেলে তখন সেটিকে তারা গাছ হতে পাড়েন ।এর পর তারা সেটিকে পানিতে ডুবিয়ে রাখেন এক বেলা( পাট জাগ দেবার মত)। এর পর সেটিকে পানি হতে তুললে তার গায়ে লেগে থাকা চামড়া(আবরন)এবার তুলে ফেলেন। আর ভিতরের জালিকার সঙ্গে থাকা বীজ সংগ্রহ করে শুকিয়ে রেখেদেন পরের বছরের রোপণের জন্য। বীজ ও চামড়া তুলে সুন্দর একটি জালিকা/ছোবড়া গা ঘোষা/ ঘষনি হিসেবে পাওয়া যায়।
>>ব্যবহার বিধিঃ প্রথমদিকে এটি খুব খশখশে থাকে তাই সাবধানে পানিতে ভিজিয়ে ব্যবহার করিতে হয়। আর ব্যবহারের পর তা শুকনা স্থানে রাখুন।
>>কি ভাবে ব্যবহার করিবেনঃ এই জন্য প্রথমে নিজ শরীরে উত্তম রুপে সাবান মাখিয়ে নিন। তারপর জালিকা কে পানিতে ভিজিয়ে তাতে সাবান মাখিয়ে নিন। এবার হাত দিয়ে শরীরের উপর ঘষতে থাকুন০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০ প্রয়োজন মত।
>>উপকারঃ
এটি প্রাকৃতিক এবং এতে ব্যক্টেরিয়া বা ছত্রাক জমতে পারেনা। যা প্লাস্টিকের ঘষনিতে জন্মাতে পারে। আর প্লাস্টিকের সাইড ইফেক্ট তো আছেই। তাই প্রকৃতিরর এই ঘষনি আজি সংগ্রহ করে ব্যবহার করুন।

১,০৬৫ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
আমি খুব সাধারণ।
সর্বমোট পোস্ট: ১৩৩ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৯৭৪ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৪-০৮-২২ ১৬:৩০:৪৭ মিনিটে
banner

১২ টি মন্তব্য

  1. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ

  2. সবুজ আহমেদ কক্স মন্তব্যে বলেছেন:

    আমি আগে থেকে চিনি কবি
    তবে গ্রামীন গা ঘষানি স্মরণ করিয়ৈ দিবার জন্য সহস্র ধন্যবাদ
    দারুন আইডিআ আপনার
    শুভ কামনা থাকলো
    ভাল লাগলো

  3. টি. আই. সরকার (তৌহিদ) মন্তব্যে বলেছেন:

    আগেই জানা ছিল ! কিন্তু মন থেকে প্রায় মুছতে যাওয়া স্মৃতির পাতা থেকে আবার উজ্জ্বল হল ধারণাটা এই নিবন্ধটি পড়ার পর । ভালো লাগলো ।

  4. দীপঙ্কর বেরা মন্তব্যে বলেছেন:

    অনেক জানলাম

  5. অনিরুদ্ধ বুলবুল মন্তব্যে বলেছেন:

    দারুণ । বেশ ব্যতিক্রমী পোস্ট – সুন্দর আইডিয়া।
    ভাল লাগল, শুভেচ্ছা জানবেন।

  6. ফাগুন আইভী মন্তব্যে বলেছেন:

    আমি দাদুবাড়িতে দেখেছি ছোটবেলায়! ভালো লাগলো তৈরির প্রক্রিয়া জেনে!

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top