Today 17 Sep 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

ঘুম ঘুম ক্লাসরুম

লিখেছেন: গুলশনারা | তারিখ: ২৯/০৯/২০১৩

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 517বার পড়া হয়েছে।

কলেজের বিএ প্রথম বর্ষের ছাত্রী কৃষ্ণকলি নিত্যদিনের ঝামেলা হল, অধ্যাপিকার প্রচন্ড বকুনি। কারণ? কালি চোখে, ঢুলুঢূলু কৃষ্ণকলি ক্লাস চলাকালীন হাই তোলার ঠেলায় অস্থির। ব্যস শুরু হল বকুনি। একেই ত প্রতিদিন প্রথম দুটো ক্লাস মিস হয়, তাই আবার তৃতীয় ক্লাস থেকে হাইয়ের বহর। কিন্তু কিই আর করা যাবে? ভোর চারটেয় বাড়ি ফিরে কি আর সকাল সকাল ক্লাসে আসা যায়? তারপরের ক্লাসে একটু হাই উঠতেই পারে। কী ভাবছেন? নাইট শিফট-এর ডিউটি সেরে বাড়ি ফেরে সে?উহু? ভোর চারটে অবধি হুল্লোড়ে জাগে নাইট ক্লাব আর হাউজ পার্টি। এবার চমক ভাঙল বুঝি। বদলের হাওয়ায় এখন সব কিছুই ওলটপালট। রাতে ঘুমোনর পালা চুকিয়ে দিচ্ছে  এই শহরের কত্ত জন! একটু নির্দিষ্ট করে বলতে গেলে জেন ওয়াই। সন্ধ্যে ঘন হতে শুরু করলেই নেশা জাগানো নিয়ন আলোয় রং মাখে। আর সেই রং গায়ে না মেখে অবহেলায় বিছানা বিলাস কি চলে? তখন গাড়িতে ফুল দমে মিউজিক আর পানীয়ের নেশায় চুর জেন ওয়াই। ভোরে আলো পড়তেই রাতের আধারি মায়া এক্কেবারে শেষ।

 

মায়াবী ঝকঝকে দিনের আলোয় বিশেষ মন নেই চলতি হাওয়ার উড়ুক দলের। বিভাবরী এখন কাটে জাগরণে। ‘ইয়ে জওয়ানি হ্যায় দিওয়ানি’ দেখে নিজেদের একেবারে মিলিয়ে নিতে নিতে এসে মন এক সময় ঠেকে যায়। যৌবনে উদ্দাম ছেলের রাতবিহার সেরে বাড়ি ফেরার পথ চেয়ে অসহায় বাবা প্রেম উজাড় করে দেয় কয়েক কথায়।

 

কখনও সখনও চাকুরিরত বাবা-মায়ের সঙ্গে হয়তো মুখ দেখাদেখির সুযোগ মেলে মাস খানেক বাদে। ভোরবেলা বাড়ি ফিরে কি বাবা-মায়ের অফিস যাওয়ার আগে ওঠা যায় নাকি? মায়া আর মোহ। এই দুইয়ের নেশায় ডগমগ জেন ওয়াই। ভাললাগা আর ইচ্ছেকে খানিকও কম্প্রোমাইজ নামক বাক্যসমূহে ঠেলে যাবে না। তাই নিশি না পোহানোর আকুল আর্তির মধ্যেই বোরিং মর্নিং বিছানায় কাটিয়ে দিন শুরু হয় সেই দুপুরবেলা।

 

নিশিকাতর এই প্রজন্মর কেন এত ঘুমে আপত্তি? উহু ঘুমে নয়, রাত ঘুমে। কারণ রাতেই যখন শহর যৌবন মাদকতায় জাগে, তখন তা সেবন না করে ঘুমোয় কোন বোকা?

 

‘রাতেই তো পার্টির আসল মজা। ইভেন আমি যদি নাইট আউট নাও করি নিজের মতো রোম্যান্টিক সময় কাটাতে রাতের আকাশের চেয়ে প্রিয় আর কিছু আছে কি? আর  তাছাড়া সারাদিন ব্যস্ত থাকার পর নিজেকে সময় দেওয়া বলতে ওই রাতটুকু। তাও ঘুমিয়ে নষ্ট করব?’ প্রশ্ন করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী উমা ব্যনার্জি। আবার শুধু  পার্টির হইহুল্লোড় কেন? রাতজাগা মানে কারও কারও কাছে সৃষ্টিকে নিবিড় ভাবে আলিঙ্গন করা। প্রত্যুষ ঘোষ বেশ ঘোষণা করেই জানাচ্ছে, ‘এই যে আমাদের জেনারেশন  ভোর রাতে শুতে যায়। আমরা লেট রাইজার এই নিয়ে এত তর্ক, সেগুলো কেন? সময় তো পালটেছে, মানুষের অভ্যেস দিনলিপি সবই তো পালটাবে নাকি? আর রাত  জাগা মানেই এই নয় যে নাইট পার্টিতে হুল্লোড় করা। আগেকার দিনে কাজের বৈচিত্র্য অনেক কম ছিল, তখন ভোর থেকে কাজের সময় শুরু হত। এখন তো কত ক্রিয়েটিভ  দিকে আমাদের জেনারেশন যুক্ত। যে ছেলেটি ছবি আকে, বা মেয়েটি কবিতা লেখে, বা ছবি তোলে, সে তার সৃষ্টিশীলতা হয়তো রাতের নিসর্গ থেকেই খুঁজে নেয়। আবার আমাদের মা-বাবা সকালে পড়তেন। আমার তো রাতে পড়াশোনা করেই আমি স্যাটিসফায়েড। রাত মানেই চারপাশ থমথমে সুনসান, সেখানে নিজের মধ্যে হোক্ল বা যেকোনও কাজে, অনেক বেশি মনোযোগ করা যায়। তাই কেউ যদি টাইম শিডিউল সেভাবেই ঠিক করে তো করুন না?’ তা ঠিক, এ জীবন গেলে আর আসে না। তাই আপন জীবন চলুক আপন মতে। কিন্তু শরীর যে তা মানে না। ডাক্তার চন্দন কুমার পাল জানাচ্ছেন, ‘এখনকার ছেলেমেয়েরা অনেকেই পেটের সমস্যায় ভোগে। এছাড়া অ্যাসিডিটি, লিভার প্রবলেম, প্রেশার। তার কারন রাতে ঘুম না হওয়া। পৃথিবীর সঙ্গে আমাদের শরীরের ঘড়ি যুক্ত। তা উলটে দিতে গিয়েই ঝামেলা। অধিকাংশ সময় খাবার হজম না হয়ে এইসব নানা ধরণের রোগ হচ্ছে। তাছাড়া চোখের তলায় কালি আর ঝিমঝিম ভাব তো এই প্রজন্মের সঙ্গী।’ উহু, তাই তো। আবার এও ত মেনে নেওয়া যায় না। পাল্লা দিয়ে ছুটতে গিয়ে পৃথিবীকে ডোন্ট কেয়ার? বিজ্ঞান স্বাস্থ্যের ভয় দেখালেও দার্শনিকরা কিন্তু প্রকৃতির প্রতিশোধের ভয় দেখাচ্ছে ভাই!

৫৯১ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
সর্বমোট পোস্ট: ১১ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৮ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৯-২৯ ০৮:৫২:১৭ মিনিটে
banner

৩ টি মন্তব্য

  1. এম, এ, কাশেম মন্তব্যে বলেছেন:

    ঘুমের প্রয়োজনিয়তা খাদ্যের মতো
    এ কথা সকলের বুঝা উচিৎ

    অনেক ভাল লাগা ।

  2. শাহ্‌ আলম শেখ শান্ত মন্তব্যে বলেছেন:

    চমত্‍কার লিখেছেন তো !
    ভাল লাগা জানিয়ে দিলাম ।
    ভাল থাকবেন প্রত্যাশা রইল ।

  3. আমির হোসেন মন্তব্যে বলেছেন:

    চমৎকার গল্প। ভাল লাগল।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top