Today 14 Nov 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

চিঠি-২ : স্বপ্নগুলো মরে গেছে

লিখেছেন: এস কে দোয়েল | তারিখ: ১৬/০৭/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 641বার পড়া হয়েছে।

নীল
স্বপ্নের বাগানে আজ দুমরে মুচরানো আর্তনাত। ঝরা ফুলের কান্নার শব্দের বিয়োগান্তে বিষন্ন প্রকৃতি। আমার কাছে রাত আর দিন একই মনে হয়। অনেক রাত করে বাড়িতে ফিরি। যখন সবাই ঘুমিয়ে পড়ে। বাড়িতে তেমন একটা নিয়মিত খাওয়া হয় না। ঘরে ঢুকলেই একরাশ বিষন্নতা ঘিরে ধরে। নীল রঙের বেদনা ঘণীভূত হয়। কিচ্ছু ভালো লাগে না তখন। চোখ জুড়ে শুধু তোর ছবিটাই ভেসে উঠতে দেকি। বিছানাটা তোর স্মৃতি নিয়ে বসে আছে। পুরো ঘরে যেখানে তাকাই সেখানেই তোর ছায়া দেখি। তোর হাসি ঝরা মুখটি ভেসে উঠে। টিবিলে রাখা তোর আর আমার ছবিটা চোখে পড়ে। তুই চলে গেছিস,কিন্তু তোর ছায়া রেখে গেছিস। তোর স্মৃতিঝরা ভাললাগা রেখে গেছিস। জানিনা কেমন আছিস তুই। প্রায় রাতেই তোকে নিয়ে ভয়ংকর সব স্বপ্ন দেখি। ঘুম ভাঙলে তোর জন্য প্রচন্ড কষ্ট হয়। বুকটা ব্যথায় চিন চিন করে। অগোচরে তোর মায়ায় চোখের জল চলে আসে। এমন কেন হয় বলতে পারিস নীল!

রাতটা আমার খুব অসহনীয় অবস্থায় কাটে। ঘূমুতে কষ্ট হয়। দুচোখের পাতা এক করতে অনেক সময় লাগে। চোখ বুজলেই তোকে দেখি। তোকে তখন খুব কাছে পেতে ইচ্ছে করে। পৃথিবীর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অভূত একটা সুখ থাকে। পাশাপাশি থাকার আনন্দ থাকে। চোখে চোখে আকর্ষণ থাকে। সেই আকর্ষণ থেকে তৈরি হয় জৈবিক রসায়ন। সেই রসায়ন পুরো শরীরে রক্তে কণিকায় ছড়িয়ে পড়লে বিশাল একটা শক্তি সৃষ্টি করে। তখন একটা শরীর আরেকটা শরীরকে আস্ত গিলে ফেলতে চায়। তোর আর আমার মাঝে যেটা ঘটতো। এটা প্রতি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেই ঘটে থাকে। ঘটে থাকে প্রেমিক-প্রেমিকাদের মধ্যেও। রাতে যখন বাড়ীতে ফিরতাম, বেশি রাত হয়ে গেলে তুই খুব বকাবকি করতি। বলতি-কেন তোমার এত দেরি হলো। আমার কথা মনে থাকে না বুঝি। বাইসাইকেলটা তুই ঘরে তুলে আমার পরনে জামার বোতাম খুলে খুলে দিতে দিতে কখনো দুষ্টমীতে দু’তিনটা চুমু মশার কামড়ের মতো বসিয়ে দিতি গালে। এক মগ পানি আর সাবানটা নিয়ে টিউবওয়েল পাড়ে আমাকে নিয়ে হাত-মুখ ধৌতে অর্ডার করতি। আজ তুই নেই,স্বপ্নগুলো জলজ্যান্ত বাস্তবের মতো হাওয়ার মতো উদয় হলেও পরক্ষণে সেটা চোখের পলকে মিলিয়ে গেলে খুব আহত হই।

আজ শুটকি ভর্তা করা হয়েছে। শুটকি ভর্তা হলো তোর প্রিয় খাবারের তালিকায় একটি। তুই চলে যাওয়ার পর বাড়ীতে প্রায় শুটকির ভর্তা নিয়মিত রেখেছি। এটা তো তোর প্রিয় খাবার ছিল, তোর স্মৃতি ধরে রাখতেই তোকে বেশি অনুশীলন করি। সকালে ঘুম থেকে জেগে দাঁত ব্রাশ করে ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধৌত করি, এরপর ঘরে আয়নার সামনে গিয়ে ফেয়ার এন্ড লাভলীর স্মার্ট বয়টা মাখি। এখন অনেক দেরি করে ঘুম থেকে জাগি। সকাল ৮টা বাজে প্রায় দিনই। সকালে আগের মতো চা খাওয়া হয় না। তুই নাই, তাই সকালে উঠা হয় না। চায়ের টেবিলটা এখন ফাঁকা পড়ে আছে। বাড়ীতে তেমন নিয়ম মত খাওয়াও হয়ে উঠে না। কারণ একটাই তুইহীন আমি যেন এক অসহায়। খাবার টেবিলে বসে শুটকির ভর্তার দিকে এক দৃষ্টিতেই তাকিয়ে আছি। শুটকির ভর্তার ভিতর তোর ছবি ভেসে উঠতে দেখছি। রাত তখন সাড়ে বারটা। তোর কথা মনে হলেই চোখে জল এসে যায়। ভাত মাখি,নাড়াচাড়া করি, কিন্তু গলায় নিয়ে গিলতে কষ্টবোধ করি। এই কষ্ট তোকে প্রচন্ড

৬২৭ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
এস.কে.দোয়েল সম্পাদক ও প্রকাশক আলোর ভূবন সাহিত্য ম্যাগাজিন এবং জাতীয় পত্রিকার ফিচার ও কলাম লেখক। তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড়।
সর্বমোট পোস্ট: ১৯ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৩২ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৪-০৬-১৮ ১৮:১২:২৬ মিনিটে
Visit এস কে দোয়েল Website.
banner

১ টি মন্তব্য

  1. দীপঙ্কর বেরা মন্তব্যে বলেছেন:

    মন হারানো লেখা
    বেশ ভাল লাগল ।

    আপনার পত্রিকার জন্য লেখা দিয়েছি

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top