Today 22 May 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

ছোট পরিবারেই সম্ভব ব্যক্তি ও রাষ্টের আর্থিক উন্নতি সাঈদুল আরেফীন

লিখেছেন: সাঈদুল আরেফীন | তারিখ: ০৯/০৯/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 567বার পড়া হয়েছে।

ছোট পরিবারেই সম্ভব ব্যক্তি ও রাষ্টের আর্থিক উন্নতি
সাঈদুল আরেফীন
বাংলাদেশের আর্থ সামাজিক অবস্থা ও অবস্থানগত কারণে স্বল্প সদস্য পরিবেষ্ঠিত ছোট পরিবারের মর্যাদা অনেক বেশী। অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রাকৃতিক ও জনসম্পদের গুরুত্ব বিবেচনায় আমাদের প্রচলিত জীবন ধারায় আতœনির্ভরশীল ছোট পরিবারের যথেষ্ট প্রয়োজন রয়েছে।পারিবারিক সামাজিক অর্থনৈতিক পরিবেশ রক্ষায় ছোট পরিবারই হয়ে উঠতে পারে চালিকা শক্তি। বাংলাদেশের জনসংখ্যা সংকোচন নীতি অনুসারে স্বল্প সদস্যের ভিত্তিতে ছোট পরিবার গঠনের যৌক্তিকতা রয়েছে। দেশের সম্পদের চাইতে জনসংখ্যার পরিমাণ বেশী হলে স্বভাবতই দেশের অর্থনীতি ও সম্পদের ওপর অযাচিত চাপ পড়ে। সে চাপ অনেক বড়ো ও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। সংগত কারণেই পরিবারে সদস্য সংখ্যা বেশী হলে পরিবার প্রধানদের ওপর নানামূখী চাপ ্এসে পড়ে। পরিবার কর্তার আয়ের ওপর সংসারের মাথাপিছু ব্যয় নির্বাহ অবধারিত। পরিবার কর্তার আয়ের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত পরিবারের সদস্যদের যাবর্তীয় ব্যয় নির্বাহ সমাপণ করতে হয়। সেক্ষেত্রে পরিবারের সদস্য সংখ্যা বেশী হলে অবশ্যই সামগ্রীকভাবে প্রবল চাপ পড়ে । সামাজিক ও আর্থিক ক্ষেত্রে ভয়াবহ পরিস্থিতির উদ্ভব হয়। পরিবারে সদস্য সংখ্যা বাড়ার ফলে দেখা দেয় মাথাপিছু আয় ও উৎপাদন কম হয়। জীবন যাত্রার মান নিচে নেমে যায়, দেশে খাদ্য ঘাটতি দেখা দেয়,বেকারত্ব বেড়ে যায়। বেশী সদস্য পরিবেষ্ঠিত পরিবারের চাপ এসে ওপর দেশের সামাজিক অর্থনীতির ওপর। দেশের উন্নয়নের গতিধারা শ্লথ হয়ে পড়ে। শিক্ষা,চিকিৎসা ,বাসস্থান, কারিগরি, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ব্যবস্থা বাঁধাগ্রস্ত হয়।বলা চলে দেশের পুরো অর্থনীতির সামগ্রীক গতি প্রবাহ ব্যাহত হয়। বড়ো পরিবার বা জনসংখ্যার আধিক্য দেশের সকল পর্যায়ের সম্পদের ওপর বিশাল একটা হুমকী হয়ে দেখা দেয়। পারিবারিক পর্যায় থেকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের ভুমি ব্যবস্থাপনা সহ অন্যান্য সম্পদের ওপর প্রচন্ড বিস্ফোরণ ঘটায়। ফলে যৌক্তিক ভাবে আমাদের জনসংখ্যা বিস্ফোরণ রোধ করতেই হবে, সেই সাথে সকল পর্যায়ে স্বল্প সংখ্যক সন্তান সমন্বিত ছোট পরিবার গঠনের বিষয়টা মাথায় রাখতে হবে। বাংলাদেশকে যদি মধ্য আয়ের দেশে পরিণত করতে হয় তবে নাগরিক মাত্রকেই ছোট পরিবার গঠনের দিকে ঝুঁকতে হবে। পারিবারিক আতœমর্যাদায় অভিসিক্ত হয়ে সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিশ্চয়তা পূরণের লক্ষ্যে দৈনন্দিন জীবনে ছোট পরিবার আদর্শ জায়গা। প্রতিদিনকার সাংসারিক ব্যয় নির্বাহ তো বটেই অর্থনৈতিক সূচকের কথা চিন্তা করলেও ছোট পরিবার প্রথা বাস্তবায়নের মাধ্যমে সামাজিক ও পারিবারিক বলয়ে আতœমর্যাদা বহুলাংশে বেড়ে যায়। একটি অথবা দু’টি সন্তান বিশিষ্ট ছোট পরিবার আর্থিক সীমারেখায় আবর্তিত হবার ফলে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রে গুরুত্ব অনেক বেড়ে যায়। পারিবারিক ব্যয় নির্বাহে যেমন স্বাচ্ছন্দ্যময়তা বিরাজ করে তেমনি পরিশীলিত ছোট পরিবার গঠনের মাধ্যমে পারিবারিক পর্যায়ে অর্থনৈতিক নিশ্চয়তার পাশাপাশি নান্দনিক শিক্ষা,স্বাস্থ্য,চিকিৎসা ও আবাসন খাতে প্রবল সমৃদ্ধি এনে দিতে সহায়ক। কেবল ছোট পরিবার গঠনই নয় ,ছোট পরিবার প্রথা বিরাজিত রাখার মাধ্যমে পারিবারিক পর্যায়ে তো বটেই দেশের আর্থ সামাজিক অবস্থানের ইতিবাচক পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভ’মিকা রাখা সম্ভব হয় । বলা আবশ্যক যে ,টেকসই দক্ষ ও শিক্ষিত ছোট পরিবার গুলোর মাধ্যমে দেশের দারিদ্র্য সীমা হ্রাস, অর্থিৈনতক প্রবৃদ্ধির বিকাশ সহ দেশকে ও জনসংখ্যায় সীমিত রাখাসহ একটা সু-শৃংখল জাতিগোষ্ঠী হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক হতে পারে। সেজন্যে ছোট পরিবার গঠন ও এ ব্যবস্থাপনাকে জিইয়ে রাখার মাধ্যমে সবারই উচিত কেবল পারিবারিক মর্যাদাই নয় ,দেশের আর্থ সামাজিক অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও বিকাশকে ত্বরান্বিত করা।ছোট পরিবার গঠনের প্রক্রিয়ায় দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চাকাকে যেমন সমৃদ্ধ করা যায় তেমনি আর্থ সামাজিক অবস্থা ও অবস্থানের ইতিবাচক পরিবর্তনে যোগ্য ভ’মিকা রাখতে পারে কেবল ছোট পরিবারই। বলাবাহুল্য , বাংলাদশকে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্য আয়ের দেশে পরিণত করতে হরে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে অনেক বেশি কার্যকর করতে হবে। বস্তি থেকে সমাজের নি¤œ ও উচ্চ স্তরে ছোট পরিবার ব্যবস্থাপনার ইতিবাচক তথ্য উপাত্ত তুলে ধরতে হবে। কারণ যে হারে মানুষ বাড়ছে সামনে অর্থনৈতিক নিশ্চয়তা খুঁজে পাওয়া যেমন কঠিন হয়ে দাঁড়াবে তেমনি ভূমি ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষা ,স্বাস্থ্য পরিবেশের ওপর মারাতœক হুমকি অবধারিত। আর তাই অর্থনৈতিক ভাবে ব্যক্তি পর্যায়ে সমৃদ্ধির পাশাপাশি দেশকেও সমৃদ্ধশালী করতে হলে অর্থনৈতিক উন্নতির লক্ষ্যে ছোট পরিবার গঠনের চর্চা অব্যাহত রাখতে হবে নাগরিক মাত্রকেই।
লেখক : কবি,প্রাবন্ধিক,্উন্নয়ন গবেষক

৫৫৩ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
সাঈদুল আরেফীন ১৯৬৮ সালের ২৭ নভেম্বর চট্টগ্রাম মহানগরীর কোরবানীগঞ্জে জন্ম গ্রহণ করেন। পৈতৃক নিবাস বাঁশখালি উপজেলার জলদি গ্রামের নেয়াজর পাড়ায়। পিতার নাম মুহাম্মদ ফৌজুল কবীর এবং মায়ের নাম মরহুমা মোসলেমা খাতুন। আশির দশকের মধ্যভাগ থেকেই সরকারি মহসিন কলেজে পড়াকালীন সময় সাঈদুল আরেফীন সাহিত্য চর্চায় নিবেদিত হন। সেই থেকে কবিতা ,গল্প,প্রবন্ধ,নিয়ে নিরন্তর কলম চালান তিনি। আশির দশকের শেষভাগে সংবাদপত্রে যোগ দেন। চট্টগ্রাম প্রতিবেদক হিসেবে সাপ্তাহিক চিত্রালী,সাপ্তাহিক স্বদেশ খবর,সন্দীপ সহ বিভিন্ন সময়ে অধুনালুপ্ত সমতা অপরূপ বাংলার প্রধান প্রতিবেদক ছিলেন। মূলত সংবাদপত্রে হাতে খড়ি হয় দৈনিক পূর্বতারাতে ক্ষুদে রিপোর্টার হিসেবে সরকারি মুসলিম হাইস্কুলে পড়াকালীন সময়ে। বর্তমানে তিনি রাজনীতি,শিক্ষা,সাহিত্য, সংস্কৃতি,শিশু অধিকার ও উন্নয়ন বিষয়ক প্রবন্ধ কলাম এবং লিখে চলেছেন নিয়মিতভাবে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন সংবাদপত্র ও লিটলম্যাগ গুলোতে। চট্টগ্রাম বেতারে নিয়মিত আর্থ সামাজিক উন্নয়ন ও গবেষণামূলক স্বরচিত প্রবন্ধ ও কথিকা পাঠ ছাড়াও মাঝে মাঝে অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করে থাকেন। সমাজসেবামূলক কর্মকান্ডে জড়িত ছিলেন ছোটবেলা থেকেই। তারই ধারাবাহিকতায় দশ বছরের পরিক্রমায় অনুপম নামক একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সাধারণ সম্পাদক পদে অধিষ্ঠিত থেকে মানবসেবা শিক্ষা , সাহিত্য ও উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড পরিচালনার একটি উজ্জ্বল সুন্দর দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন আশির দশকেই। এখন যুগান্তর সমাজ উন্নয়ন সংস্থা নামক একটি বেসরকারি উন্নয়নমূলক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার অনারারী ম্যানেজমেন্ট এডভাইজার হিসেবে কর্মরত থেকে প্রশিক্ষণ,উন্নয়ন নানা গবেষণাধর্মী কাজে জড়িত আছেন। এছাড়া তিনি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বোর্ড সদস্য হিসেবে জড়িত থেকে শিক্ষার প্রসারেও কাজ করে চলেছেন। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম নগরীর লামাবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির বর্তমান সভাপতির দায়িত্বে আছেন। এছাড়া সাহিত্য ও সংস্কতি বিষয়ক পত্রিকা ঐতিহ্যের সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ব্যক্তি জীবনে তিনি স্ত্রী ও ১ কন্যা সন্তানের জনক। “মনে পড়ে জলকদর” তাঁর প্রথম কাব্য গ্রন্থ। এ গ্রন্থের মধ্য দিয়েই তিনি আমাদের জানান দিয়েছেন লেখালেখির মাঝখানে বিরতি দিলেও তিনি হারিয়ে যাননি। ইদানিং পত্র পত্রিকায় আবারো সক্রিয় হয়েছেন। এতে বেছে নেয়া তাঁর কবিতাগুলোর অধিকাংশই দৈনিক পূর্বকোণ,আজাদী ,মঞ্চ,সুপ্রভাত বাংলাদেশ সহ বিভিন্ন লিটল ম্যাগে প্রকাশিত কবিতার সংকলন। আমাদের কাব্যভুবনে তাঁর আগমনকে স্বাগত জানাই। তাঁর কবিতা আশাকরি পাঠকের মন ছুঁয়ে যাবে। অচিরেই তাঁর শিশুতোষ প্রবন্ধ ও উন্নয়ন গবেষণামূলক দুটি প্রবন্ধের বই বেরোবে।
সর্বমোট পোস্ট: ২৬ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ১৫৫ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৪-০৬-১২ ১৩:৫৫:৪১ মিনিটে
banner

৬ টি মন্তব্য

  1. দীপঙ্কর বেরা মন্তব্যে বলেছেন:

    বেশ গুরুত্বপূর্ণ ।
    ভাল

  2. ঘাস ফড়িং মন্তব্যে বলেছেন:

    অনেক চমতকাৱ লিখেছেন। খুব ভাল লাগলো

  3. গোলাম মাওলা আকাশ মন্তব্যে বলেছেন:

    শুধু ছোট হলে হবে না হতে হবে শিক্ষিত তবেই না দেশের কাজে লাগবে। সুন্দর ও সময় উপযোগী পোস্ট।

  4. সাঈদুল আরেফীন মন্তব্যে বলেছেন:

    আপনার সুচিন্তিত মতামতের জন্য অশেষ ধন্যবাদ গোলাম মওলা আকাশ

  5. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    তবে আগের তুলনায় মানুষ অনেক সচেতন হয়েছে।
    ভাল লাগা পোস্ট।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top