Today 25 May 2018
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

জন্মবার্ষিকীর শ্রদ্ধাঞ্জলিঃ ডাঃ নীহাররঞ্জন গুপ্ত

লিখেছেন: ব্যবস্থাপনা সম্পাদক | তারিখ: ০৬/০৬/২০১৩

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 590বার পড়া হয়েছে।

 

7055561

ডাঃ নীহাররঞ্জন গুপ্ত (জন্মঃ ৬ই জুন, ১৯১১ – মৃত্যুঃ ২০শে ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৬) একজন ভারতীয় বাঙালি লেখক। তিনি ছিলেন জনপ্রিয় রহস্য কাহিনীকার এবং চিকিৎসক। তিনি বিখ্যাত গোয়েন্দা চরিত্র কিরীটি রায়ের স্রষ্টা হিসেবে উপমহাদেশে স্মরণীয় হয়ে আছেন।

 

১৯১১ সালের ৬ই জুন তৎকালীন যশোরের লোহাগড়া উপজেলার ইটনায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পরিবার ছিল বিখ্যাত কবিরাজ বংশীয়। তাঁর পিতা-মাতার নাম সত্যরঞ্জন গুপ্ত এবং লবঙ্গলতা দেবী। তিনি শৈশবকাল অতিবাহিত করেন কলকাতায়। পিতার স্থানান্তরিত চাকুরীর কারণে তিনি অনেক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। তন্মধ্যে – গাইবান্দা উচ্চ বিদ্যালয় অন্যতম। ১৯৩০ সালে কোন্নগর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিকুলেশন অর্জন করেন। কৃষ্ণনগর কলেজ থেকে আই.এসসি ডিগ্রী অর্জনের পর তিনি কলকাতায় কারমাইকেল মেডিকেল কলেজ (বর্তমানে আর. জি. কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল) থেকে তিনি ডাক্তারি বিদ্যায় কৃতকার্য হন। এরপর তিনি লন্ডন থেকে ডাক্তারি শাস্ত্রের ডার্মেটোলোজি বা চর্মবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন। তিনি চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ছিলেন।

 

ছাত্রাবস্থায় তার বড় বোন পোকার কামড়ে মারা যায়। ফলে চিকিৎসা বিজ্ঞানের মহান পেশায় নিয়োজিত থেকে এই রোগ সাড়ানোর জন্য স্বপ্ন দেখেন ও পরবর্তী জীবনে বাস্তবায়িত হয়।

 

 

কর্মজীবন

দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেন ও বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় স্থানান্তরিত হন। এরপর তিনি মেজর পদে উন্নীত হন। এই চাকুরীর সূত্রে তিনি চট্টগ্রাম, বার্মা (বর্তমানঃ মায়ানমার) থেকে মিশর পর্যন্ত বিভিন্ন রণাঙ্গনে ঘুরে বহু বিচিত্র অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেন। যুক্তরাজ্য থেকে বিশেষ ডিগ্রী অর্জন শেষে তিনি কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে যোগ দেন। এরপর তিনি ভারতের বিভিন্ন হাসপাতালে কাজ করেছেন। ভারত বিভক্তির পর ১৯৪৭ সালে তিনি ও তার পরিবার স্থায়ীভাবে কলকাতায় অভিবাসিত হন।

 

 

সাহিত্যজীবন

শৈশবকাল থেকেই তিনি সর্বদাই স্বপ্ন দেখতেন লেখক হবার। একসময় তিনি শান্তিনিকেতনে গিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আশীর্বাদ গ্রহণসহ তাঁর স্বাক্ষর বা অটোগ্রাফ সংগ্রহ করেন। আঠারো বছর বয়সে নীহাররঞ্জন তাঁর প্রথম উপন্যাস রাজকুমার রচনা করেন। ইংল্যান্ডে অবস্থানকালীন সময়ে তিনি গোয়েন্দা গল্প রচনায় আগ্রহান্বিত হয়ে স্বীয় লেখার উত্তোরন ঘটান এবং আগাথা ক্রিস্টির সাথে সাক্ষাৎ করেন।ভারতে ফিরে এসে তিনি তাঁর ১ম গোয়েন্দা উপন্যাস কালো ভ্রমর রচনা করেন। এতে তিনি গোয়েন্দা চরিত্র হিসেবে কিরীটি রায়কে সংযোজন করেন যা বাংলা কিশোর সাহিত্যে এক অনবদ্য সৃষ্টি। তিনি বাংলা সাহিত্যে রহস্য কাহিনী রচনার ক্ষেত্রে অপ্রতিদ্বন্দ্বী লেখক ছিলেন।

 

উপমহাদেশীয় প্রেক্ষাপট ও উপযোগী করে রচিত হয়েছে তাঁর রহস্য উপন্যাসগুলো। এ পর্যন্ত প্রায় পঁয়তাল্লিশটি উপন্যাসকে বাংলা ও হিন্দি ভাষায় চলচ্চিত্রায়ণ করা হয়েছে যথাক্রমে টালিউড ও বলিউডের চলচ্চিত্রাঙ্গনে। এছাড়াও তিনি শিশুদের উপযোগী সাহিত্য পত্রিকা সবুজ সাহিত্যের সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

 

 

সাহিত্যজীবন

বড়দের ও ছোটদের উপযোগী – উভয় ধরনের গোয়েন্দা উপন্যাস রচনায় সবিশেষ পারঙ্গমতা প্রদর্শন করেছেন নীহাররঞ্জন। মোট দুই শতাধিক গ্রন্থ তিনি রচনা করে গেছেন। উল্লেখযোগ্য রচনাগুলো হলো –

কালোভ্রমর

মৃত্যুবাণ

কালনাগ

উল্কা

উত্তরফাল্গুনী

হাসপাতাল

কলঙ্কিনী কঙ্কাবতী

লালুভুলু

রাতের রজনীগন্ধা

কিরীটি অমনিবাস

অপারেশন

 

 

১৯৮৮ সালে বাংলাদেশের বিখ্যাত চিত্রকর এস এম সুলতান ইটনায় অবস্থিত নীহাররঞ্জন গুপ্তের বাসভবনে শিশুস্বর্গ-২ প্রতিষ্ঠা করেন। ২৪ নভেম্বর, ১৯৯৩ সালে নড়াইলের তৎকালীন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আলী হোসেন এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। পরবর্তীতে এস এম সুলতানের মৃত্যুর পর শিশু সংগঠনের কর্মীরা তা দখল করে। ২০০৩ সালে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ নীহাররঞ্জন গুপ্তের বাসভবন অধিগ্রহণ ও সংরক্ষণের জন্য উদ্যোগী হয়। কিন্তু, অদ্যাবধি এ বিষয়ে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।

 

 

 

তথ্যসূত্র : ইন্টারনেট ও উইকিপিডিয়া

৭৩০ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
সর্বমোট পোস্ট: ৭৫ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৪৫৬ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৪-০৪-২০ ০৫:০৫:২৮ মিনিটে
Visit ব্যবস্থাপনা সম্পাদক Website.
banner

৬ টি মন্তব্য

  1. সুমাইয়া বরকতউল্লাহ্ মন্তব্যে বলেছেন:

    Vaea, Onek Valo laglo post ti. ae lekhok sompor k jante parlam. Ae dharaner post aro deben kinto. Amra onek upokar pae, Thanks a lot.

  2. আরিফুর রহমান মন্তব্যে বলেছেন:

    আপনাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাই।

  3. এ হুসাইন মিন্টু মন্তব্যে বলেছেন:

    অনেক অনেক শ্রদ্ধা

  4. তাপসকিরণ রায় মন্তব্যে বলেছেন:

    ছোট বেলা থেকে ডাঃ নিহাররঞ্জন গুপ্তকে জেনে এসেছি।তাঁর অনেক গল্প আমি পড়েছি।
    আপনার নিবন্ধ থেকে আবারও তাঁকে স্মরণ করার সুযোগ পেলাম।এ জন্যে আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

  5. তুষার আহসান মন্তব্যে বলেছেন:

    ছেলেবেলায় ভাল লাগা একজন।
    তাঁর কাহিনীর সিনেমা গুলো, কিরিটি, আজও ভাল লাগে।

    ধন্যবাদ।

  6. আরজু মন্তব্যে বলেছেন:

    আমি সম্ভবত ক্লাস এইট কি নাইনে পড়ি তখন বাংলাদেশে নীহার রন্জন খুব পড়া হত।আমার আম্মার অনেক উপন্যাস ছিল নীহাররন্জনের।তখন চুরি করে পড়ার বইয়ের ফাকে রেখে এইসব বই পড়তাম।উত্তর ফাল্গুনী লালুভূলু কিরিটি অমনিবাস ।।তার কিরিটি ডিটেকটভ উপন্যাস পছন্দ নিয়ে পড়তাম।ওই স্মৃতিগুলি মনে পড়ে গেল।

    ধন্যবাদ ওনার জীবন ইতিহাস সাহিত্য নিয়ে রচনামূলক লেখার জন্য।অনেক ধন্যবাদ অনেক শুভকামনা সম্পাদক ভাই।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top