Today 06 Dec 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

জল পড়ে পাতা নড়ে

লিখেছেন: আরজু মূন জারিন | তারিখ: ২৮/০৯/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 981বার পড়া হয়েছে।

(সব কনভার্সেশন ইংরেজিতে ,গল্পের কারণে বাংলায় লিখছি )

১ ভিলেন ডিপজল দাড়িয়ে আছে পা ফাক করে  সঙ্গী গুন্ডা বাহিনী নিয়ে। তাদের শিকার সামনে দাড়িয়ে আছে। ভয়ে তার হাত পা কাপছে।সে পালাচ্ছিল  লাট ভাই এর খপ্পর ছেড়ে স্ত্রী সহ দুরে। পথে এই হামলা।

ভুরু উচিয়ে বলছে “জল পড়ে পাতা নড়ে

তোর্ কথা মনে পড়ে। ওই পালাইয়া  যাস কই? তোর্ কথা খুব মনে পড়ে। এইটুকু দেখে হা হা করে গড়িয়ে হাসা শুরু করেছে অঞ্জলি। এন টিভি তে বাংলা সিনেমা দেখছে খুব মজা করে, উপভোগ ও করছে। ডিপজল ভাই এর হিম্মত দেখছে আর চোরা আমিন খান এর ওভারকোট পরে মাস্তানি। বাংলাদেশ এ তাহলে ভাল শীত পড়ে..গুন্ডারা ওভারকোট পরে মাস্তানী করে।

স্লো মোশন এ আমিন খান গুলি ছুড়ছে গুন্ডাদের দিকে। সাহায্য করছে দুই কুমড়ার সাইজে এর নায়িকা শাহনাজ ,ময়ুরী,

ওমা আবার দেখি গুন্ডি ও আছে। শর্টস আর ছোট শার্ট পরে যেভাবে লাপ দিয়ে ম্যাশিন গান চালাচ্ছে। বুলেট প্রুফ ড্রেস না পরে হাত পা পেট ওপেন রেখে পিস্তল নিয়ে ছোটাছোটি করছে তাতে ও হেসে গড়িয়ে পড়ছে।

মাগো মাথা নষ্ট। বাংলা সিনেমা। পরিচালক নায়ক নায়িকা গুলিরে নিয়ম করে প্রতিদিন ইলেকট্রিক শক দেওয়া দরকার। পরিচালক এর মানসিক সম্তলন ফিরে আসবে, নায়িকদের স্বাস্থ্য কমবে।

তার হাসি শুনে মা ও হাসে। ফোন এ মায়ের সাথে কথা বলছে আর সিনেমা দেখছে মজা করে।

কি রে হাসিস কেন।

হিম্মত দেখি আর হাসি। মাও হাসে ওই পাশ থেকে।

তার অবশ্য সিনেমা দেখার সময় নেই। তারপর ও সারা সপ্তাহ এর হার্ড জব এর পরে আজ একটু রিলাক্স করতে ইচ্ছে করল। ভাল ই হলো সিনেমা দেখে হাসতে হাসতে মনের গুমোট কেটে গেল খানিকটা।

তার কাজ নিয়ে সে বেশ টেনশন এ আছে  পুরা মাস জুড়ে। কাজ করছে তার বাসার পাশে স্কুল এ ভাইস প্রিন্সিপাল এর সেক্রেটারি হিসাবে। তাও স্থায়ী কিছু না। একজনের বদলীতে কাজ করছে। সে আছে টরন্টোর ফার্মাসী এলাকায়। স্কলারশিপ নিয়ে এসেছে সে এখানে। টরন্টো ইউনিভার্সিটি তে পি এইচ ডি করছে একই সঙ্গে কাজ করছে ভাইস প্রিন্সিপাল রড জিম্মারমান  এর পারসোনাল কাজ এক জুনিয়র পাবলিক স্কুল এ।

টিভি বন্ধ করে আজকের মিটিং এর মিনিট পাঠিয়ে দিল জিম্মার্মান এর ইমেইল এ। রাত বাজে এখন প্রায় বারো টা। আজ শনিবার। স্কুল নাই। না পাঠালে ও আজ চলত। তবু ও অঞ্জলি পাঠিয়ে দিল আজকের মিনিটস এর রিপোর্ট। দশ মিনিটের মধ্যে রড জিম্মারমান  এর রিপ্লাই

লুকস ওয়ান্ডারফুল। হেই ইউ দিন্ড স্লিপ ইয়েট। লাভ।

চমৎকৃত হল মেইল এ এবং বক্তব্যে। ভদ্রলোকের হটাৎ করে কি হল। খুব লাভিং রোমান্টিক হাভভাব করছে।

আজকে ছিল তাদের প্যারেন্ট কাউন্সিলিং মিটিং। সে ইচ্ছে করে আজ তার একটা সুন্দর সাদা সালোয়ার কামিজ পরেছে। যদিও কাজে সে সবসময় ফর্মাল শার্ট প্যান্ট পরে। আজ ইচ্ছে করে পরল দেশী সবার সাথে দেখা হবে মনে করে। গিয়ে দেখল একমাত্র সে সালোয়ার কামিজ পরে আছে। বাঙালী কার ও দৃষ্টি তার দিকে না পড়লে ভদ্রলোক তাকে পলকহীন চোখে দেখতে লাগল। এক পর্যায়ে সে বিব্রত বোধ করতে শুরু করল। ভদ্রলোকের মুখামুখি তার চেয়ার।

একসময়ে ভদ্রলোক সচেতন হলো অঞ্জলি লজ্জা পাচ্ছে তার চাহনিতে। সে নিজেও এবার বিব্রত হয়ে পড়ল। মুখামুখি চেয়ার থেকে সরে এক সাইড এ গিয়ে বসলো।যদিও মুখ থেকে মিষ্টি কৌতুকের চাহনি এখন ও সরে যায়নি ।

বারবার ফিরে ফিরে এইভাবে কেন যে তাকে দেখছে তার মাথায় এলনা। একেবারে বাংলাদেশী ছেলেরা প্রেমে পড়লে যেরকম করে তার হাব ভাব এরকম।

পুরো বিকাল, সন্ধা ,রাত খানিকটা উন্মনা ভাবে কাটল তার  রড জিম্মারমান এর কথা মনে করে।

২ রড জিম্মারমান  দেখতে সে অনেক গ্রীক উপকথার নায়ক দের মত। অসাধারণ রুপবান এক পুরুষ। একই সঙ্গে প্রচন্ড বিদ্ধান , হৃদয়বান মানুষ ও । পুরো স্কুল এ অত্যন্ত জনপ্রিয় একজন ব্যক্তি তিনি তার সহৃদয় ব্যবহার , সবাইকে সাহায্য করার জন্য। সম্পূর্ণ সাদা একজন মানুষ এখানে বাঙ্গালী কমুনিটির জন্য যা করছে যা এখানে বাঙালি এম পি , কাউন্সিলর রা ও করেনা। প্রচন্ড ভালবাসায় সে এই কমুনিটির সবাইকে নিবিড় বন্ধনে আবদ্ধ করে রেখেছে।

এসব কথা গভীর আবেগের সাথে ভাবতে ভাবতে তার সামনে পড়ে যায় অঞ্জলি। রড মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকে। এই মেয়েটি কে যতবার দেখে মুগ্ধতা কাজ করে মনে। নিস্পাপ সরল একটি মুখ। খুব রূপসী না হয়ে যেন রূপের আভা ছড়িয়ে দিছে চারিদিকে কিছু টা অন্য ধরনের সহজ সরল ব্যক্তিত্বের কারণে। এই দেশের মেয়েগুলিকে ভাল লাগে তাদের লজ্জা , নম্রতার কারণে।

অঞ্জলি মাথা নিচু করে বলল গুড মর্নিং ।

মেয়েটার লজ্জা দেখে সে তাড়াতাড়ি সরে গেল। যাওয়ার আগে তার গভীর চাহনি দিয়ে অঞ্জলির হৃদয়টা অনেক টা নাড়িয়ে দিয়ে গেল।

স্কুল এর প্লে গ্রাউন্ড ঘুরে ঘুরে দেখছে রড। এই স্কুল এর প্রতি টি কনা, ইঞ্চি মাটি , স্টুডেন্ট সবাই কে প্রানের চেয়ে বেশি ভালবাসে। এই স্কুল তার পরিবার , মা বাবা ভাই বোন্। এমনকি এদের সবার সাথে সুন্দর সম্পর্কের জন্য তিন চারটা ভাষা শিখছে। অন্জলিকে সে কাজ দিয়েছে মূলত বাংলা ভাষা আয়ত্ত করার জন্য। তাহলে এদের দুঃখ , সমস্যা আর ও গভীর ভাবে উপলব্ধি করতে পারবে।

রুম এ ঢুকতে দেখে অঞ্জলি কোন ফাকে চুলে পনি টেইল করে বেধেছে। এখন একেবারে শিশু মেয়েদের মত লাগছে।

মাথা দুলিয়ে দুলিয়ে কম্পিউটার এ কাজ করছে।

রড হাসতে হাসতে গভীর আবেগ নিয়ে দেখছে।

হটাৎ করে অঞ্জলি সচেতন হয়ে লাপ দিয়ে উঠে দাড়াল। লজ্জায় মুখ গোলাপী হয়ে গেল।

আরে আরে ব্যাপার কি ? তুমি ইজি হওনা কেন ? হেসে জিজ্ঞাসা করে রড। আমি কি কোন বস ভাব করি তোমার সাথে ?

এবার অঞ্জলি ও হেসে ফেলল তার সাথে।

চা খাবেন জিজ্ঞাসা করলো হেসে।

হ্যা খাব তোমার হাতের বানান চা। তবে এখানে না ক্যাফেটেরিয়ায় যাও। আমি আসছি ওখানে কিছুক্ষণে। তোমার সাথে একটু কথা বলতে ইচ্ছে হচ্ছে।

ক্যাফেটেরিয়ায় এসে বসে রইল অঞ্জলি চা বানিয়ে দশ মিনিটের জায়গায় তিরিশ মিনিট।  জিম্মারমান  এর দেখা নেই। তার রুম এ এসে শোনে সে বেরিয়ে গিয়েছে জরুরী কাজে। আজ আর ফিরবেনা।

অঞ্জলি চারিদিকে খুঁজে দেখল তার জন্য কোন ও নোট্ লিখে গেছে কিনা।

না কোন ও নোট ও পেলনা।

অঞ্জলির কেন যেন কান্না পেতে লাগল।

৩ ক্লান্ত ,বিষন্ন অবস্থায় ঘরে ফিরে আসে অঞ্জলি। না খেয়ে কাপড় চেঞ্জ না করে সরাসরি বিছানায় চলে আসে। অনেক দুশ্চিন্তা স্বত্তেও ঘুমিয়ে পড়ল সে। তিন ঘন্টা টানা ঘুমের পরে সন্ধায় সে জেগে উঠল। শরীর একেবারে ছেড়ে দিয়েছিল। কিছু খেতে হবে। রান্না নেই। ফ্রিজ খুলে দেখছে কি খাওয়া যায়। কিছু ই খেতে ইচ্ছে হচ্ছেনা। কিছু ই ভাল লাগছেনা। এইভাবে রড তাকে নিরানন্দ ময় করে দিতে পারে সে ভাবেনি।

কম্পিউটার খুলল কিছু দরকারী কাজ এর জন্য। এ-মেইল চেক করতে গিয়ে চমকে যায়। পরপর তিনটি মেইল রড থেকে। দুরু দুরু বুকে প্রথম মেইল ওপেন করে আনন্দ ,ভালবাসায় আবেগের উদ্দামে ভেসে যায় সে।

এড্রেস এ সুইটি অঞ্জলি লিখেছে সে

তুমি নিশ্চয় মন খারাপ করনি এইভাবে চলে যাওয়ায়। আলবার্তায় আমার ছোট ভাই থাকে। ওখানের হাসপাতাল থেকে ফোন এসেছে। সিরিয়াস কার দুর্ঘটনায় সে এখন হাসপাতাল এ। আমি এখন ওখানে আছি। তোমাকে অনেক মিস করছি।

দ্বিতীয় মেইল এ তার ফোন নাম্বার। অঞ্জলি তোমার নাম্বার যাচ্ছেনা কেন আবার দাও নাম্বার ।

আমি দেখি কাল সম্ভবত গ্রেগরী (আমার ভাই) সহ মুভ করব টরন্টোতে। নিজের দিকে খেয়াল রেখ। অনেক ভালবাসা।

ভিতরটা একই সঙ্গে আবেগে ভেসে যাচ্ছে যেমন দুশ্চিন্তা ও হচ্ছে তেমন। কাল আসবে তো ও ?

স্কুল অ্যাসোসিয়েট এর লিস্ট দেখে রড এর ছবি বের করল। অনেকক্ষণ ধরে ছবি দেখে তৃষ্ণা যেন মিটছেনা। মনে হচ্ছে যেন একযুগ দেখা হচ্ছেনা তাদের।

মনের অস্থিরতা কাটানোর জন্য ডায়রী লিখতে বসলো। ডায়রী ঠিক না বলা যায় চিঠি লিখছে। সব কাল দেখা হওয়ার পর কাল সে রড কে দিবে ঠিক করেছে।

নিচে মজা করে দুটো লাইন লিখেছে

জল পড়ে পাতা নড়ে
বন্ধুর কথা মনে পড়ে।

৪ গ্রেগরীকে এখন ও ইনটেনসিভ কেয়ার এ রাখা হয়েছে। তার এই ভাইটি বড় মায়ার। তাকিয়ে দেখতে দেখতে তার চোখ দিয়ে জল বেরিয়ে এল। একবার এক বিশ্রী ধরনের কফ হয়েছিল। মা তাকে নিয়ে কোলে করে বসে থাকত। তার সাথে ভাই ও। মাঝে মাঝে অনেক রাতে মাকে শুতে পাঠিয়ে ও বসে থাকত। মাথায় চুলে হাত বুলিয়ে দিত।

দুপুরের দিকে মা আরেক বোন্ আসল লাঞ্চ নিয়ে।

এখন মুখ থেকে মাস্ক সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। একসময়ে গ্রেগরীর জ্ঞান ফিরে আসে। মা প্রার্থনা করা শুরু করে ছেলের বেড এ পাশে বসে।

খেতে খেতে মা যা বলল তার নুতুন টেনশন শুরু হয়ে গেল। মা চাচ্ছে তাদের যে ফার্ম টা এখানে ওরা দুইভাই দেখা শুরু করুক।

তুমি স্কুল এর জব ছেড়ে দিয়ে স্থায়ী ভাবে থাকনা কেন ? তোমার যা সম্পদ আছে তো কাজ করার দরকার নেই।

মা এই কাজ টা আমার ভালবাসা , দায়িত্ব। আমি পছন্দ করি কাজ করতে।

এখানে কাজ কর তাহলে। এখানের স্কুল এ জয়েন কর জিম। আমাদের তোমাকে দরকার। বিষন্ন হয়ে দাবী করে মা।

একমুহুর্তে দোটানায় পড়ে যায় সে। মাকে কষ্ট দিয়ে মায়ের ইচ্ছার বিরুদ্ধে সে কখন ও কিছু করেনি জীবনে।

দেখছি মা আমাকে গুছিয়ে নিতে দাও সবকিছু। হুট করে সব ওখানের জব ছেড়ে আসতে পারবনা। ওদের দুই মাসের সময় দিতে হবে। ওখানে যাই সব দায়িত্ব আরেকজনকে বুঝিয়ে তারপর তোমার কথা শুনব।

৫.পরেরদিন না ,তার পরেরদিন ও না  প্রায় সাতদিন পরে জিম্মার্মান ফিরে আসল টরন্টোতে। এই সাতদিনে অঞ্জলি আর কোন ও ইমেইল পায়নি। অপেক্ষায় অপেক্ষায় কেটেছে তার দিন। কাজে যথারীতি জয়েন করেছে সে। কোথাও যেন সুর কেটে গিয়েছে। হাই হ্যালো আর কাজের কথা ছাড়া তাদের আর কোন ও অন্তরঙ্গ আলাপ হয়না।

এর মধ্যে শুনল একদিন রড আলবার্টা বদলী হয়ে যাচ্ছে। করিডরে দেখা হয়ে যাওয়াতে রড বলল অঞ্জলি কার পার্কিং এ আমার জন্য অপেক্ষা কর তিনটার পর।

এতদিন পরে সহজ স্বাভাবিক ভাবে কথা। প্রথমে ও ভাবলো ওয়েট না করে চলে যাবে। যত সময় অগ্রসর হতে লাগল মন দুর্বল হতে লাগল। আগের মধুর স্মৃতি মনে পড়তে লাগল। তিনটার বাজার আরেকটু আগে সে চলে এলো নির্ধারিত পার্কিং লট এ।

দূর থেকে  দেখে দৌড়ে এসে গভীর আবেগে জড়িয়ে ধরল তাকে রড। অঞ্জলি ফোফাতে শুরু করল। রড এর বুকের গভীরে, আবেগে আদরে সে ভুলে গেল এত দিনের দুঃখ বেদনা।

চোখের পানি মুছিয়ে দিয়ে বলল দুঃখিত তোমাকে অনেক কষ্ট দিয়েছি। বিশ্বাস কর নিজে আর ও বেশি কষ্ট পেয়েছি।

হেসে তাকাল সহজ স্বাভাবিক ভাবে অনেকদিন পরে অঞ্জলি।

এই তোমাকে তো অনেক সুন্দর লাগছে অঞ্জলি ,রড বলে কিছুটা কৌতুকে। কিছু একটা পরিবর্তন দেখছি। ও আচ্ছা আমার আদরে এই পরিবর্তন।

হ্যা পেয়েছি একটু পরে উত্তেজনায় বলে উঠে। তুমি আজকে চুল খুলে রেখেছ। সবসময় তোমাকে চুল বাধা অবস্থায় দেখতাম।

চুলের গন্ধ নিতে নিতে বলে ইশ তোমার চুল গুলি ও অনেক সুন্দর।

কিছুক্ষণের জন্য দুজনে আবেগ ভালবাসায় ভেসে যায়।

খুব ফুরফুরে মন নিয়ে ঘরে আসে আজ অঞ্জলি।

পরের দিন কাজে এসে এক চিঠি পায় অঞ্জলি। নিচে স্বাক্ষর রড এর।

বিশাল এক চিঠি। যার বক্তব্য কাল তোমার কাছে বিদায় নিতে গিয়েছিলাম পারিনি বলতে কঠিন কথা। তাই চিঠির আশ্রয় নিলাম আমার প্রিয়া। মাপ করে দিবে আমাকে। আমি তোমাকে আমার সঙ্গে নিতে পারছিনা। আমি একজনের সঙ্গে অনেক আগে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যদিও কিন্তু আমার হৃদয় আবেগ তোমাকে দিয়েছিলাম। অন্যায় করে ফেলেছি তোমার সাথে ,আমার গার্ল ফ্রেন্ড এর সাথে। আমাদের বিয়ে ঠিক হয়েছে এবার ই।

আমাকে যদি ক্ষমা না ও কর প্লিজ প্লিজ এই অনুগ্রহ কর স্কুল ছেড়ে দিওনা। এখানে কাজ কর। আমি গতকাল প্রিন্সিপাল এর সাথে কথা বলেছি। সে বলেছে তোমার কাজে অনেক খুশি। শিগ্রী তোমার কাজ পার্মানেন্ট হতে যাচ্ছে। সম্ভবত পরের মাসে লেটার পাবে তার কাছে থেকে।

এ বিশ্বাস করানোর কোন সুযোগ নাই তোমাকে অত্যন্ত ভালবেসেছিলাম।

ভাল থাকবে সবসময়।

তোমার ই।

পরিশিষ্ঠ : দিন গড়িয়ে মাস ,মাস গড়িয়ে বছর। অঞ্জলি এখন ও স্কুল এ আছে। এখন ও তার কাছে সেই চিঠিগুলি আছে রড এর জন্য প্রথমে লিখেছিল , লজ্জায় পরে তা দেয়নি। একটা ছবি ও আছে তার গোপন সংগ্রহে। না তার কোন রাগ নেই। তবে বুকের ভিতর হুহু করে উঠে যখন এই অপুরূপ যুবকটির কথা মনে করে।

রড বারান্দায় দাড়িয়ে আছে অন্যমনস্ক হয়ে। স্ত্রী দাড়িয়ে আছে পাশে।

এই কোথায় হারিয়ে গেলে তুমি , স্ত্রী গায়ে টোকা দিয়ে জিজ্ঞাসা করে।

আমার স্কুল এর স্টুডেন্ট দের কথা মনে পড়ছে ভীষণ। আসলে মনে হচ্ছে আজ ভীষণ অন্জলিকে। ঠিক আজ থেকে একবছর আগে এই দিনে অন্জলিকে প্রথম দেখেছিল।

আহ ! সেই দিন আর অঞ্জলি আজ কত দুরে।

বুক থেকে দীর্ঘনিশ্বাস বেরিয়ে এল তার।

( সমাপ্ত )

৯০০ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
নিজের সম্পর্কে কিছু বলতে বললে সবসময় বিব্রত বোধ করি। ঠিক কতটুকু বললে শোভন হবে তা বুঝতে পারিনা । আমার স্বভাব চরিত্র নিয়ে বলা যায়। আমি খুব আশাবাদী একজন মানুষ জীবন, সমাজ পরিবার সম্পর্কে। কখনো হাল ছেড়ে দেইনা। কোনো কাজ শুরু করলে শত বাধা বিঘ্ন আসলেও তা থেকে বিচ্যুত হইনা। ফলাফল পসিটিভ অথবা নেগেটিভ যাই হোক শেষ পর্যন্ত কোন কাজ এ টিকে থাকি। জীবন দর্শন" যতক্ষণ শ্বাস ততক্ষণ আশ " লিখালিখির মূল উদ্দেশ্যে অন্যকে ভাল জীবনের সন্ধান পেতে সাহায্য করা। মানুষ যেন ভাবে তার জীবন সম্পর্কে ,তার কতটুকু করনীয় , সমাজ পরিবারে তার দায়বদ্ধতা নিয়ে। মানুষের মনে তৈরী করতে চাই সচেতনার বোধ ,মূল্যবোধ আধ্যাতিকতার বোধ। লিখালিখি দিয়ে সমাজে বিপ্লব ঘটাতে চাই। আমি লিখি এ যেমন এখন আমার কাছে অবাস্তব ,আপনজনের কাছে ও তাই। দুবছর হলো লিখালিখি করছি। মূলত জব ছেড়ে যখন ঘরে বসতে বাধ্য হলাম তখন সময় কাটানোর উপকরণ হিসাবে লিখালিখি শুরু। তবে আজ লিখালিখি মনের প্রানের আত্মার খোরাকের মত হয়ে গিয়েছে। নিজে ভালবাসি যেমন লিখতে তেমনি অন্যের লিখা পড়ি সমান ভালবাসায়। শিক্ষাগত যোগ্যতা :রসায়নে স্নাতকোত্তর। বাসস্থান :টরন্টো ,কানাডা।
সর্বমোট পোস্ট: ২২৯ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৩৬৮৩ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৯-০৫ ০১:২০:৩৫ মিনিটে
banner

৯ টি মন্তব্য

  1. এম, এ, কাশেম মন্তব্যে বলেছেন:

    অঞ্জলি চারিদিকে খুঁজে দেখল তার জন্য কোন ও নোট্ লিখে গেছে কিনা।

    না কোন ও নোট ও পেলনা।

    অঞ্জলির কেন যেন কান্না পেতে লাগল।

    অপেক্ষায় রইলাম,

    শুভ কামনা আরজুমুন।

  2. আরজু মূন জারিন মন্তব্যে বলেছেন:

    কাশেম ভাই কি খবর? খুশি হলাম। লিখে শেষ করতে না করতে মন্তব্য। সময় নেই খুব ভোরে উঠতে হবে। না হলে পুরো গল্প শেষ করে ঘুমাতে যেতাম।

    অনেক ধন্যবাদ কমেন্টসের জন্য। শুভেচ্ছা রইল।

  3. গোলাম মাওলা আকাশ মন্তব্যে বলেছেন:

    আপনি দেখি মহা ডুব দিয়েছেন ব্লগ হতে। আপনার উপস্থিতি ভাল লাগে আমার। মাঝে মাঝে জ্বালানোও যায়। শুভ হোক আপনার ফিরে আসা।

    আর হাসি পাচ্ছে পড়ে।

    • আরজু মূন জারিন মন্তব্যে বলেছেন:

      একটু বিজি এখন। ডুব দিয়েছি ঠিক বলা যায়না। সুযোগ পেলে ব্লগ এ ঢুকতাম। কোন লেখার মত সময় বের করতে পারতামনা। ক্লান্তির কারণে ব্রেন কাজ করতনা বলে কমেন্টস ও করতে পারতামনা। জাস্ট ব্লগ ওপেন করে আপনাদের সবার লেখা একনজর দেখতাম প্রতিদিন ই।

      তাছাড়া আমার চোখে এখন খুব সমস্যা হয়েছে। খুব মনযোগ দিয়ে কম্পিউটার স্ক্রিন দেখলে চোখ দিয়ে পানি পড়তে শুরু করে. আর ও কিছু শারীরিক সমস্যার কারণে যখন সময় পাই না লিখে ফিজিকাল একটিভিটিস এ থাকতে হয়। ব্লগ এ টানা বসে থাকতে থাকতে শরীর অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে। কাজ শেষে যেতে হয় আবার জিমে। সময় একেবারে পাছিনা। একই রকম আগ্রহ এখন ও আছে ব্লগ এর প্রতি। শুধু ম্যানেজ করতে পারছিনা সময়।

      কোন অসুবিধা নাই। জালান আপন মানুষ ই জালায়। সেই অধিকার আপনার আছে। আমি ও মজা পেতাম আপনার কমেন্টস এ। আসলে রাগ করিনি। রাগের ভান করতাম।

      খুব খুশি হলাম শুনে যে আমার উপস্থিতি ভাল লাগে। তাই তো ভাল না লাগলে আমি ও আসব কেন। আপনাদের ভালবাসা , আমার গল্প পড়া ,প্রেরণা দেয় সেই কারণে ব্লগ এ সময় কাটানো।

      অনেক ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য। শুভেচ্ছা রইল। ভাল থাকবেন আকাশ ভাই।

  4. দীপঙ্কর বেরা মন্তব্যে বলেছেন:

    Bhaloi to
    dekhi samne Ki achhe

  5. আরজু মূন জারিন মন্তব্যে বলেছেন:

    এটা আসলে একটা একক গল্প লিখতে চেয়েছিলাম। কালকে সময় পাইনি তাই অর্ধেক লিখে উঠে পড়তে হয়েছিল। তবে আজকে দ্বিতীয় পর্ব লিখে পরে সংযুক্ত পরে একটা গল্প করব। আর ও কিছু এডিট ও করব।

    ভাল আছেন রেবা দা? অনেক ধন্যবাদ কমেন্টসের জন্য। আপনি আর আকাশ ভাই আমার লেখায় আগে কমেন্টস করেছেন সেইজন্য কৃতজ্ঞতা। আমি সাধারণত সবার লেখায় আগে কমেন্টস করতে চাই।

    অনেক অনেক শুভেচ্ছা। ভাল থাকবেন কেমন।

  6. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    ধুরু আপু সমাপ্তি কস্টের দেখি।তবুও অসম্ভব ভাল লেগেছে।

  7. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    ঈদ মোবারক আপি

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top