Today 25 Sep 2018
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

জীবন চক্র (চতুর্থ ও পঞ্চম পর্ব)

লিখেছেন: তৌহিদ উল্ল্যাহ শাকিল | তারিখ: ০৩/০৭/২০১৩

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 375বার পড়া হয়েছে।

হেমন্তে
চারদিকে ফসল কাটার হিড়িক লেগেছে । গ্রামে এখন অবসরে কেউ নাই। চারদিকে ব্যাস্তময় সময় । যার নিজের জমি আছে সে কামলা দিয়ে ধান কেটে ঘরে তুলছে,যার জমিন নেই সে অন্যের ক্ষেতে কামলা দিচ্ছে। এযেন গ্রাম বাংলার কৃষকের এক মহাব্যাস্ত সময়। নবান্ন উৎসবে মেতে আছে পুরো গ্রামের ছেলে বুড়ো এবং বউ ঝিরা সকলে। কাঁচা ধানের যে ঘ্রান সে স্বচক্ষে না দেখলে বুঝার উপায় নাই। বাড়িতে বাড়িতে ধান মাড়াইয়ের মেশিনের যান্ত্রিক আওয়াজ আর কর্মব্যাস্ত মানুষের কোলাহল সারা এলাকা জুড়ে।
মীর বাড়িতে কাজের চাপ খুব বেশী । আজিজ মীর বাড়ির বান্দা কামলা। অন্য কামলাদের চেয়ে নিরঞ্জনের কাছে তার কদর একটু বেশী। আজিজ নিজে কাজ করে এবং অন্য সকলের কাজের তদারকি করে। সেজন্য নিরঞ্জন বলেছে বাবুদের বলে তাকে স্থায়ী ভাবে কাজে রেখে দেবে। একটা স্থায়ী কাজ হলে আজিজের বেশ ভাল হয়। কেননা যখন কাজ কাম থাকে না , তখন তাকে নানা জায়গায় ধর্না দিতে হয় কাজের জন্য। তাই এবছর বেশ ফুর্তি নিয়ে কাজ করছে আজিজ।
গতকাল বিকেলে জয়নাব’কে দেখেছে মীর বাড়ির দিকে যেতে। ব্যাপার কি জানার জন্য নিরঞ্জনকে জিজ্ঞেস করে সকালে। নিরঞ্জন বলে
কাম করতে চায়। মেয়েটার জন্য দুঃখ হয় আজিজ। দুই ভাই অসহায় অসুস্থ বাবার খোজ নেয় না। মেয়েটা অন্যের বাড়ি ঘুরে ঘুরে কামকাজ করে বাবাকে নিয়ে বেঁচে আছে কোনমতে।
কাম দিয়েছ?
হ্যাঁ দিয়েছি । বলেছি সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত করলেই চলবে। প্রতিদিন দুইসের চাউল আর পনের টাকা দেব। উপুরি দুপুরের খানা এখানে খাবে।
ভালো করেছেন নিরঞ্জন বাবু।
তা তোমার এত খোঁজের কাম কি?
কিছু না । এমনি জিজ্ঞেস করলাম আর কি।
না বাপু বুঝতে পেরেছি । তা আমাকে বল। দোষ কি । মমিন মিয়ারে বইল্যা দেখি কি কয়।
আজিজ মাথাচুলকাতে চুলকাতে সেই স্থান দ্রুত প্রস্থান করল।
আজিজ ধানের আটি মাথায় নিয়ে এসে দেখে জয়নাব ধান শুকোচ্ছে। কর্মরত জয়নাব কে দেখে আজিজের মনে অন্য রকম দোল খায়। অনেক মেয়ে মানুষ কাজ করে তাই জয়নাবের কাছে যেতে পারেনা আজিজ। ধান শুকানো ধান ভাঙ্গানো সব মেয়েলি কাজ করে মীরা বাড়িতে জয়নাব। জয়নাবের কাজে নিরঞ্জন বেশ খুশী।
দুপুরে রাস্তায় খড় উল্টে দিচ্ছিল আজিজ । এমন সময় জয়নাব কে যেতে দেখে এগিয়ে যায়। জয়নাব আজিজ কে সেদিনের পর থেকে দেখলে লজ্জা পায়। মনে মনে জয়নাব ভাবছে, কেমন গাবুর(শক্তিশালী) বেটা এদিকে আইসতাছে ক্যান।
এই মাইয়া খাড়াও(দাড়াও)
ক্যান?
কতা(কথা) আছে।
কি কতা ।
বোঝ না । কি কতা
না বুঝি না। কতা কইলে বাড়িত যাইয়েন ।

আজিজ জয়নাবের গমন পথের দিকে চেয়ে থাকে । জয়নাব নিজ বাড়ির দিকে চলে যায়। প্রতিদিন দুপুরের খাবার সে তার বাবা রহম আলীর সাথে খায়। নিরঞ্জন বাবু যেদিন প্রথম দেখলেন সেদিন বাবুর্চি কে বলে দিয়েছেন মেয়েটাকে ভাত আর সালুন একটু বাড়িয়ে দিতে।

শীতে
রহম আলী এখন দারুন সুস্থ । মেয়েটা তার জীবন বাঁচিয়েছে। কষ্ট করে হারামজাদা ছেলে গুলোকে মানুষ করার চেয়ে আমার মা মরা মেয়ে জয়নাব অনেক ভালো। মনে মনে কথাগুলো ভাবছেন আর চেনীতে ধার দিচ্ছেন রহম আলী। এখন তার অনেক কাজ । এই মৌসুম টা ভালোয় ভালোয় গেলে কিছু পয়সা আসবে হাতে। তখন মেয়েটার জন্য ব্যাবস্থা করা যাবে। এতে না হলে শেষ সম্বল জমিটুকু বিক্রি করে দিতে দ্বিধা নাই রহম আলীর। মেয়েটা তার জীবনবর কষ্ট করে গেল সুখের দেখা পেলনা । বিয়ে শাদীর পর যদি আল্লাহ সুখ দেয়? আপন মনে চেনী ধার দিচ্ছেন আর ভাবছেন রহম আলী। শীত এলে তার এই কাজ। খেজুর গাছ কাটা। খেজুর গাছ কেটে তার থেকে রস সংগ্রহ করে রহম আলী শীতের পুরো মৌসুম। গ্রামের সকল গৃহস্ত সবাই এই সময় খোজ নেয় রহমের। যার যার খেজুর গাছ আছে তারা খোজ নেয় গাছ চিলার জন্য । আর যাদের গাছ নাই তারা খেজুরের রসের জন্য। তাই বছরের এই সময়টা রহম আলী নামে একজন এই গ্রামে আছে সেটা বুঝা যায়। কেউ মসজিদে শিরনী দেবে, কারো ছেলে মেয়ে শহর থেকে এসেছে কাচা খেজুরের রস খাবে । এমন নানা কাজে রহম আলী তখন অশ্বথতলা গ্রামের এক মহা ব্যাস্ত মানুষ।
প্রথমে খেজুর গাছের ডাল গুলো সাবধানে কেটে ফেলতে হয়। কোমরে একটা বাশের বানানো ঝুড়িতে কাঠের হাতুড়ি , দুই তিনটি চেনী(ধারালো দা বিশেশ)বেশ কয়েক গোছা পাটের পাকানো রশি নিয়ে গাছে উঠেন রহম আলী। হাতে ধরা থাকে বাশের দুইহাত লম্বা একটা লাঠি । গাছের নির্দিষ্ট অংশে উঠে সেই লাঠিকে গাছের সাথে স্ট্যান্ডের মত বেঁধে নিজে এর উপর দাঁড়ায়। তারপর গামছা দিয়ে নিজের শরীর কে ঢিলেঢালা করে বাঁধে । এরপর খেজুর গাছের ডাল কাটতে আর কোন সমস্যা হয় না । তবে এই বৃদ্ধ বয়সে গাছে উঠাই বড় সমস্যা। কিন্তু রহম আলীদের সেদিকে খেয়াল দিলে কি চলে?
সকালবেলা শীতের দিনে গ্রামে সবার বাড়িতেই কম বেশী পিঠা তৈরি হয়। উল্লেখযোগ্যে ভাপা পিঠা। গরম গরম ভাপা পিঠা খেজুরের রস দিয়ে খেতে দারুন স্বাদ লাগে। এছাড়া আরো হরেক রকমের পিঠা বানায় যে যার সাধ্যমত।জয়নাব মীর বাড়ির গোমস্তা কাকার কাছ থেকে চেয়ে কিছু চাউল এনেছে। সেই চাউল ভিজিয়ে গতকাল চাউলের গুড়ো বানিয়েছে , পিঠা বানানোর জন্য। সকাল বেলা মেয়ের তৈরি গরম পিঠা খেয়ে রহম আলী রস নামাতে দেয় ছূট। দুইখান পিঠা অতি যত্নে রেখে দেয় জয়নাব কারো জন্য।
জয়নবের মনে ইদানিং বেশ রঙ লেগেছে। সারাদিন মায়ের শাড়ী পরে থাকে । বাড়ির পাশের বিভিন্ন ফুলের গাছ থেকে ফুল এনে খোঁপায় লাগায়। গুনগুন করে গান গায়। বাবাকে আজ লাল কাঁচের চুড়ি আনতে বলেছে , সাথে লাল ফিতা । রহম আলী এখন মোটামুটি ভালই কামাচ্ছে। প্রতিদিনে খেজুর গাছে যে রস হয় তার অর্ধেক গৃহস্ত নেয় বাকী অর্ধেক রহম আলীর । প্রতি দিন মাটির কলসে পাঁচ ছয় কলস হয় । প্রতি কলস গঞ্জে পঞ্চাশ টাকা দরে বিক্রয় করে। সেই কারনে মেয়ের আবদারে রাগ না করে বরঞ্চ খুশী হয়েছেন। গঞ্জ থেকে ফেরার পথে মেয়ের জন্য চুড়ি আর লাল ফিতা কিনে নেন। বহুদিন খাসীর মাংস খাওয়া হয়না , কি মনে করে এক কেজী খাসীর মাংস কিনে নেন। মেয়ের জন্য সুগন্ধি এক শিশি তৈল নিতে ও ভুলেননা।
বাড়িতে প্রবেশের সময় রহম আলী দেখেন , পাশের গ্রামের মমিন মিয়ার ছেলে তার বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে। ব্যাপারটা তিনি আঁচ করতে পারেননি। আজিজ রহম আলী কে দেখে থতমত খেয়ে যায়। কিন্তু পরক্ষণে নিজেকে সামলে নিয়ে বলে
চাচা আপনের কাছে আইছিলাম।
কেনরে ?
চাচা আইজ রাইতে রস লাগব। পোলাপাইনে শিরনী খাবে।
আজিজ মিয়া গ্রামের ছেলেদের মাঝে মাঝে রস দেন । যাতে করে ছেলেরা তার রসের হাড়ি না ভাঙ্গে। বললেন
ঠিক আছে দিমুনে। কহন লাগব।
আইজ রাইত দশটায়।আমি আমুনে আপনের লাইগ্যা।
না। তোয়ার অয়াইয়্যেনের (আসার) দরকার নাই। আমি নিজেই আইমু।

আগামীকাল দেখুন শেষ পর্ব এবং পুরো গল্পটি

৪৭৫ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
সময় বয়ে যায়।আমি ও বেড়ে উঠি . নিশ্চিত জীবনের পথ খুঁজে ফিরি কিন্তু অস্থির অবস্থা সে পথ ভুলিয়ে দেয়।কোলাহল ব্যাস্ততা ছেড়ে মনের আনন্দে লিখি।যশ খ্যাতি এসবের পেছনে কখনো ছুটে চলিনি আর চলতে ও চাই না ।কেমন লিখি জানি না । কারো কাছে ভালো লাগলে খুশি হব। touhidullah82@gmail.com
সর্বমোট পোস্ট: ১৯ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৪৪ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৬-০২ ০২:৩৯:৪২ মিনিটে
banner

১৩ টি মন্তব্য

  1. কাউছার আলম মন্তব্যে বলেছেন:

    শেষ পর্বের আশায় রইলাম

  2. এ হুসাইন মিন্টু মন্তব্যে বলেছেন:

    দেখি জীবন চক্র কোথায় গিয়ে থামে, সাথে আছি

  3. আমির হোসেন মন্তব্যে বলেছেন:

    দুই পর্ব এক সাথে প্রকাশ করা মানেটা বুঝলাম না।

    • তৌহিদ উল্ল্যাহ শাকিল মন্তব্যে বলেছেন:

      আর বেশী দীর্ঘায়িত না করে দ্রুত শেষ করার জন্য এই প্রচেষ্টা। ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য।

  4. আরিফুর রহমান মন্তব্যে বলেছেন:

    প্রতিটি পর্ব নিয়মিত দেখতে চাই। আপনাকে অভিনন্দন।

  5. আরিফুর রহমান মন্তব্যে বলেছেন:

    ধন্যবাদ। ভাই। ভালো থাকবেন। পর্বগুলো আমার কাছে খুব ভালো লেগেছে।

  6. আরিফুর রহমান মন্তব্যে বলেছেন:

    ধন্যবাদ ভাই। ভালো থাকবেন। পর্বগুলো আমার কাছে খুব ভালো লেগেছে।

  7. শাহ্‌ আলম শেখ শান্ত মন্তব্যে বলেছেন:

    এযেন গ্রাম বাংলার
    কৃষকের এক মহাব্যাস্ত সময়।
    মহা ব্যস্ত এছাড়া আরো কয়েকটি বানান ভুল হয়েছে ।
    ভাল লাগা জানালাম ।

  8. সবুজ আহমেদ কক্স মন্তব্যে বলেছেন:

    দারুণ ভাল লাগলো
    দারুন ভাব ভাবনা

    শুভ কামনা থাকলো
    বেশ ভাল লাগলো
    মুগ্ধ হবার মতো

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top