Today 18 Jul 2018
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

জীবন চক্র (শেষ পর্ব)

লিখেছেন: তৌহিদ উল্ল্যাহ শাকিল | তারিখ: ০৪/০৭/২০১৩

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 296বার পড়া হয়েছে।

বসন্তে
প্রকৃতি সেজেছে নতুন রুপে । শীতে পত্র ঝরা সকল বৃক্ষে সবুজের সমারোহ।রুক্ষ প্রকৃতি যেন প্রান ফিরে পেয়েছে। ফুল গাছে নানা রঙের ফুল বাংলার গ্রাম যেন এক স্বর্গপুরী । কোন শিল্পীর আঁকা ছবির মত। শীতের আমেজ শেষে সকলে নানা কাজে ব্যাস্ত।
গ্রামের রাস্তার দু’পাশে বৃক্ষ রাজি সবুজের ছটায় মনোমুগ্ধকর এক পরিবেশ তৈরি করেছে অবলীলায়। নিরঞ্জন বরাবরই প্রকৃতি প্রেমী মানুষ । সকালে মীর’দের জমিন গুলো প্রাত ভ্রমণের সময় দেখে নেন। কোনটায় কি দরকার। মমিন মিয়ার বাড়ির পেছনে মীর সাহেবদের একটি ধানি জমি আছে। সেই জমিতে বেশ ধান হয়। এবছর সে জমি নিরঞ্জন নিজে চাষ না করে আজিজ কে বর্গা দিবে বলে মনে মনে ভেবে রেখেছে। আজিজ ছেলেটা ভাল।
মমিন মিয়াকে কাশতে কাশতে ঘর থেকে বাহির হতে দেখে নিরঞ্জন বাবু থামলেন। নিরঞ্জন কে গ্রামের সবাই মীর বাড়ির গোমস্তা বলে বেশ মান্য করে। নিরঞ্জনকে দেখতে পেয়ে মমিন মিয়া এগিয়ে এল ।
কি খবর কর্তা , হুট করে এদিকে?
এমনি এলাম। তা তোমার খবর কি ? সব ঠিক আছে তো। আজিজের ব্যাপারে কি ভাবছ?
ক্যান আজিজ আবার কি করছে, কি ভাবমু।
আরে পোলা বড় হইছে না , বিয়ে দেওন লাগব না।
ওহ সে কথা। তা বাবু পাত্রী আছে নাকি আপনার জানাশোনায়।একজন তো বিয়ে করে বউ রেখে চম্পট দিয়েছে। তার কোন খোঁজ রাইখে না।
আজিজের ব্যাপারে আমি তোমারে সহযোগিতা করুমনে।
কেমনে?
তোমার বাড়ির পাশের জমিখান এবার আজিজ মিয়ারে বর্গা দিমু, পোলাখান কিন্তু তোমার বহুত ভালা।
তাইলে আমার কওনের কি আছে। আপনি মুরুব্বি হইয়া ,যা করেন তাই মাইন্যা লমু।
সেদিন রাতে নিরঞ্জন রহম আলীর কাছে যায়। সেখানে বেশ আলোচনা করে রাতে নিজের গৃহে ফিরে আসে ।
রহম আলী আবার আশায় বুক বেঁধে নিজের জমিতে কোদাল দিয়ে মাটি খুড়ছে। এবার কলা নয় অন্য কিছু আবাদ করবে। কলা চাষ তাকে সর্বশান্ত করেছে। ছেলেরা এই বৃদ্ধ বাবার খোঁজ নিতে আসে না ।একমাত্র মেয়ে জয়নবকে নিয়ে কোন রকম বেঁচে আছে। আদৌ একে বেঁচে থাকা বলে কিনা সন্দেহ আছে। কিন্তু গতকাল রাতে জয়নবের ব্যাপারে নিরঞ্জন বাবুর আগ্রহের কথা শুনে দারুন খুশী রহম আলি। শেষ পর্যন্ত মেয়েটার একটা ব্যাবস্থা আল্লাহপাক করে দিয়েছেন ।
অশ্বথতলা গ্রামে আজ দুই পাড়ায় বিয়ের বাজনা বাজছে। মাইকে গান চলছে-বধু সেজে কন্যা যখন এলরে…………
কলাগাছের গেইট সজানো হচ্ছে। গ্রাম বাংলার এক পুরানো সংস্কৃতি । দুই পাশে দুইটি করে চারটি কলা গাছ দিয়ে এর উপর বাশের মাচানের মত তাতে নানা রঙ্গিন কাগজ দিয়ে সজ্জিত করে বিয়ের গেইট বানানো হচ্ছে রহম আলীর বাড়ির সামনে। হায়রে কলা গাছ । গেল বছর রহম আলীকে নিঃশেষ করে এবার তার মেয়েকে নিয়ে যাচ্ছে শশুর বাড়ি। তবে রহম আলীর আজ কলা গাছের প্রতি ক্ষোভ দেখা গেল না। বরঞ্চ আজ কলা গাছের গেইট তাকে তার পুরানো দিনের কথা মনে করিয়ে দিল।
গাছে গাছে কোকিল ডাকছে, ফুলে ফুলে চারদিক, সেই মধুসময়ে বিয়ে হয়ে গেল জয়নব আর আজিজের। আজিজ যেমন খুশী মনের মত বউ পেয়ে, জয়নাব ও বেশ খুশী গাবুর লোকটাকে স্বামী হিসাবে পেয়ে। পালকিতে করে জয়নব কে নিয়ে যাচ্ছে চার বেয়ারা। সেদিকে তাকিয়ে রহম আলীর দু’চোখ গড়িয়ে অশ্রু ঝরতে লাগল। সেই অশ্রু কিসের তা বোঝার সাধ্য কার নাই।
পুনশচঃ গ্রাম বাংলার ঋতু চক্রের মতই জীবন চক্র বদলাতে থাকে । গ্রামের সাধারন মানুষ গুলো কোন এক ঋতুতে কাঁদলে অন্য ঋতুতে হাসে । এই হল চক্র , মানে জীবন চক্র। বেশ কিছু সীমাবদ্ধতার কারনে অনেক কিছু লেখা সম্ভব হয়ে উঠেনি। সে জন্য আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।

৪০৬ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
সময় বয়ে যায়।আমি ও বেড়ে উঠি . নিশ্চিত জীবনের পথ খুঁজে ফিরি কিন্তু অস্থির অবস্থা সে পথ ভুলিয়ে দেয়।কোলাহল ব্যাস্ততা ছেড়ে মনের আনন্দে লিখি।যশ খ্যাতি এসবের পেছনে কখনো ছুটে চলিনি আর চলতে ও চাই না ।কেমন লিখি জানি না । কারো কাছে ভালো লাগলে খুশি হব। touhidullah82@gmail.com
সর্বমোট পোস্ট: ১৯ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৪৪ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৬-০২ ০২:৩৯:৪২ মিনিটে
banner

৫ টি মন্তব্য

  1. আমির হোসেন মন্তব্যে বলেছেন:

    ভাই গল্পটি পড়ে মজা পাইলাম। আরেকটু বড় হলে উপন্যাস বানাতে পারতেন। যাহোক পূর্বের পর্বগুলোর লিংক দিয়ে দিলে অন্যরা পড়তে সুবিধা হবে।

  2. এ হুসাইন মিন্টু মন্তব্যে বলেছেন:

    সুন্দর

  3. শাহ্‌ আলম শেখ শান্ত মন্তব্যে বলেছেন:

    গল্পের আকার আয়তন বেশি হয়না ।
    তবুও বেশ হয়েছে ।

  4. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    খুব সুন্দর গল্প

    ভাল লাগল

  5. সবুজ আহমেদ কক্স মন্তব্যে বলেছেন:

    নাইস লিখণী

    নাইস গল্প ,,,,,,,,,,,,,,,,,পড়ে ভালো লাগলো

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top