Today 06 Dec 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

জীবন পরিক্রমায়(অণু গল্প)

লিখেছেন: আরজু মূন জারিন | তারিখ: ১৫/০৯/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 962বার পড়া হয়েছে।

উপর থেকে জীবন এর হলাহল দেখতে ভাল লাগে তার। সকালের এই সময়টাতে প্রতিদিন চায়ের কাপ হাতে বারান্দায় আসে প্রাণের স্পন্দনের এই স্পর্শ টুকু পেতে। বেশ সকাল এখন। তবু এর মধ্যে জীবনের চরম ব্যস্ততা দেখা যাচ্ছে। ছুটছে মানুষ ছুটছে যান ,ছুটছে আর ও কত প্রাণ ,প্রাণী মানুষ।সকাল সাতটা মাত্র। স্কুল গামী বাচ্চাদের কলকাকলিতে পরিবেশ মুখরিত।

আহ ! কি প্রাণ জীবন এ ছেড়ে চলে যেতে হবে একদিন মনে হলে বুকের ভিতরে এক হাহাকারের মত করে উঠে।

এত সকালে প্রকৃতিতে এত ব্যস্ততা। প্রকৃতি বেশ সাড়ম্বরে জেগে উঠেছে যেন। গাড়ি হর্ণ, রিক্সার টুং টাং, স্কুল গামী বাচ্চা , অফিসগামী বাস শব্দে প্রকৃতি মুখর। তবু ও এই যান্ত্রিক কোলাহল শব্দ টাকে সে ভালবাসে।

কাজ করে সে ঢাকা ব্যাংক এ। সিনিয়র এক্সিকিউটিভ। কিছুদিনের মধ্যে প্রমোশন হয়ে এসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার হওয়ার কথা তার। বস ম্যানেজার, এমডি বলা যায় সবাই তার গুন মুগ্ধ। তার কর্মতৎপ রতায় সবাই খুশি। নাম আরিফুর রহমান । মোটামুটি সন্তুষ্ট ছিল তার এই জীবনে। ছিমছাম জীবন, ছোট সুন্দর বাসা মমতাময়ী স্ত্রী  ,ভাল সন্মানজনক পরিবেশে একটি কাজ। আর কি চাই তার। এই সুন্দর সরল জীবনে কূট কাল জিনিস হানা দিল এইবার। আগের মাস এ কাজ থেকে বাসায় ফেরার পথে কার কলিশন তার গাড়ি র সাথে দ্রুতগামী বাসের ধাক্কায় হাসপাতাল এ আসা , অনেকটা তার সুস্থ সরল জীবন ওলটপালট করে দিল। যদিও সে এখন আরোগ্যের পথে। ডাক্তার বলেছে শুধু তিনমাস বেড রেস্ট এর পরে কাজে আবার যোগ দিতে পারবে।

মানুষ সামাজিক জীব। তার চেয়ে বেশি মানুষ ভালবাসা, বন্ধন একে অপরে সম্পর্কিভূত। মা বাবা , সন্তান, ভাইবোন কত আপন মানুষ, ভালবাসায় আমরা মায়ার বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে আছি। এত ভালবাসা বন্ধন ,মায়া তারপর ও জীবন চলার পথে যার যার জার্নি তার সম্পূর্ণ নিজের। আজ আমার একাকিত্ব ,এই ভারবোধ , বেদনা সম্পূর্ণ আমার নিজের। নাড়ি ছেড়া বাধন , মা সন্তান আমাদের জীবন কে যদি ওয়ান ওয়ে জার্নি মনে করি যার যার জীবন এর ভার সম্পূর্ণ তার নিজের। বারান্দায় একা বসে ভুতের মত কয়দিন ধরে এসব ই সে ভাবছে। ভাবনার কুল কিনারা খুঁজে পায়না। কোন অর্থ এখন আর খুঁজে পায়না , এই কাজ ,জব , ঘর গোছানো ,টাকা পয়সা সব যেন অর্থহীন। ভিতরে সে বড়ই নিঃসঙ্গ একাকী বোধ করছে এই দুর্ঘটনার পর।

ফোন এর আওয়াজ পেয়ে বারান্দা থেকে উঠে আসে।

তার স্ত্রীর গলা

নাস্তা খেয়েছ? জবাব দিতে ইচ্ছে হলনা। সেই একই রুটিন মাফিক কথা। বলার জন্য যেন বলা। কোন প্রাণ নেই তাতে। স্ত্রীর কথায় আবেগের স্পন্দন খুঁজে পায়না। সম্পর্ক ,আপনজন ,ভালবাসা সব যেন অর্থহীন মনে হয়। আপনজন রা যেন রোবটের মত হয়ে গিয়েছে আজকাল। তার চেয়ে এই প্রাকৃতিক শোরগোল অনেক কাম্য এখন তার কাছে।

স্ত্রীর ফোন আবার ও এল।

কি করছ ?

বারান্দায় বসে আছি।

এখন ও বারান্দায় কেন? ভিতরে এস। সিনেমা দেখো। বই পড়, ম্যাগাজিন পড়। সারাক্ষণ ভুতের মত বারান্দায় বসে কি ভাব। বৃদ্ধ মানুষের মত স্মৃতি চারণ করছ স্ত্রী জোরে হেসে উঠে।

জীবন দেখি , প্রাণ চাঞ্চল্য দেখি প্রকৃতির ,মানুষের।

কবি সাহিত্যিকদের মত কথা বলছ দেখি।

বারান্দায় এসে আবার বসলো। ভাবনার অতলে ডুবে গেল আবার।

হটাৎ খুব জোরে ব্রেক কসার আওয়াজ পেয়ে চমকে দাড়িয়ে পড়ল।

খুব হাহাকার ,চিৎকার এর মত শুনতে দেখতে পেল নিচে সামনে এক গাড়ি উল্টে পড়ে আছে। ভিতরে একজন মানুষের যন্ত্রণা কাতর মুখ দেখতে পেল। পথচারীরা তাকে গাড়ি থেকে বের করার চেষ্টা করছে।

গতিময়তা থেকে অচল অবস্থা। অনেক টা একই অবস্থায় একই সিনারিওতে তে সে ছিল আগের মাসে। খুব ভাবাবেগ বোধ করলনা সে। যার যার জীবন ব্যথা যন্ত্রণা তার।

শুধু বুক থেকে দীর্ঘনিশ্বাস টাকে বের হতে দিল।

 

 

৯৩২ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
নিজের সম্পর্কে কিছু বলতে বললে সবসময় বিব্রত বোধ করি। ঠিক কতটুকু বললে শোভন হবে তা বুঝতে পারিনা । আমার স্বভাব চরিত্র নিয়ে বলা যায়। আমি খুব আশাবাদী একজন মানুষ জীবন, সমাজ পরিবার সম্পর্কে। কখনো হাল ছেড়ে দেইনা। কোনো কাজ শুরু করলে শত বাধা বিঘ্ন আসলেও তা থেকে বিচ্যুত হইনা। ফলাফল পসিটিভ অথবা নেগেটিভ যাই হোক শেষ পর্যন্ত কোন কাজ এ টিকে থাকি। জীবন দর্শন" যতক্ষণ শ্বাস ততক্ষণ আশ " লিখালিখির মূল উদ্দেশ্যে অন্যকে ভাল জীবনের সন্ধান পেতে সাহায্য করা। মানুষ যেন ভাবে তার জীবন সম্পর্কে ,তার কতটুকু করনীয় , সমাজ পরিবারে তার দায়বদ্ধতা নিয়ে। মানুষের মনে তৈরী করতে চাই সচেতনার বোধ ,মূল্যবোধ আধ্যাতিকতার বোধ। লিখালিখি দিয়ে সমাজে বিপ্লব ঘটাতে চাই। আমি লিখি এ যেমন এখন আমার কাছে অবাস্তব ,আপনজনের কাছে ও তাই। দুবছর হলো লিখালিখি করছি। মূলত জব ছেড়ে যখন ঘরে বসতে বাধ্য হলাম তখন সময় কাটানোর উপকরণ হিসাবে লিখালিখি শুরু। তবে আজ লিখালিখি মনের প্রানের আত্মার খোরাকের মত হয়ে গিয়েছে। নিজে ভালবাসি যেমন লিখতে তেমনি অন্যের লিখা পড়ি সমান ভালবাসায়। শিক্ষাগত যোগ্যতা :রসায়নে স্নাতকোত্তর। বাসস্থান :টরন্টো ,কানাডা।
সর্বমোট পোস্ট: ২২৯ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৩৬৮৩ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৯-০৫ ০১:২০:৩৫ মিনিটে
banner

১৩ টি মন্তব্য

  1. দীপঙ্কর বেরা মন্তব্যে বলেছেন:

    Jiboner sathe mishe jibon ke dekha
    khub bhalo laglo

  2. জসীম উদ্দীন মুহম্মদ মন্তব্যে বলেছেন:

    আমি যে রকম আশা করি আপনার কাছে; তার খুব কাছাকাছি আপনার এই গল্প!
    সালাম ও শুভেচ্ছা জানবেন প্রিয় কথা শিল্পী।

    • আরজু মূন জারিন মন্তব্যে বলেছেন:

      ওহ বাবা এই ছোট ছেলেটা কি ভারিক্কি করে বলল রে। আমি নাকি কথা শিল্পী হয়ে গেছি। আমি আসলে লেখায় অত সময় দিতে পারিনা যতটা দেওয়া উচিত একটা গল্প লিখতে। এ আমাকে সবাই বলে এত তাড়াহুড়া কেন লেখায়। একটু সময় নিয়ে লিখলে লেখা আর ও উন্নত হবে। এ আসলে আমার সীমাবদ্ধতা আমি সময় নিয়ে ধৈয্য সহকারে যে আর ও ভাল লিখব তা না। এইটুকু ই আমার ক্ষমতা। কেও তার সীমাবদ্ধতার বাহিরে যেতে পারেনা। আমি ফাস্ট কাজ করতে অভ্যস্ত।

      অনেক ধন্যবাদ জসিম ভাই কমেন্টসের জন্য। শুভেচ্ছা রইল। ভাল থাকবেন কেমন।

  3. গোলাম মাওলা আকাশ মন্তব্যে বলেছেন:

    মোটামুটি লেগেছে। আরও ভাল ভাল লিখা লিখুন আপি।

    • আরজু মূন জারিন মন্তব্যে বলেছেন:

      এইটুকু ই আমার ক্ষমতা। আপনি আর ও আশা করছেন তাইনা ? হ্যা কখন কখন আমি কল্পনা করি রবীন্দ্রনাথ এর চেয়ে ভাল লিখব (লোল) .নোবেল পুরস্কার পাব।( লোল) .আশা ভাষা বড় আকারে ভেবে রেখেছি ভবিষ্যতের জন্য। দেখা যাক। শনিবার আমি একটু ফ্রি থাকব। দেখি ঐদিন কোন ভাল কিছু লিখতে পারি কিনা। দোয়া করবেন।

      অনেক ধন্যবাদ কমেন্টসের জন্য। শুভেচ্ছা রইল। ভাল থাকবেন কেমন।

  4. এম, এ, কাশেম মন্তব্যে বলেছেন:

    Excellent!

    shuvo kamna

  5. সাঈদুল আরেফীন মন্তব্যে বলেছেন:

    আরজু মুন বরাবরই আপনার গল্পে সামাজিক জীবনের চিত্র ফুটে ওঠে। এবার ও তার ব্যতিক্রম হয়নি। আমাদের জীবনে প্রতিদিনকার চিত্র আপনার গল্পে ধরা দেয় অত্যন্ত সুন্দর সুনিপুণ ভাবে। শুভেচ্ছা নিরন্তর ।

    এত সকালে প্রকৃতিতে এত ব্যস্ততা। প্রকৃতি বেশ সাড়ম্বরে জেগে উঠেছে যেন। গাড়ি হর্ণ, রিক্সার টুং টাং, স্কুল গামী বাচ্চা , অফিসগামী বাস শব্দে প্রকৃতি মুখর। তবু ও এই যান্ত্রিক কোলাহল শব্দ টাকে সে ভালবাসে।

    • আরজু মূন জারিন মন্তব্যে বলেছেন:

      বাহ আপনার মন্তব্য তে অনেক খুশি করে দিলেন। মন ভরে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পাকস্থলী ও ভরে গেল। এখন না খেলে ও চলবে। অনেক ধন্যবাদ ভাই। শুভেচ্ছা রইল।

  6. ঘাস ফড়িং মন্তব্যে বলেছেন:

    সবাই বলে দিছে আমি কিছু বলবো না। নাৱী কে নিয়ে একটা পোষ্ট দিছি ওটা দেখবেন

  7. আরজু মূন জারিন মন্তব্যে বলেছেন:

    তোমার কিছু বলার দরকার নাই.প্রানভরে লিখতে থাক। আমি তোমার লেখায় মন্তব্য করে আসছি। কিছু মনে করনা যেন যদি মন্তব্য নেগেটিভ মনে হয়।

    অনেক অনেক শুভকামনা রইল।

  8. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    প্রাত্যাহিক জীবনে কিছু বাস্তব চিত্র তুলে এনেছে। ভাল লাগল আপি।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top