Today 06 Dec 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

জীবন যুদ্ধ!!

লিখেছেন: মোহাম্মাদ মজুমদার নিজু | তারিখ: ৩১/০৭/২০১৩

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 627বার পড়া হয়েছে।

প্রিয় বন্ধুগন, আজ আমি তোমাদের পানে সমর্পিত। পড়িবার, সমাজ, দেশ এবং ভালোবাসার মানুষের নিকট থেকে যখন তাড়িত হয়েছি। আমি ছোটে গেছি তোমাদের নিকট। তোমরা বন্ধু! আমাকে আশ্রয় দিয়েছ। সাহস ও মনবল যুগিয়েছ। অনেক সময় অর্থ দিয়েও আমার চলার ব্যবস্থা করেছ। ভুলে যাওয়ার মত মনুষত্ব আমার নেই। তবে আমি কিছু কিছু ক্ষেত্রে এতটাই নিরুপাই যে! আমি যোগ্যতার বলয় হারিয়ে ফেলি। তখন তোমাদের দৃষ্টি পরে আমার কৃতজ্ঞতার দিকে। তাতে আমি সংকিত নই। আমি লজ্জিত।

শুধু তোমাদের নিকট লজ্জিত নয়! আমি লজ্জিত আমার জন্মদাতা পিতা-মাতার নিকট। আমি পারিনি তাদেরকে ঐর্শ্বয্য দিতে। পিতার যখন শক্তি ও সমর্থ ছিলো, যতটুকু পেড়েছে অন্ন বস্র এবং ঐর্শ্বয্য দেয়ার চেষ্টা করেছে। আজও হাল ছেড়ে দেয়নি। অনেক গুলো দূর্ঘন্টার কারনে শক্তি সামর্থ হারালেও! মনবল হারায়নি। প্রমাণ করতে চায়। ইচ্ছা শক্তি মানুষের জীবনে প্রলয়ন কারী ঘূর্নীঝড়ের চেয়েও শক্তিশালী। বুঝিয়ে দেয়। আমি এখনো কারো বোঝা হয়নি। পড়িবারের হাল ধরে রাখার যোগ্যতা আমার আছে।

সত্যি ইচ্ছা শক্তি মানুষকে অনেক দূর নিয়ে যেতে পারে। ২০০৩ সালে ডাক্তারের ভূল চিকিৎসার দরুন এক চোখের আলো নিবে গেলেও পৃথীবিকে অন্ধকার মনে করেনি। তারপর ২০০৭এ মামার পিছনে মোটরসাইকেলে বসে পায়ের হাড় ভেঙ্গেও পঙ্গুত্ব বরণ করেনি। সর্ব শেষ ২০০৮ সালে ব্রেন স্ট্রোক। থেমে যায়নি বাবার জীবন। আজও লড়ছে আমাদের সুখের জন্য।

আজ আমরা প্রতিষ্টীত। দুই ভাই দু’হাতে টাকা রোজগার করি। ঐর্শ্বয্য গড়তে গিয়ে এই মাহে রমজান মাসে পড়িবারের দায়িত্ব গ্রহণে অযোগ্য প্রমাণিত হয়েছি। বাবার কাঁদে বর করেই অনেক দিন যাবত বেঁচে আছে মা, মেজু বোন এবং তার দুই সন্তান।

আমি জানি! মা মিত্যা বলে। সব সময় বলে! আমি ভালো আছি। তোর বাবা ভালো আছে। ঔষুধ আছে কিনা জানতে চাইলে। এক ব্যাকে বলে দিবে। আছে! সত্যি তাই নয়।

জানি তোমাদের ইচ্ছা কি। পিতৃপুরুষের সম্মান এবং মর্যাদা তোমাদের সন্তানদের মাঝে বিরাজমান থাকুক। সেটাই তোমাদের চাওয়া। এইটাই তোমাদের সকল কষ্ট ভোগের প্রাপ্তি।

যদি কেও জানতে চায়! আর কত দূর পাঞ্জেরি? আমি বলবো নাও তরি বিড়তে বেশী সময় নিবে না। ভোগ এবং ঐর্শ্বয্য এক সুতায় গেঁথে দিবো বাবা-মার পদপানে। এই ধারা অক্ষুণ্ণ রাখতে কারো তৃষ্কার, দিক্কার, মান, অভিমান, দুঃখ, কষ্ট আমাকে গ্রস করতে পারবে না। সর্বপরি কারো ভালোবাসার মায়া জালে আমি বন্ধী হবো না। ভালোবাসলেও! ভালোবাসা পাওয়ার জন্য পাগলামি করবো না।

লক্ষ্যতো একটাই যা আপনার আছে। তা আমারও আছে। হার-মেনে যাওয়া নয়। জীবনের সাথে লড়াই করা। ভালোবাসার এক সুতুই সকলকে গেঁথে নেয়া। বাবা আমি জানি! আপনি যখন রাস্তা দিয়ে হাঁটেন। অনেকেই করুনার দৃষ্টি দিয়ে আপনার দিকে তাকায়। অনেকেই আবার দেখেও না দেখার ভান করে চলে যায়। মনে মনে ভাবে স্যার চোখে দেখে না। পাশ কেঁটে যাওয়াই ভালো।

এতে আমার মোটেও কষ্ট হয় না। আমি গর্ব করি। বীর যুদ্ধাদের নেয় আপনিও জীবন যুদ্ধে জয়ী। আরো অনেক কিছু ভেবে হাঁসি পায়। যাদেরকে বিনা অর্থে পাঠদান করে ছিলেন। যাদের নিকট থেকে কোনদিন পাওনা আদায় করেননি। তারাই হয়তো আপনাকে দেখলে পাশ কেঁটে যায়। চলার পথে অজান্তে ধাক্কা খেলেও দ্রুত ব্যাগে ছোটে চলে আর ভাবে আমাকে চিনতে পারেনি। আবার অনেকের মুখে আপনার প্রশংসা শুনি। আপনার জন্য তারা আজ দেশ ও দশের একজন। কিন্তু আপনি একজন জনসাধারণ।

অতীতে অনেক রাগ হতো। মনে মনে ভাবতাম কি করেছেন! সমাজ গড়ার দায়িত্ব কাঁদে নিয়ে। জমিদার পড়িবারে জন্ম নিয়েছেন, যে সময় বিএ পাস করেছিলেন। হাতে গুনা কয়েক জনের মধ্যে একজন ছিলেন। চাইলেই বৈধ পথেই কারিকারি টাকা রোজগার করতে পারতেন। সুখ পায়ের নিচে খেলা করতো। তা না করে কারিকারি মানুষ গড়েছেন। যারা আজ কেওই আপনার নয়।

তবে এখন মনে হচ্ছে! আপনি সত্য। জনগণের কাঁদে চড়ে কারিকারি টাকার মধ্যে সুখের সন্ধান না করে। দেশ এবং জনমনে নিজের অর্জিত জ্ঞাণ ও তপস্যা বিলিয়ে দেয়াই প্রকৃত সুখ।

৭৬৫ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
মায়ের কোলে স্বাধীন শিশুর খেলা।
সর্বমোট পোস্ট: ৪ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ২ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৬-১৭ ১৯:১৫:২৬ মিনিটে
banner

৭ টি মন্তব্য

  1. আরিফুর রহমান মন্তব্যে বলেছেন:

    ঠিকই ভাই জীবনে চলতে গেলে যুদ্ধ করে চলতে হয়। জীবন মানেই যুদ্ধ।

  2. আমির হোসেন মন্তব্যে বলেছেন:

    জীবনে বেঁচে থাকতে হলে যুদ্ধ করেই বেঁচে থাকতে হয়।

  3. এ হুসাইন মিন্টু মন্তব্যে বলেছেন:

    চলন্তিকায় আপনাকে স্বাগতম ।

  4. সম্পাদক মন্তব্যে বলেছেন:

    চলন্তিকায় আপনাকে স্বাগত

  5. নিজাম মজুমদার নিজু মন্তব্যে বলেছেন:

    জীবনে বেঁচে থাকতে হলে লড়াই করতে হয়। তা যেমন সত্য। নীতির সাথে চলে পড়িবারে সুখ বয়ে আনা সত্যের চেও কঠীন। সকলকে ধন্যবাদ।

  6. শাহ্‌ আলম শেখ শান্ত মন্তব্যে বলেছেন:

    খুব ভাল লাগল । আপনার মঙ্গল কামনা করছি ।

  7. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    দেশ এবং জনমনে নিজের অর্জিত জ্ঞাণ ও তপস্যা বিলিয়ে দেয়াই প্রকৃত সুখ।

    এইটা কয়জন পারে ভাই

    খুব সুন্দর লেখা

    ভাল থাকুন স্বপরিবারে

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top