Today 23 Aug 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

জুলু মিয়ার লম্বা হাত…

লিখেছেন: মুহাম্মদ দিদারুল আলম | তারিখ: ০২/০৯/২০১৩

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 472বার পড়া হয়েছে।

জুলু মিয়া। মায়ের দেয়া নাম। মা বাবার আদুরে সন্তান। খুব একরোখা। ভালো নাম তার জলিল মিয়া। দাদীর দেয়া নাম। তার পেয়ারী দাদী এই নাম ব্যবহার করতে সবাইকে নির্দেশ দিয়ে গেছেন। ছোট থেকে জুলু মিয়া খুব লম্বা ,হাত পা গুলোও খুব লম্বা ছিলো। পড়া লেখায় ভালো,পড়া-লেখার বাইরে খুব ঘরকোণে ছিলো। ক্লাসের কোন ছেলের সাথে ঝগড়া লাগলে সে সবার আগে ওই ছেলের জামার কলার ছেপে ধরতো। কলার ধরে এক হাতে মাথার ওপরে তুলে ছেড়ে দিতো। মিন্টুকে খুব ভালোবাসে জুলু। মিন্টু নামে তার একটা পোষা কুকুর আছে। কুকুরের মতো গেউ গেউ শব্দ তার রপ্ত। মাঝে মাঝে কুকুরের পাশে ঘুমায়ও সে। বন্ধুরা বলে কুকুরের মতো তার গলাটাও বাঁকা। কখনও কখনও মা যখন খুঁজে খুঁজে হয়রান এক সময় তিনি দেখেন তার সোনা মানিক খাটের নিচে কুকুরের সাথে কুকুরের গলা ধরে ঘুমাচ্ছে।
বাড়ীতে কোন অতিথি এলে মা যদি বলে একটা মুরগী ধরে আনতে জবাই করার জন্য। তখন জুলুকে কে আর পায়। দৌঁড়ে গিয়ে গপ করে একটা মুরগীর গলা ধরে মায়ের চোখের সামনে নিয়ে আসে। মুরগী জবাই করলে মা জানে গলাটা তার খুব প্রিয়, তাই সেটার জন্য বাবা আর ছেলের মাঝে ঝগড়া বেঁধে যায়।
জুলু এখন বড় হয়েছে ভালোবাসা বুঝতে শিখেছে। চাচাতো বোন চিনু তার ছোটকাল থেকে পছন্দের পাত্রী ছিলো। ছোটকাল থেকে চিনুর সাথে গলায় গলায় ভাব জমাতে চাইতো কিন্তু চিনুর তা পছন্দ ছিলো না। বাড়ীর পূর্বদিকে  প্রায় বিকেলে জুলু মিয়া গলা ছেড়ে ভালোবাসার আর বিরহের গান গাইতো। তা শুনে চিনু মনে মনে হাসে আর বলে জুলু তুমি যতই চুলুবুল করোনা কেন মন তুমি পাচ্ছো না। মায়ের কানে আসতেই মা বলে ওঠে ওহ্ আমার সোনা মানিকের গলাটা খুব সুন্দর। মা ভাবে ছেলের গলাটাকে যদি আর একটু ধার দেয়া যেত তাহলে বড় মাপের কোন শিল্পীর মতো হতো তার ছেলের গলা।
চিনুর সাথে জুলু মিয়ার দেখা হলে চিনুর পা থেকে গলা পর্যন্ত একবার সে তাকাবেই। তারপর গলায় গিয়ে জুলুমিয়ার চোখ আটকে যায়। কেননা চিনুর গলায় একটা সুন্দর সোনার চেইন ওই চেইনটার দিকে জুলু মিয়া নিয়মিত দেখে পাশাপাশি চিনুর বুকের প্রতি ও তার আর্কষণ কম নয়। চেইনের প্রতি লোভ সামলাতে না পেরে একরাতে জানালা খোলা রেখে চিনু যখন ঘুমাচ্ছিলো তখন জুলু চুপিসারে চিনুর জানালার সামনে গিয়ে হাজির হয়। জানালার ফাঁক দিয়ে হাত দেয় চিনুর গলার দিকে। হাতটা গলায় না গিয়ে আরেকটু নিচে নেমে গেলো। একটা হস্তকর্ম সারিয়ে আরেকটা হস্তকর্ম করতে গেলে চিনু চিৎকার করে ওঠে তখন জুলু চিনুর গলা চেপে ধরে। দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে দেখে ছেড়ে দিয়ে জুলু পালায়।
আমাদের জুলুমিয়া ইতি মধ্যে চিনুকে না পেয়ে পাশের বাড়ীর রানুকে শাদীর কাজটা সেরে পেলেছে। ব্যর্থতা মুছে ফেলতে রানুকে পটায়,তারপর বিয়ে। না সবাইকে জানিয়ে নয়। শুধুমাত্র কয়জন বন্ধু আর কাজী সাহেবই জানেন। শাদীর বদৌলতে জুলুমিয়ার চাকুরীটা হয়ে গেয়ে। পুলিশের চাকুরী। সেরের ওপর সোয়া সের।
জুলুর হাতটা ইদানীং আরো লম্বা হয়ে গেছে। হাতটা টেবিলের ওপরে থাকতে চায়না,শুধু টেবিলের নিচে চলে যায়। না না ভাই ভুল ভাবছেন কেন! ওপরিটা টেবিলের নিচে দিয়ে ওপরে নিয়ে আসেন তিনি। তার ওপরি নেয়ার দৃশ্য অফিসের ছোটকর্তরা দেখলেও ভয়ে কিছু বলে না। শুধু শুধু বলে তার গলা ধাক্কাটা কে খেতে যাবে। জুলু মিয়ার কথা না শুনলে অফিসের অধিনস্তদের অনেক গলা ধাক্কা খাওয়ার অভিজ্ঞতা আছে।
দেশের রাজনীতির অবস্থা বুঝে সবার আগে হরতালে রাস্তায় নামে জুলু মিয়া। তার নাকি রাজনৈতিক নেতাদের গলা খুব প্রিয়। সবার চোখের আড়ালে তাদের গলা ধাক্কা দিতে, গলা চেপে ধরতে খুব ভালো লাগে। কিন্তু কাজটি জুলু মিয়া চুপিসারে গোপনে গোপনে করতে চাইলেও তা পারে না। পরের দিন দেশের মিডিয়াগুলোতে তার নাম ও ছবি দেখে খটকা লাগে তার। ইস্ এবারও! পারলাম না ছবি ওঠে গেলো।
এক ছাত্রনেতার গলা চেপে ধরার দৃশ্য পরের দিন পত্রিকার পাতায় দেখে মনে মনে ভাবে হায় হায়  আর বুঝি রক্ষা হলো না। ওই দিন মনে মনে জুলু মিয়া প্রতিজ্ঞা করে এবার মিডিয়ার গলা চেপে ধরতে হবে। অনেক চেষ্টার পর এক সাংবাদিকের গলা চেপে ধরে। তাও মিডিয়াতে চলে আসে। তাতে তার আপসোস নেই। চেয়ারটাতো ঠিকেই আছে। পদোন্নতির জন্যও নাকি এবার প্লাস পয়েন্ট। এবার ভাবনা অন্যদিকে কিভাবে এই ভাবনায় সফল হওয়া যায় সে টেনশনে আছে। মিডিয়ার কলম আর ক্যামরার গলা চেপে ধরবে। তাদের গলা কি রকম তা অনুমান করতে পারছেনা। লম্বা নাকি খাটো। চিকন না মোটা। তার এক হাতের মুঠোয় আসবে নাকি দু’হাত এক সাথে করতে হবে। দু’হাত যদি একসাথে করতে যায় পিছন থেকে কেউ যদি তাকে কাতুকুতু দেয়। এই ব্যাপারটি নিয়ে ইদানীং খুব টেনশান খাচ্ছে,টেনশানে যাচ্ছে তার দিনরাত্রি।
কিন্তু অনেক চেষ্টা করে,অনেক সুবুদ্ধি কুবুদ্ধি দিয়ে মিডিয়ার কলম আর ক্যামরার গলা চেপে ধরতে পারছেনা। তার কালো চশমা দিয়ে সে দেখতে পারছেনা মিডিয়ার কলম আর ক্যামরার গলা। অনেক ফকির বাবার ঝাঁর ফুক,তাবিজ-তুমার করিয়ে কোন লাভ হচ্ছে না। তার চোখে সে মিডিয়ার কলম আর ক্যামরার গলা দেখতে পাচ্ছে না। এখন জুলু মিয়ার কাজ থেকে ওই টেনশনটা বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।

৫৭৯ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
সর্বমোট পোস্ট: ৭৭ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ১০১ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৮-২৮ ১১:৫৮:৪৮ মিনিটে
banner

১১ টি মন্তব্য

  1. মোঃ ওবায়দুল ইসলাম মন্তব্যে বলেছেন:

    খুব ভাল লাগল। ভাল থাকবেন।

  2. এ টি এম মোস্তফা কামাল মন্তব্যে বলেছেন:

    ভালো লাগলো। মজার ছলে অপ্রিয় সত্য তুলে ধরেছেন।

  3. তুষার আহসান মন্তব্যে বলেছেন:

    অশেষ ভাল লাগা।

  4. মৌনী রোম্মান মন্তব্যে বলেছেন:

    রম্য গল্পটি ভাল লাগলো, যা বলতে চেয়েছিলাম তা ‘এ টি এম মোস্তফা কামাল’ বলে দিয়েছেন :)

  5. এম, এ, কাশেম মন্তব্যে বলেছেন:

    অশেষ ভাল লাগা। ++++++++++++++++
    ভালো থাকুন ।

  6. মুহাম্মদ দিদারুল আলম মন্তব্যে বলেছেন:

    ধন্যবাদ সবাইকে…

  7. খাদিজাতুল কোবরা লুবনা মন্তব্যে বলেছেন:

    জুলু মিয়াদের লম্বা হাতের কারবার কি কোন দিন শেষ হবে না আমাদের সমাজে?

  8. আমির হোসেন মন্তব্যে বলেছেন:

    জুলু মিয়ার গল্প ভালই হলো।

  9. আঃ হাকিম খান মন্তব্যে বলেছেন:

    শুভেচ্ছা জানবেন।

  10. দীপঙ্কর বেরা মন্তব্যে বলেছেন:

    বেশ ভালই লাগল গল্পটি

  11. সবুজ আহমেদ কক্স মন্তব্যে বলেছেন:

    চমৎকার রম্য গল্প বেশ ভাল হয়েছে
    শুভ কামনা য় শুভ সকাল

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top