Today 21 Jul 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

জয়তু : পর্ব-০১

লিখেছেন: আলমগীর কবির | তারিখ: ০৫/০৮/২০১৩

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 518বার পড়া হয়েছে।

পর্ব-০১
গল্পটি মোট তিন পর্বে প্রকাশ করা হবে শেষ দিনে তিনপর্ব একসাথে পোস্ট করা হবে।
এক :
রাত প্রায় ১ টা বাজে। বাইরের কোন প্রকার শব্দ কানে আসছে না। রুমের মধ্যে নীল রঙের ডিম লাইট টা টিম টিম করে জ্বলছে। ডিম লাইটের আলোয় দূর্জয় লাবণ্যর গৌরী বর্ণের ফর্সা মুখটা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে। লাবণ্যের শরীরের জন্য দূর্জ্য় এক সময় সমস্ত ভয় ভীতিকে লজ লজ্জাকে জয় করে ওর পেছনে ছুটেছিল আজ তা ওর জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত রয়েছে কিন্তু এতটুকু তা আকর্ষিত করছে না। বরং ঐ শরীরটা মরুভূমির উত্তপ্ত বালির মত মনে হচ্ছে। যে বালুর উত্তাপে ও এখন পুড়ে মরছে। কিন্তু সেই মরু থেকে বেরিয়ে আসতে পারছে না। কিছুক্ষণ আগে দু’জনের মধ্যে প্রচন্ড ঝগড়া হয়ে গেছে। ঝগড়ার পর ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদতে কাঁদতে লাবণ্য ঘুমিয়ে পড়েছে কিন্তু দূর্জ্য় এখনও ঘুমায়নি। মনের মধ্যে পরিতাপ ও অনুতাপ উভয় কাজ করছে।

-লাবণ্য শুনতে পাচ্ছ? শরীরে হাত দিয় ঝাকুনি দিয়ে ডাকার চেষ্টা করল। কিন্তু কোন প্রকার সাড়া শব্দ পেল না। দূর্যয় তখন নিশ্চিত হল লাবণ্য ঘুমায়নি। আবার ডাকল
-শুনতে পাচ্ছ? এবার লাবণ্যর শরীরে হাত দিতেই লাবণ্য ধাক্কা দিয়ে দূর্জয়ের হাত ঠেলে ফেলে দিল।
-লাবণ্য, শুনছো।
-তুমি আমাকে আর কখনও আমার নাম ধরে ডাকবে না।
-তাহলে কিভাবে ডাকব?
-তুমি আমাকে আর ডাকবেই না। (এই বলে শুয়ে পড়েই ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদতে লাগল)।
-এবার দূর্জ্য় লাবণ্যর শরীরে উপর শুয়ে দু’হাত ধরে জাপটে ধরল।

দূর্জ্য় তার ভুলের জন্য লাবণ্যকে জড়ীয়ে ধরার মাধ্যমে তার সমস্ত ভুল প্রায়শ্চিত্ত করার জন্য নিজের শরীর কে লাবণ্যরর শরীরের উপর ফেলে অনুশোচনা এবং ক্ষমার ভার লাবণ্যর শরীরের উপর ফেলে নিজে নির্ভার করার সর্বপপ্রকার চেষ্টা অব্যাহত রাখল। দূর্জয়ের নির্ভার হওয়ার দরুন লাবণ্য দায়মুক্ত হবেনা দায় যুক্ত হবে বুঝতে পারছে না। কিছুক্ষণ আগে বেঁচে থাকার জন্য লাবণ্য কাছে যে রাতটা জীবনের অন্তিম রাত হতে পারে বলে মনে হচ্ছিল দূর্জয়ের এই আত্ম সমপর্ণে সেটা আরও কিছুদিন দীর্ঘ হতে পারে।
-লাবণ্য কোন প্রকার নড়াচড়া করল না।
দূর্জয় লাবণ্যর পাশে শুয়ে পড়ল। পাশের বালীশে হাত পড়তে দুর্জয় বুঝতে পারল লাবণ্যর বালিশ ভিজে গেছে। দুর্জয়ও কাঁদতে শুরু করেছে। কিন্তু সে কেন কাঁদছে? সে কি লাব্ণ্যকে পাওয়ার ভূলে কাঁদছে, নাকি লবণ্যের দুঃখে কাঁদছে, নাকি অনুশোচনায় কাঁদছে।

লাবণ্য অনেকবার দূর্জয়কে নির্ভার করবে বলে চিন্তা করেছে। দূর্জয়কে নির্ভার করা মানে অন্যর উপর নির্ভর করে জীবনকে অর্থহীন অর্থবহ করার চ্ষ্টো করা। অন্যদিকে যখন লাবণ্য কোন কঠিন সিদ্ধান্ত নিবে বলে চিন্তা করে দূর্জয়ের হার মানা হার তার গলায় পরতে হয়। সেই হার পরতে যেমন বাধ্য হতে হয় বইতে তেমন দুঃখ বোধ হয়। সে না পায় মুক্তি না পায় শস্তি। জীবনের এই দ্ব্যার্থ অর্থ জীবনকে অর্থহীন করে তুলছে।

লাবণ্য অনেক দিন ধরেই ভাবছে সে এই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করবে। দু’দিন আগে যাওয়ার মাধ্যমে স্থিতিপত্রের সমাপ্তি যোগফল টানলে তাতে স্থিতিপত্রে দায়ও কমবে, স্থিতিপত্র মিলবে। অবিবাহিত জীবনের একটা ব্রেক-আপ তার সদ্য বিবাহিত জীবনেরর সমস্ত সুখ-স্বাচ্ছ্যন্দকে এই ব্রেক করবে সে ভাবতে পারেনি। যে মানুষটা সব জেনে শুনে তাকে বিয়ে করল। বিয়ের আগে মনে হয়েছিল সেই এই রকম একজন জীবন সঙ্গী পেলে সত্যিকার অর্থেই তার জীবনটা স্বার্থক হবে। কোন মানুষ এতটা উদার হতে পারে সেই ভাবতেই পারেনি। বিয়ের পরে ঠিক উল্টো চিত্র। বিয়ের পূর্বে মনে হতো এই মানুষটাকে পেলে জীবনটা আনন্দের সাগরে ভাসতে কিন্তু বিয়ের পরে সেই মানুষটা আজ তাকে দুঃখের সাগরে ভাসাচ্ছে।

ভোর হয়েছে। মসজিদ থেকে ফযর নামাজের আযান ভেসে আসছে। কাকের ডাকও শোনা যাচ্ছে। লাবণ্য নির্লিপ্ত ভাবে খাটের উপরে দু’হাটুর উপর মাথা দিয়ে বসে আছে। দূর্জয় পাশে শুয়ে আছে। লাবণ্যর ফুপিয়ে কাঁদার শব্দে দূর্যয়ের ঘুম ভেঙ্গে গেলো।

-কি ব্যাপার তুমি ঘুমাওনি? খাটের উপর শুয়ে থেকেই লাবণ্যকে জিজ্ঞেস করল দূর্জয়। লাবণ্য কোন জবাব দিলনা।
-ঘুমাওনি? শুয়ে থাকা অবস্থা থেকে উটে বসে লাবণ্যকে জিজ্ঞেস করল দূর্জয়।

লাবণ্যর এই অবস্থা থেকে দূর্জয়ের খুব মায়া হলো। চুপ করে বসে ভাবতে লাগল সত্যিই সে লাবণ্যর সাথে অন্যায় করছে। ওতো সব জেনে বুঝেই লাবণ্যকে বিয়ে করেছে। জীবনের যে অধ্যায়টা লাবণ্য শেষ করে দিয়েছে সেটাকে কেন্দ্র করে লাবণ্যকে কষ্ট দেওয়া সত্যিই অন্যায়।

-সরি, সরি আমার অন্যায় হয়েছে। আর এসব বিষয়ে আমি তোমাকে কখনও কোন প্রশ্ন করব না, আর তোমাকে কোন প্রকার কষ্টও দেবনা। দূর্জয় এ বলে কেঁদে ফেলল।
-বিয়ের এই কয় মাসে তুমি এ বিষয়ে অনেকবার সরি বলেছো। আর কতবার সরি বলবে? তোমার সরি শুনতে আমার ভাল লাগেনা। তুমি আমাকে মুক্তি দেও। এই বলে আবার কাঁদতে শুরু করল লাবণ্য।
-আমি আর এমন কিছু করবনা যাতে তোমাকে আমার সরি বলতে হয়। অনুশোচিত কন্ঠে দূর্জয় আবার বলল।

রুমের ভিতর থেকেই দূর্জয় ও লাবণ্য কয়েকজনের সম্মিলিত আওয়াজ শুনতে পেল। একটু পরে দরজায় নক করার শব্দ শুনতে পেল। দূর্জয় দরজ খোলার জন্য এগিয়ে গেলো।
-তুমি যেওনা, আমি খুলে দিচ্ছি। ভারি গলায় লাবণ্য বল্ল। দরজা খোলা মাত্রই কয়েকজন যুবক একসাথে বড় কিছু ঘটাবে বলেই প্রস্তুতি নিয়ে এসেছে।

৬৩২ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
আমি আলমগীর কবির , জন্ম 1979 সালের 25 জানুয়ারী , গ্রাম-চাঁদপুর, ডাক-কন্যাদহ, হরিণাকুন্ডু, ঝিনাইদহ। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে হিসাব বিজ্ঞানে এমকম করার পর একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেম-এ এমবিএ করি। বর্তমানে একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করি, প্রতিষ্ঠানের নাম ওয়েভ ফাউন্ডেশন। যখন কলেজে পড়তাম তখন থেকেই লেখালেখির খুব ইচ্ছা ছিল কিন্তু আত্ম বিশ্বাসের অভাবে হয়ে উঠেনি। রবীন্দ্র নাথ ঠাকুরের ছোট গল্প এবং হুমায়ুন আহম্মেদ, সুনীল গঙ্গোপধ্যায়, মানিক বন্দোপধ্যায় সহ বেশ কিছু লেখাকের উপন্যাস পড়তে খুব ভাল লাগে। আগে কবিতা পড়তে ভাল লাগত না তবে এখন ভাল লাগে।
সর্বমোট পোস্ট: ৬১ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৩৪১ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৭-২৭ ০৯:৩৯:৩৮ মিনিটে
banner

৬ টি মন্তব্য

  1. আমির হোসেন মন্তব্যে বলেছেন:

    আলামগীর কবির আপনার গল্পটা পড়লাম। সূচনাটা ভাল হয়েছে। বাকী দুই পর্ব পড়ে তারপর বিস্তারিত মন্তব্য করব।

  2. আলামগীর কবির মন্তব্যে বলেছেন:

    আমির ভাই গল্পটা পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

  3. এ হুসাইন মিন্টু মন্তব্যে বলেছেন:

    শুরুটা ভালোই লাগল,

  4. আলামগীর কবির মন্তব্যে বলেছেন:

    পরেরগুলো আরও ভাল করার চেষ্টা করব। আপনাকে ধন্যবাদ।

  5. আরিফুর রহমান মন্তব্যে বলেছেন:

    গল্পটি পড়লাম ভাল লাগল।

  6. আলামগীর কবির মন্তব্যে বলেছেন:

    আরিফুর রহমান-আপনাকে ধন্যবাদ।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top