Today 22 Jul 2018
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

জয়িতারা দীর্ঘজীবি হোক

লিখেছেন: শওকত আলী বেনু | তারিখ: ১৫/১২/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 392বার পড়া হয়েছে।

‘মা’ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ শব্দ।সন্তানের সর্বশ্রেষ্ঠ বন্ধু।একজন মা সন্তানের সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষক।প্রতিটি মা-ই সন্তানের কাছে সর্বশ্রেষ্ঠ। তবু মায়ের শ্রেষ্ঠত্ব কখনো কখনো সন্তানের সীমানা ছাড়িয়ে হয়ে পড়ে সর্বজনীন। এই সর্বজনীন মা’কে সমাজ, রাষ্ট্র গ্রহণ করে থাকে মায়ের নিঃস্বার্থ ভালবাসার যথোপযুক্ত মর্যাদা দিয়ে।‘জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ’ রত্নগর্ভা মাকে খুঁজে বের করার তেমনই একটি প্রসংশনীয় উদ্যোগ।

সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে সব নারী গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে তাদের শ্রেষ্ঠ জয়িতা নির্বাচন করার মাধ্যমে সম্মাননা প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছেন বর্তমান সরকার।সরকারের মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর জয়িতাদের খুঁজে বের করার কাজটি করে যাচ্ছে নিরবিচ্ছিন্নভাবে। উদ্যোগটির নাম ‘জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ’।পর্যায়ক্রমে ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও বিভাগভিত্তিক জয়িতা নির্বাচনের কাজটি পরিচালিত হচ্ছে মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর এর বিশেষ উদ্যোগে।শ্রেষ্ঠ জয়িতাদের যে পাঁচটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে সেগুলো নিম্নরূপ:
১. অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী
২. শিক্ষা ও চাকরির ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী
৩. সফল জননী নারী
৪. নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন যে নারী
৫. সমাজ উন্নয়নে অবদান রেখেছেন যে নারী

জয়িতা একজন সংগ্রামী অপ্রতিরোধ্য নারীর প্রতীকী নাম।নারীর উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নের মূর্ত প্রতীক জয়িতা। কেবল নিজের অদম্য ইচ্ছাকে সম্বল করে চরম প্রতিকূলতা জয় করে জয়িতারা তৃণমূল থেকে সবার অলক্ষ্যে সমাজে নিজের জন্য জায়গা করে নেয়। আমার মা তাঁদেরই একজন। সন্তান হিসেবে মায়ের এই সম্মাননায় আমি আজ গর্বিত। নারায়ানগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার উপজেলায় ‘সফল জননী নারী’ ক্যাটাগরিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় জীবন সায়াহ্নে এসে শ্রেষ্ঠ জয়িতার পুরষ্কার অর্জন করেছেন আমার মা।

আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ এবং বেগম রোকেয়া দিবস পালন উপলক্ষে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের উদ্যোগে আড়াইহাজার উপজেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় জয়িতাদের ক্রেস্ট এবং সনদপত্র প্রদান করা হয় গত ৯ ডিসেম্বর ২০১৪ খ্রিষ্টাব্দে।

পঞ্চাশ পেড়িয়ে আমিও আজ নিবিড়ভাবে হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করছি মায়ের শাসন ও ভালোবাসা। হৃদয়ের প্রতিটি স্পন্দনে গভীর আবেগে এখনও গুঞ্জরিত হয় মায়ের মাতৃশাসন ও মাতৃস্নেহ। জন্ম থেকে জীবনের প্রতিটি বাঁকে মায়ের অবস্থান সন্তানের কাছে যে কত মূল্যবান তা এখন প্রতিনিয়ত অনুভব করছি দূর প্রবাসে অবস্থান করেও। মাতৃশাসন ও মাতৃস্নেহ ছিল সন্তান হিসেবে আমার সবচেয়ে বড় অবলম্বন।

আমার মা জীবনে যে ত্যাগ ও কষ্ট স্বীকার করে তাঁর সন্তানদের মানুষ করেছেন সেই কষ্টের যথার্থ স্বীকৃতি দিয়ে মাকে ধন্য করেছেন সরকারের মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর।প্রবাসে বসে আমিও গভীরভাবে স্মরণ করছি মায়ের এই সফল অর্জনকে। মায়ের স্বীকৃত অবস্থান ও অস্তিত্বের প্রতি আমার সর্বশ্রেষ্ঠ শ্রদ্বা নিবেদন করে মনের অনুভূতিটুকু প্রকাশ করতে পেরে আমিও আপ্লুত। মনের অজান্তেই আজ অনুভব করছি মায়ের ভালোবাসা ছিল কতোটা নিবিড়, কতোটা গভীর যা মাকে এনে দিয়েছে এক অপ্রতিরোধ্য নারীর প্রতীকী নাম জয়িতা।এখনও মনে পড়ে, তখন ঢাকা কলেজে পড়ি।সবেমাত্র এসএসসি পাশ করে গ্রাম ছেড়ে শহরে পদযাত্রা।প্রায় তিন মাইল মেঠো পথ হেঁটে খুব ভোরের ট্রেন ধরতে হতো।শহরে যাওয়ার জন্যে বিকল্প কোনো পথও ছিলনা তখন।গভীর রাতেই মা ডাকাডাকি করে ঘুম থেকে জাগিয়ে দিতেন।কে জানে (?) মা হয়তো জেগেই ছিলেন সারারাত কখন ঘুম থেকে ডেকে দিবেন তাঁর প্রিয় সন্তানকে।মায়ের অদম্য ইচ্ছাই ছিল আমাদের দৃঢ় প্রেরণা।

আমার মা বেগম ফজিলাতুন নেছা। বয়স ৮১ বছর। আমার বাবা ৯৩ ছুঁয়েছে এবার।দুজনেই আল্লাহর রহমতে ভালই আছেন।মাকে ফোন করে জানতে চাইলাম কেমন লাগছে আপনার। খুব সহজ সরল উত্তর ‘ভালো’ লাগছে। মা জানালেন ১৩ বছর বয়সে মার বিয়ে হয়। মা পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করেছিলেন তখন। খুব ভালো ছাত্রীও ছিলেন।পঞ্চম শ্রেণীতে বৃত্তিও পেয়েছিলেন মা।পড়াশুনা আর এগোয়নি। আমার নানা ছিলেন প্রাইমারি স্কুলের হেড মাস্টার।

মায়ের দশ সন্তান।তত্কালীন সামাজিক পরিবেশে মা সব কিছুর উপরে স্থান দিয়েছিলেন সন্তানদের লেখাপড়া। নিষ্ঠার সঙ্গে মায়ের দশ সন্তানকেই লেখাপড়া শিখিয়ে যোগ্য সুনাগরিক করে গড়ে তুলেছেন মা। সাথে ছিল বাবার কড়া শাসন। মায়ের বড় মেয়ের বয়স এখন ৬৩। বড় ছেলে বুয়েট থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে একজন সরকারী চাকুরে। দ্বিতীয় ছেলে একজন শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক।এফসিপিএস করেছেন অনেক আগেই। আমি বাবা-মার তৃতীয় ছেলে।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতায় অনার্স-মাস্টার্স করি।সরকারী চাকুরী নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম দীর্ঘদিন।একটি স্কলারশিপ নিয়ে উচ্চশিক্ষায় ব্রিটেনে এসে এখানেই থেকে যাই অনেকটা ইচ্ছার বিরুদ্ধে।মার চতুর্থ ছেলেও পেশায় একজন ডাক্তার।এমবিবিএস করেছেন সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ থেকে। ছোট ছেলে ইকনমিক্স এবং ইসলামিক ইতিহাসে মাস্টার্স করে শিক্ষকতা করছেন। তাঁর পাঁচ মেয়েও সবাই শিক্ষিত।মাস্টার্স ও গ্রাজুয়েশন করেছেন দুইজন।বাকিরাও মাধ্যমিক ও উচ্চ-মাধ্যমিক শেষ করে তাঁরাও এখন নিজ সন্তানদের শিক্ষিত করে প্রতিষ্ঠিত করতে মায়ের মতই ভূমিকা রাখছেন।আমার মায়ের রয়েছেন ত্রিশ জন প্রিয় নাতি-নাতনি এবং এগারো জন প্রপৌত্র-প্রপৌত্রী।

মাগো, তোমায় সহস্র সালাম।তোমার সুস্থতা কামনা করছি। তুমি দীর্ঘজীবি হও।

৩৭৪ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
লেখালেখি করি।সংবাদিকতা ছেড়েছি আড়াই যুগ আগে।তারপর সরকারী চাকর! চলে যায় এক যুগ।টের পাইনি কী ভাবে কেটেছে।ভালই কাটছিল।দেশ বিদেশও অনেক ঘুরাফেরা হলো। জুটল একটি বৃত্তি। উচ্চ শিক্ষার আশায় দেশের বাইরে।শেষে আর বাড়ি ফিরা হয়নি। সেই থেকেই লন্ডন শহরে।সরকারের চাকর হওয়াতে লেখালেখির ছেদ ঘটে অনেক আগেই।বাইরে চলে আসায় ছন্দ পতন আরো বৃদ্বি পায়।ঝুমুরের নৃত্য তালে ডঙ্কা বাজলেও ময়ূর পেখম ধরেনি।বরফের দেশে সবই জমাট বেঁধে মস্ত আস্তরণ পরে।বছর খানেক হলো আস্তরণের ফাঁকে ফাঁকে কচি কাঁচা ঘাসেরা লুকোচুরি খেলছে।মাঝে মধ্যে ফিরে যেতে চাই পিছনের সময় গুলোতে।আর হয়ে উঠে না। লেখালেখির মধ্যে রাজনৈতিক লেখাই বেশি।ছড়া, কবিতা এক সময় হতো।সম্প্রতি প্রিয় ডট কম/বেঙ্গলিনিউস২৪ ডট কম/ আমাদেরসময় ডট কম সহ আরো কয়েকটি অনলাইন নিউস পোর্টালে লেখালেখি হয়।অনেক ভ্রমন করেছি।ভালো লাগে সৎ মানুষের সংস্পর্শ।কবিতা পড়তে। খারাপ লাগে কারো কুটচাল। যেমনটা থাকে ষ্টার জলসার বাংলা সিরিয়ালে। লেখাপড়া সংবাদিকতায়।সাথে আছে মুদ্রণ ও প্রকাশনায় পোস্ট গ্রাজুয়েশন।
সর্বমোট পোস্ট: ২০৩ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৫১৯ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৬-১৭ ০৯:২৪:৩১ মিনিটে
banner

৬ টি মন্তব্য

  1. সহিদুল ইসলাম মন্তব্যে বলেছেন:

    খুব সুন্দর লিখেছেন বেনু ভাই। পৃথিবীর সকল মাকে আমার সালাম।

  2. সেতারা ইয়াসমিন হ্যাপি মন্তব্যে বলেছেন:

    মায়ের প্রতি রইলো সশ্রদ্ধ সালাম আর বিনম্র শ্রদ্ধা… আপনি অনেক Lucky বেনু ভাইয়া…ভালো থাকুন…পারলে দেশে ফিরে আসুন…সবাই মিলে মিশে বাঁচুন…!

    • শওকত আলী বেনু মন্তব্যে বলেছেন:

      আপনাকেও বিনম্র শ্রদ্ধা ।মায়ের শাসন ও স্নেহ দুটি প্রয়োজন যেটা আমরা পেয়েছি । বিদেশে থেকে যাওয়াটা অনেকটা অপ্রত্যাশিত । এখন ছেলে মেয়েরা লেখা পড়ায় অনেকটা এগিয়ে গিয়েছে তাই এই মুহুর্তে আর ফেরা সম্ভব নয় । বেঁচে থাকলে ওদের এস্টাবলিশ করে চলে আসব ইনশাল্লাহ । আপনিও ভালো থাকুন ।অনেক ধন্যবাদ আপনাকে ।

  3. দীপঙ্কর বেরা মন্তব্যে বলেছেন:

    খুব খুব সুন্দর লেখা

  4. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    আপনার মাকে সশ্রদ্ধ সালাম
    এমন মায়ের সন্তান আমাদের বন্ধু
    প্রাউড অফ ইউ।
    আপনার মা বাবাকে আল্লাহ দীর্ঘজীবি করুন

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top