Today 21 Sep 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

ডোরা গডজিলা এবং সাহসী লামিছা (শিশুতোষ কাহিনী )

লিখেছেন: আরজু মূন জারিন | তারিখ: ০৬/০৮/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 1284বার পড়া হয়েছে।

<!–

চলন্তিকার সবাইকে অনেক শুভেচ্ছা। নুতুন কিছু লিখতে পারছিনা কম্পিউটার প্রবলেম এর কারণে। প্রথম আলোতে প্রকাশিত পুরানো লেখাটি আজ এখানে পোস্ট করলাম। শিশুদের জন্য লিখা বড় রা ও  যদি পড়ে খুশি হব। সবাইকে লেখাটি পড়ার আমন্ত্রণ জানান হল।

–>

লামিছা আজ অনেক সকালে ঘুম থেকে উঠেছে। উঠে সে বারান্দায় এসে বসেছে। মা ঘুম থেকে উঠে খোজা শুরু করেছে।

লামিছা মামনি কোথায় তুমি ভিতর থেকে মা ডাকছেন।
নিঃশব্দে বারান্দার দরজার আড়ালে সে দাড়িয়ে রইল। মাঝে মাঝে তার হি হি হাসির আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। মা ঠিক ই বুঝতে পারছে কোথায় তার মেয়ে। তিনি ভাব করছেন কোথাও খুঁজে পাচ্ছেন না। তাতে সে আর ও মজা পেয়ে হি হি করে হাসছে। কিছুক্ষণ পরে মা এসে পাকড়াও করেন মেয়েকে।

দুষ্টু মামনি এখানে লুকিয়েছে কেন ?

বাবাকে বাই বলব। তুমি না বললে বাবা এই আকাশের উপর দিয়ে যাবে। তাই দাড়িয়ে আছি বাবাকে বাই বলতে।

লামিছার আব্বু পাইলট। খুব সকালে উঠে কাজের জন্য বের হয়ে যান।

আভ্যন্তরীণ ফ্লাইট গুলিতে ওনার শিডিউল সাধারনত সকাল ছয়টা থেকে রাত বার টা। কখন ও মধ্য রাত ও হয়ে যায়। তবে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট গুলিতে মাঝে মাঝে বেশ কয়েকদিনের জন্য দেশের বাহিরে থাকতে হয়। ওই সময় লামিছার খুব মন খারাপ থাকে। যদিও সে বাবাকে কালে ভদ্রে পায়। বাবা মাসে একদিন কি দুইদিন তাদের নিয়ে বের হতে পারে। ওই দুইদিন তার ঈদের মত মনে হয়। বাবা তাকে বারবার আদর করে মাথা নেড়ে দেয় , অনেক টয় কিনে দেয়।

মায়ের সঙ্গে আজ মুভি দেখছে। মুভি দেখতে দেখতে মা তাকে খাইয়ে দিচ্ছে। খেতে খেতে বাবার ফোন আসে। উত্ফুল্ল হয়ে উঠল। আনন্দে চিত্কার করে উঠল বাবা আসছে তাড়াতাড়ি। না ঘুমিয়ে বসে রইল।

লামিছা মাম ঘুমাতে আস। মায়ের কথা না শোনার ভান করে কম্পিউটার এ গেম এ বিজি হয়ে রইল। আর ও একঘন্টা অপেক্ষা করার পর ও যখন বাবা আসলনা তখন ও ঘুমাতে আসতে ই হল পনর মিনিটে সে ঘুমিয়ে পড়ল।

২ডোরা জান মামনির আজ খুব মন খারাপ। তুমি কি জান আমার বাবা কি ভাল আছে ? তোমার এক্ষ্প্লোরর একটিভিটিতে দেখতে পার আমার বাবা কোথায় আছে কেমন আছে ?
লামিছা কথা বলছে তার পুতুল ডোরার সাথে।

টিভি নিউস দুইদিন ধরে প্রচার হচ্ছে এক নিউজ। বাংলাদেশ এর বিমান ফ-২৮ মালয়শিয়ান টেররিস্টদের হাতে জিম্মি হয়ে আছে গত দুইদিন ধরে। মা শয্যায় দুইদিন ধরে।

আজকের ঝড় হাওয়ায় প্লেন চালাতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে শামসুল আরেফিন লামিছার বাবার। আচমকা পিছনের দরজা খুলে গেল, মনে হল কিছু একটা একটা ভিতরে ঢুকছে। তাকিয়ে দেখে অতিকায় বড় কুমির গডজিলা দাড়িয়ে , একহাতে লামিছা কে ধরা অন্যহাতে বড় ম্যাশিন গান।

আমার মেয়েকে ছেড়ে দাও প্লিস মিনতি করি উনি আকুল হয়ে বলতে থাকেন। গডজিলা লামিছা কে ফেলে একহাতে বাবাকে উঠিয়ে আনলেন চালকের আসন থেকে। প্লেন সোজা নিচের দিকে নামতে শুরু করল। যাত্রীদের চিত্কার তার সাথে লামিছার চিত্কার

আমার বাবা বাবা। ……………..

মা মা মামনি কি হয়েছে ? মা ধাক্কা দিতে থাকে লামিছা কে।

ঘুম ভেঙ্গে হাউমাউ করতে কাদতে থাকে।

মা গডজিলা বাবাকে নিয়ে গেছে। .ফুফিয়ে কাদতে থাকে সে।

মা আমার স্বপ্ন দেখেছ। বাবার ফোন আসে ওই সময়ে।

সব শুনে বাবা মাকে বকা দেয়। তোমাকে বলেছি এসব মুভি লামিছা কে দেখাবেনা। আতঙ্ক ভয়ের মুভি কখন ও বাচ্চাদের দেখাতে হয়না।

গুড গড তুমি ঠিক আছ। আমরা টেনশন এ ছিলাম। এজন্য লামিছা স্বপ্ন দেখেছে। মা দুইদিন পরে হাসলেন। তোমার ফোন পেয়ে নিশ্চিত হলাম।

আমি পারফেক্ট লি ওকে। প্লেন কিছু পুলিস ছিল সিভিলিয়ান এর পোশাকে ওরা কাবু করেছে ছিনতাই কারীদের। একেবারে সিনেমার মত ঘটনা বুঝছ লামিছা র মা। এখন আমি সব যাত্রী নিরাপদ। আজ রাতের ফ্লাইট এ ঢাকা আসছি। আমার মাকে একটু দাও। আদর দিব।

লামিছা মামনি বাবার ফোন এস মা তাড়াতাড়ি।

ওহ ডোরা আমার বাবা এসে যাবে। ..ওকে বাই তোমার সাথে পরে কথা হবে। …এখন বাবার সাথে কথা বলি কেমন।

ধন্যবাদ ডোরা তুমি কি আমার বাবাকে এনে দিয়েছ গড জিলার হাত থেকে ? বলে নিজে হাসল নিজের ছেলেমানুষী কথায়। আমি এখন বড় হয়েছি। টিচার বলেছে গড জিলা মিথ্যে কাল্পনিক। এসব জিনিস এ আর ভয় পাবনা কেমন। নিজেকে মেসেজ দেয় হাসতে হাসতে। হাসতে হাসতে বাবার ফোন ধরে

বাবা জান আমি আর গডজিলা ভয় পাইনা।

হুম আমার মাম এর অনেক সাহস।

বাবা আসেন রাতে , অনেক খেলনা তার সাথে একটা কুমির এর টয় ও আছে।
বাবা এই টয় স্ক্যারী বলতে থাকে সে।

নো মা দেখ এ খেলনা। দেখ ভয় পেতে হয়না। খেলনা কিছুক্ষণ হাতে নিয়ে খেলতে খেলতে এতদিনের গডজিলা নিয়ে যে ভয় ছিল তা আজ মন থেকে দূর হয়ে গেল।

১,২৬২ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
নিজের সম্পর্কে কিছু বলতে বললে সবসময় বিব্রত বোধ করি। ঠিক কতটুকু বললে শোভন হবে তা বুঝতে পারিনা । আমার স্বভাব চরিত্র নিয়ে বলা যায়। আমি খুব আশাবাদী একজন মানুষ জীবন, সমাজ পরিবার সম্পর্কে। কখনো হাল ছেড়ে দেইনা। কোনো কাজ শুরু করলে শত বাধা বিঘ্ন আসলেও তা থেকে বিচ্যুত হইনা। ফলাফল পসিটিভ অথবা নেগেটিভ যাই হোক শেষ পর্যন্ত কোন কাজ এ টিকে থাকি। জীবন দর্শন" যতক্ষণ শ্বাস ততক্ষণ আশ " লিখালিখির মূল উদ্দেশ্যে অন্যকে ভাল জীবনের সন্ধান পেতে সাহায্য করা। মানুষ যেন ভাবে তার জীবন সম্পর্কে ,তার কতটুকু করনীয় , সমাজ পরিবারে তার দায়বদ্ধতা নিয়ে। মানুষের মনে তৈরী করতে চাই সচেতনার বোধ ,মূল্যবোধ আধ্যাতিকতার বোধ। লিখালিখি দিয়ে সমাজে বিপ্লব ঘটাতে চাই। আমি লিখি এ যেমন এখন আমার কাছে অবাস্তব ,আপনজনের কাছে ও তাই। দুবছর হলো লিখালিখি করছি। মূলত জব ছেড়ে যখন ঘরে বসতে বাধ্য হলাম তখন সময় কাটানোর উপকরণ হিসাবে লিখালিখি শুরু। তবে আজ লিখালিখি মনের প্রানের আত্মার খোরাকের মত হয়ে গিয়েছে। নিজে ভালবাসি যেমন লিখতে তেমনি অন্যের লিখা পড়ি সমান ভালবাসায়। শিক্ষাগত যোগ্যতা :রসায়নে স্নাতকোত্তর। বাসস্থান :টরন্টো ,কানাডা।
সর্বমোট পোস্ট: ২২৯ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৩৬৮৩ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৯-০৫ ০১:২০:৩৫ মিনিটে
banner

২৭ টি মন্তব্য

  1. আহমেদ রুহুল আমিন মন্তব্যে বলেছেন:

    আপুমনির শিশুতোষ গল্পটি পড়ে খুব আনন্দ পেলাম । আনন্দ পাওয়ার কারণটি হলো – ছেলে বেলায় আমার গ্রামের বাড়ির উপর দিয়ে আকাশে উড়োজাহাজ চলতে দেখে জীবনে পাইলট হওয়ার অভিলাষ ছিল । আমার গ্রামের বাড়ির সন্নিকটে ইন্ডিয়ান বোর্ডার পেরোলেই সিলিগুড়ির বাঘডোগরা বিমান বন্দর । এটা যদিও সামরিক বিমান ঘাটি, তথাপি কল্পনায় শিশু মনে অনেক কিছুই দোল খেত । শিশুতোষ এই গল্পটি শিশুদের মনে দোল খেলবে নিঃসন্দেহে ! ভাল থাকুন সবসময় ।

  2. আহমেদ রব্বানী মন্তব্যে বলেছেন:

    চমৎকার লিখেছেন আপু।

  3. রাজিব সরকার মন্তব্যে বলেছেন:

    দারূণ লাগল……

  4. জসীম উদ্দীন মুহম্মদ মন্তব্যে বলেছেন:

    মুন কদিন ধরে আপনাকে খুঁজে পাচ্ছি না! ভাবছিলাম বিজ্ঞাপন দেব!!

    • আরজু মূন মন্তব্যে বলেছেন:

      আমি নিজেও ভাবছিলাম আমার অনুপস্থিতির কারণ জনাব আপনাকে। .সবাইকে পেপার এ বিজ্ঞাপন দিয়ে। অনেক ধন্যবাদ জসিম ভাই কমেন্টসের জন্য। শুভেচ্ছা রইল।

  5. জসীম উদ্দীন মুহম্মদ মন্তব্যে বলেছেন:

    গল্প পড়িনি, কাল সকালে পড়ে নেব ইনশাল্লাহ — ।।

    • আরজু মূন মন্তব্যে বলেছেন:

      কেন কি হয়েছে ? শরীর এর দিকে খেয়াল রেখ। তুমি জান প্রথম আলো চলন্তিকায় আমি অনেক বার তোমার লেখায় কমেন্টস করতে চেষ্টা করেছি। কম্পিউটার এর প্রবলেম এর কারণে হয়নি। শরীর এর দিকে নজর দিবে। শুভেচ্ছা রইল অনেক।

  6. জসীম উদ্দীন মুহম্মদ মন্তব্যে বলেছেন:

    শরীর সাপোর্ট করছে না।

  7. আরজু মূন মন্তব্যে বলেছেন:

    এরকম আর করবেনা কেমন। শরীর আগে। রেস্ট নিয়ে পরে এসে লিখায় কমেন্টস। সে আমি বুঝে নিব। ভাল থাক। অনেক অনেক শুভেচ্ছা।

  8. দীপঙ্কর বেরা মন্তব্যে বলেছেন:

    অনন্য লেখা
    খুব ভাল থাকবেন ।

  9. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    সুন্দর লিখেছেন আপি :-)

  10. এ টি এম মোস্তফা কামাল মন্তব্যে বলেছেন:

    চমৎকার লিখেছেন আপু।

  11. জসীম উদ্দীন মুহম্মদ মন্তব্যে বলেছেন:

    ভেবো না; এখন ভাল আছি আমি । আগের সারারাত জেগে কাটানোতে এই অবস্থা । তুমি ভাল থেকো — ।

  12. জসীম উদ্দীন মুহম্মদ মন্তব্যে বলেছেন:

    গল্পের আপাদমস্তক পড়লাম—- ।
    গুড গড তুমি ঠিক আছ। আমরা টেনশন এ ছিলাম। এজন্য লামিছা স্বপ্ন দেখেছে। মা দুইদিন পরে হাসলেন। তোমার ফোন পেয়ে নিশ্চিত হলাম।—–
    এক নিশ্বাসে পড়ার মত। খুব সুন্দর কাহিনী। শিশু তোষ হলেও আমি বলব সব ধরনের পাঠকেরই এ গল্প ভাল
    লাগবে ।
    ভাল থেকো — নিরন্তর ।।

    • আরজু মূন জারিন মন্তব্যে বলেছেন:

      জসীম ভাই অনেক সুন্দর করে কমেন্টস করে প্রতিবার ই আমাকে খুশী করে দাও।আল্রাহ সবসময় যেন তোমাকে ভাল রাখে এই কামনা করি।

  13. আরজু মূন জারিন মন্তব্যে বলেছেন:

    গুড গড তুমি ঠিক আছ। আমরা টেনশন এ ছিলাম। এজন্য লামিছা স্বপ্ন দেখেছে। মা দুইদিন পরে হাসলেন। তোমার ফোন পেয়ে নিশ্চিত হলাম।—–
    এক নিশ্বাসে পড়ার মত। খুব সুন্দর কাহিনী। শিশু তোষ হলেও আমি বলব সব ধরনের পাঠকেরই এ গল্প ভাল
    লাগবে ।
    ভাল থেকো — নিরন্তর …..অনেক খুশী হলাম ভালবাসাপূর্ন মন্তব্যে। আমার আসলে এই যে তোমাদের মত পরম বন্ধু আর কিছু পাঠকদের ভালবাসা ছাড়া কিছুই নাই।শূন্য এ জীবন পূর্ন এখন তোমাদের ভালবাসায়।ভাল থেক সবসময় অনেক অনেক বেশী।

  14. এস এম আব্দুর রহমান মন্তব্যে বলেছেন:

    গল্পটি ভাল লাগল । শুভ কামনা ।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top