Today 19 Sep 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

তোষামোদ নয় দক্ষতা দেখান

লিখেছেন: মাসুদ পারভেজ | তারিখ: ২৭/০৪/২০১৫

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 676বার পড়া হয়েছে।

যে কারও ক্যারিয়ারের জন্য তোষামোদ হুমকিস্বরূপ। বিশেষ করে কর্পোরেট জগতে একে অন্যকে ঘায়েল করতে এ খারাপ গুণটি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। তখন এটি হয়ে পড়ে কর্পোরেট পলিটিক্স। তোষামোদকে বাদ দিয়ে দক্ষতা দেখালে তরান্বিত হয় উজ্জ্বল ক্যারিয়ার।

কি করবেন : অফিসের সবার সঙ্গে সদ্ভাব বজায় রাখুন। কারও সঙ্গে ইচ্ছাকৃত খারাপ ব্যবহার করবেন না। কারণ খারাপ ব্যবহার থেকেই সৃষ্টি হয় প্রতিপক্ষ।

* উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করুন। যেকোনো সমস্যা সরাসরি বলুন। সহকর্মীদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি বা মনোমালিন্য হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বসকে জানিয়ে রাখুন। ফলে এ বিষয়ে আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও পরবর্তীতে আপনার জন্য সহায়ক হবে।

* অধীনস্থদের সুযোগ-সুবিধা জানতে চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে তাদের কোনো দাবি কর্তৃপক্ষের সামনে পেশ করুন। * অফিসে সবসময় সময় মতো আসার চেষ্টা করুন। ফলে প্রতিপক্ষ আপনার বিরুদ্ধে প্রশাসনের কারও কাছে অভিযোগ দায়ের করতে পারবে না।

* জরুরি কাজ থাকলে আগেই সেরে ফেলুন। ছুটির প্রয়োজন হলে সহকর্মীদের শেয়ার করুন। প্রয়োজনে বসকে জানান। এতে করে সহকর্মীর মনে আপনার জন্য আলাদা কদর বাড়বে। চেষ্টা করবেন অন্যের প্রয়োজনে নিজের ডে-অফকে বাদ দিয়ে কর্মক্ষেত্রে আসতে। ফলে আপনার প্রতি সবার আলাদা দৃষ্টি থাকবে। আপনার বিরুদ্ধে যেকোনো খারাপ সিদ্ধান্ত নিতে গেলে এসব কাজ ঢাল হিসেবে ব্যবহার হবে।

1

* মিটিংয়ের জরুরি ফাইল নখদর্পণে রাখুন। প্রয়োজনে কোনো সেফটি লকারে রেখে যান। প্রতিপক্ষ চাইবে আপনার ক্ষতি করতে। হয়ত জরুরি ফাইলটি গায়েব করে ফেলতে পারে। এতে করে কর্তৃপক্ষের কাছে আপনাকে জবাবদিহি করতে হতে পারে। এমনকি চাকরি হারানোর আশঙ্কাও থাকতে পারে।

* প্রতিটি কর্পোরেট হাউসে বিভিন্ন গ্রুপিং থাকে। সবাই চেষ্টা করবে নিজ নিজ গ্রুপে কাছে টানতে। এসব এড়িয়ে চলাই ভালো। সবচেয়ে ভালো নিরপেক্ষভাবে কাজ করে যাওয়া। কাজের জন্য এসেছেন। আসেননি কোনো গ্রুপিং বা অফিস পলিটিক্স করতে। মনে রাখবেন আপনি যদি কারও বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন তাহলে আপনাকেও একদিন এর শিকার হতে হবে। * অফিসের স্পর্শকাতর ফাইল ও গোপনীয় বিষয়ে কখনো অন্যের সঙ্গে আলোচনা না করাই ভালো। এসব বিষয় সবসময় এড়িয়ে চলবেন।

* যদি কখনো কোনো আড্ডাতে কোনো পরচর্চা শুনতে পান তাহলে সেখানে উস্কানিমূলক কোনো কথা বলা ঠিক নয়। পরবর্তীতে সেসব সহকর্মীই এসব বক্তব্যের জন্য আপনার প্রতি আঙ্গুল তুলবে।

* কাজ করার সময় বসের ডাক পড়লে অবশ্যই পাশের সহকর্মীকে আপনার টেবিলের দিকে নজর রাখতে বলবেন। কারণ আপনার অনুপস্থিতিতে প্রতিপক্ষ চাইবে কাজের ব্যাঘাত ঘটাতে। হতে পারে তারা কোনো ফাইল মিসিং করতে পারে আপনার কম্পিউটার থেকে।

* সহকর্মী থেকে টাকা ধার নিতে হলে অবশ্যই আরেকজন সহকর্মীকে জানিয়ে রাখা ভালো। কারণ ভবিষ্যতে টাকার পরিমাণ বাড়িয়ে বলে আপনাকে অফিসে সবার সামনে বিব্রত করতে পারে। মনে রাখবেন এরকম ঘটনা থেকেই জড়িয়ে যেতে পারেন অফিস পলিটিক্সে মতো ঘৃণ্য ব্যাপারে।

* সহকর্মীকে কোনো ফাইল, চিঠি, ডকুমেন্টস দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্রহণ কপি হিসেবে স্বাক্ষর করিয়ে রাখবেন। ভবিষ্যতে অস্বীকার করলে এটি আপনাকে বাঁচাবে।

কি করবেন না : ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে কখনো তোষামোদ করবেন না। মনে রাখবেন তোষামোদকারীরা কখনো তাদের আগের অবস্থানে ফিরে আসতে পারে না। তখন তাদের তোষামোদ করেই চলতে হয়।

* অনেক সময় একারণে সহকর্মীরা আপনাকে ঈর্ষা করতে পারে। তা থেকেই লিপ্ত হতে পারে আপনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে।

* পরচর্চা পরনিন্দা থেকে বিরত থাকা উচিত। এসব শত্রু বাড়াবে। দিন যত যাবে ওদের সঙ্গে প্রতিযোগিতাও বেড়ে যাবে। জড়িয়ে যেতে পারেন বিভিন্ন মানসিক চাপে ও অফিসিয়াল ব্যস্ততায়। এসব ঝামেলা তখন বাড়বে যখন আপনার প্রতিপক্ষ সৃষ্টি হবে। তাই পরচর্চা করে প্রতিপক্ষ বাড়াবেন না।

* আপনি যদি প্রশাসনিক দফতরের অফিসার হন তাহলে ভুলেও ক্ষমতার অপব্যবহার করবেন না। আপনার ভুলে যাওয়া চলবে না। আপনিও সবার মতো চাকরি করতে আসছেন।

* যথাসম্ভব অতিথি এড়িয়ে চলুন। প্রয়োজনে তাদের বাইরে সময় দেন। কারণ যে কেউ বলে উঠতে পারে আপনার অতিথি বেশি আসে। কাজের ব্যাঘাত ঘটে। পরবর্তীতে এ বিষয় নিয়ে অভিযোগ উঠবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে।

* বেতন বৈষম্য নিয়ে কখনো সবার সামনে উচ্চবাচ্য করবেন না। প্রয়োজনে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলুন। আপনার এসব উচ্চবাচ্য আপনার ক্যারিয়ারের জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে। আপনার অজান্তেই নামের আগে পড়ে যেতে পারে বিদ্রোহী টাইটেলটি। ফলে যা হবার তাই হবে। অর্থাৎ অফিস পলিটিক্সে শিকার হয়ে চাকরিটি হারাতে পারেন। প্রত্যেকেই চায় জীবনে সফলতা পেতে। বেঁচে থাকতে চায় প্রতিযোগিতার এই বাজারে। সেখান থেকেই গড়ে উঠে ঈর্ষা। আর ঈর্ষা থেকেই চলে আসে অফিস পলেটিক্স। তাই সবার উচিত অন্যের সাফল্যে ঈর্ষান্বিত না হয়ে তাকে উৎসাহিত করা এবং মিলেমিশে কাজ করা। তাহলেই তরান্বিত হবে উজ্জ্বল ক্যারিয়ার।

৬৮২ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
সর্বমোট পোস্ট: ১৭ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ০ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৯-২৩ ১৫:৪৮:১৪ মিনিটে
banner

৩ টি মন্তব্য

  1. সবুজ আহমেদ কক্স মন্তব্যে বলেছেন:

    darun

    দারুন সুন্দর লিখা
    বেশ উপকারী লিখা
    ভালো লাগলো পড়ে
    শেয়ার করে নিণাম লিখাটা ভাই ……………….

  2. টি. আই. সরকার (তৌহিদ) মন্তব্যে বলেছেন:

    লিখা ভালো লাগলো ! তবে পুরোপুরি একমত হতে পারলাম না ।

  3. অনিরুদ্ধ বুলবুল মন্তব্যে বলেছেন:

    সব কথার সেরা কথা – কেরিয়ারের উন্নতির জন্য তোষামোদী নয় দক্ষতা দেখানোই বুদ্ধিমানের কাজ।
    ধন্যবাদ।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top