Today 20 Aug 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

দি ওল্ড ম্যান এন্ড দি সী – আর্নেস্ট হেমিংওয়ে – ১০

লিখেছেন: হামি্দ | তারিখ: ১৭/০৭/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 713বার পড়া হয়েছে।

বালক ম্যানোলিন তাকে দু’টি তাজা টোপ দিয়েছিল। টোপ দু’টি ছোট টোনা অথবা এলবাকোর মাছের ছিল। নিশ্চিত নয় বুড়ো। তবে এই তাজা টোপ দু’টি সে ব্যবহার করেছে সবচেয়ে গভীরে ফেলা বড়শি দু’টিতে। আর অন্য বড়শিগুলোতে আগের দিনের অব্যবহৃত লবন দিয়ে রাখা টোপগুলো ব্যবহার করেছে।যেগুলো সে গতকাল ব্যবহার করেছিল। কিন্তু কোনো মাছ সেগুলো গিলেনি। তাই খুলে লবন দিয়ে রেখে দিয়েছিল। বড়শিতে এই টোপের সাথে সারডিন পোনা গেঁথে দিতে পারলে বড় বড় মাছের জন্য তা একটি লোভনীয় খাবার হয়ে দাঁড়ায়। লোভে লোভে বড়শি গিলে ফেললেই হল। আটকে যায় মাছটি। 

পেন্সিলের সমান মোটা বড়শির দড়িতে আবার সবুজ রঙের ফাৎনা বাধা থাকে। বড়শিতে কোন রকম টান পরলেই ফাৎনা ডুবে যায়। বুড়োর নৌকাতে অতিরিক্ত দড়ির কুন্ডলিও আছে। প্রয়োজনে সে দড়ি বড়শির দড়ির সাথে জুড়ে দেয়া হয়। অনেক সময় বড়শিটা ভালমতো গেলানোর জন্য বড়শিতে ঢিল দিতে হয়। সেসময় এই দড়ি কাজে লাগে। অনেক সময় কোনো কোনো মাছকে তিন শ’ বাঁও পর্যন্তও ঢিল দিতে হয়। বুড়ো এখন দাঁড় বাইতে বাইতে সবুজ ফাৎনাগুলির দিকে দৃষ্টি রাখছে। আলো ঝলমলে হয়ে উঠছে চার দিক । সূর্য উঠতে আর বেশি বাকী নেই। 

কিছুক্ষণের মধ্যেই সমুদ্রের বুকে উকি দিলো লাল সূর্য। সমুদ্রে ভাসমান নৌকাগুলো দেখতে পাচ্ছে বুড়ো। দূরে উপকূলের দিকে স্রোতের টানে ছড়িয়ে পরছে নৌকাগুলো। 

সূর্য ক্রমশ প্রখর হয়ে উঠতে লাগলো । সূর্যের আলোতে সমুদ্রের পানি চক চক করছে । কিছুক্ষণের মধ্যেই অবস্থা এমন হলো যে, পানির দিকে তাকানো যায় না। নিস্তরঙ্গ সমুদ্রের পানিতে সূর্যের প্রতিবিম্ব চোখ ধাঁধিয়ে দেয়। সেদিকে না তাকিয়ে দাঁড় বাইছিল বুড়ো সান্তিয়াগো।

বড়শির দড়িগুলো যেখান থেকে পানির গভীরে ডুবে গেছে সেদিকে গভীর দৃষ্টি দিয়ে দেখছিল বুড়ো। পানির একেকটি স্তরে একেকটি বড়শি রেখেছ সে। বড়শিগুলো সে এমন স্থানে রাখতে চেষ্টা করেছে যেখানে বড় বড় মাছের আনাগোনা থাকে । এটা সে তার অভিজ্ঞতা দিয়ে বুঝতে পারে যা অন্যরা পারে না। আর তার মত সোজাসুজি ভাবে বড়শি ডুবাতে আর কেউ পারে না। অন্য জেলেরা স্রোতের মধ্যে ভাসিয়ে দেয় তাদের বড়শি। কেউ কেউ আবার পঞ্চাশ ষাট বাঁও নিচে বড়শি ডুবিয়েই মনে করে এক শ’ বাঁও নিচে ডুবিয়েছে। 

‘বড়শিগুলো আমি ঠিক জায়গাতেই ডুবিয়েছি। আমার ভাগ্যটাই একটু বেশী খারাপ। তবে কে জানে, আজই হয়তো ভাগ্য ফিরবে। প্রতিটা দিনই তো নতুন দিন। ভাগ্যবান হতে আমিও চাই। তাই আমি সবসময় তৈরী থাকতে চাই যাতে ভাগ্য ধরা দেওয়ার মুহূর্তটা ধরতে ব্যর্থ না হই’ – আপন মনে এসব ভাবতে ভাবতে দাঁড় বাইছে বুড়ো। 


চলবে ………………………

Fethom >>> বাঁও ( পানির গভীরতা মাপার সনাতনী একক। প্রায় ছয় ফুট)

৭০১ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
ভবের এই খেলাঘরে খেলে সব পুতুল খেলা/ জানি না এমন খেলা ভাঙে কখন কে জানে................. খেলা ভাঙার অপেক্ষায় এই আমি এক অদক্ষ খেলোয়ার ............
সর্বমোট পোস্ট: ৫০ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ২২৭ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-১০-২৯ ০৯:২৩:৫৯ মিনিটে
banner

২ টি মন্তব্য

  1. জসীম উদ্দীন মুহম্মদ মন্তব্যে বলেছেন:

    আপনার এই সিরিজ ভাল লাগছে হামিদ ভাই —— !

  2. হামি্দ মন্তব্যে বলেছেন:

    আপনাকে ধন্যবাদ ……………………

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top