Today 23 Aug 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

দি ওল্ড ম্যান এন্ড দি সী – আর্নেস্ট হেমিংওয়ে – ১৫

লিখেছেন: হামি্দ | তারিখ: ০৮/০৮/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 829বার পড়া হয়েছে।

বাংলা রূপান্তর © হামিদ

 

মাছটি ছিল প্রায় দশ পাউন্ড ওজনের একটি এ্যালবাকর । বুড়ো মাছটি পেয়ে খুশিতে প্রায় নাচতে লাগল। চিৎকার করে বলতে লাগল – ‘ দারুণ একটি এ্যালবাকর ! চমৎকার টোপ হবে এটি দিয়ে ! ‘

আজকাল কী হয়েছে বুড়োর যে, একা থাকলে নিজে নিজেই চিৎকার করে কথা বলে। তবে কবে থেকে এ অভ্যাসটি হয়েছে তা মনে নেই তার । আগে এভাবে একা থাকলে মাঝে মাঝে গান গেয়ে উঠতো। রাতের বেলা মাছ কিংবা কাছিম শিকারে সময় একা একা বৈঠা ধরে গান গেয়ে উঠত মাঝে মাঝে সেকথা এখনও মনে আছে। তবে ম্যানোলিন তার নৌকা ছেড়ে যাবার পর থেকেই তার এমন একা একা চিৎকার করার অভ্যাস হয়েছে এটা সে মানে ।

ছেলেটি যতদিন সাথে ছিল ততোদিন তারা সমুদ্রে নিজেদের মধ্যে প্রয়োজন ছাড়া তেমন কথা বলত না । কেবল জরুরী দরকার হলেই কথা বলত । খারাপ আবহাওয়া কিংবা ঝরের সময় কিংবা সমুদ্রে রাত নেমে এলে তারা নিজেদের মধ্যে কথা বলত। কারণ সমুদ্রে অপ্রয়োজনীয় কথা না বলাটাকে একটা পুণ্যময় গুণ মনে করা হতো আর বুড়ো এটা সব সময় মেন চলতো । কিন্তু আজ কাল সে বড়ই একা । তার কথায় বিরক্ত হওয়ার মতোও কেউ নেই । এজন্যই কিনা কে জানে বুড়ো নিজের মনের একান্ত ভাবনাগুলো উচ্চ কন্ঠে প্রকাশ করে ।

‘কেউ যদি শুনে যে আমি নিজে নিজে এমন চিৎকার করে কথা বলছি তবে নির্ঘাৎ আমাকে বদ্ধ পাগল ভাববে । কিন্তু আমি খুব ভাল করেই জানি যে আমি পাগল নই । কারো কথায় আমার কিছু এসে যায় না। আরে ধনীদের নৌকায় তো রেডিও থাকে । তারা তো আরাম করে বেসবলের খবর শুনতে পারে। আমি একা একা কার সাথে কথা বলবো ? তাইতো এভাবে চিল্লাই’ – উচ্চ স্বরে কথাগলো বলল বুড়ো।

‘এখন বেসবলের চিন্তার সময় নেই । আমাকে মাছ নিয়ে ভাবতে হবে যার জন্য আমার জন্ম হয়েছ । ঐ ঝাঁকের মধ্যেনিশ্চয়ই বড় বড় মাছ আছে । আমি তো শুধু একটা দলছুট এ্যালবাকর পেয়েছি । ঝাঁকটি খুব দ্রুত দূরে সরে যাচ্ছে । সব কিছু কেমন দ্রুত উত্তর-পূর্ব দিকে ছুটে যাচ্ছে । এটা কি দিনের এসময়ের স্বাভাবিক ঘটনা নাকি আবহাওয়ার কোনো বিষয় যা আমি জানি না’ – আপন মনে ভাবতে লাগলো বুড়ো ।

এরই মধ্যে এতোটা গভীরে এসে পরেছে বুড়ো যে এখন আর উপকূলের সবুজ রেখা দেখা যাচ্ছে না। শুধু নীল পাহাড়ের চূড়া দেখা যাচ্ছে । চূড়াগুলোধবধবে শাদা । মনে হয় শুভ্র তুষারের টুপি পরে দাঁড়িয়ে আছে পাহারগুলো। পাহাড়ের পিছনে মেঘগুলো মনে হচ্ছে তুষারের উঁচু পাহাড়। এদকে সমুদ্রের জলের গভীরে ঘন অন্ধকার । সূর্যের আলোতো অদ্ভূত এক রঙ তৈরী হয়েছে । খাড়া সূর্যের আলোতো অসংখ্য সামুদ্রিক শৈবাল দেখা যাচ্ছে । দৃষ্টি তার নীল সমুদ্রের এক মাইল গভীরে নেমে যাওয়া বড়শির রশির দিকে ।

……………চলবে।

৮১৯ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
ভবের এই খেলাঘরে খেলে সব পুতুল খেলা/ জানি না এমন খেলা ভাঙে কখন কে জানে................. খেলা ভাঙার অপেক্ষায় এই আমি এক অদক্ষ খেলোয়ার ............
সর্বমোট পোস্ট: ৫০ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ২২৭ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-১০-২৯ ০৯:২৩:৫৯ মিনিটে
banner

১০ টি মন্তব্য

  1. আহমেদ রব্বানী মন্তব্যে বলেছেন:

    ধন্যবাদ এই সিরিজটি উপহার দেবার জন্য। বই আকারে চাই হামিদ ভাই।

  2. এস এম আব্দুর রহমান মন্তব্যে বলেছেন:

    বরাবরের মতই ভাল লাগল । শুভ কামনা ।

  3. আরজু মূন জারিন মন্তব্যে বলেছেন:

    ছেলেটি যতদিন সাথে ছিল ততোদিন তারা সমুদ্রে নিজেদের মধ্যে প্রয়োজন ছাড়া তেমন কথা বলত না । কেবল জরুরী দরকার হলেই কথা বলত । খারাপ আবহাওয়া কিংবা ঝরের সময় কিংবা সমুদ্রে রাত নেমে এলে তারা নিজেদের মধ্যে কথা বলত। কারণ সমুদ্রে অপ্রয়োজনীয় কথা না বলাটাকে একটা পুণ্যময় গুণ মনে করা হতো আর বুড়ো এটা সব সময় মেন চলতো । কিন্তু আজ কাল সে বড়ই একা । তার কথায় বিরক্ত হওয়ার মতোও কেউ নেই । এজন্যই কিনা কে জানে বুড়ো নিজের মনের একান্ত ভাবনাগুলো উচ্চ কন্ঠে প্রকাশ করে ।

    ভাল লাগছে অনেক হামিদ ভাই । লিখতে থাকুন। অনেক শুভেচ্ছা আপনার জন্য। ভাল থাকুন।

  4. সোহেল আহমেদ পরান মন্তব্যে বলেছেন:

    শুভেচ্ছা প্রিয়।

    চলুক

  5. সাঈদ চৌধুরী মন্তব্যে বলেছেন:

    মধ্যে মনে হয় দুটো মিস হয়ে গেছে হামিদ ভাই । অনুবাদটি প্রথম থেকেই অনেক ভালো লাগছে । লিখে যান । কৃতজ্ঞতা জানবেন ।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top