Today 17 Sep 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

দুঃসাহসী শাহীন (পর্ব-৩)

লিখেছেন: কাউছার আলম | তারিখ: ১২/০৭/২০১৩

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 759বার পড়া হয়েছে।

॥ বন্দীশালার পরিবেশ ॥

প্রথম ক’দিন ভয় এবং হতাশা ছাড়াও সবচেয়ে বেশি যে কারণে অসহ্য বোধ করতো শাহীন, তা হলো নিঃসঙ্গতা। একদিকে তিনটি করে দু’দিকে মোট ছয়টি রুম বিশিষ্ট একতলা দালান এবং বিরাট আঙিনাসহ বিশাল এক ভূতুরে বাড়ি। তার বয়সের কেউ ছিলো না ঐ ভূতুরে বাড়িতে। একমাত্র শ্যামলী নামের ঐ মোটা আকৃতির নির্দয় মহিলা ছাড়া সারা দিন আর কাউকে সাধারণত দেখা যেতো না। এই মহিলাই ওর খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করে। দু’/ তিনজন পুরুষ যারা রাতে এসে আড্ডা বসাতো ; তারাও ভয়ানক গুণ্ডা চেহারার। ক’দিন পরই আসে তার মতো আরো দু’জন কিশোর। এমনিভাবে প্রায় এক মাসের মধ্যে বেশ ক’জন শিশু-কিশোর আসে ঐ বাড়িতে। ওদের ঢুকানোর পরই কড়া নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, যাতে কোনো অবস্থায়ই ওরা দু’য়ের অধিক একত্রে বসে আলাপ না করে। তারপরও ছিল কড়া নজরদারী। ওদের ঘরের সামনের দিকে ছিলো একটি লম্বা বারান্দা। বারান্দাটি ছিলো শক্ত লোহার গ্রিল দিয়ে ঘেরা। গ্রিলের বাইরে দিয়ে বিরাট তালা লাগানো থাকতো সব সময়। ঐ বারান্দা পর্যন্তই ছিলো ওদের নড়াচড়ার সুযোগ। একেক রুমে চারজন করে ওদের ঘুমানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাও একপাশে দু’জন করে রুমের দু’পাশে ঘুমাতে হয়। শাহীনের রুমে আর একটি মাত্র ছেলেকে থাকতে দেয়। সে ছেলেটির নাম কামাল। কামালের বাড়িও নরসিংদী জেলায়। ওরা দু’জন থাকতো রুমের এক পাশে। অন্য পাশের খালি জায়গায় প্রায় প্রতি রাতেই ঐ গুণ্ডা প্রকৃতির লোকগুলো এসে আড্ডা বসাতো।

 

প্রখর মেধাবী ও সাহসী শাহীন এরই মাঝে বেছে নেয় কৌশল। সে তার নবাগত সাথীদের একেক জনের সাথে একেক সময়ে আলাপ করে। প্রথমেই সে তার রুমমেট ছেলেটির সাথে এভাবে আলাপ করে।

তোমার নাম কি ভাই?

আমার নাম কামাল।

তোমাদের বাড়ি কোথায়?

আমাদের বাড়ি নরসিংদী।

নরসিংদী ! আমাদের বাড়িওতো নরসিংদী। তা তোমাদের বাড়ি নরসিংদী কোন যায়গায়?

আমাদের বাড়ি নরসিংদী শহরের পূর্ব দিকে বাদুয়ারচর।

এখানে কিভাবে এলে?

স্কুল থেকে বাড়ি ফিরার পথে দু/তিন জন লোক আমাকে ধোঁকা দিয়ে অজ্ঞান করে এখানে নিয়ে এসেছে।

এভাবে সে ওদের সাথে কথা বলে প্রথমেই জেনে নেয় সবার পরিচয় ও ঠিকানা। ওদেরকে বিভিন্ন প্রশ্ন করে সে জানতে পারে যে, ওদেরকে আনা হয়েছে দেশের কয়েকটি জেলা থেকে। এরপর সে ধীরে-সুস্থে অনুসন্ধানী মনে জেনে নেয়, কাকে কিভাবে আনা হয়েছে। আরও জানতে পারে, যে বাড়িতে ওরা বন্দী, সেটি চট্টগ্রামে অবস্থিত।

 

শাহীনের বয়স ১২ বছর। ওর সাথে আরো যাদেরকে বন্দী করে রেখেছে, তাদের সবার বয়স প্রায় কাছাকাছি। ১৪ জন ওরা। ১৪ বছরের বেশি নয় কারো বয়স। অর্থাৎ সবাই কিশোর। সে তার কিশোর সাথীদের সাথে আলাপ করে  জানতে পারে, সবাইকেই তাদের মনের বিরুদ্ধে, বিভিন্ন অপকৌশলে অপহরণ করে আনা হয়েছে। কিন্তু কি উদ্দেশ্যে আনা হয়েছে, তা ঠিক অনুমান করতে পারছিলো না। এছাড়া বাড়িটির ভয়ানক নীরবতা, ওদের ওপর বাড়িওয়ালাদের বিভিন্ন অন্যায় নিষেধাজ্ঞা ও নজরদারীর কারণে মারাত্মক ভয় এবং সন্দেহ দানা বাঁধতে থাকে তার স্বাধীনচেতা দূরন্ত কিশোর মনে। সে দিনরাত গভীর মনোযোগ সহকারে ভাবছিলো, কি উদ্দেশ্য থাকতে পারে এদেরকে অপহরণ করে এনে বন্দী করার পেছনে। প্রথম দিন খাবার সময় মহিলার কথাগুলোসহ সার্বিক পরিবেশ নিয়ে চিন্তা করছিলো সে। কিন্তু নিশ্চিত করে কিছ্ইু বুঝে ওঠতে পারছিলো না।

৮৩৯ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
আমি একজন ছাত্র। কম্পিউটার আমার একটা প্রিয় বিষয়। ব্লগিং করতে আমার ভাল লাগে, ব্লগিং করে অনেক কিছু শেখা যায়।
সর্বমোট পোস্ট: ৩৫ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৬২১ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৬-৩০ ১৫:২৫:১৫ মিনিটে
banner

৮ টি মন্তব্য

  1. এ হুসাইন মিন্টু মন্তব্যে বলেছেন:

    এই পর্বটিও পড়লাম ….সাথে আছি

  2. আমির হোসেন মন্তব্যে বলেছেন:

    পড়লাম। সঙ্গে আছি। পরের পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।

  3. সাফাত মোসাফি মন্তব্যে বলেছেন:

    পড়লাম ভাই।

  4. রূপা মন্তব্যে বলেছেন:

    পড়লাম । আপনি ভালো লিখেন সেটাই বলবো ।

  5. গৌমূমোকৃঈ মন্তব্যে বলেছেন:

    এই পর্বও ভালো লেগেছে। শুভকামনা।

  6. শাহ্‌ আলম শেখ শান্ত মন্তব্যে বলেছেন:

    ক্যাটাগরিতে বিবিধ কেন ?
    এটাতো উপন্যাস ।

  7. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    ভাল লাগছে গল্পটি

  8. সবুজ আহমেদ কক্স মন্তব্যে বলেছেন:

    ভাল লাগলো

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top