Today 10 Dec 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

দুইজন অমরাবতীর গল্প (বিজ্ঞান কল্পকাহিনী)

লিখেছেন: আরজু মূন জারিন | তারিখ: ০৬/১০/২০১৩

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 404বার পড়া হয়েছে।

পূর্ব প্রকাশিতের পর

ইরা নীরা র খোজে এসে দেখে নীরা খুব বিষন্ন ভাবে জানালা দিয়ে দুরের আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে। নীরার ছেলে ত্রিনিদ খালামনি দেখে তা করে খল করে একটা হাসির ভঙ্গি করে সামনে র দিকে ছুটে যেতে লাগলো। স্পষ্ট ই বুঝা যাচ্ছে সে খালামনির সাথে দৌড় বা গোল্লাছুটের প্রতিযোগিতা করতে যাচ্ছে। ইরা যতই তাকে পাকড়াও করার চেষ্টা করছে সে প্রানপনে হামা দিয়ে ছোট একটা দাত বের করে ভেংচির হাসির ভঙ্গিতে সারা ঘরে হামা দিয়ে যাচ্ছে। সদ্য তার একটা দাত গজিয়েছে। তাই সে নিজেকে খুব মূল্যবান মনে করছে। যে তাকে দেখতে আসছে সে তার দিকে দাত বের করে দেখিয়ে দিচ্ছে। সে খুব স্বাধীনতায় বিশ্বাসী হয়ে গেছে এই ক্ষুদ্র বয়সে। কেউ তাকে কোলে করে কোথায় নিতে চাইলে প্রানপনে চিত্কার দিয়ে ছোট শরীর নাড়িয়ে প্রতিবাদ জানায়। সবার সঙ্গে সে হামাগুড়ি দিয়ে রওয়ানা করতে চায়। সে এখনো হাটতে শিখেনি। কিন্তু সবাইকে দেখে প্রানপনে সে ও চেষ্টা করে হাটার। যখন সে সফলকাম হয়না হাটতে তখন গগন বিদারী চিত্কার দেয়।

ধরছি আমার বাবাটাকে ইরা শক্ত করে পাকড়াও করে। সে আচড়ে নেমে যাওয়ার চেষ্টা করে খালামনির কোল থেকে। খালামনি ছাড়ার পাত্র না শক্ত করে পেটে বুকে নাকে নাক ঘষে আদর করে দিল। ত্রিনিদ খল খল করে হাসতে লাগলো এবং হাসতে হাসতে খালামনির চুল মুঠি করে ধরল সে তার প্রথম প্রমান দিতে চেষ্টা করলো শারীরিক শক্তিতে পুরুষের কাছে মেয়েরা অসহায়।

ইরা অসহায় এর একবার বোন্ এর দিকে তাকায়। নীরাকে দেখে মনে হচ্ছে সে অন্যমনস্কতার অতলে অবস্থান করছে। এইযে ইরা এসেছে তার ছেলের সাথে খেলা করছে কোনো কিছু যেন তার মন কে স্পর্শ করছেনা। এমনকি সে মনে হয় টের ও পায়নি ইরা বেশ কিছুক্ষণ হলো তার ছেলের সাথে সময় কাটাচ্ছে। এত সুন্দর ফুটফুটে বাচ্চাটাকে ফেলে নীরা কিভাবে অন্যমনস্ক হয়ে আছে ইরা ভেবে পায়না।

ইরা এসে নীরার পিছনে এসে দাড়ায় সহানুভূতিতে বোনের কাধে হাত রাখে

কি হয়েছে আমার বোন্ ?শরীর ঠিক আছেত ?
তোমার দুষ্ট বাচ্চাকে সামলানো মুশকিল।

নীরা এমনভাবে মাথা নাড়ল বুঝা যাচ্ছে না আসলে সে কি ইরার কোনো কথা আদৌ শুনছে।

নীরা আমার মনে হয় তুমি একটু ঘর থেকে বের হও হাটাহাটি কর তোমার ভালো লাগবে। ত্রিনিদাদ এর যে ক্লোন টি আছে তার সাথে কাজ কর ভালো লাগবে।

না ভালো লাগবেনা সে কিছুতে আমার। সে ত্রিনিদাদ না সে আমাকে গত নয় মাসে একবার ও দেখতে আসেনি তার শিশু সন্তানকে দেখতে আসেনি। আমি তাকে পছন্দ করিনা একইসঙ্গে নীরা রাগ আর দুঃখ নিয়ে কথা বলল। এথেনা কেন আমার ত্রিনিদাদ এর সুন্দর মুখ এই অনুভূতিহীন ক্লোন টার মধ্যে বসালো এখন চাইলে আমি ত্রিনিদাদ কে ভুলে স্বাভাবিক হতে পারছিনা।

ভুলার দরকার নাই বোন্ ইরা কাতর গলায় বলল। এই কষ্ট কে শক্তিতে পরিনত কর বোন্।পুরুষের প্রেম ভালবাসা কি জীবনের সব ?বৃহত্তর ভালবাসায় নিজেকে নিয়োজিত কর বোন্। পৃথিবী তোমার দিকে তাকিয়ে আছে এই শিশু টি তোমার দিকে তাকিয়ে আছে। সে বোনকে বললনা কিছুটা একই কষ্টের মধ্যে দিয়ে সেও যাচ্ছে।

ইরা ত্রিনিদ কে নিয়ে একটু ঘুরতে গেল আর নীরা অনেকদিন পরে তার কাজের এপ্রনটি আজকে পরল আর ভাবলো তাইত আমি আমি অনেক স্বার্থপর হয়ে গেছি আমার উপরে যত দায়িত্ব সব ভুলে গেছে বাচ্চাকে পর্যন্ত খেয়াল করে দেখছিনা।

নীরা আসতে আসতে এসে দাড়ায় সেই ল্যাব এ যেখানে ত্রিনিদাদ কাজ করছে। ত্রিনিদাদ ক্লোন টি তাকে দেখে হেসে উঠে দাড়ায়

গুড মর্নিং মিস বিউটিফুল নীরা আপনি কেমন আছেন?সকৌতুকে জিজ্ঞাসা করে ত্রিনিদাদ এর ক্লোন টি । বলে আবার পাশের এক সহকারী নারী ক্লোন র সাথে আলাপ আলোচনা আর খুনসুটিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল।

আহ কে বলবে সে ত্রিনিদাদ না ,সব কিছু ই ত্রিনিদাদ এর সুধু নীরার প্রতি আগের সেই আবেগিত মনটা নাই।

নীরা আবার বিষন্ন বোধ করলো ত্রিনিদাদ কে দেখে। সে কি পারবে প্রতি মুহুর্তে ত্রিনিদাদ অবহেলা বরদাস্ত করে কাজে মনোযোগী হতে এবং এই মহাবিশ্বকে কিছু আবিস্কার উপহার দিতে।

(পরবর্তিতে)

৫০০ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
নিজের সম্পর্কে কিছু বলতে বললে সবসময় বিব্রত বোধ করি। ঠিক কতটুকু বললে শোভন হবে তা বুঝতে পারিনা । আমার স্বভাব চরিত্র নিয়ে বলা যায়। আমি খুব আশাবাদী একজন মানুষ জীবন, সমাজ পরিবার সম্পর্কে। কখনো হাল ছেড়ে দেইনা। কোনো কাজ শুরু করলে শত বাধা বিঘ্ন আসলেও তা থেকে বিচ্যুত হইনা। ফলাফল পসিটিভ অথবা নেগেটিভ যাই হোক শেষ পর্যন্ত কোন কাজ এ টিকে থাকি। জীবন দর্শন" যতক্ষণ শ্বাস ততক্ষণ আশ " লিখালিখির মূল উদ্দেশ্যে অন্যকে ভাল জীবনের সন্ধান পেতে সাহায্য করা। মানুষ যেন ভাবে তার জীবন সম্পর্কে ,তার কতটুকু করনীয় , সমাজ পরিবারে তার দায়বদ্ধতা নিয়ে। মানুষের মনে তৈরী করতে চাই সচেতনার বোধ ,মূল্যবোধ আধ্যাতিকতার বোধ। লিখালিখি দিয়ে সমাজে বিপ্লব ঘটাতে চাই। আমি লিখি এ যেমন এখন আমার কাছে অবাস্তব ,আপনজনের কাছে ও তাই। দুবছর হলো লিখালিখি করছি। মূলত জব ছেড়ে যখন ঘরে বসতে বাধ্য হলাম তখন সময় কাটানোর উপকরণ হিসাবে লিখালিখি শুরু। তবে আজ লিখালিখি মনের প্রানের আত্মার খোরাকের মত হয়ে গিয়েছে। নিজে ভালবাসি যেমন লিখতে তেমনি অন্যের লিখা পড়ি সমান ভালবাসায়। শিক্ষাগত যোগ্যতা :রসায়নে স্নাতকোত্তর। বাসস্থান :টরন্টো ,কানাডা।
সর্বমোট পোস্ট: ২২৯ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৩৬৮৩ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৯-০৫ ০১:২০:৩৫ মিনিটে
banner

৪ টি মন্তব্য

  1. আমির হোসেন মন্তব্যে বলেছেন:

    সাথে আছি। ভাল লাগছে।

  2. এম, এ, কাশেম মন্তব্যে বলেছেন:

    গল্পে ও তো দেখি আপনি ভালো লিখতেছেন ,
    লিখে যান, সাথে আছি,

    ইদানিং আপনাকে আমার কবিতার আঙিনায় দেখতে
    পাচ্ছি না , রাগ করেছেন নাকি?

    অনেক ভাল লাগা।

    • আরজু মন্তব্যে বলেছেন:

      কবিতা লিখিতো কিন্তু চলন্তিকায় পোষ্ট করা হয়না।আপনার মত বড় কবির সঙ্গে কমপটিশনে আসতে পারবনা।
      আপনার জন্য অনেক ভাল লাগা।

  3. শাহ্‌ আলম শেখ শান্ত মন্তব্যে বলেছেন:

    পড়লাম
    ভাল লেগেছে অনেক ।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top