Today 14 Dec 2018
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

দুইজন অমরাবতীর গল্প (বিজ্ঞান কল্পকাহিনী )

লিখেছেন: আরজু মূন জারিন | তারিখ: ১৬/১১/২০১৩

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 320বার পড়া হয়েছে।

পূর্ব প্রকাশের পর

শেষ পর্যন্ত যা অনির্বার্য ছিল তাই ঘটল। মানুষের নিয়তি তাদেরকে চুড়ান্ত সংঘর্ষের দিকে নিয়ে গিয়েছে। মানবকূল ও যান্ত্রিককূল পরস্পর পরস্পরের ভক্ত হওয়া স্বত্বেও পরস্পরের প্রতি সহযোগিতা ও সহমর্মিতা থাকা স্বত্বেও যুদ্বটা এড়ানো গেলনা।

গ্যালাক্সী অপল এনরয়েড এ সাজ সাজ রব উত্তেজনা ।আজকে জেড আয়াবর আসছেন সম্রাজ্ঞী এথেনার অতিথী হয়ে।পারস্পরিক ভূল ত্রূটি সংশোধন করে নিতে।জেড আয়াবর এসেছেন।তিনি এথেনার বাবার সময়ে তৈরী প্রথম নিরাপত্তা কর্মী রোবট। পরে সময় পার হতে হতে এক সময় তিনি নিরিপত্তাকর্মীদের ইনচার্জ হয়েছেন।সকল কর্মীদের তিনি আপন সন্তানের মতই ভালবাসেন।কর্মীরা ও তাকে বাবার মতই ভালবাসত এই ঘটনা ছাড়া।

ছোট ত্রিনিদ এখন সারাক্ষন মা আর খালামনিকে ফেলে প্লীহা আংকেলকে অনুসরন করে।প্লীহা ও প্রতিদিন ই যদি এই শিশুটির সাথে না কাটায় তার যেন দিনটা কাটতে চায়না। বলতে গেলে নীরার সন্তানকে সে নীরার চেয়ে বেশী টেক কেয়ার করছে।নীরাকে দেখলে তার এক ধরনের মানবিক আবেগ জেগে উঠে। সে বিষ্ময়ে তাকিয়ে থাকে এখন নীরার দিকে এ তাদের মতে যন্ত্রে গড়া অথচ মানুষের মত অপূর্ব মেয়েলী গড়ন।ত্রিনিদ কে নীরার কোলে দিতে গিয়ে তার হাতের সাথে লেগে গেল প্লীহার হাত।চমকে উঠল প্লীহা তাদের মত যান্ত্রিক ধাতব হাত না নীরার।কি সুন্দর নরম মেয়েলী চিকন আঙ্গুল। তার চোখ ঠোট শারীরিক গড়ন মানুষের চেয়ে বেশী সুন্দর।নীরা প্লীহার দৃষ্টির সামনে মাঝে মাঝে বিব্রত হয়ে পড়ে। যদিও প্লীহাকে সে বেশ পছন্দ করে।

ত্রিনিদাদ এর ক্লোনটি এসে মাঝে মাঝে মজা করার চেষ্টা করে তাদের সাথে। প্লীহার দৃষ্টির সামনে হাত নেড়ে দুজনকে বাস্তবে আনার চেষ্টা করে।

সবসময় একটা ইডিয়টিক কান্ড নীরা কড়া কথায় অফ করার চেষ্টা করে ত্র্রিনিদাদ এর ক্লোনটিকে।

আমি কোথায় ইডিয়টিক কান্ড করলাম তোমরা কাজ ফাকি দিয়ে সারাক্ষন কি গুজগুজ কর কে জানে। অনেকটা সে মানুষের মতই হিংসার আর কুটনামীর ভঙ্গিতে যেন কথা যেন কথা বলল।

পিছন থেকে এথেনা আর জেরমিক্স এদের কথাবার্তা আর কান্ডকারখানায় মুখ চাওয়াচিওয়ী করে হাসে।

ত্রিনিদাদ এর কথায় লজ্জা পেয়ে সচেতন হয়ে প্লীহা লজ্জা পেয়ে বাহিরে চলে আসে।

জেরমিক্স এসে ত্রিনিদাদ এর কাধ চাপড়ে কৌতুকের সুরে বলে মানুষের সাথে থাকতে থাকতে মানুষের খারাপ দিক গুলি শিখে যাচ্ছ বন্ধু।

এবার ত্রিনিদাদ ও লজ্জা পেয়ে গেল।

সরি নীরা বলল সে।

চারিপাশ্বে আনন্দের আর সম্প্রীতির পরিবেশ বিরাজ করছিল।এভাবে বেশ কিছুদিন কেটে গেল।এথেনা পুরা গ্যালাক্সী জেড আয়াবরকে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখালেন।

কিন্তু বিপদ আসল হঠাৎ করে অন্যদিক থেকে। এথেনার পরামর্শক দপ্তর কিছুতে রোবট গুলিকে ছেড়ে দিতে রাজী নয়। তারা রোবটগুলিকে ভীষন ভয় পেতে শুরু করল বিশেষ করে এবারের আক্রমনের পরে উপদেষ্টা মহল গাবড়ে গিয়েছেন অনেক বেশী। তারা নিজ দায়িত্বে করলেন যে বিপদজনক কাজ তার জন্য প্রস্তুত ছিলনা গ্যালাক্সী অপলে এনরয়েড এর কোন বাসিন্দা। নিরাপত্তাকর্মী রোবটদের বাসস্থানের অংশে ছড়িয়ে দিলেন সেই প্রানঘাতী গ্যাস যা টলারেট করার মত করে এই রোবট গুলির বডিকে করা হয়নি।

শেষ মূহূর্তে তারাও চাচ্ছিল সরিয়ে নিতে ।কিন্তু তা সম্ভব গ্যাস থেকে বিস্ফোরন এর মত হল। প্রায় দশ হাজার এর মত নিরাপত্তা কর্মী রোবট স্পটে গলে মেঝের সাথে মিশে গেল।

জোরে সাইরেন এর আওয়াজ এ সবাই যার যার রুম থেকে ছুটে বেরিয়ে এল কিন্তু কোনদিকে যে তারা যাবে তা তারা বুঝতে পারছিলনা। চারিদিকে আগুন পোড়া যন্ত্র আর পোড়া মানুষের গন্ধ।

প্লীহার কোলে তখনও ত্রিনিদ ।খুব দঃখ ভারাক্রান্ত মনে বলল এথেনা নীরা জেরমিক্স ইরা তোমরা এত অন্যায় কিভাবে করলে? আমরা তো চলে যাচ্ছিলাম তোমাদেরকে ভাল জীবন দেওয়ার জন্য।

নীরা ইরা দুইজনে আগুন নেভানোর চেষ্টা করছে প্লীহা আমরা কখনও এরকম করতে পারিনা আমরা তোমাদের মত। মানুষের মত বিশ্বাসঘাতক আমরা না বলল দুজনে খুব ঘৃনা নিয়ে এথেনা ও জেরমিক্স এর দিকে তাকিয়ে।

এথেনা এবং জেরমিক্স এর অবস্থা তখন খুবই শোচনীয়। তারা চেষ্টা করছে যে করে হোক এই রোবটগুলিকে ধংসের হাত থেকে বাচাতে।

শুধু তারা এটা বলতে পারল অ্যকসিডেন্টলী গ্যাস লিক করে এ দূর্ঘটনা। তাদের কথা নীরা ইরা অথবা  প্লীহার কানে গেলনা ।রোবটদের পোরশনে সম্পূর্ন আগুন ধরে গেল।প্লীহা র একহাতে একটা আগুনের গোলা এসে পড়ায় সে ছুড়ে মারল ত্রিনিদকে নীরার দিকে । সেফটি বক্সে কোন ধরনের প্যারাসূট ও খুজে পাচ্ছেনা ।

জেরমিক্স এথেনার দিকে প্যারাসূট ছুড়ে মারলে এথেনা এসে নীরাকে পরতে সাহায্য করল। প্লীহার এক হাত আর এক পা গলে গিয়েছে এর মধ্যে সে নীরার কোলের সাথে ত্রিনিদকে বেধে দিয়ে প্যারাসুট লাগাল।নীরা ইরা পাগলের মত কানছে।কিছুতে সবাইকে ফেলে এখান থেকে যাবেনা।

নীরা তুমি ইউরেনাস এ যাও ।আমি তোমাকে কথা দিচ্ছি কোন একদিন যদি এই টাইম বলয়ে তোমার কাছে না যেতে পারি আমি অন্য আরেক টাইম বলয়ে ফিরে আসব তোমার কাছে ত্রিনিদ এর কাছে। তোমার কাছে এটা আমার প্রতিজ্ঞা আমার নীরা।

ইরা নীরা ত্রিনিদ তিনজনে জীবনের প্রত্যাশায় যখন আকাশে শূন্যে ঝুলে আছে একই সময় প্লীহার যান্ত্রিক শরীর টি গলতে গলতে যানের মেঝেতে মিশতে শুরু করেছে। এথেনা জেরমিক্স এর সারা শরীরে আগুন ধরে গেল। তারা দুইজন চাইলে প্যারাসূট এ লাফিয়ে পরে বাচতে পারত।কিন্ত তারা এই অকৃতজ্ঞতা আর অসন্মানের জীবনের চেয়ে মরে যাওয়া টাকে শ্রেয় মনে করেছে।তাদের এই যান্ত্রিক বন্ধুদের কাছে বেইমান সাজার চেয়ে মরে যাওয়াটকে তাদের ঠিক  মনে হয়েছে।

মরার সময় যনত্রনাকাতর অবস্থায় হাসিমুখে জেরমিক্স এর উক্তি এথেনাকে

একটাই দুঃখ মিস এথেনা ইরাকে কোনদিনও বলিনি আমি তাকে মনে মনে চাইতাম।সে বেচারী মনে করছে তাকে ঘুমের ঘোরে জড়িয়ে ধরেছিলাম।আসলে এটা ইচ্ছাকৃত ছিল।

বল কি জেরমিক্স তুমি এত কালপ্রিট ছিলে এথেনাও হাসছে এবং হাসতে হাসতে দুইজনে মৃত্তূবরন করল।

ইরা নীরা আর তার শিশুপুত্র এসে নামল ইউরেনাস এর মাটিতে।দুর থেকে একজনকে দেখা যাচ্ছে কাগজ দিয়ে আগুন জ্বালানোর চেষ্টা করছে। কাছে যাওয়া মাত্র লোকটি বলল

স্বাগতম তোমাদেরকে ইউরেনাসে।

চমকে গেল তারা আগন্তককে দেখে।

ত্রিনিদাদ এখানে ত্রিনিদাদ ।

(পরবর্তীতে)

৩৮৬ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
নিজের সম্পর্কে কিছু বলতে বললে সবসময় বিব্রত বোধ করি। ঠিক কতটুকু বললে শোভন হবে তা বুঝতে পারিনা । আমার স্বভাব চরিত্র নিয়ে বলা যায়। আমি খুব আশাবাদী একজন মানুষ জীবন, সমাজ পরিবার সম্পর্কে। কখনো হাল ছেড়ে দেইনা। কোনো কাজ শুরু করলে শত বাধা বিঘ্ন আসলেও তা থেকে বিচ্যুত হইনা। ফলাফল পসিটিভ অথবা নেগেটিভ যাই হোক শেষ পর্যন্ত কোন কাজ এ টিকে থাকি। জীবন দর্শন" যতক্ষণ শ্বাস ততক্ষণ আশ " লিখালিখির মূল উদ্দেশ্যে অন্যকে ভাল জীবনের সন্ধান পেতে সাহায্য করা। মানুষ যেন ভাবে তার জীবন সম্পর্কে ,তার কতটুকু করনীয় , সমাজ পরিবারে তার দায়বদ্ধতা নিয়ে। মানুষের মনে তৈরী করতে চাই সচেতনার বোধ ,মূল্যবোধ আধ্যাতিকতার বোধ। লিখালিখি দিয়ে সমাজে বিপ্লব ঘটাতে চাই। আমি লিখি এ যেমন এখন আমার কাছে অবাস্তব ,আপনজনের কাছে ও তাই। দুবছর হলো লিখালিখি করছি। মূলত জব ছেড়ে যখন ঘরে বসতে বাধ্য হলাম তখন সময় কাটানোর উপকরণ হিসাবে লিখালিখি শুরু। তবে আজ লিখালিখি মনের প্রানের আত্মার খোরাকের মত হয়ে গিয়েছে। নিজে ভালবাসি যেমন লিখতে তেমনি অন্যের লিখা পড়ি সমান ভালবাসায়। শিক্ষাগত যোগ্যতা :রসায়নে স্নাতকোত্তর। বাসস্থান :টরন্টো ,কানাডা।
সর্বমোট পোস্ট: ২২৯ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৩৬৮৩ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৯-০৫ ০১:২০:৩৫ মিনিটে
banner

৪ টি মন্তব্য

  1. আমির হোসেন মন্তব্যে বলেছেন:

    সঙ্গে আছি।

  2. শাহ্‌ আলম শেখ শান্ত মন্তব্যে বলেছেন:

    পরের অংশটুকু পড়ার জন্য আকুলতা জেগেছে ।

  3. এম, এ, কাশেম মন্তব্যে বলেছেন:

    কাহিনী জমে উঠছে
    অনেক ভাল লাগা।

  4. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    পড়ে যাচ্ছি সংগে আছি

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top