Today 16 Oct 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

দুষ্টু মিন্টু

লিখেছেন: আমির ইশতিয়াক | তারিখ: ০৫/০৮/২০১৩

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 653বার পড়া হয়েছে।

আমাদের ক্লাসে ছিল এক দুষ্টু ছেলে। তার নাম মনির হোসেন মিন্টু। সে সব সময় স্যারদের ক্লাসে পড়া জিজ্ঞাসা করলে উল্টাপাল্টা জবাব দিত। অবশ্য তার জবাবে যুক্তি থাকে। একদিন ক্লাসে বিজ্ঞান স্যার আমাদেরকে মাধ্যাকর্ষণ শক্তি সর্ম্পকে বোঝাচ্ছিলেন। তিনি অনেকবার বুঝানোর পর স্যার একে একে সবাইকে বললেন, আম পাকলে আকাশের দিকে না উঠে মাটিতে পড়ে কেন?

আমরা সবাই যে যার মতো বুদ্ধি খাটিয়ে উত্তর দিলাম। যখন স্যার মিন্টুকে প্রশ্ন করলো মিন্টু তখন জবাব দিল, স্যার আকাশেতো খাওয়ার কেউ নেই তাই আম আকাশের দিকে না উঠে মাটিতে পড়ে যায়।

তার উত্তর শুনে আমরা তখন খিল খিল করে হাসতে লাগলাম।

স্যার আর কোন কথা না বলে ক্লাস থেকে চলে গেলেন।

কিছুক্ষণ পর বাংলা স্যার ক্লাসে আসলেন। তিনি আমাদের সবাইকে কাল কত প্রকার ও কি কি? বলতে বললেন। আমরা সবাই কালের প্রকারভেদ গুলি বলি। কিন্তু মিন্টুকে বলতেই মিন্টু চট করে উত্তর দিল স্যার ওদের উত্তর হয়নি।

স্যার বললেন, কেন হয়নি?

কারণ স্যার কাল হচ্ছে ১২ প্রকার। আর তারা উত্তর দিচ্ছে ৩ প্রকার। তারা ৯ প্রকার কম বলেছে।

স্যার মিন্টুর কথায় আশ্চার্য হয়ে বললেন, বলতো দেখি তোমার প্রকারভেদগুলো।

ঠিক আছে স্যার বলছি।

১. অতীত কাল

২. বর্তমান কাল

৩. ভবিষ্যৎ কাল

৪. গতকাল

৫. সকাল

৬. বিকাল

৭. আগামীকাল

৮. ইহকাল

৯. পরকাল

১০. একাল

১১. সেকাল

১২. যৌবনকাল

পড়া শেষে আমাদের সাবাইকে উদ্দেশ্য করে বললেন, তোমরা সবাই মনযোগ দিয়ে শুন, কখনো পরের উপকার করতে ভুলবে না। যে উপকার করে না সে মানুষ না।

মিন্টু তখন জবাব দিল, স্যার আপনার ক্ষেত্রে ও কি সেটা প্রযোজ্য?

স্যার বললেন, অবশ্যই। তবে একথা বললে কেন তুমি?

স্যার, সেদিন পরীক্ষার হলে কি বিপদে পড়েছিলাম। কিন্তু উত্তর বলে দিয়ে আপনি একটুও উপকার করেননি।

পরিশেষে স্যার সবাইকে উদ্দেশ্য করে বললেন, দেখ তোমরা জীবনে কু-অভ্যাস, কু-কথা, কু-নেশা কু-পরামর্শ হতে বিরত থাকবে।

আমরা সবাই বললাম, ঠিক আছে স্যার। কিন্তু দুষ্টু মিন্টু বলে উঠল, স্যার আমার পক্ষে এক কু ত্যাগ করা সম্ভব নয়।

স্যার রাগান্বিত স্বরে বললেন, তুমি সব কিছুতেই বাড়াবাড়ি কর, কেন সম্ভব নয়?

স্যার আমার বাড়ি কুমিল্লা। কু ত্যাগ করলে বাড়ির ঠিকানাটাই যে ভুলে যাব!

এ কথা শুনে আরেকজন ছাত্র বলে উঠল, আমার বাড়ি কুষ্টিয়া।

স্যার দুই ছাত্রের কথা শুনে আর বললেন, ঠিক আছে তোমরা সবাই কু-অভ্যাস নিয়েই থাক আমি চললাম। বলেই স্যার ক্লাস থেকে বের হয়ে আসলেন।

স্যার ক্লাস থেকে বের হওয়ার পর নরসিংদীর ছেলে ছোটন বললো, কিরে মিন্টু তুই স্যারদের সাথে এভাবে উল্টাপাল্টা কথা বলছ কেন?

মিন্টু বললো, কেন কি হয়েছে তোর?

আমার কিছু হয়নি। আমার জানতে ইচ্ছে করছে তোর বাড়ি কোথায়?

কেন? শুনলি আমার বাড়ি কুমিল্লা।

কিন্তু তোর গ্রাম কোথায়?

শুনবি নাকি আমার গ্রামের নাম? আয় দেখিয়ে দেয়।

এখান থেকেই দেখেবি?

হ।

আচ্ছা দেখাতো দেখি তোদের গ্রাম।

এ কথা বলার সাথে মিন্টু ছোটনকে সজোরে ধাক্কা দিল। ধাক্কা খেয়ে ছোট মাটিতে পড়ে গেল তখন তার একটি দাঁত ভেঙ্গে গেল।

তখন ছোটন কাঁদতে কাঁদতে প্রিন্সিপাল স্যারের কাছে গিয়ে মিন্টুর নামে বিচার দিল। প্রিন্সিপাল স্যার ছোটনের অভিযোগ শুনার পর মিন্টুকে জিজ্ঞেস করলেন, এই ছেলে তুমি ওকে ধাক্কা দিয়েছ কেন?

মিন্টু বললো, স্যার ও আমাদের গ্রাম দেখতে চেয়েছিল, তাই।

তাই বলে কি ধাক্কা মারতে হবে?

স্যার আমাদের গ্রামের নাম ধাক্কা মারা।

মিন্টুর এই খামখেয়ালিপনা কথা শুনে প্রিন্সিপাল স্যার খুবই রাগান্বিত হলেন। অন্য একজন ছাত্রকে বললেন একটা বেত আনতে। একজন ছাত্র একটি বেত এনে দেয়। প্রিন্সিপাল স্যার বেত হাতে নিয়ে মিন্টুকে বললো, সামনে আসতে। মিন্টু সামনে আসতেই কয়েকটি বেত মারল আর বললো, আর কখনো দুষ্টামী করবে? মিন্টু কাঁদো কাঁদো স্বরে বললো, এখন থেকে আমি ভাল হয়ে যাব। আর কখনো এমন দুষ্টামী করবো। আমাকে মাফ করে দেন।

সেদিনের সেই ঘটনার পর থেকে মিন্টু আর দুষ্টামী করে না। এখন থেকে খুব ভাল মানুষ হয়ে গেছে। নিয়মিত ক্লাসে আসে। প্রতিদিনের পড়া মুখস্থ করে আসে। ইতিমধ্যে সকল ছাত্রদের মধ্যে সে একজন প্রিয় ছাত্র হয়ে গেল।

৮০৩ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
আমির ইশতিয়াক ১৯৮০ সালের ৩১ অক্টোবর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর থানার ধরাভাঙ্গা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা শরীফ হোসেন এবং মা আনোয়ারা বেগম এর বড় সন্তান তিনি। স্ত্রী ইয়াছমিন আমির। এক সন্তান আফরিন সুলতানা আনিকা। তিনি প্রাথমিক শিক্ষা শুরু করেন মায়ের কাছ থেকে। মা-ই তার প্রথম পাঠশালা। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শুরু করেন মাদ্রাসা থেকে আর শেষ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ে। তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে নরসিংদী সরকারি কলেজ থেকে সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ছাত্রজীবন থেকেই লেখালেখি শুরু করেন। তিনি লেখালেখির প্রেরণা পেয়েছেন বই পড়ে। তিনি গল্প লিখতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করলেও সাহিত্যের সবগুলো শাখায় তাঁর বিচরণ লক্ষ্য করা যায়। তাঁর বেশ কয়েকটি প্রকাশিত গ্রন্থ রয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য উপন্যাস হলো- এ জীবন শুধু তোমার জন্য ও প্রাণের প্রিয়তমা। তাছাড়া বেশ কিছু সম্মিলিত সংকলনেও তাঁর গল্প ছাপা হয়েছে। তিনি নিয়মিতভাবে বিভিন্ন প্রিন্ট ও অনলাইন পত্রিকায় গল্প, কবিতা, ছড়া ও কলাম লিখে যাচ্ছেন। এছাড়া বিভিন্ন ব্লগে নিজের লেখা শেয়ার করছেন। তিনি লেখালেখি করে বেশ কয়েটি পুরস্কারও পেয়েছেন। তিনি প্রথমে আমির হোসেন নামে লিখতেন। বর্তমানে আমির ইশতিয়াক নামে লিখছেন। বর্তমানে তিনি নরসিংদীতে ব্যবসা করছেন। তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা একজন সফল লেখক হওয়া।
সর্বমোট পোস্ট: ২৪১ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৪৭০৯ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৬-০৫ ০৭:৪৪:৩৯ মিনিটে
Visit আমির ইশতিয়াক Website.
banner

১০ টি মন্তব্য

  1. এ হুসাইন মিন্টু মন্তব্যে বলেছেন:

    এটা কি আমি ? হা হা হা ……

  2. আমির হোসেন মন্তব্যে বলেছেন:

    না ভাই। অনেক আগেই আমি এ গল্পটি লিখেছি। তখন আমি আপনাকে চিনতাম না। কাকতালীয়ভাবে আপনার নাম মিলে যাওয়ার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। তবে গল্পটি পড়ে আপনার কেমন লাগল জানাবেন।

    • এ হুসাইন মিন্টু মন্তব্যে বলেছেন:

      আমির ভাই দুঃখিত হওয়ার কিছু নেই । আমিতো ফান করছিলাম । আমার নাম কারো গল্পের প্রধান চরিত্র হবে,, এর চেয়ে সৌভাগ্যের কি আছে ?

  3. আমির হোসেন মন্তব্যে বলেছেন:

    মিন্টু ভাইকে ধন্যবাদ দিচ্ছি আপনি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করায়।

  4. আযাহা সুলতান মন্তব্যে বলেছেন:

    বেশ ভাল লাগল গল্পটি….দুষ্টামি যে করে সে অবশ্য ভাল হয়…..জানা হল ধাক্কামারা নামে গ্রামও আছে….শুভেচ্ছা…

  5. বাহাউদ্দিন আহমেদ মন্তব্যে বলেছেন:

    খুব হাসির একটি গল্প। ভাল লাগল।

  6. আমির হোসেন মন্তব্যে বলেছেন:

    ধন্যবাদ বাহাউদ্দিন আহমেদ।

  7. আরিফুর রহমান মন্তব্যে বলেছেন:

    গল্পটি পড়ে খুব মজা পেলাম।

  8. আমির হোসেন মন্তব্যে বলেছেন:

    ধন্যবাদ আরিফ ভাই।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top