Today 19 Jan 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

নবাবি শহর লখনউ (প্রথম পর্ব )

লিখেছেন: রুবাইয়া নাসরীন মিলি | তারিখ: ১১/১২/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 758বার পড়া হয়েছে।

কাজে অকাজে প্রায় প্রতি বছর দুই বা ততোধিক বার ভারত এ যাওয়া হয়।প্রতিবারই চেষ্টা থাকে কাজের জন্য যেখানে যাওয়া তার বাইরেও দুই একটা স্থান ঘুরে আসার।।একবার হঠাৎ করেই প্লান করলাম যদি সময় পাই তাহলে একবার লখনৌ ঘুরে আসব।ভারতের উত্তরপ্রদেশের রাজধানী হল লখনৌ।এই শহর কে বলা হয় তেহজিব এর শহর আর নওয়াব ওয়াজেদ আলি শাহ এর শহর।তেহজিব শব্দের আভিধানিক অর্থ হল আদবকায়দা।এই শহরের অধিবাসীরা মনে হয় অনেক ওয়েল ম্যানারড।

যাই হোক সেদিন ছিল বুধবার। আমরা কোলকাতায় সারাদিন যে কাজগুলো ছিল তা ঝটপট শেষ করে ফেললাম কেননা সন্ধ্যায় আমাদের ট্রেন।  আশফাক ভাই আগেই আমাদের টিকেট এর ব্যাবস্থা করে রেখেছিলেন। সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার মধ্যে আমরা হাওড়া ষ্টেশন এ পৌঁছলাম। সুদীর্ঘ বাইশ ঘন্টার যাত্রা।

ট্রেন এ ভ্রমণ আমার সবসময় অনেক ভাল লাগে ।ভারতে ট্রেন ভ্রমণে আরও অনেক মজা পাই কারন দীর্ঘ সময় শুয়ে বসে মজা করে অনেক কিছু দেখতে দেখতে অনেকটা পথ পাড়ি দেয়া যায়। সন্ধ্যা ছয়টা বিশ  মিনিটের ট্রেন কিছুটা দেরি করেই ঢুকল প্লাটফর্মে । পৌনে সাত টার দিকে আমরা ট্রেন এ উঠলাম।   ট্রেন এর নাম দুন এক্সপ্রেস।  আমি মাহমুদা আপা আর দুই জোড়া বয়স্ক দম্পতি এই ছয় জন এক কুপে। এখানেই পরিচয় মায়া মাসির সাথে।অবসর প্রাপ্ত স্কুল শিক্ষিকা মায়া চৌধুরী। একজন মানুষ যে সারাক্ষন কত কথা বলতে পারে তা উনাকে না দেখলে বুঝতাম না। উনারা যাচ্ছিলেন বারাণস এ বিশ্বনাথ এর মন্দির দর্শনে।

উনার হাজারো প্রশ্নের মাঝে সবচেয়ে বেশিবার করা প্রশ্ন ছিল আচ্ছা বলতো  এন জি ও কি ? আজকাল অনেকেই বলে আমি বুঝি না ।এরপর আমাদের দুই জনের প্রয়াস তাকে এই বিষয়ে বুঝানোর। উনি বার বার বলছিলেন  ইশ তোরা অনেক ভালো রে ,তোরা এখানেই থেকে যা। আসলে ভদ্রমহিলা আমাদের ডাক নাম শুনে ভেবেছিলেন আমরা বুঝি সনাতন ধরমালম্বি। যাই হোক ভুল ভাঙ্গানোর পরেও উনি বার বার বলছিলেন বুঝলি রে , বাবা বিশ্বনাথ তোদের  মিলিয়ে দিয়েছেন।  রাতের খাওয়া সেরে সবাই যে যার বার্থে উঠে শুয়ে পড়লাম। সকালে ঘুম ভাঙল দুই আঙ্কেল এর তর্ক  শুনে।ঘুম থেকে উঠেই আমি জানালা দিয়ে চোখ মেলে দিলাম । এর মাঝে মায়া মাসি আর উনার বর নেমে গেছেন। মজার ব্যাপার হল আমাদের সহযাত্রী অপর দম্পতি ভেবেছিলেন উনারা আমাদের বাবা মা ।

বান্ধবগড়,আমেথি পেরিয়ে আমরা ছুটছি লখনৌ এর পথে ।

বিরান মাঠ আর ক্ষেত

বিরান মাঠ আর ক্ষেত

 

বান্ধবগড় নামটা খুব চেনা চেনা লাগছিল । তারপর মনে হল আমি একটা হিন্দি ভৌতিক নাটক দেখেছিলাম “বান্ধবগড় কি রাজকুমার” । রাজকুমারটা ভ্যাম্পায়ার ছিল ।

বাতাসের গতিতে ট্রেন টা হু হু করে ছুটছে , দুই পাশে গাছপালা আর অবারিত সবুজ ক্ষেত পিছনে ফেলে ।

 

নিরব ষ্টেশন

নিরব ষ্টেশন

 

প্রায় জনমানব শূন্য এক ষ্টেশন এ দেখলাম অনেক গুলো শালিক মনের আনন্দে হেটে বেড়াচ্ছে।

 

শূন্য আসন

শূন্য আসন 

 

 

শালিকের ঝাক

শালিকের ঝাক 

 

 

একলা শালিক

একলা শালিক

বেলা বারোটা নাগাদ আমরা পৌঁছলাম লখনৌ ষ্টেশন এ।

(চলবে)

৭৪৮ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
আমি মিলি ,ভাল লাগে বই পড়তে,ঘুরে বেড়াতে আর বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে ।
সর্বমোট পোস্ট: ৩৮ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৩৯৩ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৪-০৯-০৩ ১৫:৫৪:৫০ মিনিটে
banner

৭ টি মন্তব্য

  1. সেতারা ইয়াসমিন হ্যাপি মন্তব্যে বলেছেন:

    যেতে ইচ্ছে করছে…অনেক সুন্দর …! ধন্যবাদ আপি…শেয়ার করার জন্য…!

  2. Crown. মন্তব্যে বলেছেন:

    কেমন লাগল অবশ্য় জানাবেন !

  3. সহিদুল ইসলাম মন্তব্যে বলেছেন:

    এমন বর্ণনা দেখে জায়গা গুলি দেখতে ইচ্ছা হয় , সময়ের অভাব যে তে পারব কি না জানিনা।

  4. মিলি মন্তব্যে বলেছেন:

    সময়ের অভাব এর মাঝেই সময় করে নিতে হয় ,ঘুরে আসবেন ভাল লাগবে ।

  5. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    ভাল লাগল আপি অনেক ধন্যবাদ

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top