Today 19 Sep 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

নারীকে যে চোখে দেখা হয়

লিখেছেন: এস কে দোয়েল | তারিখ: ১৯/০৭/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 628বার পড়া হয়েছে।

মানব সৃষ্টির সবচেয়ে আকর্ষিত আর সৌন্দর্য্যাবলী দিয়ে মহান সৃষ্টিকর্তা নরের জন্য নারীকে সৃষ্টি করেছেন। পৃথিবীর বুকে মহান সত্ত্বা সৌখিন কিছু প্রাণী সৃষ্টি করেছেন, যাদেরকে কাছে পেলে, চোখের সামনে থাকলে দৃষ্টি জুড়ে যায়; মন প্রশান্তিত হয়। সেই মনের প্রশান্তি জুড়ানোর জন্য সৃষ্টিকর্তা অন্যান্য প্রাণীদের হতে মানবজাতিকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। সর্বপ্রথম নর হিসেবে আদিম পুরুষ হযরত আদম (আ.)কে সৃষ্টি করেন। সৃষ্টির আদি মানব যেহেতু পুরুষ বা নর সেক্ষেত্রে তাকে সেসব গুনাবলী, উত্তম চরিত্র আর সৌন্দর্য্য দিয়ে গড়েছেন মানবদেহ গঠিত পুরুষকে। নরকে সব কিছুই দিলেন; জান্নাতে বসবাসের জন্য জায়গা করে দিলেন। কিন্তু আদিম সৃষ্ট একমাত্র পুরুষ হওয়াতে যা মহান আল্লাহর নূরের সৃষ্ট ফেরেশতাদের সাথে দৈহিক ও মানবিক দিক দিয়ে মিল খাওয়ানো যায়নি। যার কারণে মাটির দেহ প্রাণশক্তির সঞ্চারে ফেরেশতাদের সাথে সংগের দিক দিয়েও সামঞ্জস্য হয়। যার ফলে আদি পুরুষ জান্নাতে এমন উত্তেজনা, নি:সঙ্গতা বোধ করতে ছিলেন-যা দেখে মহান সৃষ্টিকর্তা নারীকে সৃষ্টি করলেন। নারী সৃষ্টি করে আদি পুরুষের সঙ্গ করে দিলেন। আদি পুরুষ নারীর দিকে তাকিয়েই হতভম্ব হয়ে থাকলেন এমন আকস্মিকতায় যে, নারীর রূপ-সৌন্দর্য্য এত সুন্দর ছিল যে তা প্রকাশ করতে বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেছিল।
এখন দেখা যাক নারীকে যে চোখে দেখা হয় :
** সম্পর্কের দিক থেকে : নারী শব্দটির চরিত্রার্থক বিশেষণ বহুবিধ মনে হয়। কেননা একটা নারী কখনো মা, কখনো বোন আবার কখনো প্রিয়তমা স্ত্রী। তাছাড়া সম্পর্কের দিক থেকে খালা,ফুফু, খালা,শ্বাশুরী,শালী,ভাবি,ননদ, প্রেমিকা, মাউই (ভাইয়ের শ্বাশুড়ী), বিয়ানী (ভাই/বোনের শ্বাশুড়ী বাবা/মায়ের সাথে তাদের সম্পর্ক), ঘরের বউ, মেয়ে ইত্যাদি।

** সৌন্দর্য্যের দিক থেকে : নারীর রূপবৈচিত্র্য,সৌন্দর্য্য দেখে প্রত্যেক পুরুষই ভিন্ন আবেগের অনুভূতি মিশিয়ে সেই সৌন্দর্য্যের প্রকাশ ঘটান। নারীর এই রূপ-সৌন্দর্য্য প্রকাশ করতে কখন বিশেষ উপমা দিয়ে তার প্রশংসা করা হয়। সুন্দরী ললনা, অপরূপা, নন্দিনী,পূর্ণীমা চাঁদের জোসনা, ( রোমান্টিকতার ক্ষেত্রে)………।

** গুণাবলী দিক দিয়ে : নারী যেমন সুন্দরী। তেমনি রয়েছে তার হরেকরকম গুণ। সেসব গুনাবলীর উপর বিচার করা হয় নারীটি কেমন। যদি ভাল হয় তাহলে তাকে ‘সে নি:সন্দেহে সুন্দর, গুনবতী, আদর্শময়ী বলে প্রশংসা করা হয় আর যদি তার গুনাবলীর মধ্যে খারাপ কিছু দেখা দেয় তাহলে তাকে নিয়ে ঘৃণা প্রকাশ করতে দ্বিধাবোধ হয়। সেই খারাপকে প্রকাশ করতে নারী সম্পর্কে বলা হয়-‘মেয়েটি খুব খারাপ, কলঙ্কীনী, বেশ্যা,নষ্টা, নটিমূলক অশুভ বাক্যলাপের শব্দাচারিত হয়।

** প্রতারণার দিক দিয়ে : কথায় বলে নারীর মন আকাশের রঙ। নারী নানা ছলকলা জানে। ক্ষনে ক্ষনে নাটক সাজিয়ে সেই নাটকে সে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করে। যার কারণে নারীর কাছে যেমন কোমল, নির্মল ভালবাসা পাওয়া যায়; অপর পিঠে এদের কাছ থেকে নানা প্রতারণারও শিকার হতে হয়। যার জন্য এসব কর্মকান্ডের জন্য নারীকে ছলনাময়ী, মিথ্যাবাদী, অভিনেত্রী, কালনাগিনী, সর্বনাশী বলে আখ্যা দেওয়া হয়।

** প্রেম-ভালবাসার দিক দিয়ে : প্রেম মানেই কাউকে মন থেকে গভীরভাবে ভালবেসে ফেলে। পৃথিবীতে নারী-পুরুষের প্রেম-ভালবাসাকেই বেশি প্রাধান্য দিতে হয়। এই নারী-পুরুষ অর্থাৎ মানুষ ব্যতিত জগতের প্রেম-ভালবাসা যেন নেহাৎই অনর্থক। যার কারণে নারী-পুরুষের মধ্যকার ভালবাসা স্থাপন করে মহান সত্ত্বা সমগ্র জীবের প্রতি সেটা ফুটিয়ে তুলেছেন। বলা বাহুল্য নারীর প্রেম-ভালবাসা আর তাকে নিজের করে পেতে পৃথিবীতে যত দ্বন্ধ-সংঘাত, মারামারি-কাটাকাটি, সন্দেহ থেকে বিরাট কিছু। নারী দেহের সৌন্দর্য্য, বিশেষ কিছু অঙ্গের প্রতি জৈব আকর্ষণকে ঘিরেই এই প্রেম-ভালবাসার উৎপত্তি। আর নারীর সাহচর্যে একজন পুরুষকে করে তুলে সতেজ ও আনন্দময় করে। যার ইতিহাস লায়লী-মজনু, শিরী-ফরহাদ, রোমিও-জুলিয়েটসহ বহু প্রেম কাহিনী পড়ে জানা গেছে। বিপরীত লিঙ্গের আকর্ষণকে ঘিরে প্রেমিক-প্রেমিকা, মধুর মিলনের জন্য স্বামী-স্ত্রী অর্থাৎ যুগলবন্দী, পিতা-মাতার সাথে সন্তানের প্রেম-ভালবাসার নারীকে কখনো স্ত্রী, কখনো মা, কখনো বোন অন্যান্য সম্পর্কের স্ফুটন ঘটে।

সৌখিনতার দিক দিয়ে : নারীদেরকে পৃথিবীর সৌখিন প্রাণীদের মতো আদরনীয় প্রাণী বলা হয়। বিশ্বব্রহ্মান্ডে মানবজাতির মধ্যে একমাত্র সৌখিন প্রাণী হলো নারী। যাকে সবাই পুষতে চায় এমনকি পুষে থাকে। সৃষ্টির শ্রেষ্ট মানুষের মধ্যে নারীই একমাত্র আকর্ষিত সৌখিন যে, সে প্রত্যেকটি বিষয়ে নাক গলায়। আবেগ দেখিয়ে ভালবাসা আদায় করে নেয়। বলা যেতে পারে অন্যান্য প্রাণীদের মধ্যে বিড়ালের সাথে মানব জাতির এই নারীকুলের মিল রয়েছে। বিড়ালকে আমরা যেভাবে কাছে টেনে বুকে জড়িয়ে নেই, আদর করে খাওয়াই, কোলে তুলে আদর করি তদ্রুপ নারীদেরকেও সেরুপ করে থাকে পুরুষরা। তবে নারী আর বিড়াল তো এক বিষয় নয়। তফাৎটা অনেক, কিন্তু চরিত্র-গুনাবলীর দিক দিয়ে বিস্তর মিল পাওয়া যায়। যাই হোক ইতিহাসবিদ ও সাহিত্যিকরা নারীদেরকে সৌখিনতাকে প্রাধান্য দিয়ে বিভিন্ন উপমা দিয়ে অলংকিত করেছেন। কেউ বলেছেন নারী স্বাগত অতিথি, কেউ বলেছেন নারী হলো বাড়ীর সৌন্দর্য্য, কেউ বলেছেন নারী প্রেমদেবী আবার কেউ বলেছেন নারী হলো ভোগের সামগ্রী। পবিত্রগ্রন্থ কুরআনেও বলা হয়েছে-নারী হলো তোমাদের পোষাক।
চলবে

৬২৪ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
এস.কে.দোয়েল সম্পাদক ও প্রকাশক আলোর ভূবন সাহিত্য ম্যাগাজিন এবং জাতীয় পত্রিকার ফিচার ও কলাম লেখক। তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড়।
সর্বমোট পোস্ট: ১৯ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৩২ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৪-০৬-১৮ ১৮:১২:২৬ মিনিটে
Visit এস কে দোয়েল Website.
banner

৪ টি মন্তব্য

  1. আহমেদ রব্বানী মন্তব্যে বলেছেন:

    নারী মাতা,নারী ভগ্নি,স্ত্রী কন্যা আরও অনেক সম্পর্কে জড়িয়ে আছে আমাদের জীবনে। প্রেয়সী, মানসীপ্রিয়া।ধন্যবাদ দোয়েল ভাই।

  2. দীপঙ্কর বেরা মন্তব্যে বলেছেন:

    মনে রাখার মত ও ভাবার মত অনেক কথা আছে ।
    ভাল থাকবেন

  3. জসীম উদ্দীন মুহম্মদ মন্তব্যে বলেছেন:

    জীবন দর্শন; ভাল লেগেছে কবি !

  4. সহিদুল ইসলাম মন্তব্যে বলেছেন:

    নারী মাতা,নারী ভগ্নি,স্ত্রী কন্যা আরও অনেক সম্পর্কে জড়িয়ে আছে,
    কিন্তু,দুঃখের বিষয় হলেও সত্য_ আমাদের সমাজে কিছু লেবাসধারী ভদ্র আছে যারা নারীদেরকে পন্য হিসেবে গন্য করে।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top