Today 19 Sep 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

নিজ হাতে পুরো পরিবারকে কিশোরীর কবর

লিখেছেন: এ্যাডভোকেট শিশির আহমেদ | তারিখ: ০৪/১১/২০১৩

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 589বার পড়া হয়েছে।

শাফা, ১৪ বছরের কিশোরী। নিজ হাতে পুরো পরিবারকে কবর দিয়ে নিজেই এখন বিধ্বস্ত। আপনজন বলে আছে শুধু এক দাদী। সাহারার মরুতে তার পরিবারের সদস্যসহ অন্তত ৮৭ জন অভিবাসীর নিহতের নেপথ্যের করুণ কাহিনী সে তুলে ধরেছে বিবিসির কাছে।

 

গত বুধবার নাইজারের উত্তরাংশে সাহারা মরুভূমিতে ৮৭ অভিবাসীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। নাইজার থেকে আলজেরিয়া যাওয়ার পথে তাদের গাড়ি নষ্ট হয়ে যায়। এরপর সাহারা মরুভূমিতে তৃষ্ণায় মারা যান তারা।

 

শাফা নামে নাইজারে জন্ম নেওয়া ওই কিশোরীর বর্ণনায় নাইজার টু আলজেরিয়া;

 

আলজেরিয়ায় আমরা আমাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করার জন্য যাচ্ছিলাম। দুটি গাড়ির ওই বহরে ১০০ জনেরও অধিক লোক ছিল। পথে আমাদের ট্রাকটি বিকল হলে পুরো একদিন লেগে যায় ঠিক করতে। আমাদের পানি ততক্ষণে ফুরিয়ে যায়।

 

আমরা একটা কূপের সন্ধান পাই কিন্তু ওখানে খুব অল্পই পানি ছিল। আমাদের একজন কূপের ভেতর থেকে পানি নিয়ে আসে। এতে কয়েকজন তৃষ্ণা মেটালেও বেশিরভাগেরই রয়ে যায় পানির কষ্ট।

 

গাড়ির চালকরা আমাদের অপেক্ষা করতে বলে এবং পানি আনতে যায়। কিন্তু এক রাত ও এক দিন পরও তারা ফেরেনি। তখনই কয়েকজন মারা যেতে থাকে। পানি ছাড়া দ্বিতীয় দিন আমাদের মধ্যে ১৫ জন মারা যায়।

 

মৃতদেহগুলো ট্রাকে করে আগাতে লাগলাম। আলহামদুলিল্লাহ, তখন দ্বিতীয় গাড়িটা কিছু পানি নিয়ে আসে। আমরা কিছু আলজেরীয় নিরাপত্তা রক্ষীর মুখোমুখি হই। আমাদের চালকরা পথ পরিবর্তন করে ফেলে। কারণ তারা ধরা পরতে চায়নি। যেহেতু আমাদের ওভাবে নিয়ে যাওয়াটা অবৈধ ছিল।

 

চালকরা আমাদের একটা নর্দমায় লুকিয়ে থাকতে বলে। এভাবে আমরা টানা তিনদিন পানি ছাড়া কাটালাম। একটি মহিলা কাঁদতে শুরু করলে চালকদের একজন তাকে মারধর করে। অনেক মহিলা ও শিশু মারা গেল। চালকরা তাদের তেলের টাঙ্কিতে কিছু পানি জমা রেখেছিল। কিন্তু আমাদের কারো দেয়নি।

 

ওখান থেকে আমাদের আবার নাইজার নিয়ে আসে। আমাদের পানি একবারেই ফুরিয়ে যায়। আমরা ক্ষুধার্ত ও তৃষ্ণার্ত অবস্থায় ট্রাকভর্তি লাশের মধ্যে বসেছিলাম। আমরা নাইজার আসার পর চালকরা ট্রাক থেকে লাশগুলো নামিয়ে দেয়। ওগুলোকে কবর দেয়া হয়। প্রথমে মায়েদের রেখে তাদের ওপর বাচ্চাদের কবর দেওয়া হয়।

 

আমাদের মধ্যে যারা নড়াচড়া করতে পারছিলাম তাদের বলা হলো আমাদের গ্রামে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। পথে পেট্রোল ফুরিয়ে গেল। তারা আমাদের কাছে পেট্রোল কেনার টাকা চাইলো। তারা তেল আনতে যাওয়ার কথা বলে আমাদের গাড়ি থেকে নামিয়ে দিলো। এরপর তারা আর ফিরে আসেনি।

 

আমরা মরুভূমিতে দুদিন অপেক্ষা করলাম। খাবার নেই, পানি নেই। তারপর আমরা হাঁটার সিদ্ধান্ত নিলাম। অনেক গাড়ি যাচ্ছিল। তাদের থামানোর চেষ্টা করেছি কিন্তু কেউই থামাননি। এমনকি একটা গাড়ি আমাদের দলের ওপর দিয়ে চালিয়ে দিলে তিনজন নিহত হয়।

 

তখন আমরা বাকি ছিলাম মাত্র ৮ জন। এর মধ্যে ছিল আমার মা ও ছোট বোনেরা। আমরা ক্লান্ত হয়ে গেলে একটা গাছের নিচে বসলাম। ওখানেই আমার এক ছোট বোন মারা যায়। তাকে আমরা ওখানেই কবর দেই।

 

তারপর আমরা আবারো হাঁটা চালিয়ে যেতে থাকি। একদিন পর আমার দ্বিতীয় বোনটি মারা যায়। তৃতীয় দিন আমার মা মারা যায়। সবাইকে আমি-ই নিজ হাতে কবর দেই।

রাস্তা দিয়ে অনেক গাড়িই যাচ্ছিল। কিন্তু কেউই আমাকে তুলতে চায়নি। কিছুক্ষণ হাঁটার পর একটা গাছ দেখতে পেলাম। সব আশা ছেড়ে দিয়ে গাছের ছায়ায় বসে মৃত্যুর প্রহর গুণছিলাম।

 

তখন একটা গাড়ি দেখলাম। গায়ের ব্লাউজ খুলে পাগলের মত তা অকাশ পানে নাড়াতে লাগলাম। লোকটি থামল এবং আমার ঘটনা শুনলো। তারা আমাকে খানিকটা দুধ খেতে দিল। তারপর পানি ও বিস্কুট। আমি একটু খেতে পারলাম কিন্তু বেশি খেতে পারছিলাম না। তারপর তারা আমাকে চা বানিয়ে দিলো।

 

আমাকে এরপর আমার গ্রাম আরলিত-এ নিয়ে আসা হলো, দাদীর কাছে। আমার বাবা অনেক আগেই মারা গেছেন। এখন আমার মা, ভাই-বোন কেউই বেঁচে নেই। এখন এক চাচির সঙ্গে আছি। শুনেছি আমাদের ১০০ জনেরও বেশি ওই বহর থেকে আমি, একটি ছোট মেয়ে আর ১৮ জন পুরুষ বেঁচে আসতে পেরেছে।

৬৩৯ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
সর্বমোট পোস্ট: ৩১ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ০ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৯-২৫ ১১:৫৫:১৮ মিনিটে
banner

৫ টি মন্তব্য

  1. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    লোমহর্ষক কাহিনী । সত্যিই আমার গা কাটা দিয়ে উঠল

    কত নিষ্ঠুর পৃথিবী….খুব কষ্ট লাগল ঘটনাটি পড়ে

  2. শাহ্‌ আলম শেখ শান্ত মন্তব্যে বলেছেন:

    বেদনাদয়ক জীবনের গল্প ।

  3. মিলন বনিক মন্তব্যে বলেছেন:

    সত্যিই লোমহর্ষক…মানুষ এতটা নির্দয় হয় কি করে…একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলার পরও চাপা কষ্ট অনুভব করছি…

  4. আমির হোসেন মন্তব্যে বলেছেন:

    করুন কাহিনী। শাফার জন্য সমবেদনা।

  5. তাপসকিরণ রায় মন্তব্যে বলেছেন:

    কাহিনী নয়–এ যে বাস্তব ঘটনা–ভাবতে গেলে কষ্ট পেতে হয়–সত্যি মানুষের জীবন কখনও কখনও কত না সংঘর্ষময় হয়ে ওঠে।লেখককে এ সত্যি মর্মান্তিক ঘটনা প্রকাশের জন্যে জানাই অশেষ ধন্যবাদ।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top