Today 23 Apr 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

নিয়তির কানামাছি

লিখেছেন: শওকত আলী বেনু | তারিখ: ১৪/০৩/২০১৫

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 493বার পড়া হয়েছে।

 

কামরান সাহেব জীবনে ঘটে যাওয়া সব কিছুই নিয়তির উপর ছেড়ে দেন।নিয়তি মানে ভাগ্য। নিয়তি মেনে নেয়াই তাঁর ধর্ম। ভাগ্য বিধাতার বিধান যা কেউ খণ্ডাতে পারেনা। এই নিয়তি অপ্রতিরোধ্য।সেই ছোটবেলা থেকেই তিনি জেনে আসছেন উপর থেকেই এটা নাজিল হয়। এই বিশ্বাস তাঁর মধ্যে যেমন ছিল এখনো আছে। তবে উপর থেকে কেন, কিভাবে আসে এটা তিনি জানেন না। কখনও জানার চেষ্টাও করেন নি। এই নিয়ে বেশি ঘাটাঘাটি করতে নেই শুধু এইটুকু বোঝেন। আবার এও বোঝেন বেশি ঘাটাঘাটি করলে বিশ্বাসে চিড় ধরে।এক সময় বিশ্বাসবোধ মন থেকে মুছেও যায়। যে নিয়তি কখনও খণ্ডানো যায়না তা নিয়ে ঘাঁড় ত্যাড়ামী না করাই ভালো। এই বিশ্বাসবোধ নিয়েই তিনি বেঁচে আছেন। বয়স হিসেব করে দেখেছেন তিন কুড়ি হয়েছে আরো বছর তিনেক আগেই।

কামরান সাহেবের সুদীর্ঘ জীবনটা এইভাবেই কেটে গেল।এই বিশ্বাসবোধ তাঁকে অনেক কিছু দিয়েছে।দিয়েছে বাড়তি সন্মান। রয়েছে মনে প্রফুল্লতা।কোনো কিছু না হারানোর আনন্দ।যা ঘটে তা ফিরানো যায়না। তিনি এটা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, উপরে একজন আছেন যিনি সব কিছু দেখভাল করে থাকেন। শুধু মনুষ্য জাতি নয়, পৃথিবীর সকল প্রাণ ও প্রাণহীন বস্তুর মালিক একজন রয়েছেন যিনি যার যা প্রয়োজন তাঁকে সময় মতো তা দিয়ে থাকেন। আবার প্রয়োজনে উঠিয়ে নেন। কখনও বাড়িয়ে দেন আবার কখনও কমিয়ে দেন।এই দেয়া-নেয়া কোনটাই মানুষের নিয়ন্ত্রণে নেই।মানুষের প্রাপ্ত এই ভালো-মন্দ দুটোই নিয়তি।এই নিয়তির বাইরে কেউ কিছুই অর্জন করতে পারেনা।এই বিশ্বাসের গাঁথুনি তাঁর এতটাই মজবুত যে, প্রাণের বিনিময়ে হলেও ওখান থেকে ফিরে আসার কোনো সুযোগ নেই।

সেই ছোট্ট বেলা থেকেই এমনটি অনুধাবন করে আসছেন কামরান সাহেব। বাবা-মা এবং পরিবেশের চারিপাশ থেকে এমনটিই শিখে আসছেন তিনি। নিবিড়ভাবে অনুভব করেছেন ভাগ্য মেনে নেয়ার কিচ্ছা-কাহিনী। এর বাহিরে কোনো বিকল্প কিছু তাঁর জানা ছিল না। আজও নেই।তিনি বিশ্বাস করেন ভাগ্য নিয়ন্ত্রণে মানুষের কোনো হাত নেই। যা ঘটবার তা অবলীলায় ঘটবেই। যে শক্তি মানুষের ভাগ্য নিয়ন্ত্রণ করে থাকে সেই শক্তির কাছে মানুষ নিরুপায়। অদৃশ্য সেই শক্তির নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্তি পাওয়ার কোনো উপায় নেই। উপায় বের করার চেষ্টা করেও কোনো লাভ নেই। যা হবার তা কোনো ভাবেই ঠেকানো যায় না।সেই শক্তির বিরুদ্ধে লড়তে যাওয়া বৃথা চেষ্টা মাত্র।তিনি বিশ্বাস করেন সেই সাহস না দেখানোই বুদ্ধিমানের কাজ। আর যারা দেখাতে চায় তাঁরা পাপ কর্মে লিপ্ত হয়। যেই পাপবোধ কামরান সাহেবের মনে গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে ছোট বেলা থেকেই।

কামরান সাহেবের অনুজ ইমরান অনেক দিন পর বাড়িতে ফিরেছে।সরকারী চাকুরী করার কারণে কখন কোথায় বদলি হয় তাঁর কোনো ঠিক-ঠিকানা নেই।বছর দুই আগে বৃহত্তর সিলেটের একটি জেলায় তাঁর পোস্টিং হয়।এখনও ওই জেলাতেই আছেন জেলার বড় কর্তা হিসাবে।জীবনে অনেক ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে আজকের এই জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশুনার ইতি টেনে পাবলিক সার্ভিস পরীক্ষা কমপ্লিট করে সহকারী সচিব হিসাবে প্রথম চাকুরিতে প্রবেশ করেন। এরপর থেকে তাঁকে আর পিছনে ফিরে তাঁকাতে হয়নি।প্রচন্ড আত্ম-বিশ্বাসী ও কর্মঠ এই মানুষটি জীবনে যা অর্জন করেছেন তাঁর সাফল্যের পিছনে একমাত্র নিজের পরিশ্রম আর সাধনাকেই সকল প্রাপ্তির উত্স বলে মনে করেন। তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন ভাগ্য মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করেনা। মানুষই তাঁর ভাগ্য নিয়ন্ত্রণ করে কঠোর পরিশ্রম আর জীবনের অঙ্ক কষে। কঠোর সাধনা করে অসাধারণ লক্ষ্য অর্জন একমাত্র মানুষের পক্ষেই সম্ভব।এই চেপ্টা গোলাকৃত গ্রহে মানুষই পারে তাঁর বুদ্ধি, জ্ঞান, মেধা ও পরিশ্রম দিয়ে নিজের ভাগ্য গড়ে নিতে। পিতার পরলোকগমনের পর কামরান সাহেব তাঁর ছোট ভাই ইমরানকে তাঁর ইচ্ছের বিরুদ্ধে একটি মাদ্রাসায় ভর্তি করে দিয়েছিলেন।প্রতিভাবান জেদী ইমরানের তা পছন্দ হয়নি। জেদ করে হটাত একদিন ইমরান মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে যায়।শুরু হয় জীবন-যুদ্ধের লড়াই।এরপর দীর্ঘদিন ইমরান আর বাড়িতেও ফিরে যাননি।

আমিন সাহেব কুমিল্লার কচুয়া থানার একজন স্বনামধন্য পাটের বেপারী। বাপদাদার পুরানো পাট-ব্যবসায় নিজেকে জড়িয়ে রেখেছেন যুগযুগ ধরে। ইমরান মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে নিরুপায় হয়ে কচুয়া থানার আমিন বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় প্রার্থনা করে। দয়ালু এবং নিঃসন্তান আমিন সাহেব ইমরানকে নিজের সন্তানের মতো করে আদর যত্নে মানুষ করেন। সেই ইমরান এখন খ্যাতিমান দাপুটে সরকারী কর্মকর্তা।
(চলবে–)

৪৮৩ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
লেখালেখি করি।সংবাদিকতা ছেড়েছি আড়াই যুগ আগে।তারপর সরকারী চাকর! চলে যায় এক যুগ।টের পাইনি কী ভাবে কেটেছে।ভালই কাটছিল।দেশ বিদেশও অনেক ঘুরাফেরা হলো। জুটল একটি বৃত্তি। উচ্চ শিক্ষার আশায় দেশের বাইরে।শেষে আর বাড়ি ফিরা হয়নি। সেই থেকেই লন্ডন শহরে।সরকারের চাকর হওয়াতে লেখালেখির ছেদ ঘটে অনেক আগেই।বাইরে চলে আসায় ছন্দ পতন আরো বৃদ্বি পায়।ঝুমুরের নৃত্য তালে ডঙ্কা বাজলেও ময়ূর পেখম ধরেনি।বরফের দেশে সবই জমাট বেঁধে মস্ত আস্তরণ পরে।বছর খানেক হলো আস্তরণের ফাঁকে ফাঁকে কচি কাঁচা ঘাসেরা লুকোচুরি খেলছে।মাঝে মধ্যে ফিরে যেতে চাই পিছনের সময় গুলোতে।আর হয়ে উঠে না। লেখালেখির মধ্যে রাজনৈতিক লেখাই বেশি।ছড়া, কবিতা এক সময় হতো।সম্প্রতি প্রিয় ডট কম/বেঙ্গলিনিউস২৪ ডট কম/ আমাদেরসময় ডট কম সহ আরো কয়েকটি অনলাইন নিউস পোর্টালে লেখালেখি হয়।অনেক ভ্রমন করেছি।ভালো লাগে সৎ মানুষের সংস্পর্শ।কবিতা পড়তে। খারাপ লাগে কারো কুটচাল। যেমনটা থাকে ষ্টার জলসার বাংলা সিরিয়ালে। লেখাপড়া সংবাদিকতায়।সাথে আছে মুদ্রণ ও প্রকাশনায় পোস্ট গ্রাজুয়েশন।
সর্বমোট পোস্ট: ২০৩ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৫১৯ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৬-১৭ ০৯:২৪:৩১ মিনিটে
banner

১ টি মন্তব্য

  1. সবুজ আহমেদ কক্স মন্তব্যে বলেছেন:

    দারুন সুন্দর লাগলো …আপনার লিখা আরো পগতে চাই

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top