Today 21 Nov 2018
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

ন্যাড়া না গেলেও, আহাম্মকরা যায় !

লিখেছেন: শওকত আলী বেনু | তারিখ: ১৩/০৮/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 596বার পড়া হয়েছে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী মৌলভীবাজার-৩ আসনের সাংসদ সৈয়দ মহসীন আলী এবার সাংবাদিকদের ‘খবিশ’ ‘চরিত্রহীন’ ও ‘লম্পট’ বলেছেন। এতে সাংবাদিকরা অপমানিত হয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।এর আগে আরেক আওয়ামীলীগ নেতা নারায়ানগঞ্জের সাংসদ শামীম ওসমান যিনি সন্ত্রাসীদের গডফাদার হিসাবে সু-খ্যাতি ও সুনাম অর্জন করেছেন তিনি একবার সংবাদিকদের কুকুর বলে অভিহিত করেছিলেন। এই দুইটি নিকৃষ্ট প্রাণীর সাথে যারা সাংবাদিকদের তুলনা করেছেন তারা দুইজনই সমাজে উত্কৃষ্ট (কারণ তারা রাজনীতিবিদ!!) এবং সরকারের খুব কাছের লোক বলে জনগণ মনে করে থাকে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী সৈয়দ মহসীন আলী অবশ্য গণমাধ্যম কর্মীদের শুধু ‘খবিশ’ বলেই খ্যান্ত হননি, এমন সব কথাবার্তা বলেছেন যা এতটাই অশ্লীল যে, অনেক সংবাদপত্রে তাঁর বক্তব্যের ওই অশ্লীল এবং অমার্জিত শব্দগুলো *** দিয়ে প্রকাশ করতে বাধ্য হয়েছিল। কারণ সংবাদপত্র এবং সংবাদিকতা কিছু স্বচ্ছ ও মার্জিত নীতিমালা অনুসরণ করে চলে।

জনাব সৈয়দ মহসীন আলী প্রথম মন্ত্রিত্ব পেয়ে শুরুতেই বিতর্কিত হয়েছিলেন শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জনসম্মুখে ধুমপান করে। সেই যাত্রায় তিনি দ্রুত ভুল বুঝতে পেরে ক্ষমাও চেয়েছিলেন। ক্ষমার চাওয়ার ভঙ্গিটা ভালো লাগায় এবং ভুল করার পরে তা স্বীকার করায় মন্ত্রীকে স্যালুট জানিয়ে ‘এই সামান্য কাজটাই বা ক’জন করে’ এই শিরোনামে চলন্তিকায় যে লেখাটি ওই সময় লিখেছিলাম এর কিছু অংশ আজ তুলে ধরছি শুধুমাত্র বিবেকের তাড়নায়-

“ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়ার মানসিকতা আমাদের সমাজে অনেকটাই বিরল। আর ওই কর্মটি তিনি করেছেন….যিনি মৌলভীবাজার-৩ আসনের সাংসদ আওয়ামীলীগ নেতা সৈয়দ মহসিন আলী।তার অপরাধ তিনি জনসম্মুখে ধুমপান করেছেন……তাও আবার স্কুলের ছাত্র ছাত্রীদের সামনে!”

“তাঁর এই ভুলটা যতবড়ই হোক, আমরা তাকে ক্ষমা করতেই পারি…. কারণ তিনি আমাদের প্রচলিত ধারণাকে ভুল প্রমাণিত করে লজ্জিত হয়েছেন এবং ক্ষমা চেয়েছেন প্রকাশ্যে।ভুল স্বীকার করে মহত্বের পরিচয় দিয়েছেন।বিবেকের তাড়নায় তিনি দায় স্বীকার করেছেন এবং ওই ভুল কর্মটি পুনরায় না করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন প্রকাশ্যে”।

“মুখ ফসকে কত লাগামহীন কথাই তো বলে যাচ্ছেন আমাদের রাজনৈতিকরা….অশ্লীল শব্দ প্রয়োগ থেকে শুরু করে কত কিছু …. কই, কাউকে তো ক্ষমা চাইতে দেখছিনা? মন্ত্রীকে শ্রদ্ধা জানাই….এই সামান্য কাজটাই বা কজন করে? স্যালুট মন্ত্রী মহোদয় সৈয়দ মহসিন আলী আপনাকে ….এই দুর্দিনে অপকর্ম করে তা স্বীকার করেছেন …… এবং আপনার সহকর্মীদের জন্যে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পেরেছেন। রাজনীতিবিদদের এভাবে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া তো খুব একটা দেখা যায় না ….আপনি যে কাজটি করেছেন তা একটি সভ্য সমাজের রীতিনীতি অনুসরণ করেছেন……যে অপরাধবোধটুকু আপনার মধ্যে কাজ করেছে এটাই বা কম কিসের?”

এবার তিনি সাংবাদিকদের ‘খবিশ’ আর ‘লম্পট’ বলে আবারও ক্ষমা চেয়েছেন। এবারও কী মন্ত্রী মহোদয়কে স্যালুট জানিয়ে বলেত হবে, আহা আপনি বেশ করেছেন!! আর তা না করে যদি বলি “কয়লা ধুইলে ময়লা যায়না” – তা হলে কী খুব বেশি বলা হয়ে যাবে? নাকি বলবো- ন্যাড়া বেল তলায় বারবার না গেলেও, আহাম্মকরা যায় !

রাজনীতি এবং সাংবাদিকতা একটি সমাজের চালিকা শক্তির দুইটি পৃথক সত্বা হলেও একটি গণতান্ত্রিক সমাজে এই দুইটিকে পরস্পরের শত্রু বানিয়ে আর যাইহোক একটি আধুনিক শান্তিকামী রাষ্ট্রের কল্পনা করা আহাম্মকি ব্যাপার। রাষ্ট্রে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের জবাবদিহিতা যেভাবে শূন্যের কোঠায় ঠেকে যাচ্ছে এবং যেইটুকু বাকি আছে তাও যদি ঠেকানো না যায় তাহলে শক্তির উত্স জনগনকে ঠেকাবে কে ? আমাদের দেশে যারা রাজনীতি করেন এবং রাজনীতির কারণে যারা ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে উচ্চপদে আসীন থাকেন তারা গণমাধ্যম কর্মীদের যেভাবে হেয় প্রতিপন্ন করে কথা বলেন তার নমুনা আবার দেখিয়ে দিলেন মন্ত্রী সৈয়দ মহসীন আলী।

মন্ত্রী মহোদয় বোধহয় এই সহজ বিষয়টুকু অনুধাবন-ই পারছেন না যে, যিনি দিগম্বর হয়ে রাস্তায় ছুটছেন লজ্জা তাকে স্পর্শ না করলেও তার আপন মানুষজন যারা তাকে দিগম্বর অবস্থায় প্রত্যক্ষ করছেন তাদের লজ্জা অনেক বেশি।

 

৫৮৭ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
লেখালেখি করি।সংবাদিকতা ছেড়েছি আড়াই যুগ আগে।তারপর সরকারী চাকর! চলে যায় এক যুগ।টের পাইনি কী ভাবে কেটেছে।ভালই কাটছিল।দেশ বিদেশও অনেক ঘুরাফেরা হলো। জুটল একটি বৃত্তি। উচ্চ শিক্ষার আশায় দেশের বাইরে।শেষে আর বাড়ি ফিরা হয়নি। সেই থেকেই লন্ডন শহরে।সরকারের চাকর হওয়াতে লেখালেখির ছেদ ঘটে অনেক আগেই।বাইরে চলে আসায় ছন্দ পতন আরো বৃদ্বি পায়।ঝুমুরের নৃত্য তালে ডঙ্কা বাজলেও ময়ূর পেখম ধরেনি।বরফের দেশে সবই জমাট বেঁধে মস্ত আস্তরণ পরে।বছর খানেক হলো আস্তরণের ফাঁকে ফাঁকে কচি কাঁচা ঘাসেরা লুকোচুরি খেলছে।মাঝে মধ্যে ফিরে যেতে চাই পিছনের সময় গুলোতে।আর হয়ে উঠে না। লেখালেখির মধ্যে রাজনৈতিক লেখাই বেশি।ছড়া, কবিতা এক সময় হতো।সম্প্রতি প্রিয় ডট কম/বেঙ্গলিনিউস২৪ ডট কম/ আমাদেরসময় ডট কম সহ আরো কয়েকটি অনলাইন নিউস পোর্টালে লেখালেখি হয়।অনেক ভ্রমন করেছি।ভালো লাগে সৎ মানুষের সংস্পর্শ।কবিতা পড়তে। খারাপ লাগে কারো কুটচাল। যেমনটা থাকে ষ্টার জলসার বাংলা সিরিয়ালে। লেখাপড়া সংবাদিকতায়।সাথে আছে মুদ্রণ ও প্রকাশনায় পোস্ট গ্রাজুয়েশন।
সর্বমোট পোস্ট: ২০৩ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৫১৯ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৬-১৭ ০৯:২৪:৩১ মিনিটে
banner

৫ টি মন্তব্য

  1. এস এম আব্দুর রহমান মন্তব্যে বলেছেন:

    যিনি দিগম্বর হয়ে রাস্তায় ছুটছেন লজ্জা তাকে স্পর্শ না করলেও তার আপন মানুষজন যারা তাকে দিগম্বর অবস্থায় প্রত্যক্ষ করছেন তাদের লজ্জা অনেক বেশি।এটাই যদি বুঝতেন বা বুঝার চেষ্টা করতেন তা হলেতো আমাদের রানীতিবিদগন নানা রকম অপরাধ করে পরদিনই আবার জন সমুক্ষে আসতে পারতেন না । ভাল লিখেছেন ।এতেও যদি লজ্জাহীনদের কিছুটা লজ্জা হয় । শুভ কামনা ।

  2. আহমেদ রব্বানী মন্তব্যে বলেছেন:

    এর নাম যে বঙ্গদেশ প্রিয়। কত রঙ্গ-বঙ্গদেশে!!

  3. জসীম উদ্দীন মুহম্মদ মন্তব্যে বলেছেন:

    পড়লাম বেনু ভাই।

  4. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    এরা
    কোনদিনও ঠিক হবে না। ভুল একবার হয়ে
    আর এদের বার বার হয়

  5. সবুজ আহমেদ কক্স মন্তব্যে বলেছেন:

    বেশ চমৎকার
    ভাল ভাবনার প্রয়াস
    শুভ কামনা থাকলো

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top