Today 18 Dec 2017
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

পর্দা বনাম বেপর্দা

লিখেছেন: কল্পদেহী সুমন | তারিখ: ১৯/০২/২০১৫

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 652বার পড়া হয়েছে।

Rape_rate_per_100,000_-_country_comparison_-_United_Nations_2012

আজকাল বেশিরভাগ মুসলমানকে দেখা যাচ্ছে ইসলামের বিধিবিধান থেকে যতটা সম্ভব তারা দূরে সরে থাকে নয়তো ইসলামকেই এড়িয়ে চলে। তারা এমন ভাব দেখায় যেনো জীবনের কোথাও ধর্মীয় অনুশাসনের প্রয়োজন নেই। ওনাদের কথাবার্তা শুনলে মনে হয় ধর্ম পুরোপুরি আলাদা একটা বিষয় যা জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন বলাই চলে। এরকম ভাবধারার নারী পুরুষের সংখ্যা দিনকে দিন বেড়েই চলছে। কেউ কেউ দুই এক কলম লেখতে পারে দেখে তাদের মতামতকে এমন ভাবে উপস্থাপন করে যেন তারাই সঠিক, মহাজ্ঞানী, পন্ডিত হয়ে গেছেন। এ ধরনের নারী পুরুষেরা বরাবরই পর্দার বিরুদ্ধেই বেশি সাফাই গায়। তাদের ধারনা পর্দা বা বেপর্দা কোনটাই সমাজে তেমন প্রভাব ফেলেনা। একজন নারী পর্দা কিংবা বেপর্দা যে অবস্থায় থাকুক না কেন, সে ধর্ষিত হতে পারে। আমি আপনাদের সাথে একমত যে বাংলাদেশের নারীরা যথেষ্ট শালীন তবে এটাও সত্য যে কিছু শালীন নারীর পিছনে অশালীন মনের অনেক নারীই আছে আমাদের এ সমাজে। তারা শালীন পোষাক পড়েই বিভিন্ন পার্ক, রেস্টুরেন্ট, রিকশাতে কিংবা অন্য কোন যানে বসে পরপুরুষের দ্বারা ইচ্ছে করেই ঘষামাজায় লিপ্ত হচ্ছে কিংবা গোপণে শালীন থেকে অশালীনও হচ্ছে সবার অগোচরে। হ্যাঁ অবশ্যই তারা শালীন। হয়তো এখানে মানবাদীরা বলতে পারে প্রতিটি মানুষের নিজস্ব স্বাধীনতা আছে এবং কোন ছেলেমেয়ে তাদের জৈবিক চাহিদা পূরন করতেই পারে। হ্যাঁ অবশ্যই করবে তবে তা ধর্মীয় ও সামাজিক ভাবে লাইসেন্স প্রাপ্ত হওয়ায় পর। এবার আসি শালীন রূপী অশালীনদের দিকে, যাদের আমরা আপাত দৃষ্টিতে শালীন বলে বিবেচনা করে থাকি তারা কতটুকু ইসলামের বিধান মানলো তা দেখতে হবে। তাদের হিজাব করার পদ্ধতি কি ঠিক আছে নাকি ঐ শালীন রূপী ফ্যাশন শোই হিজাব। আমরা ইদানিং যাদের হিজাব করা ও শালীনের দলে ফেলছি তাদের বেশিরভাগই হিজাবকে বিকৃত করছে। হয়তো তারা মিনি স্কার্ট পড়েনা,তবে মাথা আর মুখ ঢেকেই হিজাব পালন করছে বলে তারা ভেবে নিচ্ছে। অথচ তারা পড়ছে জিন্স প্যান্ট আর ফিটিং বোরকা।

মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে হিজাব কিংবা পর্দা নিয়ে বিভিন্ন আয়াতে স্পষ্ট করেই বিধান করে দিয়েছেন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেছেন- হে নবী! আপনি আপনার পত্নীগণ ও কন্যাগণ এবং মুমিনদের স্ত্রীগণকে বলুন, তারা যেন তাদের কাপড়ের কিয়দংশ নিজেদের উপর টেনে নেয়। এতে তাদেরকে চেনা সহজ হবে, ফলে তাদেরকে উত্তক্ত করা হবে না, আল্লাহ ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু। –সূরা আল-আহযাব আয়াত নাম্বার- ৫৯

কিছু মানবতাবাদী ও ইসলাম থেকে দূরে চলে যাওয়া মানুষ ভাবে যে বাংলাদেশের নারী অন্য দেশের তুলনায় বেশি ধর্ষিত হচ্ছে। অথচ তারা জানেনা যে ধর্ষণের হারের শীর্ষে থাকা দেশের তালিকায় বাংলাদেশ কেন কোন ইসলামিক দেশের নামই নাই। যেসব দেশে ধর্ষনের হার বেশি সেসব দেশে বেপর্দা নারীর সংখ্যা বেশি। অর্থাৎ যেসব দেশে ইসলাম প্রসার পায়নি সেসব দেশেই ধর্ষণের হার বেশি। কারণ ইসলামে নরনারীর দৃষ্টি সংযত রাখার কথা বলা হয়েছে। নারীদের সৌন্দর্য যেন কোন বাহিরের মানুষ না দেখতে পারে।
এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ কোরআনে বলেছেন :
“মুমিনদেরকে বল তাদের দৃষ্টি অবনমিত করতে আর তাদের লজ্জাস্থানকে সংরক্ষন করতে এটাই তাদের জন্য বেশি পবিত্র, তারা যা কিছু করে আল্লাহ সে সম্পর্কে খুব ভালভাবে অবগত।” –সুরা আন-নুর আয়াত নাম্বার- ৩০

“আর মুমিনা নারীদেরকে বল তাদের দৃষ্টি অবনমিত করতে আর তাদের লজ্জাস্থানকে সংরক্ষন করতে, আর তাদের শোভা সৌন্দর্য প্রকাশ না করতে যা এমনিতেই প্রকাশিত হয় তা ব্যাতীত। তাদের ঘাড় ও বুক যেন মাথার কাপড় দিয়ে ঢেকে দেয়। তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভাই, ভাইয়ের ছেলে, বোনের ছেলে, নিজেদের মহিলাগণ স্বীয় মালিকানাধীন দাসী পুরুষদের মধ্যে যৌন কামনামুক্ত পুরুষ আর নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ বালক ছাড়া অন্যের কাছে নিজেদের শোভা সৌন্দর্য প্রকাশ না করে। আর তারা যেন নিজেদের গোপন শোভা সৌন্দর্য প্রকাশ করার জন্য সজোরে পদচারণা না করে। হে মুমিনগন তোমরা আল্লাহর নিকট তওবাহ কর যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।” –সূরা আন-নুর আয়াত নাম্বার- ৩১

অর্থাৎ যদি কোরআনের বিধান আমরা মেনে চলি তাহলে অবশ্যই আমাদের দেশে বখাটে ছেলের জন্মও হবেনা এবং দুশ্চরিত্রা মেয়ের জন্মও হবেনা। এদেশের কিছু মানবতাবাদী ও নারীবাদী বলে পরিচিত মানুষই আজ মুসলিম নারীদের পর্দা থেকে আরও দূরে সরিয়ে দিচ্ছে।

যদি পর্দা করাটা জরুরি না হতো তাহলে বিশ্ব নবী মোহাম্মদ (সা:) পর্দা করার প্রতি এতোটাই জোর দিতেন না।

“ঐ সকল নারী জাহান্নামী, যারা কাপড় পড়েও উলঙ্গ থাকে।”—বিশ্বনবী হযরত মোহাম্মদ (সঃ)।

অর্থাৎ পর্দার গুরুত্বই তাঁর হাদীসে স্পষ্টতর হয়েছে। যে নারী পর্দা না করবে সে অবশ্যই জাহান্নামী হবে।

আমরা কি সেই জাহেলী যুগে আবার ফিরে যাচ্ছি ! যেভাবে চারিদিকে পর্দা প্রথা বিরোধী মানুষের জন্ম হচ্ছে তাতে আর বেশিদিন লাগবে না হতে। যেসব দেশে মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ নয় সেসব দেশ তো জাহেলী যুগের আধুনিক রূপ আর বাকি যেসব ইসলামিক দেশ আছে সেসব দেশেও ঐসব দেশের কুমন্ত্রনা তাই সর্বদা লেগেই থাকে আর যার ফলে গড়ে উঠেছে আমাদের দেশে এতো পর্দা প্রথা বিদ্বেষী মানুষের।

আল্লাহ তা’য়ালা পর্দা করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন- “নিজেদের ঘরে থাক এবং আগের জাহেলী যুগের নারীদের ন্যায়
সাজগোজ করে বের হয়ো না”-সূরা আহযাব-৩৩ ।
পর্দা রক্ষা করে চলা এটা আমাদের হাজার বছরের ঐতিহ্য। রাসূল (সঃ) এ প্রসঙ্গে বলেন-“মহিলারা হলো পর্দায় থাকার বস্তু সুতরাং তারা যখন (পর্দা উপেক্ষা করে) বাহিরে আসে, শয়তান তাদেরকে সুসজ্জিত করে দেখায়”। (তিরমিজি)।

আবার পর্দা পালনের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র নারী নয় পুরুষদেরকেও পর্দা মানতে নির্দেশ করা হয়েছে। যেমন আল্লাহ তায়ালা বলেন, “তোমাদের ছেলেরা যখন বুদ্ধির পরিপক্কতা পর্যন্ত পৌঁছাবে, তখন তারা যেন অনুমতি নিয়ে ঘরে প্রবেশ করে। যেমন তাদের বড়রা অনুমতি নিয়ে ঘরে ঢুকে, এভাবেই আল্লাহ তার আয়াত সমুহ তোমাদের সামনে উম্মুক্ত করে দেন, তিনি সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময়”। (সূরা আন নূর-৫৯)

আজ বেপর্দাকে ধর্ষণের কারণ বললে শুধু মেয়েরা নয় কিছু কাপুরুষও তেলে বেগুনে জ্বলে উঠে। ঐ সব পুরুষদের জ্বলে উঠার কারণ হয়তো সবার না বুঝার কথা নয়। কারণ মেয়েরা পর্দা করলে তারা চোখের তৃপ্তি মিটাবে কি করে? পর্দা করলে তারা বান্ধবীর সাথে মজা করবে কি করে? পর্দা করা মেয়ের সাথে তো আজেবাজে কথাও তারা বলতে পারবেনা!

আর কিছু নারী ভাবে পর্দা করার কথা বললে তাদের হয়তো স্বাধীনতা খর্ব করা হয়। কিন্তু তারা এটা বুঝতেই অক্ষম যে পর্দা থেকে বের হয়েছে বলেই তারা আজ কামুক পুরুষের খেলনায় পরিনত হয়েছে। পর্দা থেকে বের হয়ে যে তারা নিজেদের স্বাধীনতা আরও হারাচ্ছে তা তারা বুঝতে পারেনা। পর্দা থেকে বের হচ্ছে বলেই তারা ইভটিজিং আর ধর্ষণের স্বীকার হচ্ছে।

যদি আমরা ইসলামিক অনুশাসনে থাকতাম তাহলে অনাকাঙ্ক্ষিত ধর্ষণের সঠিক বিচার পেতাম। কিন্তু দুর্ভাগ্য হলেও সত্য যে আমরা আজ কোরআনের বিধিবিধান দেশের শাসনের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করতে পারিনি।

সূরা আন-নূরের ২ ও ৩ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ বলেছেন-

“ব্যভিচারিণী নারী ও ব্যভিচারী পুরুষের প্রত্যেককে একশত করে বেত্রাঘাত কর। যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাসী হয়ে থাকো তাহলে আল্লাহর বিধান কার্যকর করার ক্ষেত্রে তাদের প্রতি যেন তোমাদের মনে দয়ার উদ্রেক না হয় এবং তাদের শাস্তি কার্যকর করার সময় মুসলমানদের একটি দল যেন তা প্রত্যক্ষ করে।”
“ব্যভিচারী পুরুষ কেবল ব্যভিচারিণী নারী অথবা মুশরিক নারীকেই বিয়ে করবে এবং ব্যভিচারিণীকে কেবল ব্যভিচারী অথবা মুশরিক পুরুষই বিয়ে করবে এবং এদেরকে (বিয়েকরা) মুমিনদের জন্যে হারাম করা হয়েছে।”

সূরা আন-নূরের ৪ও ৫ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে-

“যারা সতী-সাধ্বী ও সধবা নারীর প্রতি অপবাদ আরোপ করে কিন্তু (এর স্বপক্ষে) চার জন পুরুষ সাক্ষী উপস্থিত করে না,তাদেরকে ৮০টি বেত্রাঘাত করবে এবং (এরপর থেকে) কখনও তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করবে না। প্রকৃতপক্ষে এরাই মিথ্যাবাদী।”
“কিন্তু এরপর তাদের মধ্য থেকে যারা তওবা করে ও সংশোধিত হয়, (এবং অতীতের কৃতকর্মের ক্ষতিপূরণ করে, তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করবে), কারণ আল্লাহ ক্ষমাশীল,পরম মেহেরবান।”

পরিশেষে এ কথাই বলতে পারি যে পর্দা প্রথাকে ধর্মীয় গোড়ামি যারা ভাবে তাদেরকে এড়িয়ে চলতে হবে। তারা ধর্মের চেয়ে নিজস্ব চিন্তা ধারাকে বেশি প্রাধান্য দেয়। তাদের পরকালের শাস্তির ভয় কোনভাবেই হৃদয়কে অনুরণিত করতে পারেনা। কারণ তাদের ঈমান যে পাকাপোক্ত নয়।

৬২৪ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
খন্দকার মো: আকতার উজ জামান সুমন পিতা: মো: আবু সাদেক খন্দকার মাতা: ঝরনা বেগম বর্তমান ঠিকনা: মিরপুর, ঢাকা স্থায়ী ঠকানা: কুমিল্লা জন্ম তারিখ: ৩ ফেব্রুয়ারী, ১৯৯৪ ধর্ম: ইসলাম জাতীয়তা: বংলাদেশী বৈবাহিক অবস্থা: অবিবাহিত শিক্ষা: বাংলাদেশ নৌবাহিনা কলেজ, ঢাকা থেকে এস.এস.সি ও এইচ.এস.সি উভয়টিতে জি.পি.এ ৫ পেয়ে উত্তীর্ন। বর্তমানে মানারত ইন্টার্ন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মেসী ডিপার্টমেন্টে অধ্যয়নরত। আমি যে রকম : কথা বেশি একটা বলিনা চুপচাপ থাকতে পছন্দ করি। সব সময় কল্পনা করি। কল্পনায় আমি সবসময় নিজের সাথে কথা বলি। আর সব সময় অন্যমনষ্ক থাকি। আমার আশেপাশে কে কি করছে না করছে তার দিকে আমার তেমন খেয়াল থাকে না। অনেক সময় কাউকে খুজতে যেয়ে নিজেই হারিয়ে যাই। আর একটা কথা হলো আমার পথ মনে থাকে না তাই আমি একা হাটতে গেলে প্রায়শই পথ ভুল করি। পথে হাটাহাটি করার সময় কত জনের সাথে ধাক্কা খেয়েছি এ পর্যন্ত, তার হিসাব নেই। আমার সমস্ত জীবনটাকে কল্পনা মনে হয় কারণ সব কিছুই যাই ঘটে আমার সাথে তাই আমার কাছে কল্পনা মনে হয়। যদি কোন অঘটন ঘটে তাহলে ভাবি কল্পনা ভেঙ্গে গেলাই সব ঠিক হয়ে যাবে। আমার এই অসম্ভব রকম কল্পনাসক্ত দিনকে দিন বেড়েই চলছে। নিজেকেই কখনও হারিয়ে ফেলি আমি। জানিনা জীবনের অনেক কিছুই হয়তো তবে যতটুকু আমি অর্জন করেছি তার সবটুকুই সত্য। মিথ্যা কিছু নিয়ে আমার বড়াই নেই। এক অদ্ভুত বিষয় সর্বদাই আমাকে ভাবিয়ে তুলে তাহল কেন যেন অন্য আট দশটা মানুষের মতো সবকিছু স্বাভাবিক ভাবে মেনে নিতে পারিনা। কিছু বিষয় আমাকে বারবার স্পর্শ করে যাবেই। আমি যা বলি তার সবটাই গভীর অনুভূতি থেকে বলি তাই হয়তো আমার কথার জবাব অর্থপূর্ণ না হলে এক ধরনের অপমানবোধ কাজ করে। আমি ভাবনার অতলে প্রবেশ করে জটিল বিন্যাসে অনেক ছক আঁকি যার ফলে স্বাভাবিক দৃষ্টিকোণ হতে আমার বিষয়গুলো ভাবলে মানানসই হবে না। আমাকে ঠিক বুঝে উঠতে পারে এরকম খুব কম মানুষই আছে। আমিও নিজেকে কখনও কখনও ঠিক বুঝে উঠতে পারিনা, তাই হয়তো আমার মন খারাপের কারণ, রাগ করার কারণ অনেক সময় আমার অজানাই থাকে। আমি খুব বেশি একটা কথা বলা পছন্দ করিনা যদিও আমার ফেসবুকে পোস্ট দেখলে তা অনেকের বিশ্বাস হবেনা। বাস্তবে আমি বন্ধুদের আড্ডা, পরিবারের আলোচনায় কথা তেমন বলিনা বললেই চলে। আমি সব সময় বিভিন্ন ধরনের ভাবনায় নিমগ্ন থাকতে পছন্দ করি তাই হয়তো বাস্তব জীবনের সাথে আমার সম্পর্কটাও নড়বড়ে। আমি সহজেই মানুষকে অনুভব করে ফেলি যার ফলে খুব সহজেই কাউকে মনের গভীরতায় ঠাই দিয়ে বসি। আর এটাই কখনও কখনও আমার দুঃখের কারণ হয়ে বসে। আমি জানিনা আমার বর্তমান, জানিনা আমার ভবিষ্যৎ তবে এটুকুই বলতে পারি এক সময় সুখ আর দুঃখ দুটোই একই মনে হবে আমার কারণ আমার অনুভূতির জগতটি ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে যাচ্ছে। আর আমার অনুভূতি নিস্তেজ হয়ে যাওয়া মানে আমার কবিতা, গল্প বিলুপ্ত হয়ে যাবে আমার সৃজনশীল কর্মের তালিকা হতে। তবে আমি থাকব একজন অবাধ্য বন্ধু হয়ে সবার মাঝেই। প্রকাশিত বইঃ (১)সমন্বয়(কাব্য গ্রন্থ-সম্মিলিত সংকলন)
সর্বমোট পোস্ট: ২৯২ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৪৯৪ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৪-০৮-২৯ ১৬:৩০:৩০ মিনিটে
banner

৭ টি মন্তব্য

  1. দ্বীপ সরকার মন্তব্যে বলেছেন:

    খুব সুন্দর বিষয় ভাবনা।

  2. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    সুন্দর বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছ

    এসব পর্দা বিরোধীদের বিরুদ্ধে মন্তব্য করতেও লজ্জা লাগে

  3. হাসান ইমতি মন্তব্যে বলেছেন:

    ভাবনা ভালো লাগলো …

  4. সহিদুল ইসলাম মন্তব্যে বলেছেন:

    পর্দা অবশ্যই করতে হবে,
    তবে নারী পুরুষ উভয়কে, পর্দার অজুহাতে যদি নারিকে আপনি বন্দি করতে চান,
    যেমন-
    >চাকরি করলেই নারী জেনাকারিনি
    >নারিকে তেতুল মনে করে মুখে লালা আনবেন
    বল্লে আরও অনেক কথা আছে।

    মোট কথা পর্দার অজুহাতে যদি নারিকে আপনি বন্দি করতে চান,তাহলে আমি আপনার সাথে একমত নই।

    আশা করি আপনার প্রতিক্রিয়া পাব।

  5. কল্পদেহী সুমন মন্তব্যে বলেছেন:

    আমি বলিনি চাকরি করলে নারী যিনাকারিনী কিংবা নারীকে দেখলে পুরুষের মুখে লালা আসবে। যদি নারী পর্দা করে তাহলে সে এসবের চেয়ে অবশ্যই রেহাই পাবে। আপনি যদি কোরআন ও হাদিসে বিশ্বাসী হোন তাহলে এভাবে কথা বলতেন না। পর্দা করতে হবে এটা হলো জরুরি।

    পর্দা করেও নারীরা কাজ করতে পারে এতে বাধা নেই।

    তেতুল থিউরি ভালো বুঝলেও কোরআনের থিউরি আপনি তেমন ভালো বুঝেন না।

    যাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেওয়ার পরও তারা বুঝেনা, তাদেরকে আমার তেমন কিছু বলতেও ইচ্ছে হয়না।

  6. মিলি মন্তব্যে বলেছেন:

    আপনার লেখাটি চমৎকার কিন্তু অসম্পূর্ণ । বেপর্দা (আপনার ভাষায় ) হয়ে চলাই ধর্ষণের একমাত্র কারন না , সামাজিক অবক্ষয় ,পরিবারের মূল্যবোধের অভাব ,অশিক্ষা ,যুদ্ধ আরও নানা কারন এই জঘন্য অপরাধটির পিছনে আছে । ধর্ষণ সবচেয়ে বেশি ঘটে যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ আর মধ্য প্রাচ্চে কিন্তু সেখানে অনেক ঘটনাই আড়ালে থেকে যায় । আমার জানা মতে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ধর্ষণ এর ঘটনা ঘটছে আফঘানিস্তানে । আর এর শিকার শিশু বা বৃদ্ধা সবাই ।

    আমাদের দেশেই তিন বছরের শিশু এই ঘটনার শিকার হয়েছে ,সেখানে বেপর্দা হয়ে চল কি ভূমিকা রেখেছে বলবেন কি ?

  7. কল্পদেহী সুমন মন্তব্যে বলেছেন:

    নারী নির্যাতন
    বিশ্বের বিভিন্ন
    দেশে ভয়ানক রূপ
    নিয়েছে। বিশেষ
    করে উন্নত বিশ্ব
    তথা পশ্চিমা বিশ্বে
    নারীরা সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত
    হচ্ছে। এই সভ্যতায় নারী পণ্য
    হিসেবে গণ্য। পশ্চিমা বিশ্ব নারী-পুরুষ
    সম অধিকারের
    বুলি আওড়িয়ে নারী অধিকার সংরক্ষণের
    চেয়ে অধিকার হরণের
    দিকে বেশি উৎসাহিত করছে। আর
    ইসলামে নারী অধিকারকে তুচ্ছ জ্ঞান
    করে মানব সমাজে তুলে ধরার প্রয়াস
    পাচ্ছে। অথচ সে সকল দেশে নারীদের
    অধিকার দেয়াতো দূরের
    কথা সেখানে নারীদের
    অবস্থা পযার্যালোচনা করলে ইসলামের
    পূর্ব যুগ তথা জাহেলী যুগের নারীদের চরম
    দুর্দশার আর লজ্জাজনক কথা আমাদের স্মরণ
    করিয়ে দেয়। গ্রহণ যোগ্য জরিপ
    সংস্থা জঅওঘঘ (জধঢ়, অনঁংব ধহফ
    ওহপবংঃ ঘধঃরড়হধষ ঘবঃড়িৎশ) এর হিসাব
    মতে, ২০০৮ সালে ৯০,০০০ ধর্ষণের
    ঘটনা পুলিশকে রিপোর্ট করা হয়। ওয়েব
    সাইটটিতে আরো জানা যায়, আমেরিকায়
    প্রতি দুই মিনিটে একজন নারী ধর্ষিত হয়।
    প্রতিবছর ২০৭,৭৫৪ জন ধর্ষিত হয় যার ৯৯%
    নারী। ধর্ষণ সংক্রান্ত ঘটনার প্রায় ৫৪%
    পুলিশকে রিপোর্ট করা হয়। ভিকটিম
    নারীদের ৪৪% বয়স ১৮ বছরের
    নিচে এবং ধর্ষণকারী পুরুষের গড় বয়স ৩১
    বছর। নারী নির্যাতনকারী দেশ
    হিসেবে শীর্ষে রয়েছে কঙ্গো।
    এখানে প্রতিদিন প্রায় ১১৫১ জন
    নারী ধর্ষণের শিকার হয় যা বছরে প্রায়
    ৪,২০,০০০ জন। এই সংখাটি ২০১১
    সালে যুক্তরাষ্ট্র পাবলিক হেলথের
    প্রতিবেদনে প্রকশিত হয়। 
    বাংলাদেশ এবং আমাদের
    প্রতিবেশী দেশ ভারতে বেশ কিছু দিন
    যাবত নারী নির্যতনের বিভৎস রূপ
    নিয়েছে। ভারত-বাংলাদেশ
    নারী নির্যাতন হরহামেশা বেড়েই
    চলছে। ভারতে ১৬ ডিসেম্বর ২০১২
    সালে মেডিকেল ছাত্রীকে চলন্ত
    বাসে ধর্ষণের ঘটনা বিভিন?
    মিডিয়াতে এবং সে দেশে আলোচনা-
    সমালোচনা আর প্রতিবাদের বেশ ঝর
    ওঠে ছিল। এ ঝর কাটতে না কাটতেই
    আমােেদর দেশে কিছুদিন পরে এক
    গার্মেন্ট কর্মী চলন্ত বাসে চালক ও
    হেলপার দ্বারা ধর্ষণের নির্মম শিকার
    হন। সবচেয়ে বেশি উত্তাল
    হয়েছে চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল
    ভারতে ৫ বছরের শিশু এবং ১৮ এপ্রিল ৪
    বছরে শিশু ধর্ষণের ঘটনাতে। পিশাচ আর
    কুলাঙ্গারদের এই পৈশাচিক কর্মকান্ড
    বিশ্বের গোটা সুশীল সমাজকে অবাক
    করেছে। জাতির
    বিবেককে করেছে স্তম্ভিত। আমাদের
    দেশে ইভটিজিং, ধর্ষণ, অপহরণের
    ভয়ে স্কুল পড়–য়া মেয়েরা উদ্বেগ-
    উৎকন্ঠায় দিন কাটাচ্ছে। অনেক
    মেয়েরা স্কুল যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে।
    অবিভাকেরা মেয়েদের ভবিষৎ
    নিয়ে ভেবে কুল পাচ্ছে না। গভীর
    উদ্বেগের বিষয় এই যে, আমাদের দেশ
    দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে ধর্ষণের প্রথম স্থান
    অধিকার করেছে। [সূত্র- দৈনিক
    যুগান্তর,১৩ জানুয়ারী,২০১৩]
    নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ সেলের
    তথ্য মতে, ২০১২ সালে সারাদেশে প্রায়
    ২০ হাজারের বেশি নারী ও শিশু
    নির্যাতন মামলা হয়েছে। এ সময় ধর্ষণের
    শিকার হয়েছে প্রায় ৪ হাজার। ধর্ষণের
    পর হত্যা করা হয়েছে ২৪ জনকে। আর ২০০১
    সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ১১
    বছরে মামলা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৬৭
    হাজার ১৯৪টি। এর মধ্যে ধর্ষণের
    মামলা হয়েছে প্রায় ৪৩ হাজার ৩৫৬টি।
    ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ২৫৬ জনকে।
    ২০১১ সালের চেয়ে ২০১২
    সালে দেশে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে অনেক
    বেশি। বিশেষজ্ঞ ও ঊর্ধতন পুলিশ
    কর্মকর্তাদের মতে, জনগণ সচেতন হওয়ায় এ
    ধরনের ঘটনায় মামলার সংখ্যা বেড়েছে।
    মহিলা সংগঠনগুলোর অভিযোগ,
    তদন্তকারী সংস্থা ঠিকঠাকভাবে মামলা তদন্ত
    করে না। এ কারণে ধর্ষণকারীর উপযুক্ত
    শাস্তি হয় না। এতে ধর্ষণ
    বেড়ে যাওয়ারও একটা কারণ।
    মহিলা পরিষদ, বিভিন্ন সামাজিক
    সংগঠন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের
    কর্মকর্তারা বলছেন, ধর্ষণের
    ঘটনা ধামাচাপা দিতে সমাজের
    জনপ্রতিনিধি থেকে শুর
    করে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা তৎপর
    হয়ে উঠে।
    এছাড়া প্রতিরোধকারী সংস্থার কিছু
    কর্মকর্তাও মরিয়া হয়ে উঠেন।
    ঘটনা চাপা দিতে লেনদেন
    হয়ে থাকে লাখ লাখ টাকা।
    মহিলা পরিষদের সভাপতি আসমা খানম
    জানান, স্বাধীনতার পর থেকে ধর্ষণ
    ক্রমাগতভাবে বাড়ছে। ১৯৯৭ থেকে ২০১২
    সালে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৮ হাজার
    ৩৭৫ জন। গণধর্ষণের শিকার হয়েছে ৩
    হাজার ১৭৬ জন। ধর্ষণের পর
    হত্যা করা হয়েছে ১ হাজার ৫৭৪ জনকে।
    তিনি বলেন, বাংলাদেশে কোন
    নারী ধর্ষণের শিকার
    হলে সামাজিকভাবে হেয় হওয়ার
    ভয়ে পরিবার তথ্য গোপন করে। আবার কিছু
    ক্ষেত্রে আইন-শৃংখলা বাহিনীর
    সদস্যরা মেতে উঠে ধর্ষণের শিকার
    নারীর চরিত্র হননে। তিনি বলেন,
    আমাদের দেশে ধর্ষিতাকেই প্রমাণ
    করতে হয় তিনি ধর্ষিত হয়েছেন।
    এটা অপমানজনক। টাঙ্গাইলের ১৫ বছর
    বয়সি এক স্কুলছাত্রী গণধর্ষণের শিকার
    হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ
    হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। গত
    বছরের ১৩ ডিসেম্বর ফরিদপুরে নবম
    শ্রেণীর এক স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণের পর
    হত্যা করা হয়। চলতি বছরের ১
    জানুয়ারি চট্টগ্রামের বায়োজিত
    থানা এলাকায় এক তরুণী একদল দুর্বৃত্তের
    গণধর্ষণের শিকার হয়। গত বছরের ১ এপ্রিল
    রাজধানীর কাফরুল এলাকায় ২ বছর
    বয়সি এক শিশু ধর্ষণের শিকার হয়। ১৩
    আগস্ট লৌহজংয়ে ধর্ষণের শিকার হয় এক
    বাকপ্রতিবন্ধী শিশু। ২৭ সেপ্টেম্বর
    রামগড়ে ১২ বছরের এক শিশু গণধর্ষণের
    শিকার হয়। ২১ জুলাই মিরসরাইয়ে ৬
    বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ করা হয়। ২ জুন
    রাজধানীর হাতিরপুলে নাহার পাজার
    ১৩ তলায় এক তরুণীকে ধর্ষণের পর
    হত্যা করা হয়। তার লাশ ২৬
    টুকরো করা হয়। ১৯৯৫
    সালে দিনাজপুরে ইয়াসমিন ধর্ষণের পর
    প্রতিবাদের ঝড় ওঠে সারাদেশে। [সূত্র-
    দৈনিক যুগান্তর,১৩ জানুয়ারী,২০১৩-
    পৃ:১৯-২০]
    আমাদের দেশে নারী নির্যাতন
    প্রতিরোধের জন্য গুণিজনেরা বিভিন্ন
    সভা-সেমিনারের মাধ্যমে সমাধানের পথ
    বের করছেন। আমি তাদের
    প্রতি শ্রদ্ধা রেখে নারী নির্যাতনের
    কারণ ও প্রতিকারে কয়েকটি বিষয়
    নিয়ে আলোকপাত করার প্রয়াস
    পেয়েছি মাত্র। এতে দেশ ও জাতির
    সামান্য উপকারে আসলে সেটাই আমার
    সার্থকতা।
    ইসলামি শিক্ষার অভাব :
    ইসলামি শিক্ষা মানুষকে নৈতিক
    চরিত্রবান হতে সহায়তা করে। ভাল-মন্দ
    প্রার্থক্য করতে শেখায়। ছেলে-
    মেয়েদের
    প্রাথমিকভাবে ইসলামি শিক্ষা দেয়া এবং বাস্তব
    অনুশীলনের মাধ্যমে ইসলামি নিয়ম-কানুন
    মেনে চলার অভ্যাস করানো দরকার। মূলত
    এ কাজে প্রথকিভাবে পিতা-মাতাকেই
    অগ্রনী ভূমকা পালন করতে হবে। আমাদের
    দেশে পরিপূর্ণভাবে
    ইলামী শিক্ষা বাধ্যতামূলক না থাকার
    কারণে অনেকাংশে অপরাধ
    প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ জন্য আমাদের
    দেশে ইসলামি শিক্ষা সর্বস্তরের
    শিক্ষার্থীদের জন্য আবশ্যিক করা সময়ের
    দাবী বলে আমি মনে করি। কেননা ইলাম
    একটি পরিপূর্ণজীবন ব্যবস্থা।
    সেখানে সকল সমস্যার সমাধান রয়েছে।
    সেখানে রয়েছে কুরআন ও হাদিসের
    শিক্ষা। যা কালত্তীর্ণ, যুগত্তীর্ণ ও
    সার্বজনীন শিক্ষা। অতএব সকল সমস্যার
    সমাধানের জন্য সে দিকেই আমাদের
    ধাবিত হওয়া উচিত। রাসুল সা. বলেছেন,
    ‘তোমরা কখনো পথভ্রষ্ট হবেনা, যতক্ষণ
    পর্যন্ত দু’টি জিনিসকে আঁকড়ে ধরবে।
    একটি হচ্ছে-আল্লাহর বাণী পবিত্র আল
    কুরআন, আরেকটি আমার বাণী আল-হাদিস।’
    অপসংস্কৃতি ও মিডিয়ার প্রভাব :
    অপসংস্কৃতি ও
    মিডিয়া নারী নির্যাাতনের অন্যতম
    কারণ। বিশেষ করে পশ্চিমা আর ভারতীয়
    অপসংস্কৃতি মিডিয়ার মাধ্যমে শহর
    থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামে
    গিয়ে ছড়িয়ে পড়েছে। ডিসকালচার,
    মোবাইল, ইন্টারনেট, ফেইসবুক, সিডি,
    ভিসিডি, বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ পত্র-
    পত্রিকার
    মাধ্যমে অশ্লীতা ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে।
    এগুলি যুবক-
    যুবতি দেখছে এবং সেগুলো অনুকরণ আর
    অনুসরণ করার দিকে উৎসাহিত হচ্ছে।
    বিশেষ এক গবেষণায় দেখা গেছে,
    বর্তমানে যারা ধর্ষণ, ব্যভিচার, টিজ,
    অপহরণ, এসিড়নিক্ষেপ করছে এদের
    অধিকাংশ ব্যক্তি এ কাজের দৃশ্য
    অনেকবার বিভিন্ন মিডিয়ার
    মাধ্যমে দেখে থাকে। তাই নারীদের
    নির্যাতনের হাত
    থেকে রক্ষা করতে ইসলামি সংস্কৃতি চর্চা আর
    মিডিয়াকে ভাল কাজে ব্যবহার করার
    কোনো বিকল্প নেই। যে সকল সামগ্রীর
    মাধ্যামে অশ্লীলতা বৃদ্ধি পায় এ সকল
    জিনিস ক্রয়-বিক্রয় ইসলামে নিষিদ্ধ
    করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর
    কতক লোক এমন রয়েছে যারা ‘লাহউল
    হাদিস’ অর্থাৎ অমনোযগী বস্তু ক্রয়
    করে থাকে, যাতে অজ্ঞান
    বশতঃ [মানুষদেরকে] আল্লাহর সরল পথ
    থেকে বিভ্রান্ত করতে সক্ষম হয় এবং তার
    প্রতি বিদ্রুপ করতে পারে এরূপ লোকদের
    জন্যে অপমানজনক শাস্তি নির্ধারণ
    করা হয়েছে। [সূরা লুকমান-৬]
    মুফাচ্ছিরগণ ‘লাউল হাদিস’ এর
    সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন-
    ‘লাহউলহাদিস’ প্রত্যেক ঐ সমস্ত
    ক্রিয়াকে বলা হয় যা আল্লাহ পাকের
    স্মরণ থেকে বিরত রাখে। যেমন
    বাজে কাহিনী, পর্দাহীনতা, হাসি-
    ঠাট্রা ও অশ্লীল কথা-বার্তা, গান-
    বাজনা।
    দুনিয়াতে যারা অশ্লীতা প্রচার ও
    প্রসারের কাজে নিয়োজিত
    তাদেরকে লক্ষ্য করে আল্লাহ
    তাআলা বলেন, “যারা মু’মিনদের
    মধ্যে অশীলতা কামনা করে, তাদের জন্য
    আছে দুনিয়া ও আখিরাতে কঠিন
    শাস্তি।” [সূরা.নূর-১৯]
    নেশার সামগ্রীর সহজলভ্যতা :
    নারী নির্যাতনের আরেকটি কারণ
    নেশাজাত দ্রব্য গ্রহণ করা। মদ, গাজা,
    ইয়াবা, আফিম, হিরোইন, ফেনসিডিল
    এগুলো পাওয়া সহজ হওয়ার কারণে বিশেষ
    করে যুবক-যুবতি এ গুলির
    দিকে ঝুঁকে পড়ছে। নেশা জাতীয় দ্রব্য
    গ্রহণের ফলে মানুষের হিতাহিত জ্ঞান
    থাকে না তারা মানসিক ভারসাম্য
    হারিয়ে বিভিন্ন অপকর্ম করে বেড়ায়।
    বিশেষ করে পুরুষ শ্রেণী নারীদের
    পাশবিক নির্যাতন করতেও দ্বিধাবোধ
    করে না। নারী নির্যাতন রোধ করার জন্য
    নেশাজাত দ্রব্য বেচা-কেনা নিষিদ্ধের
    পাশাপাশি এ কাজের সাথে জড়িতদের
    অবশ্যই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিধান
    কার্জকর করা দরকার।
    মেয়েদের অশালীন পোশাক :
    অধিকাংশ ক্ষেত্রে নারীরা অশালীন
    পোষাকের কারণে নির্যাতনের শিকার
    হয়। ধরুন, দু’টি মেয়ে রাস্তা অতিক্রম
    করছে, একজন
    বোরকা পরিহীতা বা পর্দনশীলা সে ভদ্র
    ন¤্রভাবে হেঁটে যাচ্ছে, আরেকজন
    শর্টকার্ট, আর্ট-শাট পোশাক
    পড়ে হেলে ঢুলে যাচ্ছে। রাস্তার
    বখাটে ছেলেরা কাকে টিজ করবে?
    তা আর পাঠকদের বলার
    অপেক্ষা রাখেনা। ইভটিজিং ও ধর্ষণের
    অন্যতম কারণ হচ্ছে- নারীদের
    বেপর্দা চলাফেরা করা। এ
    ব্যাপারে সতর্ক করে আল্লাহ
    তাআলা বলেছেন, “মু’মিন
    নারীরা যেনো সাধারণত প্রকাশ
    থাকে তা ব্যতীত তাদের আভরণ প্রদর্শন
    না করে, তাদের গলা এবং বুক যেন মাথার
    কাপর দ্বারা আবৃত করে।” [সূরা. নূর-৩১]
    অপর একটি সূরাতে আল্লাহ
    তাআলা বলেছেন- “জাহেলিয়া যুগের
    মতো সাজসজ্জা করে রাস্তায় বের
    হয়ো না।” [সূরা. আহযাব-৩৩]
    al-jannatbd.com/নারী-নির্যাতন-কারণ-ও-প্রত/

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top