Today 14 Aug 2018
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

পল্টুকথন- ‘আজিকে হয়েছে শান্তি/ জীবনের ভুলভ্রান্তি/ সব গেছে চুকে’

লিখেছেন: শওকত আলী বেনু | তারিখ: ২৪/১০/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 488বার পড়া হয়েছে।

কী ব্যাপক ঝড় বয়ে গেল হিমশীতল দেহটির উপর দিয়ে গত কয়দিন ধরে। আহারে (!) বেচারা মরে গিয়েও জ্যান্ত মানুষগুলোর হাত থেকে রক্ষা পাইলনা। পল্টু পোদ্দারের আইজকার ভাবনা প্রয়াত অধ্যাপক ডক্টর পি কে। মৃত ব্যক্তিকে নিয়ে গালমন্দ না করাই উত্তম-এটা পল্টু পোদ্দারের একটা ভদ্র শিষ্টাচার। কারণ যে জীবনের তরে চইলা গেছে তাঁরে মাটিতে না পুঁতে ক্যাঁচাল পাইরা লাভ কি ? সে কি এই ক্যাঁচালের  জবাব দিতে ফিরা আইবো কখনও এই ভবের মাজারে ? তবু পল্টু পোদ্দারের মাথায় গুতোগুতি হচ্ছে অধ্যাপক মানুষটি মরে গিয়ে শান্তিতে আছেন তো?

ওই  প্রয়াত মানুষটি ছিলেন অধ্যাপক ডক্টর পিয়াস করিম। সংক্ষেপে ডক্টর পি কে । বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ছিলেন। বিদেশী ডিগ্রী নিয়ে দেশের বাইরে অনেক দিন অধ্যাপনার পর দেশে ফিরে একই পেশায় থেকে গেলেন। মানুষটি হঠাৎ করেই প্রয়াত হয়েছেন কিছুদিন আগে। তরতাজা মানুষটি এইভাবে না ফেরার দেশে চলে গেলেও যাবার আগে কোনো পূর্ব-ইঙ্গিত রেখে যাননি। স্বজনরাও বুঝতে পারেননি কী হতে কি হয়ে গেল।হৃদযন্ত্র অকার্যকর হলে গেলে আর নোটিশ দেয়ার সময় কোথায়?

নোটিশ একটাই আসে। শেষ নোটিশ। সবাইকে পেতে হবে এই নোটিশ। এই মানুষটির ক্ষেত্রেও তাই হলো। হাসপাতালে নেওয়ার পর ডাক্তার না ফেরার দেশের সার্টিফিকেট ধরিয়ে দিলেন। তাঁকে নয় – তাঁর স্বজনদের হাতে। প্রয়াত ব্যক্তির স্বজনরা অনেকেই দেশের বাইরে থাকায় হিমাঙ্কের নিচে তাপমাত্রায়  মৃত দেহটাকে কিছুদিন রাখতে হয়েছিল হিমঘরে। না রেখে উপায়ও ছিলনা। নয়তো মৃত্যুর কয়েক ঘন্টার মধ্যেই লাশটাকে মাটির নিচে পুঁতে রাখতে পারলে ক্যাঁচালও কম হত।

ক্যাঁচালটা কী নিয়ে ? মৃত পিয়াস করিমের হিমশীতল দেহ? নাকি বিভক্ত রাজনীতির আদি ক্যাঁচাল ?

মৃত মানুষের উপর জ্যান্ত মানুষদের এমন তীব্র আক্রোশ পল্টু পোদ্দারের মোটেই ভালো ঠেকেনি। শুধু পল্টু পোদ্দার কেন আমজনতা কেউই এইসব ভালো পায়না।হিমায়িত দেহটাকে মাটির নিচে পুঁতে রাখার পরেও মানুষটাকে নিয়ে তর্ক-বিতর্ক থেমে থাকেনি।তুমুল সেই বিতর্ক শেষ হতে না হতেই জ্ঞাতি-গোষ্ঠির পক্ষ থেকে শুরু হয়েছে পাল্টা বিতর্ক। এই বিতর্কে এবারের নায়ক সরকারের আইনমন্ত্রী। আওয়ামী সরকারের স্বজাত-বিরোধী নতুন কন্ঠে এবার যুক্ত হলেন সরকারের আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাহেব।তিনি নতুন করে মুক্তিযুদ্ধের সার্টিফিকেট ও তাবিজ বিক্রি শুরু করলেন যা অনেকের মতো পল্টু পোদ্দারকেও চমকে দিয়েছে।

মৃত দেহ নিয়ে এই বঙ্গে রাজনীতি কম হয়নি। যাকে আমরা বলি লাশের রাজনীতি কিংবা লাশ নিয়ে রাজনীতি। ক্ষমতার মসনদ ধরে রাখতে কিংবা মসনদ চ্যুত করতে লাশ নিয়ে রাজনীতির এই ক্যাঁচাল  আমাদের দেশে নতুন কিছু নয়। আবার জ্যান্ত মানুষকে চাঁদে পাঠিয়েও রাজনীতি হয়েছে। ভাংচুর হয়েছে।  যে ধর্মান্ধ মানুষগুলো চাঁদে রকেট পাঠানোকে অবাস্তব বলে গালাগালি করে নীল আর্মস্ট্রংদের চৌদ্দগোষ্ঠী উদ্ধার করেছিল তারাই আবার  একটি  জ্যান্ত মৌলানাকে ধরে চন্দ্র পৃষ্ঠে পাঠিয়ে দিলেন?  সবই রাজনীতি।  হায়রে রাজনীতি !!

মৃত পিয়াস করিমের দেহ শহীদ মিনারে নেয়ার পরিকল্পনাতেও ছিল রাজনীতি। নোংরা রাজনীতি। ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার রাজনীতি।বিম্পির আন্দোলন আজ নয় কাল, কাল নয় পরশু… এইভাবেই চলছিল। বিম্পির নেত্রীর এই সময় ক্ষেপণে দলীয় বুদ্ধিজীবিরা আজাইরা থাকতে থাকতে পেটের ভুঁড়ি আর কমাইতে পারছিলনা।একটা কিছু নিয়ে লম্ফঝম্ফো তো করতে হবে। ওইদিকে হাতে নিত্য-নতুন কোনো ইস্যু নেই। ফলে মৃত দেহটা নিয়ে একটি তাজা ইস্যু বানাইবার মোক্ষম সুযোগটি হাতছাড়া করবে কেন? যারা দেহটি শহীদ মিনারে নিতে চেয়েছিল তাঁরা স্পষ্টতই জানত একটি তীব্র বাঁধা আসবেই। কেন আসবে তাও অজানা ছিলনা। আর এই নিশ্চিত বাঁধা আসার কৌশলকে কাজে লাগাতে পারলেই তো কেল্লা ফতে। হলোও তাই। ভুঁড়ি মোটা বুদ্ধিজীবিদের রাজনীতি।কিন্তু শেষঅব্দি কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা না পেলেও অন্য মিনারের পাশে শেষ শ্রদ্ধা পেয়েছন তিনি। মন্দ কী তাতে? উদ্দেশ্য যদি রাজনীতি না হতো তাহলে  মৃত পিয়াস করিমকে রাজাকার কিংবা অ-রাজাকার বানাতে গেল কেন ওই পেট মোটা বুদ্ধিজীবিরা? মৃত দেহটা কি বুঝতে পেরেছিল তাঁকে নিয়ে বেশ অশান্তিতে ছিলেন ওই বুদ্ধিজীবিরা ? ভবের এই দুনিয়ায় শান্তি-অশান্তির ভাবনাটুকু প্রতিটি মানুষের জীবনের জটিল অনুসঙ্গ। যদি সেই ভাবনাটি হয় মৃত্যুর পরের শান্তি  নিয়ে তা হলে তো কথাই নেই। অনেকেই প্রশ্ন করে থাকেন মৃত্যুর পরে আবার শান্তি কিসের? পল্টু জানে এই নিয়ে বিপুল বিতর্ক রয়েছে। যেই তর্কের কোনো শেষ নেই। হৃদস্পন্দন বন্ধ হওয়া মানেই কী মৃত্যু? নাকি শরীর থেকে আত্মার বিচ্ছেদ ঘটলেই মৃত্যু হয়। আত্মা শরীরের কোথায় অবস্থান করে? এই নিয়ে ধর্ম আর বিজ্ঞানের পৃথক দুইটি অবস্থান তো রয়েছেই। পুণ্যবান আত্মা শান্তি পায় । আর অপূণ্য আত্মা? হয়তো নরকে গমন করে নাকি ভূত হয়ে ভবের রাজ্যে ঘুরে বেড়ায়!

পল্টুর মতো অনেকের কাছেই স্বর্গ-নরকের সুখ-দুঃখ শুধুই আধ্যাত্মিক। আর কষ্ট ও সুখের ঠিকানা শুধুই পার্থিব। ভালো কাজে মৃত্যুর পরে পুরস্কার আছে- অনেকে বিশ্বাস করে। আবার কেউ কেউ এতে বিশ্বাস না করে চুপ থাকে। অনেকে যুক্তিতর্ক খাটিয়ে তাঁর মতামত প্রতিষ্ঠা করে। কখনো আবার দ্রোহী হয়ে উঠে। নিজের মতামত মেনে না নিলে ঝগড়াও বাঁধিয়ে দেয়। বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী  দুই পক্ষই চরম উগ্রতা দেখিয়ে থাকে। তাতে প্রার্থিব সুখ-শান্তিও বিনষ্ট হয়। পল্টু পোদ্দার এই নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করতেও চায়না। যে যেমনটা বুঝে, করুক না তাঁর মতন করে? তাতে শান্তি  বিনষ্টের কোনো কারণ হবে না।

ডক্টর পি কে শান্তিতে আছেন কিনা তা পল্টুর পোদ্দারের জানা নেই। তবে মৃত পিয়াস করিমের চিন্তা-চেতনাকে পুঁজি করে বিভক্ত রাজনীতির ক্যাঁচাল স্বাধীনতার পক্ষ ও পরাজিত পক্ষের মধ্যে বুদ্ধিবৃত্তিক বাণিজ্য হয়তো আরো কিছুদিন চলতে থাকলেও এই তর্ক-বিতর্কে মৃত পিয়াস করিম এর লাভ-ক্ষতি কোনটাই জড়িত নয়। কারণ মানুষ মরে গেলে পুঁতে রাখা হলে কেমন থাকে জ্যান্ত মানুষগুলোর পক্ষে এমনটি দেখবার কোনো প্রার্থিব সুযোগ নেই।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চিত্রা কাব্যগ্রন্থে ‘মৃত্যুর পরে’ কাব্যে লিখেছেন- ‘আজিকে হয়েছে শান্তি/ জীবনের ভুলভ্রান্তি/ সব গেছে চুকে । রাত্রিদিন ধুক্‌ধুক্‌/ তরঙ্গিত দুঃখসুখ/ থামিয়াছে বুকে । যত কিছু ভালোমন্দ/ যত কিছু দ্বিধাদ্বন্দ্ব/ কিছু আর নাই । বলো শান্তি , বলো শান্তি/  দেহ-সাথে সব ক্লান্তি/ হয়ে যাক ছাই’।

 

৪৭২ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
লেখালেখি করি।সংবাদিকতা ছেড়েছি আড়াই যুগ আগে।তারপর সরকারী চাকর! চলে যায় এক যুগ।টের পাইনি কী ভাবে কেটেছে।ভালই কাটছিল।দেশ বিদেশও অনেক ঘুরাফেরা হলো। জুটল একটি বৃত্তি। উচ্চ শিক্ষার আশায় দেশের বাইরে।শেষে আর বাড়ি ফিরা হয়নি। সেই থেকেই লন্ডন শহরে।সরকারের চাকর হওয়াতে লেখালেখির ছেদ ঘটে অনেক আগেই।বাইরে চলে আসায় ছন্দ পতন আরো বৃদ্বি পায়।ঝুমুরের নৃত্য তালে ডঙ্কা বাজলেও ময়ূর পেখম ধরেনি।বরফের দেশে সবই জমাট বেঁধে মস্ত আস্তরণ পরে।বছর খানেক হলো আস্তরণের ফাঁকে ফাঁকে কচি কাঁচা ঘাসেরা লুকোচুরি খেলছে।মাঝে মধ্যে ফিরে যেতে চাই পিছনের সময় গুলোতে।আর হয়ে উঠে না। লেখালেখির মধ্যে রাজনৈতিক লেখাই বেশি।ছড়া, কবিতা এক সময় হতো।সম্প্রতি প্রিয় ডট কম/বেঙ্গলিনিউস২৪ ডট কম/ আমাদেরসময় ডট কম সহ আরো কয়েকটি অনলাইন নিউস পোর্টালে লেখালেখি হয়।অনেক ভ্রমন করেছি।ভালো লাগে সৎ মানুষের সংস্পর্শ।কবিতা পড়তে। খারাপ লাগে কারো কুটচাল। যেমনটা থাকে ষ্টার জলসার বাংলা সিরিয়ালে। লেখাপড়া সংবাদিকতায়।সাথে আছে মুদ্রণ ও প্রকাশনায় পোস্ট গ্রাজুয়েশন।
সর্বমোট পোস্ট: ২০৩ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৫১৯ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৬-১৭ ০৯:২৪:৩১ মিনিটে
banner

২ টি মন্তব্য

  1. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    দেশটার কি যে অবস্থস। ঠেলাঠলির ঘর খোদায় রক্ষআ কর।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top