Today 18 Dec 2017
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

পল্টু কথন – রাজনীতি’র রসের হাড়ি

লিখেছেন: শওকত আলী বেনু | তারিখ: ২১/১০/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 265বার পড়া হয়েছে।

রসের হাড়ি

রসের হাড়ি

আমি পল্টু। পল্টু  পোদ্দার। বিজ্ঞান আমার প্রিয় ও মজার সাবজেক্ট হলেও রাজনৈতিক মারপ্যাঁচের এক্কাদোক্কা আমাকে ভীষণ মজা দেয়। বিজ্ঞান মনস্ক ( নিজের ঢোল নিজে পিটাতে পছন্দ করা !) এই পোদ্দারের বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার না থাকলেও বিজ্ঞান নিয়ে দুই চার কথা বলার সাহস রাখে। পোদ্দার সাহেব একবার মখা আলমগীরের জগৎ বিখ্যাত ‘নাড়াচাড়া তত্ত্বের’ হাস্যরসেও যে একটা রূপক বৈজ্ঞানিক ভিত্তি ছিল তা সবাইকে ধরিয়ে দিয়েছিলেন। বিজ্ঞানের প্রতি আমজনতার চরম অনীহা থাকায় বিষয়টিকে তখন কেউ অনুধাবন করতে পারেনি।সবার চোখকে ফাঁকি দিলেও এই পল্টুর পোদ্দারের চোখকে ফাঁকি দেয়া কি এত সহজ ? হাঃ হাঃ পল্টু পোদ্দার ধরিয়ে দিতে উস্তাদ ! পল্টু পোদ্দার পুরো হিসাব কষে বের করেছিলেন মখা আলমগীরের ‘নাড়াচাড়া তত্ত্ব’ আবিষ্কারটি ছিল প্রখ্যাত ইংরেজ পদার্থবিজ্ঞানী স্যার আইজ্যাক নিউটনের গতিসূত্রের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত। পোদ্দার ভালো করেই জানেন এর জন্যে তাঁর কপালে কোনো নোবেল পুরষ্কার নেই। আওয়ামীলীগের সৈয়দ আশরাফ সাহেব একবার বলেছিলেন রঙিন পানির জোরেও নাকি এই পুরষ্কার মিলে যায়। যাউগ্যা, পল্টু পোদ্দার আইজ আর এই ব্যাক-ডেইট ইস্যু নিয়ে এগুতে চায় না।

পল্টু পোদ্দারের আইজকার ভাবনা রাজনীতি।পোদ্দার নিজে বিজ্ঞান নিয়ে খেলতে জানলেও রাজনীতির খেলা দেখতে খুব পছন্দ করে। পোদ্দার জানে রাজনীতির খেলা ধুরন্দরদের খেলা। হিপোক্রেটদের খেলা। এই খেলার হার-জিতে কোনো লজ্জা নেই। লজ্জা থাকতেও নেই। হিপোক্রেটদের আবার লজ্জা কিসের? পল্টু এও বুঝে এই লাইনে সবাই হিপোক্রেট নয়।এই খেলার শেষ নেই, শুরু আছে। কখনো কখনো শত্রু-মিত্র মিলে খেলার ফলাফল ভাগাভাগি করে নেয়। আবার সুযোগ বুঝে  হেমারদিস্তা দিয়ে ছেঁচা দিতেও কার্পণ্য করেনা। পল্টুর মতো সকল আমজনতা তখন শুধুই চেয়ে চেয়ে দেখে। কিছুই করার থাকেনা। রাজনৈতিকদের এই খুনসুটি পল্টু পোদ্দারকে ভীষণ পীড়া দেয়।

আমাদের দেশের রাজনৈতিকরা নন-ইস্যুকে ইস্যু বানিয়ে কত যে ত্যানা প্যাঁচায় তা দেখে পল্টু পোদ্দার খুব মজা নেয়। এই নেয়া-নেয়ির কারবারে পল্টুর কখনো বিরক্তি নেই। আর থাকবেই বা কেন?  জীবনের ঘানি টানতে গিয়ে ত্যাক্ত-বিরক্ত এই মনটারে যদি রাজনীতি থেকে কিছুটা রস দেয়া যায় তাতে ক্ষতি কি? যত রসের ভাণ্ডার এই জগৎ জুড়ে রয়েছে তাঁর পুরোটাই যেন এই দপ্তরে জমা আছে। রাজনীতির দপ্তর। কী বিচিত্র এক দপ্তর ! নীতির এই দপ্তরে চলছে নীতিহীন কর্ম। রয়েছে ঘটি ভর্তি খেজুরের রসের মত তরল পানীয় রস। আহা কী আস্বাদন ! যেন গুতা মারলেই নল বেয়ে টপ টপ করে ভরে উঠে মাটির কলসি। রাত পোহালেই গ্লাসে গ্লাস মারা যায় শশুর বাড়ির রসের হাড়ি’র মাগনা রস !

রসের হাড়ি তো বটেই। রস খেতে কে না ভালবাসে ? তাই তো রসের এই দপ্তরে কালো বিড়ালদের আনাগোনা বেড়েই চলছে। নতুন নতুন কালো বিড়ালের জন্মও হচ্ছে ! আওয়ামী লিডার সুরঞ্জিত বাবু হলেন কালো বিড়ালদের জীবন্ত প্রতীক। বেচারা কী কইতে গিয়ে কী কইলেন। আহা রে ! ধরা খাইলেন নিজের ঢোল নিজে পিটাইতে গিয়ে।কালা বিলাই বিনাশ করতে চেয়েছিল। আর নিজেই  ম্যাঁও.. .ম্যাঁও করতে গিয়া ফেঁসে গেলেন। মান-ইজ্জ্বত সবই গেল। মন্ত্রিত্বও  হারালেন। কিন্তু এতেও বাকিদের দৌড়াদৌড়ি থামেনি। কালোদের দল এখনও ভারী হচ্ছে। সাথে রয়েছে ধবধবে সাদা বিড়ালও।ভাবখানা এমন যেন সাদাদের কোনোই  দোষ নেই। কিন্তু পল্টু পোদ্দার ভালো করেই জানেন তাঁরাও একসময় কালোই ছিলেন। কালো থেকেই সাদা হয়েছেন। শুধু রং বদলিয়ে খোলসটা পাল্টিয়েছেন। সরকারী কোষাগারে কিছু নগদ জমা দিলেই রং পাল্টানো যায়। কালো থেকে সাদা হওয়ার দলে দেশনেত্রী খ্যাত খালেদা জিয়াও আছেন।আহা রে আমার সাদা বিড়ালের দল ! যত দোষ সব সুরঞ্জিত বাবুর।

কালো আর সাদা । সাদা আর কালো। এই সাদা-কালো’র রেষারেষি চলতেই থাকবে। পল্টু কয় দেশে নাকি এখন নীতিহীন রাজনীতি বেচা-কেনা হচ্ছে। শুধু রস খাওয়ার লাইগ্যা। এইড্যা আবার কেমুন কথা ? দেখুন না এ কে খন্দকার সাহেব কী করলেন? বয়সের ভারে খেইল হারিয়ে কিভাবে বিক্রি হয়ে গেলেন তা তিনি নিজেও জানেননা। তিনি কিসের রস খেতে চাইলেন তা পল্টুর মাথায় এখনও ঢুকেনি।বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর ভাই সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীও রাজনীতি থেকে কী রস খেতে গিয়ে ধরা খাইলেন তা ইতিহাস একদিন বলে দিবে। রাজনীতির এই কেনা-বেচার ধান্দা এখন কেউ করেন শখের বশে। কেউবা নীতি চর্চার নামে নীতিহীন কর্ম করে উঠে আসেন নিজেকে সেলেব্রেটি বানাতে। আবার কেউ আসেন একান্তভাবেই  জীবিকা নির্বাহের প্রয়োজনে। অনেকেই আবার রসের মোটা হাড়ি খুঁজতে গিয়ে ধরা খেয়েছেন। এই ধরা খাওয়া আর রস খাওয়ার একমাত্র নির্ভরযোগ্য উত্স রাজনীতি। তরতাজা রসের হাড়িতে মুখ রাখতে চাইলে আজই নেমে পড়ুন।নীতিহীন কর্মের নামে রাজনীতি করুন! তবে সাবধান(!!)  পল্টুর কথায় কান দিবেননা। যা করার নিজের বুদ্ধিতেই করুন।

ছবি ক্রেডিট: গুগল 

২৫৯ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
লেখালেখি করি।সংবাদিকতা ছেড়েছি আড়াই যুগ আগে।তারপর সরকারী চাকর! চলে যায় এক যুগ।টের পাইনি কী ভাবে কেটেছে।ভালই কাটছিল।দেশ বিদেশও অনেক ঘুরাফেরা হলো। জুটল একটি বৃত্তি। উচ্চ শিক্ষার আশায় দেশের বাইরে।শেষে আর বাড়ি ফিরা হয়নি। সেই থেকেই লন্ডন শহরে।সরকারের চাকর হওয়াতে লেখালেখির ছেদ ঘটে অনেক আগেই।বাইরে চলে আসায় ছন্দ পতন আরো বৃদ্বি পায়।ঝুমুরের নৃত্য তালে ডঙ্কা বাজলেও ময়ূর পেখম ধরেনি।বরফের দেশে সবই জমাট বেঁধে মস্ত আস্তরণ পরে।বছর খানেক হলো আস্তরণের ফাঁকে ফাঁকে কচি কাঁচা ঘাসেরা লুকোচুরি খেলছে।মাঝে মধ্যে ফিরে যেতে চাই পিছনের সময় গুলোতে।আর হয়ে উঠে না। লেখালেখির মধ্যে রাজনৈতিক লেখাই বেশি।ছড়া, কবিতা এক সময় হতো।সম্প্রতি প্রিয় ডট কম/বেঙ্গলিনিউস২৪ ডট কম/ আমাদেরসময় ডট কম সহ আরো কয়েকটি অনলাইন নিউস পোর্টালে লেখালেখি হয়।অনেক ভ্রমন করেছি।ভালো লাগে সৎ মানুষের সংস্পর্শ।কবিতা পড়তে। খারাপ লাগে কারো কুটচাল। যেমনটা থাকে ষ্টার জলসার বাংলা সিরিয়ালে। লেখাপড়া সংবাদিকতায়।সাথে আছে মুদ্রণ ও প্রকাশনায় পোস্ট গ্রাজুয়েশন।
সর্বমোট পোস্ট: ২০৩ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৫১৯ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৬-১৭ ০৯:২৪:৩১ মিনিটে
banner

৫ টি মন্তব্য

  1. সহিদুল ইসলাম মন্তব্যে বলেছেন:

    রাজনীতি নিয়ে বেশী কথা না কওয়াই ভালো।

  2. কল্পদেহী সুমন মন্তব্যে বলেছেন:

    কখন কি হয় কে জানে মহানবী বা ইসলাম ধর্ম নিয়ে উল্টাপাল্টা বললে পাড় পেলেও রাজনীতিবিদদের নিয়ে কিছু বললে পাড় নেই। এই হলো দেশের অবস্থা

  3. সবুজ আহমেদ কক্স মন্তব্যে বলেছেন:

    বাঙলাদেশের রাজনীতি নিয়ে কথা বলতে মন চায় না
    দূরে থাকাটাই ভাল
    দুরেই থাকি

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top