Today 19 Jun 2018
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

পাঞ্জেরি খ্যাত কবি ফররুখ আহমদের জন্মদিনের শ্রদ্ধাঞ্জলি

লিখেছেন: ব্যবস্থাপনা সম্পাদক | তারিখ: ১১/০৬/২০১৩

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 649বার পড়া হয়েছে।

forrukh ahmed

রাত পোহাবার কত দেরি পাঞ্জেরি?

এখনো তোমার আসমান ভরা মেঘে?

সেতারা, হেলার এখনো ওঠেনি জেগে?

তুমি মাস্তুলে, আমি দাঁড় টানি ভুলে;

অসীম কুয়াশা জাগে শূন্যতা ঘেরি।

 

এই কবিতার লাইনগুলো কবি ফররুখ আহমদের পাঞ্জেরি কবিতার। পাঞ্জেরি কবিতাটি পাঠ্যবইয়ের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় প্রায় সবাই এটি পড়েছে। ছোটবেলার পড়া কবিতাটি অনেকের প্রিয় কবিতার একটি। এরকম অসংখ্য কবিতা লিখেছেন ফররুখ আহমদ। মুসলমান সমাজের পুনর্জাগরণের প্রেরণা তার কবিতায় প্রতিফলিত হয়েছে। তাই তাকে ডাকা হয় বাংলার মুসলিম রেনেসাঁর কবি হিসেবে।

 

কবি ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম সৈয়দ হাতেম আলী ও মা রওশন আখতার। তার জন্মস্থান মাগুরার মাঝআইল গ্রাম। সেখানেই তার পড়াশুনার হাতেখড়ি । এরপর তিনি কলকাতায় চলে যান। সেখানে তিনি এম.ই.স্কুলে ভর্তি হন।  সে স্কুল ছেড়ে তিনি বালিগঞ্জ স্কুলে ভর্তি হন। স্কুল বয়স থেকেই তিনি আবৃত্তি করতে পছন্দ করতেন। সময় পেলেই তিনি দরাজ গলায় আবৃত্তি করতেন। তিনি নজরুলের কবিতা পছন্দ করতেন। বালিগঞ্জ স্কুলে থাকাকালে তিনি কবি গোলাম মোস্তফার সাহচর্য পান। সে সময় কবি গোলাম মোস্তফা বালিগঞ্জ স্কুলের শিক্ষকতা করতেন। এরপর আবার স্কুল বদল। এবার তিনি ভর্তি হন খুলনা জেলা স্কুলে। এ স্কুল থেকে নিয়মিত স্কুল ম্যাগাজিন বের হত। কবি ফররুখ আহমদ সেখানে একটি কবিতা দিলেন এবং সেটা স্কুল ম্যাগাজিনে ছাপা হল। এ স্কুলে সেই সময়ে শিক্ষকতা করতেন সাহিত্যিক আবুল ফজল ও কবি আবুল হাশেম। এখান থেকে তিনি মেট্রিক পরীক্ষা দেন এবং প্রথম বিভাগ পেয়ে পাশ করেন। এরপর তিনি রিপন কলেজে এই.এ ক্লাসে ভর্তি হন। এখান থেকে তিনি ১৯৩৯ সালে আই.এ পাশ করেন। ১৯৪১ সালে তিনি কলকাতা সিটি কলেজে ভর্তি হন। নানা জটিলতার কারণে তিনি শেষ পর্যন্ত বি.এ পরীক্ষা দিতে পারেন নি।

 

শিক্ষাজীবন শেষ না করেই তিনি কর্মজীবনে প্রবেশ করেন। কিন্তু তার কবি মন কোনোখানেই বেশিদিন টিকতে পারেনি। তাই তিনি সে চাকরিগুলো ছেড়ে দিয়েছেন। একমাত্র ঢাকা বেতারেই তিনি দীর্ঘদিন কাজ করেন। ঢাকা বেতারের কাজটি তার মনমত হয়। তিনি সেখানে স্টাফ আর্টিস্ট হিসেবে কাজ করতেন এবং আমৃত্যু সেখানেই কর্মরত ছিলেন।

 

আমরা ফররুখ আহমদকে কবি হিসেবে জানলেও তিনি তার প্রথম জীবনে অনেক গল্প লিখেছেন। ১৩৪৪ সালে মৃত বসুধা নামে গল্প সওগাত পত্রিকার কার্তিক সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। ১৩৪৫ সালে বুলবুল পত্রিকায় ‘যে পুতুল ডলির মা’ নামে আরও একটি গল্প ছাপা হয়। এছাড়াও তিনি একটি উপন্যাসও শুরু করেছিলেন। উপন্যাসের নাম সিকান্দার শা-র ঘোরা। উপন্যাসটি মৃত্তিকা পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে ছাপা হয়। কিন্তু তিনি এ উপন্যাসটি শেষ করতে পারেননি। এই সময়ে তিনি প্রচুর লেখালেখি করতেন এবং সেগুলো বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হত। সে সময়ের উল্লেখযোগ্য পত্রিকা সওগাত, বুলবুল, মৃত্তিকা, মোহাম্মদী, পরিচয় ইত্যাদি পত্রিকায় তিনি নিয়মিত লিখতেন। ১৯৪৪ সালে কলকাতায় থাকাকালে তার বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ ‘ সাত সাগরের মাঝি’ প্রকাশিত হয়। এর দু’বছর পর অর্থাৎ ১৯৪৬ সালে তার ‘আজাদ করো পাকিস্তান’ নামে আরও একটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়।

 

দেশ ভাগের পর কবি ফররুখ আহমদ ঢাকায় চলে আসেন। তার জীবনের বাকি সময় তিনি ঢাকাতেই কাটান। এ সময় তিনি প্রচুর লেখালেখি করেন। ঢাকার জীবনে তার চারটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়। যদিও কলকাতায় তার মাত্র দুটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়। তিনি শিশু কিশোরদের জন্য কিছু শিশুতোষ গ্রন্থ রচনা করেছেন। শিশুদের প্রতি ভালোবাসার কারণে তিনি শিশুতোষ গ্রন্থ রচনায় হাত দেন। তার জীবদ্দশায় চারটি শিশুতোষ গ্রন্থ প্রকাশিত হয়। ঢাকা বেতারে যুক্ত থাকার সময় তিনি অনেক আধুনিক ও দেশাত্মবোধক গান রচনা করেন। এছাড়াও তিনি প্রচুর গজল রচনা করেন। সে সময়ে তিনি বেতারের জন্য নৌফেল ও হাতেম নামের একটি কাব্যনাটক লিখেছিলেন। এটি ১৯৬১ সালে বেতারে প্রচারিত হয়।

 

কবি ফররুখ আহমদ খুব সাদামাটা জীবনযাপন করতেন। তার পোশাক পরিচ্ছদের মধ্যে ছিল দুটো পায়জামা, দুটো পাঞ্জাবি, একটি গেঞ্জি, একটি শেরওয়ানি, এক জোড়া স্পঞ্জের স্যান্ডেল ইত্যাদি। তিনি ছিলেন অত্যন্ত ধার্মিক। তিনি সব সময় পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতেন। ইচ্ছাকৃতভাবে কখনো নামাজ কাযা করেননি। মুসলিম কবিদের মধ্যে কাজী নজরুল ইসলামের পরে কবি ফররুখ আহমদের স্থান।

কবি ১৯৪২ সালে তার খালাতো বোন সৈয়দা তৈয়বাকে বিয়ে করেন। তাদের ১১জন ছেলে-মেয়ে হয়। তাদের বিয়ে ফররুখ ও তৈয়বার নানা মোহাম্মদ হুরমাতুল্লাহর ইচ্ছেতে হয়। কবি তাদের বিয়ে উপলক্ষে ‘উপহার’ নামের একটি কবিতা লেখেন এবং সেটা সওগাত পত্রিকায় অগ্রহায়ণ ১৩৪৯ সংখ্যায় ছাপা হয়।

তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলো হল- সাত সাগরের মাঝি (ডিসেম্বর, ১৯৪৪), সিরাজাম মুনীরা (সেপ্টেম্বর, ১৯৫২), নৌফেল ও হাতেম (জুন, ১৯৬১), মুহূর্তের কবিতা (সেপ্টেম্বর, ১৯৬৩), ধোলাই কাব্য (জানুয়ারি, ১৯৬৩), হাতেম তায়ী (মে, ১৯৬৬), নতুন লেখা (১৯৬৯), কাফেলা (আগস্ট, ১৯৮০), হাবিদা মরুর কাহিনী (সেপ্টেম্বর, ১৯৮১), সিন্দাবাদ (অক্টোবর, ১৯৮৩), দিলরুবা (ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৪)।

শিশুতোষ গ্রন্থগুলো হচ্ছে পাখির বাসা (১৯৬৫), হরফের ছড়া (১৯৭০), চাঁদের আসর (১৯৭০), ছড়ার আসর (১৯৭০), ফুলের জলসা (ডিসেম্বর, ১৯৮৫)।

কবি তার জীবিত অবস্থায় চারটি পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। সেগুলো হল ১৯৬০ সালে প্রেসিডেন্ট পুরস্কার, ১৯৬০ সালে বাংলা একাডেমী পুরস্কার, ১৯৬৬ সালে ‘হাতেম তায়ী’ গ্রন্থের জন্য আদমজী পুরস্কার, এবং সে বছরই ‘পাখির বাসা’ গ্রন্থের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার। এছাড়া তার মৃত্যুর পর তাকে তিনটি পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে। সেগুলো হল ১৯৭৭ সালে একুশে পদক, ১৯৮০ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার ও ১৯৮৪ সালে ইসলামিক ফাউন্ডেশন পুরস্কার।

কবি ফররুখ আহমদ ১৯৭৪ সালের ১৯  অক্টোবর ঢাকার ইস্কাটন গার্ডেনে মৃত্যুবরণ করেন।

 

:সংকলিত।

৮০৭ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
সর্বমোট পোস্ট: ৭৫ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৪৫৬ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৪-০৪-২০ ০৫:০৫:২৮ মিনিটে
Visit ব্যবস্থাপনা সম্পাদক Website.
banner

৭ টি মন্তব্য

  1. আজিম হোসেন আকাশ মন্তব্যে বলেছেন:

    শ্রদ্ধা্ঞ্জলি রইল।

  2. আমির হোসেন মন্তব্যে বলেছেন:

    কবি ফররুখ আহমেদের জন্মদিনে শুভেচ্ছা।

  3. রফিক আল জায়েদ মন্তব্যে বলেছেন:

    এক নজরে কবি সম্পর্কে জানতে পেরে ভাল লাগল। লেখকের জন্য শুভকামনা রইল।

  4. শাহ্‌ আলম শেখ শান্ত মন্তব্যে বলেছেন:

    আমার প্রিয় কবি ।

  5. শাহ্‌ আলম শেখ শান্ত মন্তব্যে বলেছেন:

    প্রিয় কবি আমার

  6. আরজু মন্তব্যে বলেছেন:

    ভাল লাগল কবি ফররুখ আহমেদকে নিয়ে আপনার এই লেখাটি।

    আচ্ছা সম্পাদক ভাই আপনি এখন লিখেন না কেন? আপনি কি অনেক ব্যস্ত থাকেন?আপনার কিন্তু অন্ততপক্ষে আমাদেরকে প্রেরনা দেওয়ার জন্য লেখা উচিত।বা আমাদের কারও লেখা যদি ভাল লাগে কমেন্টস করতে পারেন।এতে লেখার অনুপ্রেরনা পাব। এখন বুঝতে পারিনা যে আমাদের লেখা আপনি কি চোখে দেখছেন।বা আদৌ ও পছন্দ করছেন কিনা।

    অনেক ধন্যবাদ এবং শুভকামনা আপনার জন্য।

  7. আহমেদ রব্বানী মন্তব্যে বলেছেন:

    প্রিয় কবি।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top