Today 24 Jan 2020
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

পুরুষের দোষ কেন নারীর ঘাড়ে? (সংক্ষিপ্ত)

লিখেছেন: আলমগীর কবির | তারিখ: ১২/০৭/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 1119বার পড়া হয়েছে।

ভূমিকা :
পক্ষপাতহীন ভাবে লেখাটার যৌক্তিকতা তুলে ধরতে আমি কোন Feminist (Feminism is a collection of movements and ideologies aimed at defining, establishing, and defending a state of equal political, economic, cultural, and social rights for women. Who does it is Feminist) নই সেটা লেখার শুরুতে বলে রাখা ভাল। একুবিংশ শতকের এই দেড় দশকে দাঁড়িয়ে এমন একটি বিষয় নিয়ে লিখছি যা নিয়ে লেখা নব্য লেখক হিসাবে বেশ অসম্মানকর। কিন্তু এই অসম্মানের দায়ভার কাঁধে তুলে নিতেই হচ্ছে তা-না হলে পৃথীবিতে আমার প্রিয় সবচেয়ে চারজন মানুষ আমাকে ক্ষমা করবে না। সেই চারজন মানুষ হলো আমার মা, আমার মেয়ে, আমার প্রেয়সী বা স্ত্রী এবং আমার বোন।

নারী কে?
নারী বলতে পৃথিবীর অন্যতম প্রাণী মানুষের স্ত্রী-বাচকতা নির্দেশক রূপটিকে বোঝায়- Wikipedia.
বিশ্বাব্যাপী নারীদের ব্যাপারে ধর্ম ও সংস্কৃতি চর্চা
ঐতিহাসিকভাবেই নারীদেরকে গৃহপ্রকোষ্ঠে আবদ্ধ রাখা হয়েছে। পরিবার থেকেই তাদেরকে বিজ্ঞান চর্চায় অংশগ্রহণ কিংবা উদ্বুদ্ধ করা হয়নি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ১৯২৩ সালে সমান অধিকার আইন আকারে গৃহীত হবার পর নারীদেরকে উল্লেখযোগ্য হারে বিজ্ঞান বিষয়ে অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়। কিছু ধর্ম বা সংস্কৃতিতে নারীদের জন্য কঠোরভাবে অন্ত:পুরে আবদ্ধ রাখার বিধান তৈরী করা হয়েছে যা হাজার হাজার বছর ধরে চলে আসছে। যারপরানই নারীরা শৈশব থেকেই অবরুদ্ধবাদ মানষিকতা নিয়ে বেড়ে উঠে। এরফলে স্বাভাবিক ভাবেই তাদের মনন বিকাশের স্বাভাবিক বিষয়গুলো অস্বাভাবিকভাবে বাধাগ্রস্থ হয়। এমনকি কিছু সংষ্কৃতিতে, যেখানে নারীদের কুমারীত্বের সাথে পারিবারিক সম্মান জড়িত। সেখানে যদি বিবাহের পূর্বেই নারী যৌনসম্পর্ক করেছে বলে প্রমাণিত হয়, তবে তা পরিবারের জন্য অসম্মানকর হিসেবে বিবেচিত। এক্ষেত্রেও যদি নারীদের তথাকথিক কুমারীত্ব নষ্ট হয়েই থাকে তাহলে সেখানে একজন পুরুষেরও সমান ভূমিকা থাকে।অথচ সম্মান নষ্ট হয় শুধুমাত্র নারী পরিবারে পুরুষ পরিবারে নয়। বড়ই হাস্যকর প্রথা।

বিভিন সময় ধর্ম প্রবর্তকগণ (সকল ধর্মের ধর্ম প্রবর্তকই পুরুষ) সেক্স (Human sexual activity has sociological, cognitive, emotional, behavioral and biological aspects)বিষয় প্রকৃতিবিরুদ্ধমতবাদ প্রবর্তন করে গেছেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এর স্বীকার হয়েছেন নারীরা। তথাকথিক Feminist-গণও তাদের অস্তিত্ব রক্ষায় এসবের বিরুদ্ধে বৈজ্ঞানিক বা বিবর্তনবাদ সত্যকে তুলে ধরা থেকে নিজেদেরকে অব্যাহতি দিয়েছেন। শুধু অব্যাহতিই দেননি এমনকি তারাও আবার নারীদের সম্ভ্রম রক্ষার্থে নতুন এমন কিছু শব্দের প্রচলন করেছে যা সেক্স বিষয়ক দমননীতি মনোভাব চালু করেছে যে নীতি সেক্স সংক্রান্ত অপরাধ বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।

কর্মক্ষেত্রে নারীবিষয়ক প্রচলিত ধারনা :
প্রকৃতির কিছু অ-লঙ্ঘনিয় বিধান প্রতিপালন করতে গিয়ে নারীদেরকে কর্মক্ষেত্রে পুরুষের তুলনায় একটু বেশি অনুপস্থিত থাকতে হয় সন্দেহ নেই। কিন্তু সেই অলঙ্ঘনিয় বিধানগুলো কখনই নারীদের দূর্বলতা নয় বরং ঐগুলোই তাদের সর্বাপেক্ষা গৌরবজনক বিষয়। নারীদের সেই গৌরবান্বিত অনুপস্থিতির কারণেই একজন পুরুষ সন্তান সে নিজেকে পুরুষ হিসাবে গর্ববোধ করে। যদিও আপনি পুরুষ এইটা নিয়ে গর্ব করার পেছনে তার তিল পরিমাণ অবদান নেই বা গর্ব করারও কিছু নেই। এটা মূলত প্রকৃতির ভারসাম্য নীতির কারণেই হয়ে থাকে।
সাধারণ ভাবে বিশ্বাস করা হয়ে থাকে যে, নারীরা পুরুষদের তুলনায় কম যোগ্যতাসম্পন্ন হয়ে থাকে বা কম কাজ করে থাকে। আপাতত কথাটা বিশ্বাস করতে থাকি। শেষতক কি ফলাফল পাওয়া যায় তার জন্য অপেক্ষা করি। উল্লেখ্য যে, আন্ডার লাইন করা বাক্যের সাথে দ্বিমত পোষণ করার পরিসাংখ্যিক তথ্য থাকলেও আপাতত সেই পথে না হেটে বাক্যটা সত্য মনে করে নারীরা পুরুষদের চেয়ে কোন কোন ক্ষেত্রে পিছিয়ে আছে এবং কেন আছে তা বিশ্লেষণ করা যাক।
 প্রয়োজনেও নারীরা অফিস সময়ের একটু আগে অফিসে যেতে পারেনা বা অফিস সময়ের একটু পরে অফিস ছাড়তে পারেনা। কিন্তু কেন? এই ঘটনার জন্য কি সংশ্লিষ্ট নারী কর্মী দায়ি নাকি নাকি অন্য কেউ? অবশ্যই, খুব কম ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট নারী কর্মী দায়ী, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পুরুষরা দায়ী। একজন নারী যখন অফিসে আসেন তখন তাকে অনেক ঘর গৃহস্থালীর কাজ সেরে অফিসে আসতে হয় আবার অফিস থেকে ফিরেও সেই একই ঘটনার পূনরাবৃত্তি ঘটাতে হয়। ঘরে ফিরে স্বামী যদি তার স্ত্রীকে দেখতে না পায় তাহলে বিরাট সমস্যার বিষয় হয়ে থাকে কিন্তু স্ত্রী ঘরে ফিরে তার স্বামীকে দেখতে পাবেনা সেটাই স্বাভাবিক। তাহলে এক্ষেত্রে নারীদের সমস্যার মূল কারণ মূলত: পুরুষদের বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গি বা প্রথা।
 কর্মী যদি নারী হয়ে থাকে কাজের প্রয়োজনে বাইরে রাত্রিযাপন করা সমস্যাপূর্ণ একটা বিষয়ই বটে। কাজের প্রয়োজনে এটা সত্যিকার অর্থেই একটি সমস্যাপূর্ণ ব্যাপার। কাজের প্রয়োজনে সহকর্মীদেরকে বাইরে যাওয়ার জন্য মাঝে মাঝে আমাকেও অনুরোধ করতে হয়। কিন্ত নারী কর্মী হলে যে কাজ করার জন্য বাইরে রাত্রি যাপন করত হয় সেই ধরনের কাজের জন্য তাদেরকে পাঠানো হয়না। এটা সত্যিই সমস্যাপূর্ণ ব্যাপার। কিন্তু এই সমস্যার জন্য সত্যিই কি সংশ্লিষ্ট নারী কর্মী দায়ী? আদৌ তা নয়। একজন নারী কর্মী বাইরে নিরাপদ রাত্রি যাপন করতে পারবেনা বলেই তাকে বাইরে এইরূপ কাজে বাইরে পাঠানো হয়না, সেটাতো পুরুষদের জন্যই। একই সমস্যার কারণে তাদের ফিরতে সন্ধ্যা বা রাত হয়ে যাবে সেই রকম দূরুত্বে কাজ করতে যাওয়াটাও সমস্যা। নারীদের কর্মক্ষেত্রে নানাবিধ সমস্যাকে সঙ্গী করে কাজ করতে হয়। বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে তার কোনটির জন্যই নারী নিজে দায়ী নয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পুরুষ দায়ী।
কর্মক্ষেত্রে নারীদের নানাবিধ সমস্যা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনার সুযোগ আছে কিন্তু সেটা করতে গেলে পাঠকদের বিরক্তির উদ্রেগ হবে তাই এই সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ সংক্ষিপ্ত করা হলো।

নারী বনাম পুরুষ -একটি বৈজ্ঞানিক প্রমাণ
ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের মানসিক পরিপক্বতা দ্রুত হয়—এ ধারণা সমাজে মোটামুটি প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু এই প্রথমবারের মতো বিষয়টি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলেছেন, মস্তিষ্কের পরিপক্বতার দিক থেকে ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা প্রায় ১০ বছর এগিয়ে থাকে।

গবেষণার পর যুক্তরাজ্যের নিউক্যাসল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা জানিয়েছেন, মানুষের মস্তিষ্কে জমা হওয়া তথ্য থেকে কোনটি গুরুত্বপূর্ণ, তা বাছাই করতে পারার সক্ষমতা তৈরি হওয়ার পর থেকে মানসিক পরিপক্বতা আসতে শুরু করে। মেয়েদের বয়স মোটামুটি ১০ বছর হওয়ার পর থেকে তাদের এই সক্ষমতা তৈরি হয়। এ জন্য ছেলেদের ১৫ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।

গবেষণা নিবন্ধটি প্রকাশিত হয়েছে সেরিব্রাল কর্টেক্স সাময়িকীতে। ৪ থেকে ৪০ বছর বয়সী ১২১ জন নারী-পুরুষের ওপর গবেষণাটি চালানো হয়।

গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষক সল লিম বলেন, ‘দেখা গেছে, ১০ থেকে ১২ বছর বয়স হওয়ার পর থেকে মেয়েদের মস্তিষ্ক তথ্য বিচার-বিশ্লেষণ করতে পারছে। অর্থাৎ, তাদের মানসিক পরিপক্বতা আসতে শুরু করে। আর ছেলেদের মধ্যে এটা ঘটে ১৫ থেকে ২০ বছর বয়সে।’ টেলিগ্রাফ। Link : http://www.prothom-alo.com/technology/article/105310

উপসংহার
উপরের আলোচনা থেকে এটা বুঝতে সমস্যা হয়না যে, যেসকল কারণে নারীদেরকে অযোগ্য মনে করি বা অপরাধী করি তার জন্য নারীরা দায়ী নয়। সকল ক্ষেত্রেই প্রায় পুরুষগণ এককভাবে দায়ী অথবা যৌথভাবে দায়ী। তাহলে পুরুষদের অপরাধে দায়-ভার নারীগণ কেন শতকের পর শতক বহন করে যাবেন?

১,২৪২ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
আমি আলমগীর কবির , জন্ম 1979 সালের 25 জানুয়ারী , গ্রাম-চাঁদপুর, ডাক-কন্যাদহ, হরিণাকুন্ডু, ঝিনাইদহ। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে হিসাব বিজ্ঞানে এমকম করার পর একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেম-এ এমবিএ করি। বর্তমানে একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করি, প্রতিষ্ঠানের নাম ওয়েভ ফাউন্ডেশন। যখন কলেজে পড়তাম তখন থেকেই লেখালেখির খুব ইচ্ছা ছিল কিন্তু আত্ম বিশ্বাসের অভাবে হয়ে উঠেনি। রবীন্দ্র নাথ ঠাকুরের ছোট গল্প এবং হুমায়ুন আহম্মেদ, সুনীল গঙ্গোপধ্যায়, মানিক বন্দোপধ্যায় সহ বেশ কিছু লেখাকের উপন্যাস পড়তে খুব ভাল লাগে। আগে কবিতা পড়তে ভাল লাগত না তবে এখন ভাল লাগে।
সর্বমোট পোস্ট: ৬১ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৩৪১ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৭-২৭ ০৯:৩৯:৩৮ মিনিটে
banner

১৩ টি মন্তব্য

  1. আরজু মূন মন্তব্যে বলেছেন:

    পুরুষদের অপরাধে দায়-ভার নারীগণ কেন শতকের পর শতক বহন করে যাবেন?

    চমৎকার বিশ্লেষণ করে একটা লেখা লিখেছেন যে আমি অভিভূত। আপনি যে অন্তত নারীর স্কন্ধে সব বোঝা ফেলে যাবেন না তা পরিষ্কার। মূলত এই দরকার আমাদের সমাজে। মুক্তমন পুরুষ। অন্ততপক্ষে যখন কোন নারী বাহিরে কাজ করে বা উচ্চতর গবেষণা স্টাডি তে জড়িত থাকে অন্ততপক্ষে আপন মানুষ রা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিবে। নিজের মা বোনের কথা মনে করে সমান সহযোগিতার হাত সবসময় বাড়িয়ে রাখব। …সামাজিক প্রতিবন্ধকতা ও আছে ই।

    অনেক ধন্যবাদ এই সুন্দর লেখার জন্য আলমগীর ভাই । শুভেচ্ছা রইল।

    • আলমগীর কবির মন্তব্যে বলেছেন:

      ধন্যবাদ আরজু মুন। সময় স্বল্ততার কারণে আমি ব্লগে খুব একটা থাকতে পারছিনা। অবশ্যই ব্যস্ততা কমে গেলে আপনাদের সাথে সময় দেব তখন নিশ্চয় খুব ভাল লাগবে।

  2. দীপঙ্কর বেরা মন্তব্যে বলেছেন:

    অনেক তথ্যের সমাহার ।
    মনে রাখার মত ।

  3. শাহানারা রশিদ ঝর্ণা মন্তব্যে বলেছেন:

    anek riddo o bastob abosthar prekkapot ..sai sathe narike nieye sathik barnona tule dhara hoeyce ..sotti amader samaj jodi amon kore vabto o narike samman dito tahole ki r dukkho thakto ? dhonnobad lekhatir jonno !

  4. Crown. মন্তব্যে বলেছেন:

    Anek sundor akta leka .

  5. আলমগীর কবির মন্তব্যে বলেছেন:

    ধন্যবাদ ক্রাউন

  6. হোসাইন আহমদ মন্তব্যে বলেছেন:

    ধন্যবাদ আলমগীর কবীর ভাই এমন সুন্দর সুস্পষ্ট ধারনা সমৃদ্ধ একটি লেখা আমাদের উপহার দেয়ার জন্য . . .ভালো থাকুন অহনিশি। . .আপনার প্রতি রইলো শুভ কামনা।

  7. সাখাওয়াৎ আলম চৌধুরী মন্তব্যে বলেছেন:

    আপনার ক্ষুরধার লেখনীতে সত্যের চমৎকার উপস্থাপন ঘটেছে।

  8. আলমগীর কবির মন্তব্যে বলেছেন:

    আপনাকে ধন্যবাদ

  9. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    সুন্দর একটা বিষয় তুলে ধরেছিলেন ধন্যবাদ আপনাকে

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top