Today 06 Dec 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

পৃথিবী

লিখেছেন: মুহাম্মদ আনোয়ারুল হক খান | তারিখ: ১২/০১/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 711বার পড়া হয়েছে।

মহাকাশযানের নিজ কেবিনের স্বচ্ছ মোটা কাচের মধ্যদিয়ে নোভা বাইরে তাকিয়ে আছেন। মহাকাশযানের সুতীব্র আলো চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে, ফলে বহুদূর পর্যন্ত অ্যাস্টরয়েড চোখে পড়ছে। হাতের কাছে থাকা নিয়ন সুইচটি তিনি আলতোভাবে স্পর্শ করে বন্ধ করে দিলেন। আর তখনই চারদিক এক অপার্থিব অন্ধকারে ভরে উঠল। এখন যতদূর চোখ যায় ততদূর নীকষ কালো অন্ধকার। নোভার চোখ ধীরে ধীরে অন্ধকার সহ্য করতে শুরু করে। খানিকক্ষন পর তিনি বহুদূরের নক্ষত্রের আলো দেখতে পেলেন। খুবই ক্ষুদ্র আলোকবিন্দু। আলোকবিন্দু গুলোর দিকে তাকিয়ে থাকলে মনে হয় অনন্ত মহাশূণ্যে মহাকাশযানটি কোথাও স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু তখনও মহাকাশযানটি শব্দের গতি থেকে তিনলক্ষগুণ বেশি গতিতে মহাশূণ্যে ছুটে চলছে।

 

এভাবে মহাশূণ্যের দিকে প্রথম প্রথম কেউ তাকিয়ে থাকতে পারে না। মানুষ কখনই শূন্যতা সহ্য করতে পারে না কখনও স্পর্শও করতে পারে তখন তার নেশা ধরে যায়। প্রাগৈতিহাসিক কালে পৃথিবীর মানুষও গভীর আগ্রহ নিয়ে অনন্ত মহাশূণ্যের দিকে তাকিয়ে থাকত।

 

নোভা নিজকে সামলে পিছন ফিরে তার ঘরে চলে এলেন। হালকা নীলাভ আলোতে তিনি তার ছোট্ট মেয়েটিকে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন দেখলেন। তার নিষ্পাপ মেয়েটিকে আরও নিষ্পাপ ও অসহায় মনে হচ্ছে। মানুষকে ঘুমিয়ে থাকলে সবসময়ই কোন এক বিচিত্র কারণে অসহায় মনে হয়। তিনি মেয়ের পাশে বসে আলতোভাবে তার খয়েরী চুলে হাত বুলিয়ে দিয়ে অত্যন্ত প্রাচীন ভঙ্গিতে মেয়েকে জড়িয়ে ধরলেন। কিছুক্ষণ পর ডাক দিলেন, ‘মামনি, মামনি… ইরা.. মামনি ওঠ।’

 

ইরা আধবোঝা করে চোখ খুলল।

 

তিনি আবার বলনেন, ‘মামনি ওঠ এখনই পৃথিবী এসে পড়বে।’ তারপর একটু থেমে বললেন, ‘চল, দেখবে।’

 

ইরার কোন ভাবান্তর হয় না। সে মনে হয় আবার ঘুমিয়ে পড়েছে। তিনি আবার ডাক দিলেন, ‘মামনি ওঠ .. চল।’

 

‘না আমার ঘুম পেয়েছে। আমি দেখব না।’ ইরা ঘুম জাড়ানো চোখে বলে।

 

‘ছিঃ একথা বলে না। তিনি ইরাকে তার কোলে বসিয়ে কপালে আলতো করে চুমু খেয়ে বললেন,” পৃথিবী এলে সবাইকে পৃথিবী দেখতে হয়।

 

এবার ইরা নড়েচড়ে উঠল। সে তার ক্ষুদ্র জীবনে কখনই পৃথিবী দেখেনি। তাই একে নিয়ে নিষ্ফল আবেগের মানেও  সে বুঝতে পারে না।

 

নোভা তার মেয়েকে কোলে তুলে নিয়ে হাত দিয়ে যথাসম্ভব শক্ত করে ধরে জানালাল পাশে এসে দাঁড়ালেন। বহুদূরে একটি গোলাকপিণ্ডকে দেখা যাচ্ছে। যত সময় যাচ্ছে এটি ততই বড় ও কালচে নীলাভ রঙ এ বদলে যাচ্ছে। মহাকাশযানটি একসময় সেই নির্জীব, প্রাণহীন, ধ্বংসপ্রাপ্ত গ্রহটির ভিতরে সুতীব্র বেগে ঢুকে পড়ল। যতদূর চোখ যায় নোভা ঠিক ততদূরই ধ্বংসস্তুপ দেখতে পেলেন। তারপর একসময় মহাকাশযানটি বিস্তৃর্ন মরুভূমি, ধূ-ধূ প্রান্তর আর ভয়াবহ ধ্বংসস্তুপকে পাশে ফেলে রেখে তীব্রবেগে গ্রহটি থেকে বের হয়ে এল।

 

এরপর আবার গ্রহটি ছোট হতে হতে বিন্দুর মত ধারণ করে একসময় অনন্ত মহাশূণ্যে ছারিয়ে গেল। নোভার মনে পড়ে এই গ্রহ থেকেই তার পূর্বপুরুষ এসেছিলেন যখন মানুষের জন্ম হতো কষ্ট আর আনন্দের এ সুতীব্র অনুভূতি থেকে। তাও কয়েক হাজার বছর আগের কথা।

 

ইরা অবাক বিস্ময়ে তার মায়ের দিকে তাকিয়ে থাকে। মহাকাশযানের আবছা অন্ধকারে হালকা বাতাসে তার মার খয়েরী চুল দুলতে থাকে। মায়ের এরুপ আগে কখনও সে দেখেনি। পৃথিবী নিয়ে বড়দের অদ্ভুত আবেগের মানে সে কখনও বুঝেনি, বুঝতে চায়ও না।

 

ইরা দূরে তাকিয়ে তারার আবছা আলো দেখতে থাকে। এই ছোট ছোট আলো দেখতে তার খুবই ভালো লাগে।

 

সে কিছুতেই চোখ ফেরাতে পারে না।

৭৭৭ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
আমার জন্ম পিরোজপুরে নানা বাড়িতে। দাদা বাড়িও পিরোজপুরে। পিরোজপুর শহরের সার্কিট হাউজ – ফায়ার সার্ভিস এর মাঝখানে আমাদের বাড়ি। পিরোজপুর আমার কাছে স্বপ্নের শহর। যদিও ক্লাস থ্রী থেকে আমি ঢাকাতে মানুষ। এসএসসি ১৯৯৬ সালে। পড়াশুনা করেছি ফার্মেসিতে, পরে এমবিএ করেছি আন্তর্জাতিক বিপননে। জুলাই ১৫, ২০১১ থেকে সব ধরনের রাজনৈতিক আলোচনা থেকে অবসর নিয়েছি। বিশেষ ব্যক্তিত্বঃ নবিজী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বঃ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান যে ব্যক্তিত্ব আমাকে টানেঃ ডঃ মুহম্মদ ইউনুস প্রিয় লেখকঃ মুহম্মদ জাফর ইকবাল, হুমায়ুন আহমেদ, হেনরি রাইডার, জুল ভান প্রিয় টিভি সিরিয়ালঃ Spellbinder, Spellbinder 2: Land of the Dragon Lord, The girl from tomorrow, Tomorrows end, Time Trax, MacGyver, Alice in Wonderland, The Chronicles of Narnia প্রিয় টিভি নাটকঃ কোথাও কেউ নেই, অয়োময়, রুপনগর, বহুব্রিহী, বার রকম মানুষ প্রিয় টিভি শোঃ ইত্যাদি, সিসিমপুর, Pumpkin Patch Show লেখালেখি আমার শুধু শখই না, মনে হয় যেন রক্তের টান। বিশেষ করে বিজ্ঞান-কল্পকাহিনি। বিজ্ঞান-কল্পকাহিনি আমার কাছে রঙ্গিন ঘুড়ির মত। কল্পনার সীমানা পেরিয়ে যে ছুটে চলে মহাজগতিক পরিমণ্ডলে। এ যেন সময়টাকে স্থির করে দিয়ে এর আদি-অন্ত দেখার মত। তারপরও এ ঘুড়ি যেমন ইচ্ছে তেমন উড়তে পারে না, সুতোয়ে টান পড়ে বলে। এ টান যুক্তির টান। যৌক্তিক কল্পনা বললে ভুল হয় না। তারপরও নিজ ইচ্ছেয়ে সুতোটাকে ছিঁড়ে দিতে ভাল লাগে মাঝে মাঝে। আমি যেমন নিজে স্বপ্ন দেখি তেমনি সবাইকে স্বপ্ন দেখাতে চাই। অঞ্জন দত্তের ভাষায় বলতে হয়, ‘মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যখন-তখন কান্না পায়, তবু স্বপ্ন দেখার এই প্রবল ইচ্ছাটা কিছুতেই মরবার নয়।’ কনফুসিয়াসের এই লাইন টা আমাকে খুব টানে … journey of a thousand miles begins with a single step। আমার প্রথম লেখা প্রকাশ হয় ১৯৯৬ সালে আধুনালুপ্ত বিজ্ঞান সাপ্তাহিক আহরহ তে। আমার নিজের একটা ব্লগ আছে, mahkbd.blogspot.com। আমার ইমেইল mahkbd@gmail.com।
সর্বমোট পোস্ট: ৯৬ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ১৫৫ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৫-১১ ০৩:১৪:৫৫ মিনিটে
banner

৫ টি মন্তব্য

  1. আমির হোসেন মন্তব্যে বলেছেন:

    চমৎকার হয়েছে অনেক অনেক ভাল লাগছে।

  2. আরজু মন্তব্যে বলেছেন:

    পৃথিবী নিয়ে নোভার আবেগ বিজ্ঞানকাহিনী পড়লাম।কল্পনার একটা ঘটনা বাস্তবের মিশেলে চমৎকার বর্ননা।সুন্দর তথ্যগুলিকে সাজিয়ে বিশ্বসযোগ্যভাবে ঘটনা বর্ননা করার দক্ষতা প্রশংসনীয়।

    এরপর আবার গ্রহটি ছোট হতে হতে বিন্দুর মত ধারণ করে একসময় অনন্ত মহাশূণ্যে ছারিয়ে গেল। নোভার মনে পড়ে এই গ্রহ থেকেই তার পূর্বপুরুষ এসেছিলেন যখন মানুষের জন্ম হতো কষ্ট আর আনন্দের এ সুতীব্র অনুভূতি থেকে। তাও কয়েক হাজার বছর আগের কথা।

    এরকম কোন এক সভ্যতায় হয়তবা আমাদের অনেক পরের জেনারেশান প্রত্যক্ষ করতে পারে।হয়তবা পৃথিবী একসময় নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।ভবিষ্যত মানব সম্প্রদায়ের জন্য পৃথিবী ভূগোলের চ্যাপ্টার হয়ে থাকবে ইরার মত যাতে কোন স্মূতি বা আবেগ থাকবেনা।

    বরাবরের মত আপনার কল্পনাশক্তিতে বিষ্ময়বোধ করলাম।চমৎকার লেখার অসংখ্য ধন্যবাদ।

  3. রাজিব সরকার মন্তব্যে বলেছেন:

    ভাল লাগল দাদা

  4. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    অনেক ভাল লাগল। ইশ আমিও যদি পারতাম এমন কল্পনায় লিখতে

  5. এম, এ, কাশেম মন্তব্যে বলেছেন:

    চমৎকার ভাই
    বেশ ভালো লেগেছে,

    অনেক শুভ কামনা।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top