Today 11 Dec 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

প্রসঙ্গ চিঠিঃ সেকাল-একাল

লিখেছেন: মুহাম্মদ দিদারুল আলম | তারিখ: ০৮/১০/২০১৩

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 710বার পড়া হয়েছে।

বৈদেশ গেলে বন্ধু তুমি আমায় ভুইলোনা, চিঠি দিয়ো পত্র দিয়ো জানাইয়ো ঠিকানারে,জানাইয়ো ঠিকানা…। বন্ধু বা আপনজন দূর বিদেশে যাবার সময় যখন বুকফাটা কান্নায় বিদায় নিতে উদ্যত হতেন তখন দেশের বন্ধু বা প্রিয়জন তার প্রিয়তমকে বিদায় দেবার কিংবা অনেক দিন পাশে না পাবার বেদনা হয়তো এই গানের মধ্যে পাওয়া যায়। আবার বন্ধু বা আপনজন অনেকদিন চিঠিপত্র না দিলে বা যোগাযোগ না রাখলে বিচ্ছেদের জ্বালায় মন আকুবাকু করে ওঠতো, তখন বার বার মনে পড়তো প্রিয়তমকে, আর মনের অজান্তেই হয়তো গেয়ে উঠতো, ‘নাই টেলিফোন নাইরে পিয়ন নাইরে টেলিগ্রাম,বন্ধুর কাছে মনের খবর কেমনে পৌঁছাইতাম…’। অথবা ‘আঙুলও কাটিয়া,কলমও বানাইয়া,চোখের জলে কইরা কালিরে…’। হাল আমলে একসময়ের খুবই জনপ্রিয় এধরণের গান সেকালে জামানার কারো কারো শুনতে ভালো লাগলেও এসব গানের আবেদন বর্তমান ডিজিটাল জামানায় যেন উধাও হয়ে গেছে। এসব গানগুলোও যেন এনালগ হয়ে গেছে। এক সময় কৃষক শ্রমিক রাখালের সুরেলা কন্ঠে এসব গানই শুনা যেতো, কিন্তু কালের পরিক্রমায় ডিজিটাল জামানায় শুনা যায় পশ্চিমা ধাঁচের ব্যান্ডের লাফানো লাফানো ঝাঁকানো ঝাঁকানো একধরনের বিরক্তিকর গান। চিঠি লেখা যেভাবে ইতিহাসের মলাটে বন্ধি হয়ে গেছে সেভাবে চিঠি সংক্রান্ত জনপ্রিয় গানও ইতিহাসের মলাটেই বন্ধি হওয়ার পথে। এককালে দেশ-বিদেশে স্বজনদের সাথে যোগাযোগ ও কুশল বিনিময়ের সর্বোত্তম ও বহুল প্রচলিত জনপ্রিয় মাধ্যম হিসেবে চিঠি লেখার এবং চিঠি আদান প্রদানের ঐতিহ্যবাহী রেওয়াজ ছিল বাংলাদেশের ঘরে ঘরে। প্রাচীন আমলের রাজা বাদশাহরাও দূত মারফত বিভিন্ন রাষ্ট্র, সরকার প্রধান বা অধীনস্থ রাজ্য প্রধানদের সাথে একমাত্র চিঠির মাধ্যমে যোগাযোগ রাখতেন বলে ইতিহাস থেকে জানা যায়। ডিজিটাল যুগে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের ফলে বর্তমানে ইন্টারনেট, ইমেইল, ভয়েস মেইল, চ্যাটিং,ফোন ও মোবাইলের যুগে আজ তা ক্রমশঃ হারিয়ে যাচ্ছে। জাদুঘরের বন্ধ খাঁচার দিকে ক্রমশঃ ধাবমান আর ইতিহাসের পাতায় বন্দি হওয়ার মতো অবস্থা। ই-মেইল, ফেইসবুক, টুইটার,এসএমএস, হোয়াটস্ আপ,মাল্টিমিডিয়া ম্যাসেজ, ফ্লাশ ম্যাসেজ, অডিও ম্যাসেজ, টেলিকানেকশন, ও মোবাইলের জয়জয়কারে দেশে বিদেশের স্বজনদের সাথে পত্রযোগাযোগ এখন সেকালের মডেলে পরিণত হয়েছে। এই ক’বছর পূর্বেও পোষ্ট অফিসের ডাকপিয়নের কদর ছিল আকাশচুম্বি। ডাকঘর খোলার অনেক পূর্ব থেকেই সর্ব সাধারণের দারুন ভীড় দেখা যেতো পোস্ট অফিসের আঙ্গিনায়। অনেকেই বসে বসেই প্রতিক্ষার প্রহর গুণতেন কবে,কখন আসবেন ডাক পিয়ন। ডাকপিয়ন এসে অফিস খোলার পরেই ডাকে আসা চিঠি বের করে সিল মেরে এক একটি চিঠি হাতে নিয়ে এয়ারলেটার বা খামের উপর উল্লেখিত প্রাপকের নামে নাম ধরে ধরে উচ্চস্বরে ডাকতেন। তখন সেখানে উপস্থিত লোকজন নিজ নিজ চিঠি আত্মীয়দের চিঠি বা পাশের বাড়ীর চিঠি নিজ হাতে নিয়ে যেতেন বাড়ীতে। বাড়ীতে যাবার পর চিঠি খুলে সকলেই খুশিতে জড়ো হয়ে পড়া শুনতেন। পড়া জানা না থাকালে পাশের বাড়ীর কোন পড়া জানাশুনা ব্যক্তির নিকট গিয়ে চিঠি পড়া শুনে তার মর্ম অবগত হতেন। সমস্যা হতো স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে দেয়া চিঠি পড়াতে বা স্ত্রী কর্তৃক স্বামীকে দেয়া চিঠি লেখাতে। তখন পাঠক বা লেখক খোঁজা হতো নিতান্ত আপনজনকে। কারণ স্বামী স্ত্রীকে যে মধুমাখা আবেগ দ্বারা চিঠি দিতেন তা সকলের দ্বারা পাঠ করানো সম্ভব হতোনা এজন্য যে, এতে স্ত্রীর লাজ শরমের একটা ব্যাপার স্যাপার আছে। আগেকার যুগে পাড়া মহল্লায় চিঠি লেখকদের যথেষ্ট কদর ছিল। যারা চিঠি লেখাতেন বা পাঠ করাতেন তারা এদেরকে সব সময় সমীহ করে চলতেন এবং সময় সুযোগমতো দাওয়াতও খাওয়াতেন। প্রেরক চিঠি লেখকের বাড়ী বারবার হানা দিতেন একটা চিঠি লেখানোর জন্য। চিঠি লেখক ব্যস্ত থাকলে বলতেন পরবর্তীতে সুবিধাজনক সময়ে আসতে। এভাবে অনেক সময় চিঠি লেখকের বাড়ীতে বারবার চক্কর দিয়ে অনুনয়-বিনয় করতে হতো একটি চিঠি লেখানোর জন্য। চিঠি লেখানোর সময় লেখককে আঞ্চলিক ভাষায় পুরো বিষয়-আশয় বলা হতো তখন তিনি সাজিয়ে গুছিয়ে লিখতেন। আবার কেহবা একটু একটু করে বলতেন এবং লেখক তা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে লিখতেন। কিছু অংশ লিখার পর প্রেরককে পাঠ করে শুনাতেন। চিঠির প্রথমে ‘‘এলাহী ভরসা, আল্লাহ মহান, আল্লাহ সর্বশক্তিমান,৭৮৬’’ ইত্যাদি লেখা হতো। এরপর প্রাপককে সম্বোধন করা হতো বিভিন্ন মায়াবী ভাষায়। যেমন ছেলে পিতাকে লিখলে পরম শ্রদ্ধেয় আব্বা, জনাব আব্বাজান সাহেব, জনাব বাবাজান, শ্রদ্ধেয় বাবাজী ইত্যাদি, স্ত্রী স্বামীকে লিখলে প্রাণপ্রিয় স্বামী, ওগো আমার পরানের স্বামী,ওগো আমার জীবন সাথী,পরাণ পাখি ইত্যাদি। এরপর লিখা হতো লিপির শুরুতে আমার হাজার হাজার সালাম নিবেন, ছোট হলে দোয়া পর সমাচার এই যে আশা করি বাড়ীর সকলকে নিয়ে কুশলেই আছো…। অনেকেই প্রতিটি প্যারাতে আর এর পরিবর্তে সংক্ষেপে বা স্টাইলের জন্য ইংরেজীতে আর লিখতেন, ইতি লেখার সময় ইংরেজী ‘ই’ অক্ষর লিখে ‘তি’ লিখতেন।
আগেকার যুগে প্রেমিক প্রেমিকার যোগাযোগ বা প্রেম নিবেদনের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও বহুলপ্রচলিত মাধ্যমও ছিল চিঠি আদান-প্রদান। মুখ ফুটে সরাসরি প্রেমের আবেদন জানানোর সাহস না করে চিঠির মাধ্যমে প্রেম নিবেদন করে অপেক্ষার প্রহর গুণা হতো প্রতিউত্তরের। এতে নানা ধরণের মুখরোচক ও আবেগময় লিখা থাকতো। প্রেমের চিঠি আদান প্রদানের সময় বন্ধু বা বান্ধবীর প্রতিবেশি বা সমমনা বন্ধু-বান্ধব অথবা বাড়ির ছোট ছোট ইচড়েপাকা কিশোর কিশোরীকে ব্যবহার করা হতো এবং এ কাজের জন্য তাদেরকে নানান ধরণের উপঢৌকন দেয়া হতো। প্রেমিক বা প্রেমিকা চিঠি পেয়ে সাড়া দিলে তখনি চিঠির উত্তর দিয়ে চিঠি চালাচালির মাধ্যমে প্রেমের প্রথম পর্ব শুরু হতো। আবার অনেকে প্রেম প্রত্যাখ্যান করলে চিঠি ছিঁড়ে বা পুড়িয়ে ফেলতো। বাহকের কাছ থেকে যেকোনভাবে জায়গা মতো না গিয়ে অভিভাবক বা মুরব্বী কারো হাতে চিঠি গেলে বিচার আচার কিংবা ঝগড়া ঝাটি মারামারিও হতো। অনেকেই নিজে চিঠি লিখার বা লিখানোর পরও বারবার পাঠ করে শুনতেন বা শুনাতেন যাতে কোনো তথ্য অসম্পূর্ণ না থাকে।
চিঠি লেখার কলাকৌশল উন্নত ও আবেগময় ভাষা শিখার জন্য বাজারে রং বেরঙ্গের ছোট ছোট বইয়ের কদর ছিল আকাশচুম্বী। এমনকি ফেরিওয়ালারা বাড়ি বাড়ি নিয়েও এসব বই বিক্রয় করতো প্রচুর। বইগুলোতে নানান ধরনের আবেগময় ছন্দও ছিল যা চিঠিতে ব্যবহার করা হতো। যেমন, ‘পুকুরেতে পানি নাই পদ্ম কেন ভাসে, যার সাথে দেখা নাই সে কেন হাসে’। অথবা ‘বাগানে কি ফুটে ফুল বিনা বরষণে, চিঠিতে কি ভরে মন বিনা দরশনে’। কিংবা ‘যাও পাখি বলো তারে সে যেন ভুলেনা মোরে’। শালা-শালি দুলাভাইকে চিঠি দিলে পরিশেষে লিখতো ‘আম খাইয়ো জাম খাইয়ো আমার পত্রের উত্তর দিয়ো’।
চিঠিতে ব্যক্তিগত পারিবারিক ও অন্যান্য খবরাখবর এবং আশয়বিষয় লেখার পরও প্রেরকের মধ্যে অনেক অসম্পূর্ণ কথা না বলার বা না লেখার অতৃপ্তি মনের মধ্যে আকুবাকু করতো। কি জানি কোন তথ্য বাদ গেলো এ নিয়ে অনেকেই গভীর চিন্তা করতেও দেখা যেতো।
দেশ বিদেশের বিষয়-আশয় জানার জন্য প্রবাসীদের জন্য সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও বহুল প্রচলিত মাধ্যম ছিল চিঠি আদান প্রদান। চিঠির মাধ্যমে প্রবাস থেকে বিস্তারিত হাল হকিকত জানানো হতো সপ্তাহে, পনের দিনে কিংবা মাসে অন্তত একবার। এতে লেখা থাকতো ব্যক্তিগত থেকে শুরু করে সাংসারিক পারিবারিক সামাজিক এমনকি রাজনৈতিক অনেক সংবাদ।
নব্বই দশকের পূর্ব থেকেই দেশের প্রতিটি জেলা সদর এবং পর্য্যয়ক্রমে বিভিন্ন উপজেলা সদরে ডিজিটাল টেলিফোন ব্যবস্থার সুবাদে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা,অষ্ট্রেলিয়া, ইউরোপের প্রায় সকল দেশ এবং মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ দেশের প্রবাসীদের সাথে সরাসরি ফোনে কথা বলার সুযোগ সৃষ্টি হয়। কিন্তু মিনিটে স্থানভেদে একশত থেকে দেড়শত টাকা করে বিল আসায় নিতান্ত অতি জরুরী প্রয়োজন ছাড়া কেহ টেলিফোন করতেননা। তাও দু’চার মিনিটের মধ্যেই আলাপ সীমাবদ্ধ থাকতো। দীর্ঘ আলাপ হলে রিভার্স কল করা হতো যাতে প্রবাসীকে কল ব্যাকের ম্যাসেজ দেয়া হতো, কল আসলে রিভার্স কলের বিল দেয়া হতো। এছাড়া এরও পূর্বে অতি জরুরী খবর পৌছানোর জন্য টেলিগ্রামের প্রচলন ছিল।বর্তমানে ইন্টারনেটের মাধ্যমে স্বল্প খরচে চ্যাটিং করা যায় এবং উভয় উভয়ের আলাপ সরাসরি শুনার পাশাপাশি দেখতেও পারে ওয়েব ক্যামেরার মাধ্যমে মনিটরের পর্দায়। ফেইসবুকে ঘন্টার পর ঘন্টা বাতচিত করা যায়। চার পাঁচ টাকা মিনিটে আমেরিকা, কানাডা ও ইউরোপের প্রায় সকল দেশেই ফোন করা যায়। নেট কলিং কার্ড মোবাইলে ঢুকিয়ে নিজ মোবাইলের মাধ্যমে স্বল্প মূল্যে আলাপ করা যায় ঘন্টার পর ঘন্টা। এছাড়া মোবাইলের দেশীয় ও আন্তর্জাতিক কলচার্জ ব্যাপকভাবে হ্রাস পাওয়ায় অনেকেই নিজের মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সরাসরি ফোন করে ভাবের আদান প্রদান করেন হরহামেশাই।তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় প্রবাসীরা বিদেশ থেকে ইন্টারনেট কার্ডের মাধ্যমে দেশে স্বজনদের মোবাইলে বা ফোনে আলাপ করেন ঘন্টার পর ঘন্টা। প্রবাসীরা ফোন করলে আর রাখতে চাননা। অপ্রয়োজনীয় গল্প গুজবেও তাদের লিপ্ত হতে দেখা যায়। বর্তমানে তরকারি রান্নার নিয়ম পদ্ধতি, তরকারিতে লবণ বেশি হলো না কম হলো, ঝাল কেমন হলো, রাতে ঘুম কেমন হয়েছে,পাশের বাড়ির অমুকের মা কি করতেছেন,বাচ্চায় হাসছে না কাঁদছে ইত্যাদি অপ্রয়োজনীয় আলাপও বাদ যায় না ফোনের মাধ্যমে। অনেকে টেলিফোনে শিশুর অস্পষ্ট আলাপ বা হাসি কান্নাও শুনান। এছাড়া রাজনীতি সচেতন প্রবাসীরা রাজনীতিরও খবরাখবর নিচ্ছেন হরদম টেলিফোন বা মোবাইলের মাধ্যমে। অনেক নেতা বিদেশে থেকেও দলকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রন করার কথা শুনা যায় এবং এ ব্যাপারে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় লেখালেখিও হয় বিস্তর। নির্বাচনের সময় দলের শীর্ষ নেতা নেত্রী থেকে শুরু করে মাঝারী ধরনের নেতা নেত্রীরা পর্যন্ত সময় স্বল্পতার কারণে বিভিন্ন এলাকায় স্বশরীরে উপস্থিত হতে না পেরে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভাষণ প্রদান ও ভোট প্রার্থনার একটা রেওয়াজও সৃষ্টি হয়েছে গত ক’বছর ধরে। এছাড়া প্রার্থীরা একসময়ে কয়েক জায়গায় যেতে না পেরে মোবাইলের মাধ্যমে বক্তব্য রাখেন ভোটারদের উদ্দেশ্যে আর তা স্পীকারের বা মাইকের মাধ্যমে শুনানো হয় সমর্থকদের। এছাড়া সরাসরি মোবাইলে ফোন করে বা এসএমএস করে সালাম জানিয়ে ভোট প্রার্থনারও রেওয়াজ সৃষ্টি হয়েছে।ঈদের সময় সম্ভাব্য প্রার্থীরা ভোটারদের মোবাইল নাম্বার খুঁজে খুঁজে ঈদের সালাম ও শুভেচ্ছা পাঠান এসএমএসের মাধ্যমে,যাতে ভোটের সময় স্মরণ হয় লিডারের এসএমএসের কথাটা। বর্তমানে ব্যক্তিগত মোবাইলের ছড়াছড়ির কারণে কপোত-কপোতি বন্ধু-বান্ধব সহপাঠি শালি-দুলাভাই কিংবা দেবর-ভাবীর রাসালাপও হয় হরদম। মোবাইল বা ফেইসবুকের মাধ্যমে প্রেম অতঃপর পরিচয়,পরিচয় থেকে পরিণয় কিংবা প্রতারণার ঘটনাও ঘটছে দেদারছে। বিয়ের আক্দ ও ফোনে হয় অহরহ। এছাড়া টেলিফোনের মাধ্যমে খতম বা মিলাদ শরিফের দোয়ায় শরিক এমনকি জানাযার নামায ও দোয়ায় শরিক হতেও দেখা যায়। হাল জামানায় যাদের বাড়ীতে আইএসডি টেলিফোন সংযোগ নেই তাদেরও কোন ভাবনা নেই স্বল্প মূল্যে পাওয়া যায় আই.এস.ডি মোবাইলের সীম।অথবা দেশের যে কোন মোবাইল থেকে প্রবাসীর কাছে মূহুর্তে এসএমএস পাঠানো যায় ‘‘প্লিজ কল ব্যাক’’।তখন প্রবাসীরা সাথে সাথে অথবা সময় সুযোগমতো কল ব্যাক করেন। প্রবাসীরা বর্তমানে দেশে রেমিটেন্সও পাঠাতে পারেন মুহুর্তে। মোবাইল ফোনে জানিয়ে দেন টাকা পাঠানোর খবর ও পিন নম্বর। মুহুর্তে ব্যাংকে গিয়ে টাকা তুলে আনা যায় অনায়াসে।এছাড়া মোবাইল রেমিটেন্সতো আছেই। আগের যুগে বিয়ের জন্য পাত্রী দেখতে গেলে পাত্রী চিঠি পত্র লিখতে পারে কিনা যাচাই করা হতো এমনকি হাতের লেখাও দেখা হতো সুন্দর কী না। বর্তমান ডিজিটাল যুগে কনে কম্পিউটারে কতটুকু পারদর্শী তা জানার রেওয়াজ এসে গেছে।চিঠি লেখার প্রয়োজন ফুরিয়ে যাওয়ায় না লিখে লিখে অনেকেরই হাতের লেখা বসে যাচ্ছে অথবা হাতের লেখা ঝালাই দিতে পারছেননা। আর ডিজিটাল এ যুগে ক্রমশঃ হারিয়ে যাচ্ছে চিঠি লেখার অভ্যাস। প্রয়াত কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর লেখা জনপ্রিয় গান ‘ভালো আছি ভালো থেকো, আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো’ এখন আর তেমন একটা গাইতে শুনা যায় না।

৭৭৫ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
সর্বমোট পোস্ট: ৭৭ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ১০১ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৮-২৮ ১১:৫৮:৪৮ মিনিটে
banner

৬ টি মন্তব্য

  1. আরজু মন্তব্যে বলেছেন:

    আপনার লিখার জন্য অনেক ধন্যবাদ। অনেক সুন্দর লিখা। লিখাটা একটু বড় তাই আমি সামারীস করে পড়েছি। হ্যা এটা ঠিক এখন ফেইসবুক ই -মেইল চ্যাট এসব আসতে আগের সেই চিঠির মাধূর্য টা আর নাই। মানুষের এখন এত সময় নাই চিঠি লিখার যান্ত্রিক সময়ে এই যান্ত্রিক যুগে। তবে আমি নিজে পার্সোনালি এখনো কেউ যদি আমাকে হাতে কোনো মেসেজ লিখে পাঠায় বা চিঠি দেয় আমি খুব পছন্দ করি। চিঠি এখনো আমার অনেক প্রিয়। আমাকে আসলে কেউ লিখেনা আমি সবাইকে লিখি (লোল)

  2. আমির হোসেন মন্তব্যে বলেছেন:

    মোবাইল,ফেসবুক, ইন্টারনেটের যুগে এসে চিঠি যাদুঘরে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

  3. খাদিজাতুল কোবরা লুবনা মন্তব্যে বলেছেন:

    চিঠি শব্দটিই আজ হারিয়ে যেতে বসেছে
    আমরা এসএমএস শব্দটি শুনতে এখন বেশি ভালোবাসি…

  4. শাহ্‌ আলম শেখ শান্ত মন্তব্যে বলেছেন:

    ভাই কালের আবর্তনে প্রযুক্তির উন্নতির কারণে একাল সেকাল ফারাক ।

  5. ঘাস ফড়িং মন্তব্যে বলেছেন:

    সেকালেৱটা বাদ ই দিলাম একালেৱ ict এৱ ফলে সেকালেৱ পত্ৰমিতালী এখন ফেসবুক জি এফ

  6. দীপঙ্কর বেরা মন্তব্যে বলেছেন:

    বিষয়টি সুন্দর
    তবে আরো বেশি প্যারা করে লিখলে ভাল পড়া যেত

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top