Today 06 Dec 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

প্রিয়ন্তী-০২ (সংস্কারের প্রাচীর ভাঙ্গা তরুণী)

লিখেছেন: জিল্লুর রহমান | তারিখ: ০৭/০৯/২০১৩

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 698বার পড়া হয়েছে।

ব্রজেন্দ্র নাথ ঠাকুর, নামটা বেশ বড় আর উচ্চারণটা আরো কঠিন, তাই সবাই সংক্ষেপে তাকে বজ ঠাকুর বলে ডাকে। বয়স আশি ছুঁই ছুঁই করছে কিন্তু শরীরের গড়ন ভালো হওয়ায় বয়স বোঝা যায় না। শৈশবে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করেছে এটা তার জন্য যেন একটা গর্বের বিষয়। বজ ঠাকুর সব সময় সাধু ভাষায় কথা বলে এটাও যেন তার একটা অহংকার। কথায় কথায় সে নিজে নিজে বলে, আমি হইলাম গিয়া সেই আমলের পঞ্চম শ্রেণী পাস। আগে শুদ্ধ বাংলা ভাষায় কেউ আমার সহিত কথা বলিতে পারিতো না, ইদানিং কেউ কেউ চলিত ভাষায় কথা বলে তবুও কথা বলার মধ্যে হাজার গণ্ডা ভুল। আরে নিজের মায়ের ভাষাটাই যদি ঠিক মতো বলিতে না পারিলে তবে আর শিখিলে কী? আর গীতা পাঠ? গীতা পাঠ, পূজা অর্চনা পালন করিবার মতো ঠাকুর তো এই অঞ্চলে দ্বিতীয়টি নেই।
বজ ঠাকুর চল্লিশ বছর যাবত পূজা মণ্ডপে পুরোহিতের দায়িত্ব পালন করে আসছে। আগের দিনে কেউ কোন সুপরামর্শের জন্য বজ ঠাকুরের স্মরণাপন্ন হতো, এখন শিক্ষার হার বেড়েছে, উচ্চ শিক্ষাও বেড়েছে তাই বজ ঠাকুরের কদর কিছুটা কমেছে তবে সনাতন রীতি-নীতির বিষয়ের এখনো বজ ঠাকুরই শ্রেষ্ঠ।
বাসন্তী বয়স যখন পনেরো কিংবা ষোল তখন দীপক চক্রবর্তীর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের সমস্ত সনাতন আনুষ্ঠানিকতা পালন করে বজ ঠাকুর। সেসূত্রে বজ ঠাকুর শেফালি আর দীপকের সংসারে অযাচিতভাবে হস্তক্ষেপ করে। দীপক সেটা বুঝতে পেরেও মেনে নেয়।
দীপক চক্রবর্তীর দু’মেয়ে। বড় মেয়ে অঞ্জনা চক্রবর্তী পড়াশোনায় ভালো, দেখতেও অপূর্ব সুন্দরী। নবম শ্রেণীতে লেখাপড়া করার সময় থেকে বিয়ের জন্যসম্বন্ধআসতে থাকে, প্রথম থেকেই দীপক বাবুর ইচ্ছা দু’মেয়েকেই লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষের মতো মানুষ করবে। অঞ্জনার এস.এস.সি পরীক্ষার ফলাফলও ভালো আর সে কারণেই বিয়ের সম্বন্ধআরো বেশি করে আসতে শুরু করল।
একবার সম্বন্ধএলো পার্বতীপুর থেকে। পাত্র এম.এস.সি পাস করে একটা বেসরকারী কলেজে অধ্যাপনা করে। দেখতে শুনতে ভালো, ধনাঢ্য পরিবারের ছেলে। পাত্রের বাবার প্রায় এক’শ বিঘা আবাদি জমি আছে, যা তার দু’ছেলের মধ্যে সমান ভাগে ভাগ হলে পাত্রের ভাগে পরবে পঞ্চাশ বিঘা জমি। এমন পাত্র পাওয়া দুষ্কর ব্যাপার তারওপর বর্ণ অনুযায়ী পাত্র পাওয়া তো আরো কঠিন।
সবকিছু শুনে দীপক বাবু কিছুটা নমনীয় হলো। বাসন্তী সামান্য আপত্তি থাকলেও পাত্রের যোগ্যতা, বিষয় সম্পত্তি আর পারিবারিক ঐতিহ্যের কাছে সেও নীরব সমর্থন দিল। অঞ্জনা একবার আপত্তি তুলতেই বজ ঠাকুর রাম, রাম বলে তাকে তিরস্কার করল।
বজ ঠাকুর আরো বলল, কলি যুগ দীপক বুঝিলে, আগের দিনে মেয়েদের বিবাহ হইয়াছে কোনদিন জানিতেও চাহে নাই পাত্র কী করে? কোথায় বাড়ি? পাত্রের গায়ের রং কী রকম? আর আজকাল কী না বিয়েতে মেয়ের সম্মতি লইতে হইবে রাম, রাম, রাম।
দীপক বলল, না ঠাকুর মশাই অঞ্জনা বলছিল ও আরো লেখাপড়া করবে।
লেখাপড়া করিবে তো ভালো কথা, শিক্ষিত পরিবার, জামাই বাবু নিজেও কলেজের অধ্যাপক, অঞ্জনার লেখাপড়ার কোন অসুবিধা হইবে না। জামাই বাবু নিজের আগ্রহে অঞ্জনাকে লেখাপড়া শিখাইবে।
দীপক বাবু অঞ্জনার বিয়ে দিল অনেক টাকা পণ দিয়ে এবং খুব ধুমধাম করে।
দীপক চক্রবর্তীর ছোট মেয়ে প্রিয়ন্তী চক্রবর্তী। রাজশাহী কলেজে লেখাপড়া করে। অঞ্জনার মতো প্রিয়ন্তীও এস.এস.সি পাস করার আগে থেকেই তার বিয়ের সম্বন্ধআসতে থাকে কিন্তু দীপক বাবুর একই কথা, অঞ্জনার বিয়ে দিয়েছি, আশা করেছিলাম বিয়ের পর জামাই তাকে লেখাপড়া শেখাবে কিন্তু তা আর হলো না। আসলে বিয়ের পর মেয়েদের আর লেখাপড়া হয় না।
প্রিয়ন্তীও তার সিদ্ধান্তে অনড়, আগে লেখাপড়া শেষ করবে, নিজের পায়ে দাঁড়াবে, তারপর বিয়ে।

সেদিন লাইব্রেরীতে কথা বলার পর থেকে সুশান্ত একটু সুযোগ পেলেই প্রিয়ন্তীর সঙ্গে কথা বলতো, সুশান্ত যেমন প্রিয়ন্তীকে ভালোবেসেছে প্রিয়ন্তীও তেমনি মনে মনে সুশান্তকে ভালোবেসেছে। তারপর থেকে কলেজ ছুটি হলেই দু’জনে বেরিয়ে পড়ে যেন মুক্ত বিহঙ্গের মতো।
আজ কলেজ বন্ধ, গতকাল প্রিয়ন্তীর সঙ্গে সুশান্তর কথা হয়েছে। আজ সকালবেলা দু’জনে একসঙ্গে বের হবে। সুশান্ত সকাল থেকে প্রিয়ন্তীর মোবাইলে রিং দিচ্ছে কিন্তু প্রিয়ন্তীর মোবাইল বন্ধ। প্রিয়ন্তীকে না পেয়ে সুশান্ত প্রিয়ন্তীর রুমমেট-এর মোবাইলে রিং করল কিন্তু না তার মোবাইলও বন্ধ। সুশান্ত কিছুটা বিরক্ত বোধ করল। তারপর সে প্রিয়ন্তীর মেসের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলো।
সুশান্তর মেস থেকে প্রিয়ন্তীর মেসে যেতে সাহেব বাজার মোড় অতিক্রম করতে হয়। প্রিয়ন্তীর ওপর রাগ থাকা সত্ত্বেও সে সাহেব বাজার মোড়ের একটা দোকান থেকে ফুল কিনলো। তারপর প্রিয়ন্তীর মেসের গেট-এ গিয়ে দাঁড়ালো।
মেসে একজন সার্বক্ষণিক গার্ড নিয়োজিত থাকে। সে গম্ভীর কণ্ঠে সুশান্তকে জিজ্ঞেস করল, কাকে চাই?
প্রিয়ন্তীকে।
মোবাইল করো।
মোবাইল বন্ধ, একটু ডেকে দিন না প্লিজ!
কী বলতে হবে?
বলবেন সুশান্ত এসেছে।
ঠিক তো?
মানে!
মানে এখানে তো সুশান্ত অশান্ত সবাই আসে, তুমি সুশান্ত ঠিক তো?
সুশান্ত হেসে উঠল, একেবারে ঠিক।
গার্ড ভিতরে চলে গেল। কিছুক্ষণ পর প্রিয়ন্তী বেরিয়ে এলো। প্রিয়ন্তী আজ লাল জর্জেটের কামিজ পরেছে। এমনিতেই প্রিয়ন্তীর গায়ের রং ধব্ধবে ফর্সা তারওপর লাল রংয়ের কামিজ যেন ফর্সা গালের ওপর আলতার প্রলেপ দিয়েছে। প্রিয়ন্তী কামিজের সঙ্গে ম্যাচিং করে কপালে একটা বড় আকারের টিপ দিয়েছে, সবকিছু মিলিয়ে প্রিয়ন্তী যেন আজ অপূর্ব সাজে সেজেছে।
সুশান্ত প্রিয়ন্তীর দিকে কয়েকমুহূর্ত তাকিয়ে রইল।
আজ প্রিয়ন্তী চোখ সরিয়ে নিল, কখন এলি সুশান্ত।
এই তো কয়েকমিনিট হলো, তোর মোবাইলে-
প্রিয়ন্তী সুশান্তকে ইশারা করে থামতে বলে হাত এগিয়ে দেখিয়ে বলল, চল।
দু’জনে হাঁটতে হাঁটতে রাস্তায় এসে একটা রিক্সায় উঠল।
প্রিয়ন্তী জিজ্ঞেস করল, কোথায় যাবি?
চল পার্কে যাই।
চল।
কয়েকমিনিটের মধ্যে দু’জনে পার্কের গেটে এসে নামল। গেট পেরিয়ে অনেকদূর ভিতরে ঢুকে গেল।
দু’জনে একটা গাছের নিচে বসল।
প্রিয়ন্তী জিজ্ঞেস করল, এখন বল, মেসের সামনে কী বলতে চাচ্ছিলি?
আমি সকাল থেকে তোর মোবাইলে রিং দিচ্ছিলাম কিন্তু মোবাইল বন্ধ।
আমার মোবাইলে বেশিক্ষণ চার্জ থাকে না, কম দামি মোবাইল তো।
একটা বেশি দামি মোবাইল কিনে ফেল।
টাকা পাবো কোথায়?
আমি দিব।
তুই দিলেই আমি নিবো?
কেন? অসুবিধা কী?
সুশান্তর অতি আগ্রহের জবাবে প্রিয়ন্তী একবার রাগান্বিতচোখে সুশান্তর দিকে তাকাল। সুশান্ত আর কিছু বলল না একরকম অপরাধীর মতো সংকুচিত হলো।
কিছুক্ষণ দু’জনে নীরব তারপর সুশান্ত আবার বলতে শুরু করল, তোর মোবাইল বন্ধ পেয়ে তোর রুমমেট-এর মোবাইলে রিং দিলাম কিন্তু ওর মোবাইলও বন্ধ।
ও সিমকার্ড পাল্টিয়েছে।
মেয়েদের এই একটা দোষ, ক’দিন পর পর সিমকার্ড পাল্টায়।
পাল্টায় কি আর সাধে? ক’দিন যেতে না যেতেই নাম্বারসব ছেলেদের হাতে হাতে চলে যায়। দিন রাত বিরক্ত করে, মিস্ কল দেয়, আজে বাজে কথা বলে, এ্যডাল্ট এম.এম.এস পাঠায়।
তোরা সে সুযোগ দিস কেন?
সুযোগ দিই মানে? মোবাইল রিচার্জ করতে গেলে সেখান থেকেই নাম্বারনিয়ে শুরু হয় বিরক্ত করা।
ছেলেরা আসলে তোদের বিরক্ত করে নাকি তোরা বিরক্ত হতে আনন্দ পাস।
মানে?
না কোন কোন মেয়ে তো চায় দিন রাত তার মোবাইলে কল আসুক, তা না হলে কোন মেয়ে যদি একবার কোন ছেলেকে তাকে মোবাইল করতে নিষেধ করে বা আগ্রহ পাওয়ার মতো কোন সাড়া না দেয় তবে মোবাইল করবে কেন?
প্রিয়ন্তী সুশান্তর কথার কোন জবাব দিল না। সে দূরে তাকিয়ে রইল। একটা ছেলে আর একটা মেয়ে খুব ঘনিষ্ঠভাবে বসে আছে, ছেলেটা মেয়েটার কাঁধে হাত দিয়েছে আর মেয়েটা ছেলেটার মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। সুশান্ত অনেকক্ষণ যাবত প্রিয়ন্তীর দৃষ্টির দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর জিজ্ঞেস করল, প্রিয়ন্তী কী দেখছিস?
প্রিয়ন্তী কিছুটা লজ্জা পেল, না কিছু না।
সুশান্ত প্রিয়ন্তীর একটা হাত নিজের হাতের মধ্যে নিল।
প্রিয়ন্তী জিজ্ঞেস করল, সুশান্ত তুই আমাকে খুব ভালোবাসিস, না?
হ্যাঁ।
আচ্ছা তুই আমাকে একটা সত্য কথা বলতো, সেদিন হঠাৎ করে তুই লাইব্রেরীতে গিয়েছিলি নাকি আগে থেকেই আমার সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করছিলি?
সুশান্ত লজ্জা পেল, প্রিয়ন্তী।
আচ্ছা থাক আর বলব না।
না তা তো হয় না, কারণ তুই আমার অনেকক্ষণ থেকে ইন্টারভিউ নিচ্ছিস আমাকে অন্ততঃ একটা প্রশ্নের উত্তর দে।
বল?
তুই কি আমাকে ভালোবাসিস?
প্রিয়ন্তী এ কথার উত্তরে কিছু বলল না। সুশান্তর চোখে চোখ রাখল। আজ সুশান্ত চোখ নামালো না, কয়েক সেকেণ্ড পর প্রিয়ন্তী একটা মুচকি হাসি হেসে বলল, আমার উত্তর পেয়েছিস?
সুশান্ত না বোঝার ভান করে বলল, না।
সব প্রশ্নের উত্তর মুখে দিতে হয় না, অনেক প্রশ্নের উত্তর অনুভব করতে হয়।
আমি চোখের ভাষা বুঝি না, হৃদয়ের ভাষা বুঝি না, অনুভব করতেও পারি না।
সুশান্ত আমি তোর সরলতায় গর্ব বোধ করি আর তুই আমার সঙ্গে চালাকি করছিস?
সুশান্তর সেই সরল হাসি, আমি সরল না বোকা, তাই কিছু বুঝিনা।
বুঝিস না, না? বলে প্রিয়ন্তী সুশান্তর কপালে একটা চুমু দিয়ে বলল, আমি তোকে ভালোবাসি সুশান্ত, তোকে ছাড়া আমি কাউকে কোনদিন কল্পনাও করতে পারি না। যেকথা তোর আগে বলা উচিত ছিল সেকথা আমি বললাম, তুই তো একটা ভীতু।
সুশান্ত যেন আকাশের চাঁদ হাতে পেল, সে প্রিয়ন্তীর চুলগুলো আঙ্গুল দিয়ে সরিয়ে দিয়ে তার কপালে চুমু দিল, প্রিয়ন্তী আমিও তোকে ছাড়া কোনদিন কাউকে কল্পনা করতে পারি না।
দু’জনে আরো কিছুক্ষণ বসে রইল। তারপর সুশান্ত বলল, প্রিয়ন্তী চল নদীর ধারে একটু বেড়িয়ে আসি?
চল।
দু’জনে পার্কের পাশেই পদ্মার ধারে গেল। তখন একটু একটু বাতাস বইছে। নদীতে ছোট ছোট নৌকাগুলো যেন মাঝে মাঝে ঢেউয়ের মধ্যে হারিয়ে যাচ্ছে। পদ্মার পাড়ে ছলাৎ ছলাৎ শব্দে ঢেউ আছড়ে পড়ছে। আর সেই সুমধুর ছন্দময় শব্দ সুশান্তকে যেন শিহরিত করছে।
দু’জনে একটা বেঞ্চে বসল।
পদ্মার পাড় থেকে দু’জন ফিরছে তখন সন্ধ্যা হতে আর বেশি দেরি নেই। সুশান্ত প্রিয়ন্তীকে নিয়ে একটা হোটেলে ঢুকল।
প্রিয়ন্তী কিছু বলল না।
সুশান্ত নাস্তার অর্ডার দিল।
প্রিয়ন্তী তো দেখে অবাক, এত নাস্তা খাবো কী করে?
আজকের দিনটা আমার জন্য একটু কষ্ট কর।
কিন্তু বিকেলবেলা এত বেশি নাস্তা খেলে তো রাত্রে ভাত খেতে পারবো না।
খাবি না।
আচ্ছা সুশান্ত একটা কথা তো জানাই হলো না, তোদের গ্রামের বাড়ি যেন কোথায়?
দিনাজপুর, ফুলবাড়ী উপজেলায়।
আমার বাড়ি তো তুই জানিস?
হ্যাঁ, দিনাজপুর, বিরামপুর উপজেলায়।
একেবারে প্রতিবেশী উপজেলায়, তাই তো আমার মনে হয় তোকে কোথায় যেন দেখেছি।
হবে হয়ত কোনদিন ট্রেনে বা রাস্তায়।
আগে বলিসনি কেন?
বলার সুযোগ পাইনি, মনে করেছিলাম তুই আবার কখন কি মনে করিস?
না, কিচ্ছু মনে করতাম না।
প্রিয়ন্তী আর কিছু বলল না, সে খেতে শুরু করল। নাস্তা শেষে কোল্ড ড্রিংক্স এর পাইপে মুখ লাগিয়ে প্রিয়ন্তী জিজ্ঞেস করল, আচ্ছা সুশান্ত তোরা ক’ভাই বোন?
আমরা দুই ভাই।
তুই?
আমি ছোট।
তোর বড় ভাই বিয়ে করেছে?
হ্যাঁ।
তোর বউদি কি দেখতে খুব সুন্দর?
সুশান্ত একটা হাসি হাসল, প্রিয়ন্তী সে হাসির কোন অর্থ বুঝল না। সে না বুঝেই বলল, আমি তাদের সঙ্গে মানাবো তো?
আমি তোকে ভালোবাসি, তুই কার চেয়ে কম সুন্দরী সেটা আমার কাছে কোন বিষয় না, তুই আমার চোখে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দরী, সবচেয়ে আপন। তোকে যদি কেউ পছন্দ না করে তাতে আমার কিচ্ছু যায় আসে না, আমি তোকে ভালোবেসেছি, আমি তোকে বিয়ে করব, তোকে পাওয়ার জন্য আমি সবকিছু ছাড়তে রাজি আছি।
প্রিয়ন্তী সুশান্তর দিকে তাকিয়ে রইল তার কথায় কোন জড়তা নেই, কোন কৃত্রিমতানেই। একেবারে স্বাভাবিক, যেন খাঁটি অন্তরের কথা। সুশান্তর কথা শেষ হলেও প্রিয়ন্তী স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল।
সুশান্ত জিজ্ঞেস করল, কী দেখছিস?
প্রিয়ন্তী সুশান্তকে একটু ধাক্কা দিয়ে মুচকি হাসি হাসলো, আমি তোকে ভালোবাসি এবং বিশ্বাস করি কিন্তু সুশান্ত তোকে যদি কোন দিন কোন সাহসী কাজ করতে হয় তবে তুই সাহস করতে পারবি কি না সে নিয়ে আমার সন্দেহ আছে।
সুশান্ত প্রিয়ন্তীর হাতে একটা চাপ মেরে তার থুতনি উঁচু করে ধরে বলল, আমাকে তোর সন্দেহ হয়, না? আমি কোন সাহসী কাজ করতে পারবো না। যখন সময় হবে তখন দেখিস, আমি সাহসী কি না?
প্রিয়ন্তী সুশান্তর চোখে চোখ রাখল। তার চোখে কোন লজ্জা নেই, কোন চাতুরতা নেই। তার চিরাচরিত সরলতায় প্রিয়ন্তীর বুক গর্বে ভরে গেল।
চলবে…

৭৮২ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
আমি পেশায় একজন প্রকৌশলী। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে একসময় লেখালেখি শুরু করেছিলাম। বর্তমানে আমার লেখা উপন্যাসের সংখ্যা ১৮টি। এখনো লেখা চলছে অবিরত। আমার ফোন নাম্বার-০১৭১৮১৫৭০৭৬
সর্বমোট পোস্ট: ৩৯ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৮৭ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৮-০২ ০৪:০১:৪৪ মিনিটে
Visit জিল্লুর রহমান Website.
banner

৪ টি মন্তব্য

  1. আলামগীর কবির মন্তব্যে বলেছেন:

    গতানুগতিক লেখা হিসাবে মন্দ হয়নি। আজে বাজে কথা বলে, এ্যডাল্ট এম.এম.এস পাঠায়। এ্যডাল্ট শব্দটির ব্যবহার সঠিক হয়নি। একটু সতর্কতার সাথে শব্দগুলো ব্যবহার করবেন আশাকরি। আর লিখতে থাকুন। আরও ভাল হবে নিশ্চয়। ।

  2. এম, এ, কাশেম মন্তব্যে বলেছেন:

    ভালই তো লিখছেন
    চালিয়ে যান

  3. শাহ্‌ আলম শেখ শান্ত মন্তব্যে বলেছেন:

    অনেক ভাল লাগল । সুন্দর করে গুছিয়ে লিখেছেন ।

  4. আমির হোসেন মন্তব্যে বলেছেন:

    ভাল লাগল।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top