Today 19 Aug 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

প্রিয়জনদের কে না ফিরে পেতে চায়?

লিখেছেন: শওকত আলী বেনু | তারিখ: ২০/১২/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 689বার পড়া হয়েছে।

 

হলিউডে অনেক মুভিতে দেখা যায় মৃত মানুষ জেগে উঠে।এরা একবার জেগে উঠলে জ্যান্ত মানুষগুলোকে খেতে শুরু করে দেয়।জম্বি হয়ে উঠে। কী ভয়ানক কাণ্ড ! দেখলে ছমছম করে উঠে শরীরটা।মৃত মানুষ জেগে উঠার এই ভৌতিক গল্প শুধু সিনেমাতেই মানায়।তবে এই ব্যতিক্রমী কর্মটি যে শুধু সিনামাতেই ঘটে থাকে তা কিন্তু নয়। বাস্তবেও এমনটি দেখা যায় দৈবাৎ ক্রমে। আর তাই এটি সংবাদ হিসেবে অনেক সময় গুরুত্ব পেয়ে যায়। এমন একটি ভয়ংকর সংবাদ এসেছিল পত্রিকায় এই বছরের গোড়ার দিকে।

ঘটনাটি এই রকম। সব কিছু ঠিকঠাক। মৃতদেহ ব্যাগে ঢোকানো হয়েছে। কাগজ-কলমের কাজও শেষ। হাসপাতালের চিকিৎসকরাও সময়মতো ডেথ সার্টিফিকেট দিয়ে দিয়েছেন।অন্ত্যেষ্টিতে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি যখন প্রায় শেষ, তখনই হঠাৎ নড়ে উঠল কয়েক মুহুর্তের আগের নিথর দেহটা। নাম তাঁর ওয়াল্টার উইলিয়ামস!

না এটা হলিউডের কোনো গল্পের চরিত্র নয়। ঘোর বাস্তব। মিসিসিপির হোমস কাউন্টির এই বাসিন্দার নাম তখন বিশ্ব জুড়ে সংবাদপত্রের শিরোনাম হয়েছিল। এমনটি যে এই দুনিয়াতে একবারই ঘটেছে তা কিন্তু নয়। আমাদের আশেপাশেও ঘটেছে দুই একবার। এমনটা হতেই পারে। চিকিৎসকদের ভুলের খেসারত দিতে হয়েছে এই সব ঘটনার নায়কদের। বুকের ভিতরে হৃৎপিণ্ডটা থেমে গিয়েছিল কিনা তা আঁচ করতে ভুল করে ফেলেন চিকিত্সক সাহেবরা। নাড়ি টিপে প্রমাণ করতে পারেননি যে প্রাণ আছে কি নেই। যে ভাবেই হোক ঈশ্বর হয়তো ফিরিয়ে দিয়েছেন ওয়াল্টার উইলিয়ামস এর জীবন।

ওয়াল্টার উইলিয়ামস এর জীবন মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসায় সেদিন তাঁর পরিবারসহ বন্ধুরাও খুব খুশি হয়েছিলেন। হয়তো এইটি ছিল মিরাক্যাল। কিংবা চিকিৎসকদের ভুলের খেসারত। কারণ চিকিৎসকরা নাড়ি টিপে ধরতে পরনেনি যে প্রাণ পাখিটা দেহের ভিতরেই লুকিয়ে ছিল।

ওয়াল্টার উইলিয়ামস এর এই নাড়ি টিপা-টিপি আর হৃৎপিণ্ডের কম্পন সামলাতে গিয়ে ডাক্তার বাবুরা দৈবাৎ হোচট খেলেও জ্যান্ত হেফাজত কর্মী আল ফারুক, সোহেল, লোকমান ও জাহিদ এর মতো অসহায় মানুষগুলোর হৃৎপিণ্ডের কম্পন যে ফুড়ুৎ করেছিল তা তেঁতুল তত্বের হুজুররা সাক্ষাৎ পেয়ে ডেথ সার্টিফিকেট দিয়ে দিয়েছিলেন ঐদিনই যেদিন শাপলা চত্বরে বসে হুজুররা দেশনেত্রীর আহবানে সাড়া দিয়ে ক্ষমতা দখলের কাল্পনিক জালে আটকে গিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন।গাড়িতে লাল সবুজ পতাকার পত পত শব্দের আড়ালে হাওয়াই-মিঠাই চেঁটে চেঁটে তেতুল তত্বের লোভনীয় জিভে সেদিন রক্ত খসেছিলেন শাপলা চত্বরে প্রবল বেগে।

খবরে প্রকাশ ঢাকার শাপলা চত্বরের আলোচিত সমাবেশে ধর্মভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম এর বেশ কয়েকজন ‘মৃত’ (কথিত মৃত !) কর্মী সম্প্রতি জ্যান্ত হয়ে জনসম্মুখে এসে হাজির হয়েছেন ! হুজুরদের করা তালিকায় যাদেরকে মৃত বলে ঘোষণা দেয়া হয়েছিল তাঁরাই এখন জ্যান্ত হয়ে পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।দিব্যি পানাহার করে জীবন যাপন করছেন কথিত মৃত মানুষগুলো !

না এইটিও কোনো ভৌতিক গল্পের শিরোনাম নয়। কিংবা হলিউডের মুভিতে বর্ণিত কোনো গল্পও নয়। এইটি পত্রিকায় প্রকাশিত মৃত হেফাজত কর্মীদের জনসম্মুখে চলে আসার সংবাদ। খবরে জানা যায় চট্টগ্রামের মাজার থেকে উদ্ধার করা হয়েছে এক সময়ের ‘মৃত’ ঘোষিত বর্তমানে জ্যান্ত হেফাজতকর্মী আল ফারুককে। সোহেল নামে আর এক হেফাজতকর্মী নিহত হয়েছে দাবি করা হলেও তাঁকে পুলিশ খুঁজে পেয়েছে চাঁদপুর উজানী মাদ্রাসা থেকে।এ ছাড়াও ‘নিহত’ জাহিদুল ইসলাম এবং লোকমান নামের দুই জনকেও পাওয়া গেছে ইতিমধ্যে। গোয়েন্দাদের ধারণা নিখোঁজ ও মৃত আরও হেফাজতকর্মীর হদিস মিলবে শীঘ্রই।

আমার এক পরিচিত জন ( নাম অপ্রকাশিত রেখে দিলাম) যিনি লন্ডনে বসবাস করলেও শাপলা চত্বরের ওই ঘটনার সময় তিনি দেশে অবস্থান করছিলেন।লন্ডনে ফিরে এসে তিনি যে বয়ান দিয়েছিলেন তাঁর আদি-অন্ত জেনে শুরুতে বেশ মুষড়ে পড়েছিলাম। তিনি যেভাবে বয়ান করছিলেন তার সারমর্ম হলো দশটি ট্রাকে ভর্তি করে হেফাজত কর্মীদের লাশ গভীর রাত্রেই গায়েব করে দেয়া দিয়েছে সরকারী বাহিনীরা। পাঁচটি ট্রাক নাকি পিলখানায় ঢুঁকে গিয়েছিল যাতে ভোর হওয়ার আগেই লাশগুলো মাটির নিচে পুঁতে রাখা যায়। আর বাকি পাঁচটি ট্রাক যশোর বর্ডার দিয়ে ভারতে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে যাতে দেশের মাটিতে লাশের চিহ্ন কোথাও খুঁজে পাওয়া না যায়।

প্রথমে হাজার হাজার, পরে শত শত নিহত হওয়ার দাবি করলেও সঠিক সংখ্যা কত তা আর জানাই গেল না এখন পর্যন্ত।অধিকার রক্ষার নামে আদিল সাহেবরাও শেষপর্যন্ত একষট্টি তে এসে ঘোষণা দিলেও সঠিক তালিকা দিতে পারেননি কখনো। তবে মৃত্যের সঠিক সংখ্যা জানা না গেলেও কতজন মৃত কর্মী জ্যান্ত হয়ে এপর্যন্ত ফিরে এসেছেন তা হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক আল্লামা আজিজুল হক সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।আল্লামা আজিজুল হক ইসলামাবাদী’র মুখ থেকেই শোনা যাক। তিনি বলেছেন, ‘শাপলা চত্বরের ঘটনার পর প্রাথমিকভাবে আমরা যে তালিকা দিয়েছিলাম তা ছিল অনুমাননির্ভর।তাদের কেউ কেউ ফিরে এলেও নিখোঁজ আছেন অনেকেই। আমাদের ধারণা, এ পর্যন্ত ১০-১২ জন নিখোঁজ ও মৃত হিসেবে তালিকাভুক্ত হেফাজতকর্মী ফিরে এসেছেন।’ ( প্রিয় ডট কম) ।

চাঁদে রাজাকার সাইদীর মুখ দর্শনের মত অন্ধ বিশ্বাসে সেইদিন প্রথমে সংখ্যাটি লাখ লাখ হলেও পরে হাজার হাজার এবং তারপরে শত শত এবং সব শেষে কত তাঁর কোনো হিসাবই দেয়া গেল না। তবে পুঁথিকাব্যের বহুলশ্রুত সেই বয়ানটা মনে করে দেয়-“লাখে লাখে সৈন্য মরে কাতারে কাতার, গনিয়া দেখিল মর্দ চল্লিশ হাজার”।
সংখ্যা যতই হোক না কেন সব মৃত্যুই কষ্টের। একজন মরলেও মৃত্যু । এক হাজার মরলেও মৃত্যু । প্রতিটি মৃত্যুই সমান কষ্টের। তবে সেই মৃত্যু যদি হয় অপমৃত্যু কিংবা হত্যা জনিত মৃত্যু তা হলেও তো কথাই নেই। কিন্তু মৃত্যু যখনই লাশের রাজনীতিতে রূপ নেয় তখন হয়ে যায় গুজবের খেলা। আর এই গুজবের খেলা খেলতে গিয়ে মৃত মানুষের জন্যে যে কষ্টগুলো বুকে জমে থাকে তাও একদিন পালিয়ে বেড়ায় মনেরই অজান্তে। হেফাজতের ক্ষেত্রেও এমনটিই ঘটেছিল।

সেদিন ওয়াল্টার উইলিয়ামস এর প্রাণ মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসায় তাঁর পরিবারসহ বন্ধুরাও খুব খুশি হলেও হেফাজতের নিহত প্রাণগুলো ফিরে আসায় নেতারা কি খুশি হতে পেরেছেন? পারেননি। কারণ তাঁরা জানেন মৃত কর্মীদের জানাজা ও জেয়াফতের কর্মটি প্রায় দেড় বছর আগেই সম্পন্ন করে ফেলেছেন তাঁরা। মৃত হেফাজতকর্মীরা ফিরে আসতে শুরু করায় হুজুররা এখন মহা বিব্রত। বিপদেও আছেন। ইমেজ সংকট তাদেরকে তাড়া করছে। হায় হায় ধর্মান্ধদের এই কী কাণ্ড ! প্রিয়জনদের কে না ফিরে পেতে চায়?

৬৭৩ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
লেখালেখি করি।সংবাদিকতা ছেড়েছি আড়াই যুগ আগে।তারপর সরকারী চাকর! চলে যায় এক যুগ।টের পাইনি কী ভাবে কেটেছে।ভালই কাটছিল।দেশ বিদেশও অনেক ঘুরাফেরা হলো। জুটল একটি বৃত্তি। উচ্চ শিক্ষার আশায় দেশের বাইরে।শেষে আর বাড়ি ফিরা হয়নি। সেই থেকেই লন্ডন শহরে।সরকারের চাকর হওয়াতে লেখালেখির ছেদ ঘটে অনেক আগেই।বাইরে চলে আসায় ছন্দ পতন আরো বৃদ্বি পায়।ঝুমুরের নৃত্য তালে ডঙ্কা বাজলেও ময়ূর পেখম ধরেনি।বরফের দেশে সবই জমাট বেঁধে মস্ত আস্তরণ পরে।বছর খানেক হলো আস্তরণের ফাঁকে ফাঁকে কচি কাঁচা ঘাসেরা লুকোচুরি খেলছে।মাঝে মধ্যে ফিরে যেতে চাই পিছনের সময় গুলোতে।আর হয়ে উঠে না। লেখালেখির মধ্যে রাজনৈতিক লেখাই বেশি।ছড়া, কবিতা এক সময় হতো।সম্প্রতি প্রিয় ডট কম/বেঙ্গলিনিউস২৪ ডট কম/ আমাদেরসময় ডট কম সহ আরো কয়েকটি অনলাইন নিউস পোর্টালে লেখালেখি হয়।অনেক ভ্রমন করেছি।ভালো লাগে সৎ মানুষের সংস্পর্শ।কবিতা পড়তে। খারাপ লাগে কারো কুটচাল। যেমনটা থাকে ষ্টার জলসার বাংলা সিরিয়ালে। লেখাপড়া সংবাদিকতায়।সাথে আছে মুদ্রণ ও প্রকাশনায় পোস্ট গ্রাজুয়েশন।
সর্বমোট পোস্ট: ২০৩ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৫১৯ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৬-১৭ ০৯:২৪:৩১ মিনিটে
banner

২ টি মন্তব্য

  1. সহিদুল ইসলাম মন্তব্যে বলেছেন:

    আমি এখানে হেফাজতের কোনো দোষ দিতে চাইনা, কারণ ওদের দিয়ে করানো হয়েছে, কারণ অনেক বড় বড় ব্যক্তিরা সেদিন বলেছিলেন হাজার হাজার মানুষ পাখির মত গুলি করে মারা হয়েছে , এখন ওদের প্রত্যাবর্তনে ওই ব্যক্তিরা কিভাবে মুখ দেখায় ?

  2. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    আমি আপনার সাথে একমত না।

    মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top