Today 26 May 2020
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

প্রিয়ন্তী-১৩ (সংস্কারের প্রাচীর ভাঙ্গা তরুণী)

লিখেছেন: জিল্লুর রহমান | তারিখ: ২৭/১০/২০১৩

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 789বার পড়া হয়েছে।

Priontiহাজত খানায় আরো একজন ভদ্রলোক ছিল। তাকেও হোটেল থেকে ধরে নিয়ে এসেছে। সে স্কুল শিক্ষক, এবারই প্রথমে শিক্ষা বোর্ডে একটা কাজ নিয়ে রাজশাহী এসেছে, রাত্রি যাপনের জন্য একটা হোটেলে উঠেছে তারপর সেখান থেকে রাতে পুলিশ ধরে নিয়ে এসেছে। ভদ্রলোক এত করে অনুনয় করেছিল সে কোন অনৈতিক কাজ করেনি কিন্তু পুলিশ তার কথায় কর্ণপাত করেনি। ভদ্রলোকের গণ্ডদেশ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে। কথায় কথায় বলল, বাড়িতে বড় ছেলেমেয়ে আছে তারা যখন তার বাবার চরিত্র জানবে তখন সে কীভাবে তাদের সামনে মুখ দেখাবে। তার এতদিনের সংসার, তার প্রতি স্ত্রীর গভীর ভালোবাসা ছিল, অন্ধ বিশ্বাস ছিল আজ সব ধুলিসাৎ হয়ে যাবে।
ভদ্রলোকের কাছ থেকে শুনে সুশান্তর শান্ত মন অশান্ত হয়ে উঠল। রাজশাহী শহরে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে, বিভিন্ন জেলার ছাত্র-ছাত্রীরা এখানে লেখাপড়া করতে আসে। শহরের কোন্ কোন্ পাড়ায় মাদকের আস্তানা আছে সেখানে গিয়ে ছেলেমেয়েরা মাদকের নেশায় অতলে ডুবে যাচ্ছে। লেখাপড়ার নামে বাড়ি থেকে বাবা-মা’র কষ্টার্জিত টাকা এনে ছেলেমেয়েরা মাদক সেবন করছে। মাঝে মাঝে সেখান থেকে পুলিশের মাসোহারা গ্রহণের বিষয়টি পত্রিকায় নিউজ আকারে আসে। প্রথম ক’দিন চিরুনি অভিযান, শাঁড়াশি অভিযান নামে একটু একটু ধর পাকড় চলে তারপর আবার চালু হয়। শহরে চুরি, ছিনতাই, মাদকের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মারামারি লেগেই আছে। এই শহরে প্রতিদিন কয়েক কোটি টাকার ঘুষ লেনদেন হয়। এসব ব্যাপারে প্রশাসন, নীতিনির্ধারক মহলের তৎপরতা এখনো ইলেকট্রনিক কিংবা প্রিণ্টিং মিডিয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ।
একজন সদ্য বিবাহিত দম্পতি যাদের সঙ্গে এ্যাফিডেভিট নেই কিংবা একজোড়া প্রেমিক-প্রেমিকার একসঙ্গে রাত্রিযাপন সমাজে সামন্যতম বিরুপ প্রভাব ফেললেও সমাজের দৃষ্টিতে সেটা অসামাজিক কাজ, অপরাধও বটে। এই অপরাধের ভয়াবহতার চেয়ে মাদকের ভয়াবহতা, চুরি ছিনতাই, খুন যখম, ঘুষ আদান-প্রদান ইত্যাদি সমাজ এবং রাষ্ট্রে অনেক নেতিবাচক প্রভাব ফেললেও মানুষের ধারণাটি এখনো সেকেলেই রয়ে গেছে। অপরাধের কুফল বিবেচনা না করে কোন কোন লঘু পাপে গুরুদণ্ড আবার অনেক বেশি অপরাধ করেও সমাজের চোখে পুজনীয় সেজে বসে আছে। হয়ত একদিন সমাজে অপরাধের সঠিক সংজ্ঞা নির্ধারিত হবে, নিরীহ প্রেমিক-প্রেমিকারা তাদের অধিকার পাবে, মাদকসেবী, মাদক ব্যবসায়ী, চোর, ছিনতাইকারী এবং ঘুষ আদান-প্রদানকারীরা শাস্তি পাবে। কিন্তু সুশান্ত এবং প্রিয়ন্তী তাদের আজকের অপমানের বিচার কোনদিন পাবে না।
সুশান্ত আপন মনে বিড়বিড় করে বলল, আমি আজ থেকে শুধু স্রষ্টা বলে ডাকবো, কোনদিন ভগবান, আল্লাহ, ঈশ্বর বলে সম্বোধনকরব না। কারণ ভগবান শুধু মানুষ সৃষ্টি করেছে, মানুষে মানুষে এই বিভাজন তৈরি করেছে মানুষ। আমি এক স্রষ্টায় বিশ্বাসী, আমি মানুষে মানুষে বিভাজনে বিশ্বাসী না।
প্রিয়ন্তীর সঙ্গে হাজতে যে মেয়েটি আছে সে পেশাদার কলগার্ল। শহরে একটা মেসে সিট ভাড়া নিয়ে থাকে, বাড়ি একটা নিভৃত পল্লীতে। বাবা প্রান্তিক চাষী, পাঁচ বোনের মধ্যে সে সবার বড়। গ্রামের একটা স্কুল থেকে এস.এস.সি পাস করেছে তারপর আর লেখাপড়া করেনি। গ্রামের তার এক পাড়াতো বোনের হাত ধরে শহরে এসেছে, সেই পাড়াতো বোনটি যৌনকর্মী। সে তাকে প্রথমএ পথে নামিয়েছে এখন সে নিজেই কখনো হোটেলে আবার কখনো ভদ্রলোকের বিলাসবহুল বাড়িতে নিজেকে বিক্রি করে।
কথায় কথায় মেয়েটি বলল, কী করব আপা? এই দেহটা ছাড়া তো আর কিছু নেই, বাড়িতে জানে আমি একটা ক্লিনিকে আয়ার কাজ করি। মাসে মাসে বাবা-মা’র কাছে কিছু টাকাও পাঠাই। এতে দোষের কী? যারা খারাপ বলে তারা তো দশটা টাকা দেওয়ার আগে আমার সুন্দর দেহটার দিকে চিক চিক চোখে তাকায়। এমনি ভালো আছি। আজ ধরে এনেছে ক’দিন পর আবার ছেড়ে দিবে, অসুবিধা কী? আবার কাজ করব।
প্রিয়ন্তী লক্ষ্য করেছে মেয়েটির মধ্যে কোন পাপবোধ নেই, কোন লজ্জা বা সংকোচ নেই। এভাবে বার বার ধরা পড়তে পড়তে তার লজ্জা হারিয়ে গেছে। পুলিশের দু’য়েকজনের আচরণে মনে হলো তাকে আগে থেকেই চিনে।
এই সব পথহারা মেয়েদের ধরে এনে শাস্তি দেওয়ার আইন আছে, এরা শাস্তি ভোগ করে আবার অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে কিন্তু এদের যদি সংশোধনের এবং তৎপরবর্তী পূনর্বাসনের ব্যবস্থা থাকতো তবে এসব অপরাধ বার বার ঘটতো না।
সুশান্ত সারারাত মিজানের মোবাইলে রিং দিয়েছে কিন্তু মিজানের মোবাইল বন্ধ। সুশান্ত আগে থেকেই জানে মিজান রাতে মোবাইল বন্ধ করে ঘুমায় কিন্তু কে জানে যে এমন দূর্ঘটনা ঘটবে।
মিজানের মোবাইল চালু হলো সকাল সাতটায়। মোবাইলের রিং বেজে উঠতেই সে রিসিভ করল, হ্যালো সুশান্ত।
মিজান আমাদের খুব বিপদ।
কী হয়েছে?
প্রিয়ন্তী আর আমাকে পুলিশ থানায় ধরে এনেছে।
কেন?
ওরা বিশ্বাস করেনি আমরা হ্যাজবেণ্ড-ওয়াইফ।
তোরা বলিসনি যে তোদের এ্যাফিডেভিট করে বিয়ে হয়েছে।
বলেছিলাম এ্যাফিডেভিট সঙ্গে নেই সেজন্য আমাদের ধরে এনেছে।
আচ্ছা তোরা একটু অপেক্ষা কর, আমি উকিলের বাসা চিনি, উকিলের বাসা থেকে এ্যাফিডেভিট নিয়ে থানায় আসছি।
আচ্ছা।
মিজান প্রায় আধঘণ্টার মধ্যে এ্যাফিডেভিট নিয়ে থানায় এলো।
মিজান এসে প্রথমে ডিউটি অফিসারের কাছে বসল, তাকে সবকিছু খুলে বলল। তারপর পুলিশ অফিসার ওয়্যারলেসে বিড় বিড় করে কী যেন বলল।
ওপর পাশ থেকে উত্তর পাবার পর পুলিশ অফিসার বলল, থানায় কেস হয়ে গেছে, এখন এ্যাফিডেভিট দেখালেই আমরা ছেড়ে দিতে পারবো না। আমরা কোর্টে চালান দিচ্ছি আপনি কোর্টে এ্যাফিডেভিট দেখালেও জামিন হয়ে যাবে।
মিজান অনেক অনুরোধ করল কিন্তু কোন কাজ হলো না। পুলিশ অফিসার তার সিদ্ধান্তে অনড়। অবস্থা বেগতিক দেখে মিজান থানা থেকে চলে গেল। কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে পুলিশ অফিসারকে ফিসফিস করে কী যেন বলল কিন্তু পুলিশ অফিসার না সূচক মাথা নাড়ল।
মিজান আবার বিনয়ের সঙ্গে বলল, স্যার কোর্টে উঠলে ব্যাপারটা হৈ চৈ হয়ে যাবে, মান-সম্মান বলে আর কিছু থাকবে না। ছাত্র মানুষ এর চেয়ে বেশি তো আর দিতে পারবে না স্যার।
পুলিশ অফিসারের মুখে যেন একটা আভা ফুটে উঠল।
পুলিশ অফিসার স্যাণ্ট্রি বলে ডাক দিতেই একজন কন্সটেবল এসে স্যালুট দিল, স্যার।
সুশান্ত আর প্রিয়ন্তীকে ছেড়ে দাও।
তিনজনই থানা থেকে বের হলো। সুশান্ত আর প্রিয়ন্তী একটা রিক্সায় উঠল, কারো মুখে কোন কথা নেই, থানায় থাকতে দু’জনের চোখে-মুখে যে একটা অজানা আতংক ছিল, একটা অনিশ্চয়তা ছিল সেটা এখন কেটে গেছে। আগে প্রিয়ন্তী বিয়ের কথা বাড়ির কাউকে বলতে ভয় পেত কিন্তু আজ থানায় গিয়ে তার অনেকটা সাহস হয়েছে। বাড়ি থেকে বার বার করে বিয়ে দিতে চাইবে আর সে বিভিন্ন অজুহাতে এড়িয়ে যাবে তা আর সে চায় না। এ্যাফিডেভিটের পর রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিহলো কিন্তু সামাজিক স্বীকৃতিরজন্য চাই আনুষ্ঠানিক বিয়ে। তার বুকে আজ অনেকটা সাহস হয়েছে। এবার সে সামাজিকভাবে সুশান্তকে নিয়ে সংসার করতে চায়। সবাইকে বলতে চায় সুশান্ত তার হ্যাজবেণ্ড। বর্ণ-গোত্র যা-ই হোক না কেন এ্যাফিডেভিট করে সে তাকে বিয়ে করেছে এবার সে হাতে শাঁখা মাথায় সিঁদুর পরে বিয়ে করতে চায়। প্রিয়ন্তী কয়েকমুহূর্ত সুশান্তর মুখের দিকে তাকিয়ে রইল তারপর মৃদুকণ্ঠে বলল, সুশান্ত এখন কী করবে?
সুশান্ত প্রিয়ন্তীর প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে পাল্টা প্রিয়ন্তীকে জিজ্ঞেস করল, তুমি কী বলো?
সুশান্ত চলো আমরা আজ বিকেলে ঠাকুরের কাছে যাই।
বিয়ে করতে?
প্রিয়ন্তী দৃঢ়তার সঙ্গে বলল, হ্যাঁ।
সুশান্ত প্রিয়ন্তীর বাহুতে চাপ দিয়ে বলল, একবার আমার দিকে তাকাও।
প্রিয়ন্তী সুশান্তর চোখে চোখ রাখল, বলো।
এতদিনে তুমি আমার মনের কথা বলেছ।
চলবে…
আমার সব লেখা একসঙ্গে পড়তে ভিজিট করুন:

৮৫৫ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
আমি পেশায় একজন প্রকৌশলী। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে একসময় লেখালেখি শুরু করেছিলাম। বর্তমানে আমার লেখা উপন্যাসের সংখ্যা ১৮টি। এখনো লেখা চলছে অবিরত। আমার ফোন নাম্বার-০১৭১৮১৫৭০৭৬
সর্বমোট পোস্ট: ৩৯ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৮৭ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৮-০২ ০৪:০১:৪৪ মিনিটে
Visit জিল্লুর রহমান Website.
banner

৩ টি মন্তব্য

  1. শাহ্‌ আলম শেখ শান্ত মন্তব্যে বলেছেন:

    সাথেই আছি
    ভাল লাগা জানালাম ।

  2. আমির হোসেন মন্তব্যে বলেছেন:

    সবসময় সাথে ছিলাম। এখনও আছি। লিখুন নিয়মিত।

  3. দীপঙ্কর বেরা মন্তব্যে বলেছেন:

    ভাল লাগল গল্প।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top