Today 26 Aug 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

প্রিয় বই–এক( ‘আঙ্কল টমস কেবিন’)

লিখেছেন: গোলাম মাওলা আকাশ | তারিখ: ১৫/০৩/২০১৫

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 669বার পড়া হয়েছে।

প্রিয় বই–এক( ‘আঙ্কল টমস কেবিন’)

dd

জীবনে কম বই পড়া হয়নি, কিন্তু সব বই কি মনে দাগ কেটেছে বা মনের কোনে সেই বই সম্পর্কে কিছু ভাল লাগা বা ভালবাসা তৈরি হয়েছে।
>>আজ আমার প্রিয় বইঃ ‘আঙ্কল টমস কেবিন’
>>লেখকঃ হ্যারিয়েট বীচার স্টো

বিশ্ববিখ্যাত ইংরেজি সাহিত্যিক হ্যারিয়েট বীচার। আজও বিশ্বে তিনি সমানভাবে সমাদৃত ‘আঙ্কল টমস কেবিন’ এর জন্য। আঙ্কল টম্স কেবিন-এর লেখিকা হ্যারিয়েট বীচার স্টো ১৮১১ সালের ১৪ জুন যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাটের লিচফিল্ডে জন্মগ্রহণ করেন। ধর্মযাজক পিতার কন্যা হ্যারিয়েট কিছুকাল শিক্ষকতা করেন। ধর্মে অবিচল আস্থা এবং মানুষের প্রতি ভালোবাসা তাঁকে নির্যাতিত কৃষ্ণাঙ্গদের প্রতি সহানুভূতিশীল করে তোলে। নির্যাতিত মানুষের এমন মানবিক চিত্র বিশ্বসাহিত্যে খুবই বিরল। মানবহিতৈষী এই লেখিকা ১৮৯৬ সালের ১ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় মৃত্যুবরণ করেন।

dd

ধারাবাহিকভাবে পত্রিকায় ছাপা হওয়ার পর ১৮৫২ সালের ২০শে মার্চ এই উপন্যাসটি বই আকারে প্রকাশিত হয়। এই বইয়ের মূল উপজীব্য বিষয় হচ্ছে তৎকালীন আমেরিকার দাসপ্রথা।”আংকল টম” সাদা চামড়ার প্রভুদের কাছে ক্রীতদাসতুল্য কালো চামড়ার এক মানুষের নিন্দাসূচক এক নাম । আঙ্কল টমস কেবিন পড়ে মানবতাবাদী মানুষদের হূদয় হুঁ হুঁ করে কেঁদে ওঠে।গল্পটি টমের মতো আরো হাযারো কালো চামড়ার ক্রীতদাসদের জীবনের সব যন্ত্রনা, হাহাকারের নির্মম এক দলিল । যা তাদের প্রতিবাদী হতে সাহায্য করে, এক পর্যায়ে গড়ে তোলে আন্দোলন। শুরু হয় মানবের বেড়ী খুলে দেয়ার যুদ্ধ। ভাই হয়ে ভাইয়ের পায়ে শেকল দিয়ে ক্ষেতে চড়াব এ শিক্ষাতো জন্মভূমি, স্রস্টা শেখাননি এমনই এক গল্পে যিনি আসীন তিনি হলেন হ্যারিয়েট বীচারের আঙ্কল টম। বাংলায় আমরা তাকে টমচাচা বলে জানি। গল্পে টমচরিত্র এত জীবন্ত যে মনে হয় আমার নিজের কোন চাচা। কিন্তু এ টম ছিলেন দেড়শ বছর আগের একজন ক্রীতদাস।
প্রথম জীবনে শোলবি নামক মালিকের তুলাখামারের কেনা দাস ছিলেন। বড় সোজা সরল ছিলেন তিনি। অসুরের মত পরিশ্রম করতে পারতো বলে শোলবির পরিবারের সবার সাথে সাথে অন্যান্য ক্রীতদাসরাও তাকে খুব ভালবাসতো। আদর করে ডাকতো টমচাচা। স্বাধীনতার জন্য গোপন আফসোস থাকলেও বাইরে বেজায় হাসিখুশি মানুষ তিনি। তার মতো ক্রীড়াদাসদের দুঃখ ভোলাবার জন্য গান গাইতেন। শোলবির আর্থিক অনটন দেখা গেলে তাকে বিক্রি করা হয় পাষণ্ড হ্যালি নামক ক্রীতদাস ব্যবসায়ীর কাছে। সন্তানের করুণ পরিণতির কথা ভেবে স্ত্রী এবং সন্তানকে পাঠিয়ে দেয় কানাডায়। শোলবি পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতায় নিজে পালাননি।
আশৈশবের কেনটাকি ছেড়ে অসহায়ত্বের সাথে ভাগ্যের ওপর নিজের জীবন ছেড়ে দেয়। জীবনের নানা বৈচিত্র্যতায় একটু সুখের পরশ এলেই পরক্ষণেই তা শূন্যে বিলিয়ে যায়। ইভা নামের ছোট্ট খুকির সাথে পরিচিতিতে জীবনে সাময়িক প্রশান্তি এলেও, ইভা এবং ইভার বাবা সেন্ট ক্লেয়ারের মৃত্যুতে স্বাধীনতার সাধ পেয়েও পাননি তিনি। জীবনের শেষ পর্যায়ে সাইমন লেগ্নি নামক আর এক পাষণ্ড মনিবের কাছে ভাগ্য তাকে ঠেলে দেয়। সেখানে পশুর মত খাটানো হতো দাসদাসীদের। পরিশ্রমী টমের কাজ দেখে লেগ্নি তাকে ক্রীতদাসদের সর্দার বানিয়ে দেয়। লেগ্রি ভেবিছিল, টম তার মত অত্যাচার করে কাজ করাবে অন্য ক্রীতদাসদের। অথচ ঘটনা হল উল্টো। বিপদে আপদে তিনি সবাইকে সাহায্য করতে লাগলো। এমিলিন নামক একটি মেয়েকে সাহায্য করার জন্য তাকে ভীষণ মারধোর করা হয়। তবুও এমিলিনের পালিয়ে যাওয়া সম্পর্কে মুখ না খোলায় অত্যাচারী লেগ্রি হিংস্র জন্তুর মতো ফুঁসে ওঠে। এরপর লেগ্রি তার পালিত ষণ্ডামার্কা লোকদের দিয়ে জখম হওয়া শরীরে আরো মার দিলো। এরও অনেক পরে টম চাচার মত নিরীহ এক ক্রীতদাসের মুখ থেকে প্রতিবাদের বাণী বেরিয়ে আসে। অত্যাচারের পরিমাণ আরো বেড়ে যায়। অত্যাচারে অত্যাচারে সবল দেহক্রমশই ভেঙে পড়ে। সেই হাসিমুখে আর হাসি দেখা যেত না, গান শোনা যেত না। নিবু নিবু হয়ে আসা প্রদীপের মত জীবন নিয়ে যেন কারো অপেক্ষা করছেন। সেই শোলবি পরিবারের বড়ছেলে জর্জের অক্লান্ত পরিশ্রমে টমচাচার সন্ধান মেলে। সে তাদের ভালোবাসার টমচাচাকে নিয়ে যেতে চায়। ওদিকে টমচাচার শেষ সময়। টমচাচা চলে যায় কিন্তু আমূল পরিবর্তন করে দিয়ে যায় সে দাস প্রথার মত ঘৃণ্য প্রথার।
>> শুধু আমেরিকাতেই “আংকল টমস কেবিন” বইটির ৩ লাখ কপি বিক্রি হয়ে যায় প্রকাশের এক বছরের ভেতর । গ্রেট বৃটেনে বিক্রি হয় এক মিলিয়ন কপি । তিন বছরের মাথায় বইটি সবচেয়ে জনপ্রিয় বই হিসেবে স্বীকৃত হয় । ষাটটি ভাষাতে এর অনুবাদ হয়েছে । বইটির কাহিনী নিয়ে চলচ্চিত্রও তৈরী করেছেন অনেকে ।
>>দাসপ্রথার বিরূদ্ধে লেখা হয়েছে বলে বইটিকে নিষিদ্ধ করা হয় আমেরিকার কনফেডারেট ষ্টেটগুলোতে । আমেরিকার দক্ষিনাঞ্চলের সাউথ ক্যারোলিনা, মিসিসিপি, ফ্লোরিডা, আলবামা, জর্জিয়া, লুইজিয়ানা আর টেক্সাস এই সাতটি ষ্টেট মিলে এই কনফেডারেট গঠন করা হয় । এর সবগুলোই স্লেভ ষ্টেট যেখানে দাসপ্রথা ছিলো উত্তুঙ্গে । ১৮৬০ সালে রিপাবলিকান এবং দাসপ্রথা বিরোধী আন্দোলনের সমর্থক আব্রাহাম লিংকন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে এই রাজ্য কয়টি “ইউনাইটেড ষ্টেটস”থেকে সরে এসে আলাদা কনফেডারেসী গঠন করে । লিংকন এদের বিরূদ্ধে সংগ্রাম শুরু করলে এই কনফেডারেটে যোগ দেয় ভার্জিনিয়া, আরকানসাস, টেনেসী আর নর্থ ক্যারোলিনা এই অঙ্গরাজ্যগুলি । ১৮৬১ থেকে ১৮৬৫ সাল ( আমেরিকান গৃহযুদ্ধকালীন সময় ) পর্য্যন্ত এই কনফেডারেট ষ্টেটগুলোতে আংকল টমস কেবিন নিষিদ্ধ হয়ে ছিলো । কারন, এই বইয়ে দাসমালিকদের বীভৎস আচরনের ছবি তুলে ধরা হয়েছে , ধর্মকেও করা হয়েছে সমুন্নত । এটাই ছিলো তার দোষ ।
রাশান জার প্রথম নিকোলাস তার রাজ্য রাশিয়া, পোল্যান্ড আর ফিনল্যান্ডেও আংকল টমস কেবিন কে নিষিদ্ধ করেন । কারন আর কিছুই নয় , বইটিতে সাম্যের গান গাওয়া হয়েছে । সকল মানুষ সমান, বলা হয়েছে এই কথা । আর ঈশ্বরে বিশ্বাসকে ও এখানে বড় করে তোলা হয়েছে । রাজতন্ত্রে এসব দোষ অমার্জনীয় । তাই “ব্যানড” সীল মারা হয়েছে বইটির গায়ে ।

৬৪৪ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
আমি খুব সাধারণ।
সর্বমোট পোস্ট: ১৩৩ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৯৭৪ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৪-০৮-২২ ১৬:৩০:৪৭ মিনিটে
banner

৩ টি মন্তব্য

  1. সবুজ আহমেদ কক্স মন্তব্যে বলেছেন:

    চমৎকার লিখা দারুণ ভাল লাগলো

  2. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    রিভিউ ভাল লাগল

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top