Today 15 Oct 2018
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

প্লীজ চাপিয়ে দিবেন না…..

লিখেছেন: শওকত আলী বেনু | তারিখ: ০৫/০৬/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 405বার পড়া হয়েছে।

 

অনেক তো কবিতা হলো । বন্ধুর তাড়া আর কবিতা নয় – কবিতা-টবিতা নাকি তাঁর অত্ত ভাল্লাগেনা। ব্লগে নাকি আমি শুধু কবিতাই লিখে যাচ্ছি । কবিতা লিখলে নাকি আর ব্লগে ঢুকবে না । বেজায় মুশকিলে পরলাম যে ! কি লিখবো তাহলে ? বন্ধুকে বল্লাম তোমার তো কবিতা ভাল্লাগেনা….আর আমার? আমার যে রাজনীতি ভাল্লাগেনা। আগে লাগতো তাই লিখতাম ।এখন রাজনীতিতে নাকি ফরমালিন ঢুকে গেছে ।তাই দুরে দুরে থাকি কখন আবার চেপে বসে ।

তাহলে কী লিখবো? গল্প ? হতেই পারে বন্ধুর সাদামাঠা জবাব ।থাক গল্প, কবিতা, রাজনীতি এইসব কোনটাই আজ আর হবেনা । তার চেয়ে ভালো ব্লগরব্লগর করি । বোঝা গেল বন্ধুর তাতে আপত্তি নেই ।

বন্ধুর চিন্তা হলো সন্তানগুলো ঠিকমতো কথা শুনছেনা । উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দিল । ক্যারিয়ার কী হবে তা নিয়ে বাবা মার সুচিন্তিত মতামতকে মোটেই পাত্তা দিচ্ছেনা । নিজেই যেন বড় উস্তাদ ! বাবা মার একান্ত ইচ্ছা ছেলে ডাক্তার কিনবা ইঞ্জিনিয়ার হবে । ছেলের তাতে মোটেই আগ্রহ নেই । প্রবল আপত্তি ।

বন্ধুর কথায় আমারও কিছুটা খটকাও লাগলো। খটকা টা এইখানে । ছেলের ভবিষ্যত ক্যারিয়ার কী হবে তাঁর পুরোটাই নির্ভর করছে ছেলের বিশেষ আগ্রহের উপর । এখানে বাবা মার এত গোস্যা কেন? বিষয়টা অনেকটা বাবা মার পছন্দের মেয়েকে বিয়ে করার মতো হয়ে গেলনা ? বল্লাম বন্ধুকে। বন্ধুর তাতে সায় নেই। “ও কী বুঝে? ওর কি বুঝার বয়স হয়েছে “?

পাঠক বুঝলেন তো এবার ! আমাদের সমস্যাটা ওই এক জায়গাতেই । সব কিছুতেই চাপিয়ে দেয়া । বিয়েতে, ক্যারিয়ারে এমন কী জন্মগ্রহণেও । ভবিষ্যত মানুষটা কী ছেলে হবে না মেয়ে হবে তাতেও চাপিয়ে দেয় হয় !! শিক্ষার্থীর ক্যারিয়ার এটা আর তেমন কি?

প্রশ্ন হলো একজন শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, আগ্রহ কেন তাঁর বাবা মায়ের ইচ্ছা অনুযায়ী হবে ? বলুনতো স্বপ্ন কী কখনো কাউকে চাপিয়ে দেখানো যায় ? আর সেই স্বপ্ন যদি হয় মানবিক-মানসিক সত্বা বিকাশের ক্ষেত্রে তা হলে তো কথাই নেই । যে শিশুটি স্বপ্ন দেখে বড় হয়ে ডাক্তার হবে । ডাক্তার হয়ে জন মানুষের সেবা করবে – তাঁকে কেন বাবা মা একাউন্টিং পড়তে বলবে ?

বন্ধু বলেন শিক্ষার্থীরা ‘হুজুগে’ মাতে। শিক্ষার্থীর ‘আগ্রহটা’ যদি ‘হুজুগ’ হয়ে থাকে তাতে আপত্তি থাকবে কেন ? বাবা মার ‘আগ্রহ’ এবং ‘হুজুগ’ দুটোতেই আমার আপত্তি আছে প্রবল । আমাদের দেশে বাবা মার ‘হুজুগ’ তো হলো ডিগ্রী নেয়ার পর বিয়ের পাত্র হিসেবে বাজারে সন্তানের দর কেমন হবে তা ঠিক করা । কিনবা কোন পেশায় গেলে অধিক অর্থ উপার্জন করা যাবে তা খুঁজে বের করা । অবশ্য অর্থ উপার্জনের বিষয়টা অন্যায় কিছু নয় । হতেই পারে ।

বাবা মায়ের পরামর্শ মেনে নিতে সন্তানের আপত্তি থাকবে কেন ? যদি বাবা মা তাঁদের সন্তানের ইচ্ছা ও ‘আগ্রহের’ বিষয়টি মাথায় রেখে পরামর্শ দিয়ে থাকেন। কিন্তু আমাদের বাবা মা’রা কী তা করে থাকেন ? তাঁরা ভাবতে চান না, সন্তানের পছন্দের বিষয়ে পড়াশুনা করলে অসাধারণ কিছু করাটা যত বেশি সহজ, অপছন্দের একটি বিষয় চাপিয়ে দিলে কিছু একটা করা তত বেশি কঠিন । এই সহজ বিষয়টা সব বাবা মাকে বুঝতে হবে ।

উন্নত বিশ্বে শিক্ষার্থীর আগ্রহ ও ইচ্ছার বাইরে বাবা মা এমন কী তাঁদের শিক্ষকদের মতামতও গ্রাহ্য নয় । অন্তত এই বিষয়ে শিক্ষার্থীর আগ্রহই ১০০% । এইটা নিয়ে অনেক গবেষণা হয়েছে । এই ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর আগ্রহই একমাত্র এজেন্ডা। অন্য কিছু নয় । বিষয়টি নিয়ে বড়জোর আলোচনা হতে পারে। কিন্তু বাবা মার মতামত চাপিয়ে দেয়ার কোনো বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই এইখানে।এবং থাকা উচিত নয় ।

চাপিয়ে না দিয়ে শিক্ষার্থীর পছন্দ, ইচ্ছা, উদ্যোগ এবং শিক্ষার সমন্বয় হলে বিষয়টা কেমন হবে একটু ভেবে দেখুন তো? আসলে এটাই হওয়া দরকার যা আমাদের বাবা মা’রা ভুলতে বসেছে ।

কয়দিন পরেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি নেয়া হবে।আমি বলবো শিক্ষার্থীদের আগ্রহ এবং স্বপ্নই হলো ক্যারিয়ার নির্বাচনের চূড়ান্ত মতামত । এতে বাবা মায়ের আদর্শিক বাধা শিক্ষার্থীর মানবিক সুকুমারবৃত্তি ধ্বংস করে দিতে পারে চিরতরে । যে শিক্ষার্থী ‘গ্রাফিক ডিজাইন’ /’সাহিত্য’ পড়তে চায় অর্থাত তাঁর চূড়ান্ত ‘আগ্রহ’ যদি হয় ‘সাহিত্য’/ ‘গ্রাফিক ডিজাইন’ তাহলে তাঁকে বাবা মায়ের আদর্শিক স্বপ্ন মেনে নিয়ে ডাক্তারি পড়তে যেন না হয় সেই আর্জি প্রতিটি বাবা মায়ের সামনে বিনীত ভাবে পেশ করছি ।

৪৪৫ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
লেখালেখি করি।সংবাদিকতা ছেড়েছি আড়াই যুগ আগে।তারপর সরকারী চাকর! চলে যায় এক যুগ।টের পাইনি কী ভাবে কেটেছে।ভালই কাটছিল।দেশ বিদেশও অনেক ঘুরাফেরা হলো। জুটল একটি বৃত্তি। উচ্চ শিক্ষার আশায় দেশের বাইরে।শেষে আর বাড়ি ফিরা হয়নি। সেই থেকেই লন্ডন শহরে।সরকারের চাকর হওয়াতে লেখালেখির ছেদ ঘটে অনেক আগেই।বাইরে চলে আসায় ছন্দ পতন আরো বৃদ্বি পায়।ঝুমুরের নৃত্য তালে ডঙ্কা বাজলেও ময়ূর পেখম ধরেনি।বরফের দেশে সবই জমাট বেঁধে মস্ত আস্তরণ পরে।বছর খানেক হলো আস্তরণের ফাঁকে ফাঁকে কচি কাঁচা ঘাসেরা লুকোচুরি খেলছে।মাঝে মধ্যে ফিরে যেতে চাই পিছনের সময় গুলোতে।আর হয়ে উঠে না। লেখালেখির মধ্যে রাজনৈতিক লেখাই বেশি।ছড়া, কবিতা এক সময় হতো।সম্প্রতি প্রিয় ডট কম/বেঙ্গলিনিউস২৪ ডট কম/ আমাদেরসময় ডট কম সহ আরো কয়েকটি অনলাইন নিউস পোর্টালে লেখালেখি হয়।অনেক ভ্রমন করেছি।ভালো লাগে সৎ মানুষের সংস্পর্শ।কবিতা পড়তে। খারাপ লাগে কারো কুটচাল। যেমনটা থাকে ষ্টার জলসার বাংলা সিরিয়ালে। লেখাপড়া সংবাদিকতায়।সাথে আছে মুদ্রণ ও প্রকাশনায় পোস্ট গ্রাজুয়েশন।
সর্বমোট পোস্ট: ২০৩ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৫১৯ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৬-১৭ ০৯:২৪:৩১ মিনিটে
banner

৫ টি মন্তব্য

  1. জসীম উদ্দীন মুহম্মদ মন্তব্যে বলেছেন:

    যে শিক্ষার্থী ‘গ্রাফিক ডিজাইন’ /’সাহিত্য’ পড়তে চায় অর্থাত তাঁর চূড়ান্ত ‘আগ্রহ’ যদি হয় ‘সাহিত্য’/ ‘গ্রাফিক ডিজাইন’ তাহলে তাঁকে বাবা মায়ের আদর্শিক স্বপ্ন মেনে নিয়ে ডাক্তারি পড়তে যেন না হয় সেই আর্জি প্রতিটি বাবা মায়ের সামনে বিনীত ভাবে পেশ করছি ।——- সহমত প্রকাশ করছি বেনু ভাই ।

  2. শওকত আলী বেনু মন্তব্যে বলেছেন:

    thank you..

  3. জামিলা পান্না মন্তব্যে বলেছেন:

    চাপিয়ে দেবার ফল ভাল হয় না। আমি বুঝি। আমি আমার সন্তানের উপর এভাবে কিছুই চাপিয়ে দিব না।

  4. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    আসলেই কিছু চাপিয়ে দেয়া উচিত না শুধু বাচ্চাদের না বড়দের ব্যাপারেও একমত আমি

    সুন্দর লিখেছেন ধন্যবাদ

  5. দীপঙ্কর বেরা মন্তব্যে বলেছেন:

    একদম ঠিক কথা ।
    ভাল পরিবেশিত

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top