Today 14 Nov 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

ফেলে আসা স্রোত । ( স্মৃতিচারন। ) (দুই )

লিখেছেন: সিকদার | তারিখ: ২০/০৭/২০১৩

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 463বার পড়া হয়েছে।

ফেলে আসা স্রোত (এক)

শীত কাল ছিল আরেক মজার দিন । দাদীর হাতে  তখন নানা রকম পিঠার  মেলা। ভাপা পিঠা , পাটিসাপটা পিঠা , চিতই পিঠা আরো কত রকমের পিঠা ছিল। রাতের ভাত খাওয়ার পর দাদী ও আশেপাশের আত্মিয় মহিলারা মিলে শুরু করতেন পিঠা বানানো । গভির রাত পর্যন্ত  পিঠা বানিয়ে  সিক্কায় তুলে রাখতেন সেই খোলামেলা পাকের ঘরে । সকাল হতে হতে শীতের হিমেল ঠাণ্ডায় সেই হাঁড়ির ভিতর পিঠাগুলি ঠাণ্ডা হয়ে যেত।

আবার সুবহে সাদেকের সময় কুয়াশা ভেজা আঁধারে দাদী একা ঘুম থেকে উঠতেন । এরপর শুনা যেত মাটির হাঁড়ি পাতিলের ঠুকাঠুকি । সেই ঠুকাঠুকিতে গভীর ঘুমের মধুর স্বপ্ন ভেংগে যেত । পাশ ফিরে লেপটাকে আরও জোরে আকড়ে ধরে আবার গভীর ঘুমে হারিয়ে যেতাম । পরে ঘুম থেকে উঠে খেতাম দাদীর হাতের খেজুর রসের পিঠা ।সেই খেজুর রস এখন আর পাইনা , পাইনা সেই পিঠার স্বাদ।

আমাদের বাড়ির দক্ষিন দিকে ছিল একটা ছাড়া ভিটা ( সেই ভিটায় বহু বছর কেউ বাস করে না ।) আমি প্রায় সেই ভিটায় প্রায় একা চলে যেতাম । ভিটাটিতে নানা ধরনের গাছ ছিল । আম, জাম, হিজল, কড়ই, বড়ই, বাশ গাছ , গাব আরও কত গাছ । গাব খাওয়ার লোভে ওখানে আমার বেশি যাওয়া হত। পাকা পাকা গাব মাটি থেকে কুড়িয়ে খেতাম। কি সেই স্বাদ । পৃথিবীর এমন কোনও ভাষা নাই যা দিয়ে সেই স্বাদ বোঝাব। আমি কখনও একা বা আমার চাচাত ভাই বোনেরা সহ সেই সব গাছের ছায়ায় বসে পুতুল খেলা , দাড়িয়া বান্ধা , ডাংগুলি , কুতকুত খেলা , দড়ি খেলা আরো কত খেলা যে খেলতাম । সারা দিন আমরা ছোটরা ওখানে থাকতাম।

আমার বয়স যখন পাচ পাড় হয়ে ছয়ে পড়লাম তখন আমাকে স্কুলে ভর্তি করা হল । এখনও মনে আছে প্রথম দিন যখন স্কুলে যাই আমার ছোট ফুপু আমার মাথায় বেশি করে নারকেল তেল দিয়ে সুন্দর করে মাথা আচড়ে দিল । তারপর একটা আদর্শ লিপি বই, বাল্য শিক্ষা ধারাপাত ও একটা স্লেট আর তার পেন্সীল দিয়ে দিল। আমি এরপর আমার চেয়ে কয়েক বছরের বড় দুই বোন ও সমবয়সী ভাইয়ের ( এরা আমার বড় চাচার ছেলে মেয়ে । ) সাথে স্কুলে গেলাম । স্কুলটা ছিল এক কামরার একটা ঘর । সেখানে ক্লাস ওয়ান থেকে ফাইভ পর্যন্ত সবাই একই সাথে বসতাম । সেই স্কুলে আমাদের সবেধন নীলমণি মাত্র একজন শিক্ষক ছিলেন । উনার নাম ছিল বিমল স্যার । আজও বেচে আছেন আমার সেই শ্রদ্ধেয় শিক্ষক । তবে এখন আর পড়ান না ।

প্রতি বছর পহেলা বৈশাখে আমাদের গ্রামে মেলা হত । এখনও হয় । তবে ছোটাকালের মত আর যাওয়া হয় না। শৈশবে তখন মেলায় যেতাম দাদার কাধে করে । আমার দাদা আমকে বেশির ভাগ সময় কাধে নিয়েই চলাফেরা করতেন । কেননা আমি দাদার কাধের দুই পাশে দুই পা দিয়ে চড়তে বেশি পছণ্দ করতাম। দাদা আমাকে কাধে করে মেলায় নিয়ে যেতেন । মেলায় যেয়ে প্রথমেই আমি একটা মাটির নৌকা নিতাম তারপর অন্য কিছু । সেই মাটির নৌকা বাড়িতে এনে তার সামনের দিকে একটা সুতা বেধে সারাদিন মাটির উপরে হেচড়ে হেচড়ে চালাতাম । নৌকাটি না ভাংগা পর্যন্ত চলত আমার নৌকা নিয়ে খেলা।

আমার দাদা ছিল মাছের রাঈশের মানুষ। আমাদের সারা গ্রামে উনার মত মাছ কেউ ধরতে পারত না। যেখান শত বার জাল ফেলেও কেউ মাছ পেত না সেখানে আমার দাদা একবারেই জাল ভরে মাছ তুলত। যা আজও আমাদের গ্রামের কিংবদন্তির হয়ে আছে। আমি প্রায় সময় দাদার সাথে মাছ ধরতে যেতাম । আহঃ কি সেই দিন !! আর কখনও পাব না ফিরে । আকাশে মেঘের ঘনঘটা । কালো শ্লেটের মত আকাশে ক্ষনে ক্ষনে বিদ্যুৎ চমকাছ্ছে । দাদা সামনে কাধে জাল নিয়ে একটু গুজো হয়ে খালি পায়ে হাটছে । আমি পিছনে ভয়ংকর আকাশের দিকে তাকিয়ে দুরুদুরু বুকে ভিরু ভিরু পায়ে ধান ক্ষেতের আইলের উপর দিয়ে হাটছি । কতবার যে আইলের থেকে ক্ষেতের ভিতর পা পিছলে পড়ে যাছ্ছে তার কোন হিসেব নাই। দাদা হাটতে হাটতে একসময় কোন খাল বা নদীর পাড়ে এসে দাড়াতেন । তারপর নদীর বুকে চোখ বুলিয়ে তার সবল হাতে ছুড়ে মারতেন জাল। জালটাও বিশাল হা করা মুখ নিয়ে নদীর বুকে ঝাপিয়ে পড়ত। এরপর জালটা নদীর তলে বসে গেলে দাদা এবার আস্তে আস্তে টানতে থাকতেন । জাল গুটিয়ে মাটিতে তোলার সাথে সাথে আমি বসে যেতাম জাল থাকে মাছ ছাড়ানোর কাজে । এভাবে একবার মাছ ছাড়াতে যেতে বাইন ( বাইন মাছ নয়। ) মাছের মত এক মাছ আমার কচি একটা আংগুলে দিল কামড়। মাছের কামড়ে আমার আংগুল কেটে রক্ত বের হয়ে গেল । তখন আমার সেকি কান্না । বৃষ্টির পানি আর আমার চোখের পানি এক হয়ে সেদিন নদীর জলে মিশে গিয়েছিল। জানিনা এতে নদীর পানি একটু বেড়ে ছিল কিনা ? তবে আমার দাদার ফোকলা দাতের হাসিতে আমি লজ্জা পেয়েছিলাম।শৈশব প্রেম সে এক মধুর অভিগ্গতা । যদিও জানি না সেটা প্রেম ছিল না অন্য কিছু ছিল। কেন না আমরা দুজন প্রায় বাড়ির পিছনে জংগলে খেলতাম । বাড়ির কেউ যখন আমাদের কোথাও খুজে পেত না তখন বুঝত আমরা দুই দুষ্টু মনি ঐ জংগলে আছি। ওখান থেকে আমাদের ডেকে নিত দুপুরের ভাত বা অন্য কোন নাস্তা খাওয়ার জন্য। ঝড়ের দিনে যখন আম গাছ থেকে আম ঝরে পড়ত তখন আমার সেই বাল্য সাথী আমাকে ডাকত আম কুড়ানোর জন্য । বড় বড় ফোটার বৃষ্টি নয়ত শীল (ছোট ছোট বরফের টুকরা ) পড়ছে আমরা আম গাছের তলে আম কুড়াছ্ছি । পাকা আম কাচা পাকা আম কুড়ইয়ে কোচড়ে ভরছি । কে কত বেশি নিতে পারে তাই নিয়ে কত কাড়াকাড়ি কত মারামারি । একটা আম দেখলে সবাই দৌড়ে নিতে যেয়ে গায়ে গায়ে ধাক্কা খেয়ে পড়ে যেতাম। গাছ পাড়া আমের চেয়ে কুড়িয়ে পাওয়া আমের স্বাদ যেন অ ——নে—–ক বেশি।

৫৭৯ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
সর্বমোট পোস্ট: ১৪ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ২৬ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৬-০৫ ০৬:৫৮:২৩ মিনিটে
banner

১১ টি মন্তব্য

  1. আহমেদ ফয়েজ মন্তব্যে বলেছেন:

    লেখাটি হালনাগাদ করা প্রয়োজন হতে পারে। প্রথম লাইনটিই উদাহরণ হিসেবে নিলাম: ‘শীতের কাল ছিল আরেক মজার দিন।’ – কথাটি এভাবে হলে আরও ভালো লাগতো না?- শীত কাল ছিল আরেক মজার দিন।
    কিছু মনে করবেন না ভাই।
    লেখাটির জন্য কৃতজ্ঞতা।

  2. এ হুসাইন মিন্টু মন্তব্যে বলেছেন:

    সুন্দর স্মৃতিচারণ ।

  3. আরিফুর রহমান মন্তব্যে বলেছেন:

    স্মৃতিচারণ ভাল লেগেছে। ধন্যবাদ।

  4. আমির হোসেন মন্তব্যে বলেছেন:

    সিকদার স্মৃতিচারণ ভাল লেগেছে।

  5. কাউছার আলম মন্তব্যে বলেছেন:

    সুন্দর স্মৃতিচারণ ।ভাল লেগেছে। ধন্যবাদ।

  6. শাহ্‌ আলম শেখ শান্ত মন্তব্যে বলেছেন:

    ভালই লেগেছে ।

  7. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    মধুর স্মৃতিচারন ফিরে গেলাম সেই বেলায়। ধন্যবাদ আপনাকে

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top