Today 26 Aug 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

বকলম

লিখেছেন: অদিতি ভট্টাচার্য্য | তারিখ: ২৭/০৮/২০১৩

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 619বার পড়া হয়েছে।

এ গল্পের আমি কেউ নই, কিছুই নয়, গল্পটাই আদৌ আমার নয়। তাও লেখার ইচ্ছে আছে ষোলো আনা। শেষ পর্যন্ত স্থির করেছি যেরকম শুনেছি, যা হয়েছিল ঠিক তাই লিখব, নিজের কলমকে কোনো কারিকুরি করতে না দিয়েই।

ঘটনাটা বলেছিল অংশুমানদা। অংশুমানদা আমাদেরই পাড়ার ছেলে। ছোটোবেলা থেকেই দেখে আসছি। আমাদের থেকে বেশ কয়েক বছরের বড়ো। যাদের সঙ্গে মিশত তাদের মোটেই সুনাম ছিল না পাড়ায় কিন্তু অংশুমানদাকে কেউ বখামি করতে দেখে নি, কথাবার্তাতেও বেশ ভদ্র ছিল। টেনেটুনে প্রতি বছর পাসটা ঠিক করে যেত। চেহারাটা মন্দ নয় কোনোকালেই, সব সময় বেশ ফিটফাট হয়ে ঘুরে বেড়াতে দেখতাম। কলেজ শেষ হতে না হতেই কি করে যেন সরকারি চাকরী জুটিয়ে ফেলে পাড়ায় সবার যথেষ্ট কৌতূহলের উদ্রেক করেছিল।

সবাই বলাবলি করল, “করিতকর্মা বলতে হবে, এযুগে একটা সরকারি চাকরি বাগানো!”

তারপর থেকেই শুনতাম অংশুমানদা নাকি আজ এখানে তো কাল সেখানে। বদলীর চাকরি, কোথাও থিতু হওয়া কপালে নেই। আর অংশুমানদার নাকি বেশ ভালোও লাগে নানা জায়গায় ঘুরে বেড়াতে, তাই বদলী আটকাবার চেষ্টা কখনো কোনোদিন করে না। স্ত্রী, ছেলেমেয়ে এখানে, কাজেই সে নিশ্চিন্ত হয়ে দেশের নানান শহরে নোঙর ফেলেছে। অদ্ভুত লোক, আমরা ভেবেছি।

এরপর গঙ্গা দিয়ে কম জল বয়ে যায় নি। যৌবনকে বিদায় জানিয়ে আমরা মধ্যবয়সে উপনীত হয়েছি। এক রবিবার সকালে কাগজ পড়া শেষ করে নতুন গল্পটায় সবে হাত দিয়েছি এমন সময় ডোর বেল বাজল। উঠে গিয়ে দরজা খুলে দেখি অংশুমানদা। অনেককাল বাদে দেখলাম। চেহারাটা বেশ ভারিক্কি হয়েছে। খবর পেয়েছিলাম অংশুমানদা এসেছে কিন্তু সশরীরের আমার বাড়িতে হানা দেবে তা কখনোই ভাবিনি। এত হৃদ্যতা কোনোকালেই ছিল না। যাই হোক ভদ্রতার খাতিরে ভেতরে নিয়ে এসে বসালাম।

টেবিলের ওপর কাগজ কলম দেখে বলল, “কাজ করছিলে বুঝি? অসময়ে এসে পড়লাম। আজকাল তোমার লেখার কথা খুব শুনি। বাড়িতে এসেছি ক’দিনের জন্যে তাই দেখা করতে এলাম। হাজার হোক আমরা ছোটোবেলা থেকে এক জায়গায় বড়ো হয়েছি। নতুন কিছু লিখলে টিখলে নাকি?”

অংশুমানদার সাহিত্যপ্রীতি দেখে একটু অবাক হলেও হাসিমুখে আমার সাম্প্রতিকতম বইটা দিয়ে বললাম, “এই টুকটাক চলছে। আর হ্যাঁ এই বইটা বেরিয়েছে। ঐতিহাসিক কাহিনী।”

অংশুমানদা বইটা হাতে নিয়ে নেড়েচেড়ে বলল, “এত রাজপুত রাজা রানীদের গল্প।”

“হ্যাঁ। এটা লেখার জন্যে দুবার রাজস্থানে ছুটেছি। বইটা খুব জনপ্রিয় হয়েছে,” একটু গর্বের সঙ্গেই বললাম আমি।

কিন্তু অংশুমানদা আমাকে উড়িয়ে দিয়ে বলল, “সে তো বেড়ানোর জন্যে গেছ। এই দুর্গের দেওয়ালে হেলান দিয়ে কি ওই প্রাসাদের সিঁড়িতে বসে ছবি তুলেছ আর কারুকার্য দেখে আহাউহু করেছ। থেকেছ কি দিনের পর দিন, মাসের পর মাস? মিশেছ ওখানকার লোকজনের সঙ্গে?”

বলা বাহুল্য এর কোনো উত্তর আমার কাছে ছিল না।

অংশুমানদা কিন্তু বলেই চলেছে, “এই জন্যেই মাঝে মাঝে আমার তোমাদের ওপর বিরক্তি আসে। সব সময় বড়ো বড়ো ব্যাপার নিয়ে লেখো। কেন আমাদের মতো সাধারণ লোকের সাধারণ জীবনের ঘটনা নিয়ে লিখতে পারো না? চোখ থাকলে দেখতে সেখানেও অনেক গল্পের রসদ আছে। কিন্তু তোমরা তো আশেপাশে তাকাওইনা।”

“হয়তো আছে, হয়তো তোমার কথাই ঠিক। তা বেশ তো, কম জায়গা ঘুরলে না তো তুমি, বলো না কোনো ঘটনা শুনি,” উস্কে দেওয়ার লোভ সামলাতে পারলাম না, সত্যিই হয়তো ওর অভিজ্ঞতার ঝুলি পরিপূর্ণ।

ইতিমধ্যে চা এসে গেছিল। অংশুমানদা একটা কাপ হাতে তুলে নিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে বলল, “শুনবে? আচ্ছা বলছি।

এটা রামনগরের ঘটনা। ওখানেই শুনেছিলাম। রামনগর জানো তো? বেনারসের কাছে? রামনগরের রাজবাড়ি দেখতে সবাই যায়। যাই হোক রামনগরে শর্মাজীর শাড়ি দোকান বিখ্যাত। বহু পুরোনো আর বড়ো দোকান। যখনকার ঘটনা এটা তখন শর্মাজীর বয়স ছিল ধরো পঞ্চাশের মতো। অদ্ভুত জীবন এই শর্মাজীর। ভালো বংশের ছেলে। ছোটোবেলাইতেই বাপ মা মারা গেছে, এক জ্যাঠার কাছে থাকত। তা শর্মাজীর বয়স বছর সতেরো আঠেরো হতে সেও নিজের ব্যবস্থা দেখতে বলল। ভাগ্য অন্বেষণে ঘুরতে ঘুরতে শর্মাজী রামনগরে এসে পৌঁছল। সেখানেই এক শাড়ি কাপড়ের দোকানে কাজ করতে শুরু করল। সৎ, পরিশ্রমী ছেলে – মালিকের চোখে পড়তে দেরী হল না। ভেতরে ভেতরে খোঁজখবর নিয়ে মালিক ওর চোদ্দ পুরুষের খবর বার করে ফেলল। মালিকের নেকনজরে পড়ার জন্যে অন্য কর্মচারীদের ওর প্রতি হিংসে কম ছিল না। সুযোগ পেলেই ওর নামে লাগাত। মালিক বুঝত সবই। কয়েক বছর পরেই এক মোক্ষম চালে সবাইকে জব্দ করল। নিজের একমাত্র মেয়ের সঙ্গে শর্মাজীর বিয়ে দিল।

শর্মাজী তো হাতে চাঁদ পেল। এ তো রাজকন্যার সঙ্গে অর্দ্ধেক রাজত্ব নয়, পুরো রাজত্বই পাওয়া। কারণ মালিকের ওই একটি মাত্র সন্তান। তাঁর অবর্তমানে বাড়ি, গাড়ি, দোকান সবই তো শর্মাজীর। আর মালিকও শর্মাজীর হাতে দোকান ছেড়ে নিশ্চিন্ত। কিন্তু কয়েক বছরের মধ্যেই দেখা দিল এক নতুন অশান্তি। ততদিনে মালিক, তাঁর স্ত্রী কেউই বেঁচে নেই। শর্মাজীর স্ত্রী জাহ্নবীর সব কিছুতেই সন্দেহ বাতিক বিয়ের আগে থেকেই ছিল। কিন্তু এখন তা মাত্রা ছাড়াতে লাগল। শর্মাজীর ব্যবসা যত বাড়ে তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ে জাহ্নবীর সন্দেহ। শর্মাজীর পরিশ্রমে আর বুদ্ধিতে শাড়ির দোকানের খ্যাতি শুধু রামনগরেই সীমাবদ্ধ নেই। পুজোপার্বনে ভিড় সামলানো মুশকিল হয়। বড়ো বড়ো কাস্টমার এলে শর্মাজীকে নিজেই খাতির করে বসাতে হয়, শাড়ি দেখাতে হয়। এও জাহ্নবীর না পসন্দ।

তার বক্তব্য এত কর্মচারী রয়েছে তা সত্ত্বেও মেয়েদের ভিড়ে শর্মাজীর আসার কি দরকার? সে বাড়িতে বসে থাকুক, আরাম আয়েস করুক। নিয়মিত দোকানে না গেলে, সবদিকে চোখ না রাখলে যে ব্যবসা লাটে উঠবে আর শাড়ির দোকানে মেয়েদের ভিড় হওয়াই যে স্বাভাবিক – এদুটোর কোনোটাই জাহ্নবীর মাথায় ঢুকত না। শর্মাজীর হাজার চেষ্টা করার পরেও নয়। তার ধারণা শর্মাজীর চরিত্র ভালো নয়, মেয়েদের দেখার লোভে, তাদের সঙ্গলাভের উদ্দেশ্যেই দোকানে যায়।

একদিন তো দোকানেই তুলকালাম কাণ্ড ঘটে গেল। অনেক খদ্দের সেদিন দোকানে। তার মধ্যে বহু পুরোনো খদ্দের এর ভদ্রমহিলাকে শর্মাজী নিজেই শাড়ি দেখাচ্ছিলেন। জাহ্নবী হঠাৎ সেখানে উপস্থিত। দোষের মধ্যে ভদ্রমহিলা শাড়িটা নিজের গায়ের ওপর ফেলে দেখছিলেন আর শর্মাজী হাসিমুখে বলেছেন, “এটা আপনাকে খুব মানাবে।”

ব্যাস আর যায় কোথায়? চিৎকার, চেঁচামিচি, তুলকালাম কাণ্ড। অনেক কষ্টে সেদিন ঠান্ডা করা গেছিল তাকে। শর্মাজী কম চেষ্টা করেন নি এই রোগ সারাতে। অনেক ডাক্তার বদ্যি দেখিয়েছেন, কিন্তু ফল বিশেষ কিছু হয় নি। মাঝে মাঝে ভালো থাকে, মাঝে মাঝে উগ্রচণ্ডী। ডাক্তার বলেছিল ছেলেপুলে হলে এ রোগ কমে যেতে পারে। কিন্তু সে গুড়েও বালি। ডাক্তার, হাকিম, কবিরাজ, টোটকা, মাদুলী, মন্দির কিছুই বাদ গেল না কিন্তু জাহ্নবী নিঃসন্তানই রয়ে গেল। শেষ পর্যন্ত যখন আশা একরকম প্রায় রইলই না, তখন শর্মাজী নিজের গ্রাম থেকে আত্মীয়ের দুটো ছেলে এনে নিজের কাছে রাখলেন। পড়াশোনা করুক, বড়ো হলে এরাই সামলাবে ব্যবসা।”

এই অবধি শুনে ভাবছিলাম, এ আর এমন কি! এরকম তো কতই হয়। গল্পের রসদ এতে কোথায়?

অংশুমানদা বোধহয় বুঝেছিল আমার মনের কথা। একটু বিরক্ত হয়েই বলল, “এই তোমাদের দোষ, বড়ো অধৈর্য।”

আমি তাড়াতাড়ি বলে উঠলাম, “না না তুমি বলো, তুমি বলো।”

“অশান্তি তো চলতেই থাকল। ঝগড়াঝাঁটি, জিনিসপত্র ভাঙচুর। চাকরবাকরগুলো পর্যন্ত ভয়ে কাঁটা হয়ে থাকে। এর মধ্যে হঠাৎ একদিন শর্মাজী বাড়িতে একটি অল্প বয়সী ছেলেকে নিয়ে এলেন। নাম….. নাম ধরো সূরয। এত বছর পরে আর মনে নেই। শুধু শর্মাজী আর জাহ্নবীটাই মনে আছে। হ্যাঁ যা বলছিলাম সূরয বলে একটা ছেলেকে নিয়ে এলেন।

জাহ্নবীকে বললেন, ‘ইনি আমাদের বাড়ির একতলায় থাকবেন। এখানে নতুন এসেছেন, কাউকে চেনেন না, জানেন না। বড় চাকরি করেন। আমার এক খদ্দের নিয়ে এসেছিল আলাপ করাতে। আমি বললাম, বাড়ি খোঁজার কি দরকার? আমার একতলাটা তো ফাঁকাই আছে। দেখো এনার খাতির যত্ন যেন ঠিক মতো হয়।’

সূরয থাকতে শুরু করল। অনেকটা পেয়িং গেস্টের মতো আর কি। যদিও টাকা যা দেয় খাতির যত্ন তার থেকে ঢের বেশী পায়। কিছুদিনের মধ্যে সেও জানতে পেরে গেল জাহ্নবীর স্বভাবের কথা। যদিও তার এ বাড়িতে আগমনের পর অশান্তি কমই হয়েছে কিন্তু চাকরবাকরের মুখ তো আর বন্ধ হয়ে যায় নি। আরো দেখা গেল জাহ্নবী সূরযের সঙ্গে বেশ ভালো ব্যবহার করে। তার সঙ্গে কথা বলার সময়ে যেন সম্পূর্ণ অন্য এক জাহ্নবী। মার্জিত, রুচিশীল। সূরযকে দেখতে শুনতে ভালো, অল্প বয়েস, ভালো চাকরি করে – জাহ্নবী যেন মনে হয় সূরযকে পছন্দ করে। সূরযকেও দেখা যেতে লাগল সন্ধ্যের পর অফিস থেকে ফিরে জাহ্নবীর সঙ্গে গল্প করতে। খাবার দেওয়া, খোঁজখবর নেওয়া – এসব অছিলায় জাহ্নবী সারাদিনে বেশ কয়েকবার সুযোগ পেত সূরযের সঙ্গে কথা বলার। চাকরবাকরের কানাকানি, ফিসফিসানি আর মুখ টিপে হাসি শুরু হল। নতুন মেহমানের ওপর মালকিনের নেকনজরটা যেন একটু বেশীই! কিন্তু এই দুজনের চোখে এসব পড়ত না বা পড়লেও পাত্তা দিত না।

একদিন দুপুরে হঠাৎ করে শর্মাজী বাড়ি ফিরে এলেন। সেদিন ফেরার কথা ছিল না, দোকানে খাবারও পাঠানো হয়েছিল। সামনে দেওয়ালি, দোকানে ভিড় লেগেই আছে, তাই দোকান দুপুরেও খোলা। এসে দেখলেন একতলায় সূরযের ঘরে সূরয আর জাহ্নবী হাসি গল্পে মেতে আছে। অফিস কামাই করে সূরয বাড়িতে কি করছে তাও বুঝতে অসুবিধে হল না। তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে দুজনকে দেখে শর্মাজী দোতলায় উঠে গেলেন। এরপর থেকেই শুরু হল উলটো পুরাণ। এবার সন্দেহ করতে লাগলেন শর্মাজী নিজের স্ত্রীকে। চিৎকার, চেঁচামিচি, অশান্তি চরমে উঠল। সবাই অবাক হয়ে গেল ঠাণ্ডা মাথার শর্মাজীর ওই রূপ দেখে। আরো অবাক হল সূরযকে ঘাড়ধাক্কা দেওয়া হচ্ছে না দেখে। আর সূরযও বেহায়ার মতো দিব্বি খাচ্ছেদাচ্ছে, অফিস যাচ্ছে।

কিছুদিন চলল এরকম। জাহ্নবী কান্নাকাটি করছে, শর্মাজীকে বোঝাতে চেষ্টা করছে যে তিনি যা ভাবছেন সেরকম কিছুই নয়। মাঝে মাঝে আবহাওয়া একটু ঠান্ডা হয়। যদিও ভয় কারুর পুরো যায় নি। এই বুঝি কিছু হল – এরকম একটা ভাব।

সেদিন রাতে দোকান বন্ধ করে শর্মাজী সোজা এসে ঢুকলেন সূরযের ঘরে। কয়েকটা টাকার বাণ্ডিল তার সামনে ফেলে বললেন, ‘বাইরে গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে, জিনিসপত্র গুছিয়ে নাও।’

সূরয একটু থমকাল কিন্তু অবাক হল না। এরকমই তো কথা ছিল। জাহ্নবীর সন্দেহ বাতিকে অতিষ্ঠ হয়ে শর্মাজী অন্য রাস্তা ধরেছিলেন। বাঁকা রাস্তাই বলতে পারো। শর্মাজীই সূরযকে এনেছিলেন অভিনয়ের জন্যে কিন্তু বুঝেছিলেন অনেক পরে যে অভিনেতা হৃদয়শূন্য হয় না। আর হৃদয়ের গতি অতি বিচিত্র। তাছাড়া যে উদ্দেশ্যে আনা সেটাও মনে হচ্ছে সফল হয়েছে। পরে আবার চাগাড় দিলে আবার নাহয় ব্যবস্থা করা যাবে। অমূলক সন্দেহের তীরে অনেক বিদ্ধ হয়েছেন, আর নয়,” অংশুমানদা থামল।

‘এ কি রকম হল? সূরয তো যেন ধূমকেতুর মতো উদয় হল, আবার তেমনি হঠাৎ মিলিয়েও গেল। আগুপিছু কিছুই নেই! এ কাজ করতে সে রাজীই বা হয়েছিল কেন? আর তাছাড়া এটা সম্ভব নাকি? নিজের বাড়িতে রেখে, নিজের স্ত্রীর সম্পর্কে………… তুমিইবা এত কথা জানলে কোত্থেকে? শর্মাজী নিশ্চয়ই বলেন নি,” বলা বাহুল্য আমার পছন্দ হয় নি।

অংশুমানদা চলে যাবার জন্যে উঠে পড়েছিল। আমার কথা শুনে ঘুরে দাঁড়িয়ে আমার মুখের ওপর স্থির দৃষ্টি ফেলে বলল, “ওই যে বললাম না আছে তোমাদের দেখার চোখ, না আছে তোমাদের বোঝার ক্ষমতা। থাকলে আশপাশ থেকেই অনেক মণিমুক্তো কুড়োতে। খালি রাজপুতানার গল্প ফেঁদে বসো। কি যে ঘোড়ার ডিমের লেখক তুমি তা তুমিই জানো!”

৭৬৩ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
সংখ্যাতত্ত্ব নিয়ে পড়াশোনা করেছি। কর্মসূত্রে আরব দুনিয়ায় বসবাসের অভিজ্ঞতাও আছে। বই পড়তে ভালোবাসি। ভ্রমণ,ছবি তোলা,এম্ব্রয়ডারির পাশাপাশি লেখালিখিতেও সমান উৎসাহী।
সর্বমোট পোস্ট: ৩ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ১৫ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৬-১৭ ০৫:১৯:৫৪ মিনিটে
banner

১৩ টি মন্তব্য

  1. আমির হোসেন মন্তব্যে বলেছেন:

    গল্পটার শুরুটা ভাল হয়েছে। কিছুটা পড়েছি। বাকীটুকু অবসর সময় পড়ে নিব।

  2. আমির হোসেন মন্তব্যে বলেছেন:

    আপনি আজ চলন্তিকায় নতুন এলেন। তাই ‍আমার পক্ষ থেকে লাল গোলাপ শুভেচ্ছা রইল।

  3. বাহাউদ্দিন আহমেদ মন্তব্যে বলেছেন:

    আপনাকে স্বাগতম জানাচ্ছি। আপনার গল্পটি পড়ে আমার কাছে বকলম মনে হয়েছে।

  4. এ হুসাইন মিন্টু মন্তব্যে বলেছেন:

    চলন্তিকায় আপনাকে স্বাগত। আশা করি নতুন এই পথ চাল আপনার জন্য অনেক সুন্দর ও মঙ্গলকর হবে।

  5. অদিতি ভট্টাচার্য মন্তব্যে বলেছেন:

    আপনাদের সবাইকে আমার আন্তরিক ধন্যবাদ :)

  6. সম্পাদক মন্তব্যে বলেছেন:

    চলন্তিকায় আপনাকে স্বাগত।

  7. শাহ্‌ আলম শেখ শান্ত মন্তব্যে বলেছেন:

    ভাল লেগেছে।

  8. রোদের ছায়া মন্তব্যে বলেছেন:

    তোমাকে এখানে দেখে খুশি হলাম অদিতি, গল্পটি পড়ে সময় করে পড়ব। আমিও নতুন জগ দিয়েছি এখানে । সময় করে আমার পাতায় ঘুরে যেও।

  9. অদিতি ভট্টাচার্য মন্তব্যে বলেছেন:

    ধন্যবাদ সবাইকে।
    @রোদের ছায়া, অবশ্যই বন্ধু :)

  10. আনোয়ার জাহান ঐরি মন্তব্যে বলেছেন:

    চলন্তিকায় আপনাকে স্বাগত।

  11. মিলন বনিক মন্তব্যে বলেছেন:

    আপনার গল্পের বর্ননাভঙ্গি এত চমৎকার, সাবলীল আর প্রাণবন্ত যে যতক্ষণ শেষ না হয় ততক্ষন ডুবে থাকতে হয়…আর কাহিনীগুলো মনের মধ্যে গেথে থাকে অনেকদিন…এত চমৎকার গল্প…প্লট নির্বাচনে লেখকের ভাবনার জুড়ি নেই…খুব ভালেঅ লাগলো….

  12. অদিতি ভট্টাচার্য্য মন্তব্যে বলেছেন:

    অনেক ধন্যবাদ :)

  13. আহমেদ রব্বানী মন্তব্যে বলেছেন:

    ভাল লাগা রইল।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top