Today 18 Oct 2018
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

বঙ্গীয় লাইব্রেরী ও আমাদের শিক্ষা-সংস্কৃতি

লিখেছেন: গোলাম মাওলা আকাশ | তারিখ: ২৬/০৯/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 443বার পড়া হয়েছে।

═══ஜ۩۞۩ஜ═════ஜ۩۞۩ஜ═════ஜ۩۞۩ஜ═══

○► এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, বই মানুষের প্রকৃত ও বিস্বস্ত বন্ধু। পৃথিবীতে বইয়ের সঙ্গে অন্য কিছুর তুলনা হয় না। বই পড়ে জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমেই পৃথিবীতে মানুষ নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে। মানবপ্রেম ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়ার জন্য বই পড়ার বিকল্প নেই। আর এজন্যই বইয়ের প্রতি প্রতিটি মানুষের শ্রদ্ধাশীল হওয়া উচিত। এই বইকে নিয়ে যুগে যুগে অগণিত মনীসী চমৎকার ও মূল্যবান মন্তব্য করেছেন যা আমাদের জীবনে আলো ঝলমল অধ্যায়ের সূচনা করেছে। বই একত্রে সংগ্রহের মাধ্যমে বিভিন্ন সময় জ্ঞান সাধনায় উৎসাহ দান এবং সুশীল সমাজ গঠনের লক্ষ্যে সমাজদরদী ও মানব প্রেমিক হৃদয়বান মানুষের লাইব্রেরী বা গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠার মহৎ উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। সেই সব উদ্যোগ আজ জাতির জীবনে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছে। সে কারণে ‘লাইব্রেরীকে মনের হাসপাতাল’ ও ‘সাধারণ মানুষের বিশ্ববিদ্যালয়’ হিসেবেও আখ্যায়িত করা হয়েছে।

○► মানব সভ্যতার জন্মলগ্ন থেকেই গ্রন্থাগারের ভূমিকা অসামান্য। অতীতের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানের ধারাবাহিকতা রক্ষায় গ্রন্থাগারের বূমিকা অনস্বীকার্য। গ্রন্থাগারের অগ্রগতি মানেই দেশ এবং জাতির উন্নতি ও সমৃদ্ধি। পৃথিবীতে যে জাতি সভ্য বলে পরিচিত লাভ করেছে, সে জাতিরই সমৃদ্ধ জ্ঞান ভান্ডার তথা গ্রন্থাগার রয়েছে। সুপ্রাচীনকাল অ্যাসিরিয় সভ্যতা থেকে শুরু করে চীন, গ্রীক, রোম, কনস্টান্টিনোপল, বাগদাদ সর্বত্রই বিশাল গ্রন্থাগারের অস্তিস্ত প্রশংসার দাবি রাখে। মধ্যযুগেও রাজকী মহাফেজখানায় বা গ্রন্থাগারে দলিল-দস্তাবেজ ও দুর্লভ তথ্য সংরক্ষণ করা হতো। রাজকীয় গ্রন্থাগারের পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে দেশের জ্ঞানী-গুণী মানুষের নিজস্ব গ্রন্থাগার ছিল এবং এখনো আছে। তবে সম্পূর্ণ বেসরকারি উদ্যোগে আমাদের দেশে সাধারণ মানুষের জ্ঞান অর্জনের উম্মুক্ত গ্রন্থাগার প্রবর্তনের ইতিহাস খুব বেশি দিনের পুরানো নয়।

○► ১৮৫০ খ্রিস্টাব্দে ইংল্যান্ডে গণগ্রন্থাগার আইন পাস হয় এবং ওই বছরই প্রথম জনগণের করের ভিত্তিতে গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠার সূচনা হয়। ব্রিটিশ শাসিত ভারতবর্ষের কলকাতায় তারও পূর্বে ১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দে গভর্ণর জেনারেলের সহায়তায় কতিপয় ইংরেজ নাগরিকের উদ্যোগে সর্বপ্রথম আধুনিক গ্রন্থাগার ‘কলিকাতা পাবলিক লাইব্রেরী’ প্রতিষ্ঠিত হয়। লন্ডন এই গ্রন্থাগার আইন পাস হওয়ার পর সমগ্র বাংলাদেশেও গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠায় আলোড়ন সৃষ্টি হয় এবং বিভিন্ন জেলা শহরে মূলত প্রজাদরদী দানশীল রাজা ও জমিদার, উচ্চ পদস্থ রাজকর্মচারী এবং শিক্ষিত ব্যক্তিবর্গের প্রচেষ্ঠায় গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠিত হতে থাকে।

○► ১৮৫১ খ্রিস্টাব্দে সর্বপ্রথম মেদিনীপুরে ‘রাজানারায়ণ বসু সমঋতি পাঠার’ নামে একটি গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি উপমহাদেশের প্রথম গণগ্রন্থাগার হিসেবে খ্যাত।

○► পরবর্তী পর্যায়ে ১৮৫৪ খ্রিস্টাব্দে ‘যশোর পাবলিক লাইব্রেরী’,

✔ বগুড়া উডবার্ণ পাবলিক লাইব্রেরী’,

✔ ‘রংপর পাবলিক লাইব্রেরী;,

✔ ‘বরিশাল পাবলিক লাইব্রেরী’,

✔ ‘হুগলী পাবলিক লাইব্রেরী’,

○► ১৮৫৬ তে ‘কৃষ্ণনগর পাবলিক লাইব্রেরী’, নদীয়া,

○► ১৮৫৮ তে কোন্নগর পাবলিক লাইব্রেরী’, হুগলী,

○► ১৮৫৯ এ ‘উত্তরপাড়া পাবলিক লাইব্রেরী’, হুগলী (উপমহাদেশের প্রথম সার্কুলেশন লাইব্রেরী),

○► ১৮৬০ এ ‘জানাই পাবলিক লাইব্রেরী’, হুগলী,

○► ১৮৬৪-৬৫ তে ‘রাজা আনন্দনাথ রায় পাবলিক লাইব্রেরী’, রাজশাহী,

○► ১৮৬৯ এ ‘মহেশ পাবলিক লাইব্রেরী’, হুগলী,

○► ১৮৭০ এ ‘চন্দননগর পাবলিক লাইব্রেরী’, হুগলী,

✔ ‘আড়িয়াদহ পাবলিক লাইব্রেরী’, ২৪ পরগনা,

○► ১৮৭১ এ ‘শ্রীরামপুর পাবলিক লাইব্রেরী’, সোনাপুর, ২৪ পরগনা,

○► ১৮৭২ এ ‘কালনা মেরো পাবলিক লাইব্রেরী’, বর্ধমান,

○► ১৮৭৬ এ ‘রবাহনগর শশীপদ ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরী’, ২৪ পরগণা,

✔ ‘মুদিয়ালী পাবলিক লাইব্রেরী’, গার্ডেন রীচ, কলকাতা,

✔ ‘বরাহনগর পিপলস লাইব্রেরী’, পরগণা,

✔৭৭ এ ‘রামপুর পাবলিক লাইব্রেরী’, সোনাপুর, ২৪ পরগণা,

○► ১৮৭০- ৭৫ এর মধ্যে ‘কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় লাইব্রেরী’,

✔ঢাকা, ‘তালতলা পাবলিক লাইব্রেরী’,

✔কলকাতা তে ‘ বাগবাজার রিডিং লাইব্রেরী’, কলকাতা,

○► ১৮৮৪ তে ‘রাজশাহী পাবলিক লাইব্রেরী’,

✔ ‘কুমারটুলি ইনস্টিটিউট’, কলকাতা,

○► ১৮৮৫ তে ‘কুমিল্লা পাবলিক লাইব্রেরী’,

○► ১৮৮৯ তে চৈতন্য লাইব্রেরী’, কলকাতা,

○► ১৮৯০ তে ‘পাবনা পাবলিক লাইব্রেরী’,

○► ১৮৯১ এ কেবলমাত্র সরকারী কর্মচারীদের ব্যবহারের জন্য ‘ইম্পোরিয়াল লাইব্রেরী’, কলকাতা,

○► ১৮৯৩ তে ‘বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ গ্রন্থাগার’,

○► ১৮৯৭ তে ‘নোয়াখালী টাউন হল এ্যান্ড পাবলিক লাইব্রেরী’,

✔ও ‘উমেশচন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরী’, খুলনা,

প্রভূতি লাইব্রেরী প্রতিষ্ঠার ফলে জনসাধারণ জ্ঞান চর্চায় আত্মনিয়োগ করেন। এর ফলে তাঁরা সমাজ সচেতন মানুষ হিসেবে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় এবং দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের মহামন্ত্রে দীক্ষা লাভ করেন। সমগ্র বাংলাদেশে এই গ্রন্থাগারগুলো ক্রমশই সামাজিক ও সাংস্কৃতিক নানাবিধ কর্মকান্ডের মিলনকেন্দ্র হিসেবে পরিগণিত হয়।

○►লিখাটা ৪ বছর আগে রাজশাহীর একটা পত্রিকাতে দিয়েছিলাম। আজ হঠাত করে পেয়ে গেলাম।

গ্রন্থ সূত্রঃ

(১) লাইব্রেরী ইতিকথা- মুসলে উদদীন আহমদ।

(২) বাংলাদেশের লাইব্রেরী- আবু বক্কর সিদ্দিক।

(৩) লাইব্রেরী বিচিত্রা- মার্চ, ১৯৮০।

৪৩৩ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
আমি খুব সাধারণ।
সর্বমোট পোস্ট: ১৩৩ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৯৭৪ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৪-০৮-২২ ১৬:৩০:৪৭ মিনিটে
banner

৬ টি মন্তব্য

  1. আহমেদ রুহুল আমিন মন্তব্যে বলেছেন:

    বই ও লাইব্রেরী বিষয়ক লেখাটি অত্যন্ত চমকপ্রদ । বেশ ভাল লাগল । গ্রন্থ সূত্র উল্লেখ করাটা আরো ভাল লাগল । লেখককে ধন্যবাদ । ভাল থাকবেন সবসময় ।

  2. কামাল উদ্দিন মন্তব্যে বলেছেন:

    তথ্য বহুল পরিশ্রমী লেখা, শুভেচ্ছা লেখক কে

  3. দীপঙ্কর বেরা মন্তব্যে বলেছেন:

    Tothyobohul lekha
    bhalo laglo

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top