Today 26 Jun 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

বন্ধুত্ব

লিখেছেন: সাখাওয়াৎ আলম চৌধুরী | তারিখ: ০৩/০৮/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 583বার পড়া হয়েছে।

stock-vector-easy-to-edit-vector-illustration-of-kids-celebrating-friendship-day-in-rains-147381545
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

                  বন্ধুত্ব
******************************
আল্লাহ্ সুবহানাহু তা’আলা যখন প্রথম মানুষ হযরত আদম (আঃ) কে সৃষ্টি করলেন, তার সাথে সাথেই তাঁকে সঙ্গ দেওয়ার জন্য হযরত বিবি হাওয়া (আঃ) কেও সৃষ্টি করলেন। আর তখন তাদের মধ্যে বন্ধুত্বের বন্ধন তৈরি হয়। যা আজ অবধি পৃথিবীর সকল মানুষের মাঝে বন্ধুত্বের সেতু হিসাবে বিস্তৃত।

আল্লাহ্ প্রত্যেক মানুষকে পরষ্পর মুখাপেক্ষী করে সৃষ্টি করেছেন। তারই নিমিত্তে পৃথিবী বুকে মানুষে মানুষে হয় বন্ধুত্ব। আর একথা অস্বীকার করার উপায় নাই যে বর্তমান পৃথিবীতে মানুষ বন্ধু ব্যতিরেকে জীবন পরিচালিত করতে পারবে। তাই যেহেতু আমাদের জীবনে বন্ধুত্বের প্রয়োজন সেহেতু সঠিক বন্ধু বাছাই করাও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

আমরা যারা ইসলামী আকিদায় বিশ্বাসী তাদের এই বিষয়টি আরো বেশী গুরুত্বপূর্ণ। যেহেতু আমরা পরকালে বিশ্বাস করি সেহেতু আমাদের সকল কাজ কর্মও সেই মতে হওয়াই বাঞ্ছনীয়। আমরা আমাদের জীবনে এমন কাউকে স্থান দিতে পারি না যে আমাদের পরকালের পথ থেকে বিচ্যুতি করতে পারে। যে নিজেকে একজন সত্যিকারের মুসলিম মনে করে, আমার কথাগুলো একমাত্র তার জন্যই। কেননা শুধু জন্মগত মুসলমান হওয়ার মধ্যে কোন সার্থকতা নেই। নিজেকে মুসলিম দাবি করলে অবশ্যই ইসলামের আকিদায় জীবন পরিচালিত করতে হবে।
আর বন্ধুত্ব করার সময়ও সেটা মাথায় রাখতে হবে। আমাদের প্রাণ প্রিয় নবী করিম (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বন্ধুত্বের ব্যাপারে তিনটি নির্দেশনা দিয়েছেন। অর্থাৎ এই তিনটি গুণ যার মাধ্যমে প্রকাশ পাবে তার সাথে বন্ধুত্ব করো।
এগুলো হলে :

এক -যাকে দেখলে আল্লাহর কথা স্বরন হয়।

দুই -যার কাছে থাকলে এলেম বাড়ে।

তিন -যার আমল দেখে পরকালের কথা স্বরন হয়।

যাকে দেখলে আল্লাহর কথা স্বরন হয় এর ব্যাখ্যা হচ্ছে – যার বেশভূষায় কথা বার্তা সবই ইসলামী অনুশাসনের মধ্যে পড়ে। যিনি সর্বদাই সুন্নতের অনুসরণ করেন। যিনি মানুষকে ভালো উপদেশ দেন। মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন। অর্থাৎ একজন সৎ মানুষকে দেখলেই পাপীরা সাবধান হয়ে যায়। যার সামনে সহজে কোন মন্দ কাজ করা যায় না। যখন আমরা এমন কারো সাথে নিজেদের বন্ধুত্ব স্থাপন করব। তখন আপনাআপনিই আমাদের ভিতরে সর্বদা আল্লাহর কথা স্বরন পড়বে। আর যখনই আল্লাহর কথা স্বরন হবে তখনই আমরা সকল প্রকার পাপ কাজ থেকে বিরত থাকতে পারবো।

যার সাথে থাকলে এলেম বা জ্ঞান বাড়ে এর ব্যাখ্যা হচ্ছে – যিনি আমার চেয়ে জ্ঞানী। যার সংস্পর্শে আসলে আমাদের জ্ঞান বৃদ্ধি পায়। তবে এক্ষেত্রে সকল প্রকার জ্ঞানের চেয়ে ইসলামী জ্ঞানই মূখ্য বিষয়। অনেকেই আছে অনেক খারাপ জ্ঞানের অধীকারী। আমাদের সেই সব মন্দ মানুষ থেকে দূরে থাকতে হবে।

যার আমল দেখলে পরকালের কথা স্বরন হয় এর ব্যাখ্যা হচ্ছে -একজন সৎ বন্ধু যখন ইসলামী অনুশাসনে চলে তখন তার ভালো কাজ গুলো দেখে তার বন্ধুও আল্লাহর দিকে ধাবিত হয়। যখন আযান দেওয়া হয় একজন ভালো বন্ধু মসজিদে যায়। তখন তার সাথে থাকা অন্য বন্ধুও তার দেখাদেখি মসজিদে যায়। আর যদি নাও যায় তবুও তার মনে এই ভীতিটা কাজ করে যে আসলে আমারও মসজিদে যাওয়া উচিত। এভাবে যখন সব বন্ধুরা একসাথে থাকে তখন কোন পাপ কাজ সামনে এসে পড়ে তখন সৎ বন্ধু টি ঐ পথে যায় না। তখন সাথের বন্ধুরাও চিন্তা করে ও আল্লাহ্ কে ভয় করে। তাই এই মন্দ কাজে যাচ্ছে না। আমাদেরও আল্লাহকে ভয় করা উচিত।

হুজুর পাক (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরো সুন্দর উদাহরণ দিয়ে বলেন -যখন একজন মানুষ কোন আতরের দোকানে বা সুগন্ধির দোকানে বসে থাকে। তখন সে যদি আতর বা সুগন্ধি নাও কিনে। তবুও বাতাস তার নাকে আতরের সুঘ্রাণ নিয়ে আসে। অথচ সে শুধু দোকানে বসেছে। কোন আতর ক্রয় ছাড়াই আতরের সুগন্ধ সে পায়। ঠিক তদ্রূপ যখন কোন মানুষ তার কোন ভালো বন্ধুর সংস্পর্শে থাকে। তখন সেই ভালো বন্ধুর কল্যাণে আস্তে আস্তে ঐ মানুষটিও ভালো আমল করতে শুরু করে।

ঠিক তেমনি ভাবে রাসুল পাক (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরও বলেন -যখন কোন ব্যক্তি কামারের দোকানে বসে থাকে। তখন ঐ ব্যক্তি যদিও বা কোন কাজ না করে শুধু বসে থাকে। তবুও বাতাস দোকানের ধূলাবালি ময়লা তার নাকে নিয়ে আসবে। অথচ সে কোন কাজই ওখানে করছে না। ঠিক তেমনি ভাবে একজন খারাপ বন্ধু তার ওপর বন্ধু কে এভাবেই মন্দ পথে নিয়ে যাবে। যদিও সে কিছুই না করুক। ধীরে ধীরে খারাপের সংস্পর্শে এসে যেকোন কেউ খারাপ হয়ে যেতে বাধ্য।

তাই আমরা যারা মনে প্রাণে নিজেদের মুসলিম দাবি করি তাদের অবশ্যই এই বিষয় গুলো খেয়াল রাখা অত্যন্ত জরুরি। ইনশাআল্লাহ, আমরা যদি আল্লাহর নেক দৃষ্টির আওতায় পড়ি তবে তিনি আমাদের এমন সৎ ঈমানদার বন্ধু দান করবেন। আমিন।

লেখাটি সম্পূর্ণ আমার মতো করে লেখা। এখানে ভুল ভ্রান্তি থাকা অকল্পনীয় কিছু নয়। তাই যদি কোন বিচ্যুতি থেকে থাকে তবে অনুগ্রহ করে আমাকে জানালে আমি কৃতজ্ঞ থাকিব।
ইমেল : shakawatalam83@gmail.com

৫৬৮ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
সর্বমোট পোস্ট: ২৬ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৬১০ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৪-০৬-২৩ ০৬:৩৯:৩৩ মিনিটে
banner

১৩ টি মন্তব্য

  1. দীপঙ্কর বেরা মন্তব্যে বলেছেন:

    দারুন
    ভাল লাগল

  2. সোহেল আহমেদ পরান মন্তব্যে বলেছেন:

    সুন্দর তথ্য-সমৃদ্ধ লেখা।

    শুভেচ্ছা রলো আপনার জন্য

  3. আজিম মন্তব্যে বলেছেন:

    ভাল লিখেছেন, ধন্যবাদ।

  4. শাহ্‌ আলম বাদশা মন্তব্যে বলেছেন:

    ভাল্লাগল খুব

  5. আহমেদ রব্বানী মন্তব্যে বলেছেন:

    চমৎকার।অনেকদিন পরে পেলাম আপনাকে।বন্ধু দিবসের শুভেচ্ছা নিন।

  6. ঘাস ফড়িং মন্তব্যে বলেছেন:

    অনেক ভাল লাগল। সুন্দর লেখার জন্য ধন্যবাদ ।

  7. সহিদুল ইসলাম মন্তব্যে বলেছেন:

    ধন্যবাদ,
    আমি একটু যোগ করতে চাই,

    শিক্ষিত লোকের সাথে বন্ধুত্ব করতে হবে।
    কারণ, অশিক্ষিত বন্ধুর চাইতে শিক্ষিত শত্রু ভালো।

  8. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    এত সুন্দর লেখা মন পররাণ ভরে গেল।।

    ধন্যবাদ ভাইয়া

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top