Today 23 Aug 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

বানেছা পরী -০১

লিখেছেন: জসীম উদ্দীন মুহম্মদ | তারিখ: ০৭/০৭/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 813বার পড়া হয়েছে।

এক

উজাড় বাড়ি । আসলে এটি কোন বাড়ি নয় । জনমানবহীন বিরান জংলা ভুমি । এর আশেপাশেও কেউ বাস করে না । অবশ্য বাস করা তো দূরের কথা; দিনেও একলা কেউ যেতে চায় না । আর রাতে তো এই বাড়ির ত্রিসীমানায় কেউ যায় না । যত বড় সাহসী লোকই হোক না কেন ! এ বাড়ির নাম শুনলেই গা ছমছম করে । উজাড় বাড়ির ভিতরে বড় বড় গাছ । গভীর জংগল । ঝোপ-ঝাড় । এর ঠিক মাঝ খানে একটি গভীর খাদ । এই খাদ নিয়ে নানান জনশ্রুতি আছে । কারো কারো মতে, এই খাদের গভীরতা প্রশান্ত মহাসাগরের চেয়েও বেশি ! আবার কেউ কেউ বলে, এই খাদের তলদেশের দিকে যে কেউ দৃষ্টি দিবে তাঁর চোখ অন্ধ হয়ে যাবে । এক চোখের দৃষ্টি দিলে এক চোখ আর দুই চোখের দৃষ্টি দিলে দুই চোখ । আবার কারো কারো মতে, এখানে কোন খাদই নেই ।মায়া ।সব কিছুই জিন-পরীদের মায়া জাল । গভীর রাতে এই খাদের জায়গায় কখনও কখনও একটি সুরম্য প্রাসাদ দেখা যায় । ভিতর থেকে ভেসে আসে বেহালার নানা সুর । নুপুরের নিক্কন । সুরেলা কণ্ঠের গান আর উদ্দাম নৃত্য । অবশ্য কেউ কোন দিন একা একা এর কাছে যাওয়ার মত দুঃসাহস দেখায়নি । আর দেখাবেই বা কিভাবে ? একবার ছমির শেখ নামের এক যুবক । গানের সুরে পাগল হয়ে উজাড় বাড়ির দিকে গেল । তখন রাত প্রায় দুটা । সাথের লোকজন সবাই নিষেধ করল । সে কারো কথাই শুনল না । সেই যে গেল, আর ফিরে এল না ।

পরদিন দেখা গেল, খাদের টলমলে নীল জলে ছমির শেখের মৃত দেহ ভাসছে । পাড়াশুদ্ধ লোক সারাদিন চেষ্টা করল; কিন্তু লাশ খাদ থেকে তুলতে পারল না । হঠাত সকলের চোখের সামনে ছমির শেখের লাশ হাসতে লাগলো । পৈশাচিক হাসি । যেন গান শুনে আনন্দ উল্লাস করছে । মুহূর্তেই একটা হুলস্থূল বেঁধে গেল । যে যার মত পারল দৌড়ে গিয়ে পালিয়ে বাঁচল । সেই থেকে আর কেউ কোনদিন এই খাদের ধারে কাছেও যায় না ।

এই উজাড় বাড়ির পাশেই রাতুলদের বাড়ি । বাড়ি মানে দাদার বাড়ি । রাতে কারো উজাড় বাড়ি পাড়ি হওয়ার বিশেষ প্রয়োজন হলে রাতুলের দাদা সাথে করে নিয়ে যান । তিনি সিদ্ধ পুরুষ । তাঁর কোন ডর ভয় নেই । রাতুলরা ঢাকায় থাকে । বছরে দু তিন বার দাদু বাড়িতে বেড়াতে আসে ।এর মধ্যে দু ঈদের দুই বার কমন। বাবা-মা আর ছোট বোন অহনার সাথে । রাতুলের বয়স সতের বছর । সবে মাত্র এস এস সি পরীক্ষা দিয়েছে । পরীক্ষা খুব ভাল হয়েছে । এ প্লাস পাওয়ার ব্যাপারে কোন সন্দেহ নাই। অবশ্য এ প্লাস এখন প্রায় সবাই পায় । তাই এখন শুধু এ প্লাস পেলেই চলবে না । গোল্ডেন এ প্লাস পেতে হবে। পাওয়ারও জোরালো সম্ভবনা আছে । তাই এখন সে বেশ খোশ মেজাজে আছে । গায়ে ফু দিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে । আর মনে মনে ভাবছে কোথাও বেড়িয়ে আসা যায় কিনা ? কোথায় যাওয়া যায়? এই ভাবনায় কদিন থেকে মনের ভেতর অদ্ভুত এক শিহরণ অনুভব করছে । মন পবনের নৌকায় ভেসে ভেসে রঙের ঘোড়া দৌড়াচ্ছে । বার বার কেন জানি দাদু বাড়ির কথা হচ্ছে ।
(চলমান )

৮৫৬ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
সর্বমোট পোস্ট: ২২৬ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ১৬০৬ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৪-০১-২৪ ১৬:৪০:১২ মিনিটে
banner

১১ টি মন্তব্য

  1. আহমেদ রব্বানী মন্তব্যে বলেছেন:

    গহর বাদশা বানেছা পরী পড়েছিলাম,আপনার বানেছা পরী পড়ছি।

  2. শওকত আলী বেনু মন্তব্যে বলেছেন:

    ভালো লাগছে| চলুক সাথে আছি…

  3. সাখাওয়াৎ আলম চৌধুরী মন্তব্যে বলেছেন:

    চমৎকার হচ্ছে। অপেক্ষায় আছি …..

  4. আরজু মূন মন্তব্যে বলেছেন:

    উজাড় বাড়ি । আসলে এটি কোন বাড়ি নয় । জনমানবহীন বিরান জংলা ভুমি । এর আশেপাশেও কেউ বাস করে না । অবশ্য বাস করা তো দূরের কথা; দিনেও একলা কেউ যেতে চায় না । আর রাতে তো এই বাড়ির ত্রিসীমানায় কেউ যায় না । যত বড় সাহসী লোকই হোক না কেন ! এ বাড়ির নাম শুনলেই গা ছমছম করে । উজাড় বাড়ির ভিতরে বড় বড় গাছ । গভীর জংগল । ঝোপ-ঝাড় । এর ঠিক মাঝ খানে একটি গভীর খাদ । এই খাদ নিয়ে নানান জনশ্রুতি আছে । কারো কারো মতে, এই খাদের গভীরতা প্রশান্ত মহাসাগরের চেয়েও বেশি ! আবার কেউ কেউ বলে, এই খাদের তলদেশের দিকে যে কেউ দৃষ্টি দিবে তাঁর চোখ অন্ধ হয়ে যাবে । এক চোখের দৃষ্টি দিলে এক চোখ আর দুই চোখের দৃষ্টি দিলে দুই চোখ ++++++++++++++++++++++++

  5. আরজু মূন মন্তব্যে বলেছেন:

    জসিম ভাই গল্পে তে মাত করে দিচ্ছেন চলন্তিকা। ………………………

  6. সহিদুল ইসলাম মন্তব্যে বলেছেন:

    আগে পরের পর্ব পড়িনি এ পর্ব পড়ে আরো পড়ার ইচ্ছা জাগলো।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top