Today 14 Nov 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন- বিয়ের বয়স কমবে কেন?

লিখেছেন: শওকত আলী বেনু | তারিখ: ০৮/১০/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 658বার পড়া হয়েছে।

বাল্যবিবাহ রোধে সম্প্রতি মন্ত্রিসভা বৈঠকে নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৪’-এর খসড়া। প্রস্তাবিত ওই খসড়া আইনে মন্ত্রীসভায় নারীর বিয়ের বয়স ১৮ থেকে কমিয়ে ১৬ এবং পুরুষের জন্য ২১ থেকে কমিয়ে ১৮ বছর করার প্রস্তাব করা হয়েছে। যদিও প্রস্তাবিত আইনে বাল্যবিয়ের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির মাত্রা আরও বাড়ানো হয়েছে।

নারী-পুরুষের বিয়ের সর্বনিম্ন বয়সসীমা কমিয়ে দেয়ার প্রস্তাবিত বিষয়টি নিয়ে তেমন কোনো জোরালো প্রতিবাদ হচ্ছে বলে মনে হয়না। যেই তীব্র প্রতিবাদটি প্রথমেই আসা উচিত ছিল বাংলাদেশের সচেতন নারী সমাজ থেকে। নারী অধিকার নিয়ে যারা সর্বত্র বড় বড় কথা বলেন সেই সব আন্দোলনকারী গোষ্ঠিগুলো এই নিয়ে কোনো তীব্র প্রতিবাদ করেছে বলে তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য সংবাদও চোখে পড়েনি। তবে যা চোখে পড়েছে তা হলো সরকারের এই প্রস্তাবে অনেকেই খুশি হয়েছেন। বিশেষ করে হুজুররা বেজায় খুশি।

বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে ১৯২৯ সালের একটি আইন বর্তমানে বিদ্যমান। বিভিন্ন সময়ে ওই পুরানো আইনের কিছু অংশের সংশোধনী আনা হলেও আইনটির তেমন প্রয়োগ নেই এবং যুগোপযোগীও নয়। তাই বর্তমান সরকার শত বছরের পুরানো আইনটির সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছেন এবং প্রস্তাবিত আইনে বাল্যবিয়ের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির মাত্রা বাড়ানো হয়েছে।বাল্যবিবাহ নিরোধের জন্যে শাস্তির পরিমান বাড়ানো নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে।প্রস্তাবিত আইনে দুই বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রাখা হয়েছে যেখানে আগের আইনে এই কারাদণ্ড ছিল এক মাস ও জরিমানা ছিল এক হাজার টাকা মাত্র।

দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা নারী পুরুষের বিবাহের সর্বনিম্ন বয়সসীমা সংক্রান্ত ওই বিষয়টি সরকার কেন পরিবর্তন করার কথা ভাবছে এই নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। কারণ বর্তমান সরকারই শিশু বিষয়ক একটি আইন ও একটি নীতিমালা প্রণয়ন করেছে তাদের গত মেয়াদ কালে। ২০১১ সালে আওয়মীলীগ সরকার জাতীয় শিশু নীতিমালা প্রণয়ন করে এবং ২০১৩ সালে শিশু আইন পাশ করে। ওই নীতিমালা এবং আইনেও উল্লেখ করা হয়েছে, ১৮ বছর কম বয়সীরা সবাই শিশু।জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদেও একই কথা বলা আছে ১৮ বছরের কম বয়সীরা সবাই শিশু। বাংলাদেশ জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদে স্বাক্ষরকারী একটি দেশ। আইন ও নীতিমালায় যেখানে ১৮ বছরের কম বয়সের নারীকে শিশু হিসাবে বিবেচনা করা হয়েছে সেখানে কেন সরকার মেয়েদের বিয়ের সর্বনিম্ন বয়স ১৬ বছর করে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন পাশ করার পথ ধরে হাটছে?

প্রশ্ন উঠতেই পারে সরকারের আসল উদ্দেশ্য কি ? হুজুররা সরকারকে বাহবা দিয়ে যাচ্ছে। ইসলামী দলগুলো এতে মহা খুশি। তারা বয়স ১৫ তে নামিয়ে আনার দাবিও করছেন। দেখা যাক সরকারের স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কী বলেছেন এই বিষয়ে।সরকারের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক এর ধারণা ‘অল্পবয়সি মেয়েরা’ নাকি আজকাল পালিয়ে বিয়ে করছে৷ তাই স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক মেয়েদের বিয়ের বয়স কমানোর জন্য এটাকে একটা কারণ হিসাবে দেখছেন। অল্প বয়সী মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দিলে তারা আর পালিয়ে বিয়ে করার সুযোগ পাবেনা- এই হলো প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের মেয়েদের বয়স কমানোর ত্বাত্তিক সমাধান!

মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি বলছেন এইভাবে, ‘বাংলাদেশের আর্থ সামাজিক বাস্তবতায় বিয়ের জন্য এই উঁচু বয়স সীমা জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি করছিল। বিশেষ করে মেয়েদের ক্ষেত্রে এই আইনের প্রয়োগ কঠিন হচ্ছিল’। তাই তিনি মনে করেন বিয়ের বয়সসীমা কমাতে হবে। মেয়েদের ১৬ বছর বয়স মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী’র কাছে উঁচু বয়স মনে হয়েছে!

সরকারের আসল উদ্দেশ্য যদি বাল্যবিবাহ রোধ করা হত তাহলে বয়স কমিয়ে নয় বরং আইনের সঠিক প্রয়োগ ঘটিয়ে শক্তহাতে দমন করে এই পথে আগানো যেত। সরকারের উদ্দেশ্য হলো বাল্যবিবাহ প্রবণ দেশ হিসেবে কাগজে কলমে বাংলাদেশের অবস্থার কিছুটা উন্নতি ঘটানো।সরকারের আসল উদ্দেশ্য জানতে হলে নজর দিতে হবে একটু অন্য দিকে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে বলে যাচ্ছে, বাল্যবিবাহে বাংলাদেশের সূচক সবচেয়ে খারাপ।জাতিসংঘের শিশুসংস্থা ইউনিসেফ এর এক গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছে ১৫ বছরের কম বয়সী মেয়েদের বিয়ের হার বাংলাদেশেই বিশ্বের সর্বোচ্চ।খাতা কলমে বাল্যবিবাহের ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ায় আমরা অনেকটা এগিয়ে আছি। যদি সময়সীমা একটু কমিয়ে ১৬ বছর করা হয় তাহলে এই পরিসংখ্যান পাল্টে যাবে। বাল্যবিবাহ প্রবণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থার হয়তো উন্নতি ঘটবে কাগজে কলমে। সরকার মনে করছে মেয়েদের বিয়ের সর্বনিম্ন বয়স কমিয়ে দিয়ে আইন করে নিলে বাল্যবিবাহে বাংলাদেশের সূচকের উন্নতি ঘটবে।এতে সরকারের লাভ৷আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, ঋণ এবং নানা ধরণের অর্থনৈতিক সুবিধা পেতে সহজ হবে।

কিন্তু বাস্তবে কী ঘটবে?এই আইনটি পাশ হলে বাল্যবিবাহ রোধ হবে নাকি উল্টো বাল্যবিবাহের ক্ষেত্র তৈরিতে ভয়ংকর সুযোগ সৃষ্টি হবে৷বিষয়টি আইননানুগভাবে শিশু বিবাহের পথ উন্মুক্ত করে দিয়ে আর একটি নতুন সংকট তৈরি করবে কিনা তা এখনই ভেবে দেখতে হবে। একটি সহজ হিসাব হলো বিয়ের সর্বনিম্ন বয়স আইনের মাধ্যমে কমিয়ে নিলে নারীরা শিক্ষাসহ নানা উন্নয়নে পিছিয়ে পড়বে তাতে কোনো সন্দেহ নেই৷মায়েদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়বে, বাড়বে শিশু ও মায়ের মৃত্যুর হার৷ একই সাথে নারীশিক্ষার প্রসারে সরকারের নেয়া পদক্ষেপগুলোর বিপরীতে একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে। সরকার যেখানে নারীশিক্ষার উন্নয়নে ডিগ্রী পর্যন্ত লেখাপড়ার ব্যয় মওকুফ করার পদক্ষেপ নিচ্ছে সেখানে কেন বিয়ের সর্বনিম্ন বয়সসীমা কমিয়ে নারী উন্নয়নের বিকাশকে ব্যহত করবে? এই প্রস্তাবিত আইনটি পাশ হলে নারী উন্নয়নে সরকারের সামগ্রিক পরিকল্পনার সাথে এবং জাতীয় শিশু নীতিমালা ও শিশু আইনের সাথে সাংঘর্ষিক হবে।

বাংলাদেশে বাল্যবিয়ের পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ তা ইউনিসেফের একটি প্রতিবেদন থেকে স্পষ্ট আঁচ করা যায়। বাংলাদেশে ১৫ বছর বয়স হওয়ার আগেই শতকরা ৩৯ শতাংশ মেয়ের এবং ১৮ বছরের মধ্যে ৭৪ শতাংশ মেয়ের বিয়ে হয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশে বাল্যবিয়ের গড় হার ৬৫ শতাংশ। বাংলাদেশে এখনও প্রতি এক লাখ শিশুর জন্মের সময় ১৭০ জন মা মারা যায় যাদের বেশির ভাগ বয়স ১৫ থেকে ১৯ বছর যেখানে ইউরোপ এই সংখ্যা গড়ে ৬ থেকে ৮ জন। গবেষকরা বলছেন, বাল্যবিবাহের শিকার শতকরা ৮০ ভাগ নারীরা স্বামী কর্তৃক নির্যাতিত হচ্ছেন৷ এছাড়া এসব নারীর শতকরা ৬০ ভাগ শিশু জন্মগত নানাবিধ রোগ ও প্রতিবন্ধিতার শিকার হচ্ছে৷ প্রস্তাবিত আইনটি পাশ হলে উল্লেখিত পরিসংখ্যানের ভয়াবহতা আরও বৃদ্বি পাবে ।

আইনটি পাশ হলে নিশ্চিতভাবেই নারী সমাজ ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। কাগজে কলমের পরিসংখ্যান দেখিয়ে আমরা আত্মতৃপ্তি পেতে পারি কিন্তু ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরো কত জটিল হতে পারে তা সরকারকে আইনটি পাশ করার আগেই ভেবে দেখতে হবে। বয়সসীমা কমিয়ে বাল্যবিবাহের শিকার একটি শিশুর পুরো জীবন ধ্বংস করে দেয়া হয়ত আর ঠেকিয়ে রাখা যাবেনা।

৬৪৪ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
লেখালেখি করি।সংবাদিকতা ছেড়েছি আড়াই যুগ আগে।তারপর সরকারী চাকর! চলে যায় এক যুগ।টের পাইনি কী ভাবে কেটেছে।ভালই কাটছিল।দেশ বিদেশও অনেক ঘুরাফেরা হলো। জুটল একটি বৃত্তি। উচ্চ শিক্ষার আশায় দেশের বাইরে।শেষে আর বাড়ি ফিরা হয়নি। সেই থেকেই লন্ডন শহরে।সরকারের চাকর হওয়াতে লেখালেখির ছেদ ঘটে অনেক আগেই।বাইরে চলে আসায় ছন্দ পতন আরো বৃদ্বি পায়।ঝুমুরের নৃত্য তালে ডঙ্কা বাজলেও ময়ূর পেখম ধরেনি।বরফের দেশে সবই জমাট বেঁধে মস্ত আস্তরণ পরে।বছর খানেক হলো আস্তরণের ফাঁকে ফাঁকে কচি কাঁচা ঘাসেরা লুকোচুরি খেলছে।মাঝে মধ্যে ফিরে যেতে চাই পিছনের সময় গুলোতে।আর হয়ে উঠে না। লেখালেখির মধ্যে রাজনৈতিক লেখাই বেশি।ছড়া, কবিতা এক সময় হতো।সম্প্রতি প্রিয় ডট কম/বেঙ্গলিনিউস২৪ ডট কম/ আমাদেরসময় ডট কম সহ আরো কয়েকটি অনলাইন নিউস পোর্টালে লেখালেখি হয়।অনেক ভ্রমন করেছি।ভালো লাগে সৎ মানুষের সংস্পর্শ।কবিতা পড়তে। খারাপ লাগে কারো কুটচাল। যেমনটা থাকে ষ্টার জলসার বাংলা সিরিয়ালে। লেখাপড়া সংবাদিকতায়।সাথে আছে মুদ্রণ ও প্রকাশনায় পোস্ট গ্রাজুয়েশন।
সর্বমোট পোস্ট: ২০৩ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৫১৯ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৬-১৭ ০৯:২৪:৩১ মিনিটে
banner

২ টি মন্তব্য

  1. গোলাম মাওলা আকাশ মন্তব্যে বলেছেন:

    আমার মতে বাল্যবইবাহ রোধ না করে , তাড়া তাড়ি সন্তান ধারনের ব্যপারে মন দিতে হবে। আইন কিছু করতে পারবে না।

  2. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    হুম। ক্ষমতাধররা যা ইচ্ছা তাই করতে পারেন

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top