Today 14 Nov 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

বিকেলের এই কাশবন

লিখেছেন: আরজু মূন জারিন | তারিখ: ০৮/১১/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 1142বার পড়া হয়েছে।

১.বিকেলের এই কাশবন টা তার খুব প্রিয় সময় কাটানোর জন্য। নিরিবিলি সাদা স্থান টি তে প্রতিদিন কিছু টা সময় তার কাটানো চাই। এই সময় টায় ভুলে যায় সব কিছু তার আপন পর দুনিয়াদারী ,বন্ধু ,বান্ধবী,এমনকি মা বাবা ,ভাই বোন। সম্পর্ক ,মানুষ যতটা তার ভিতর ভরাট করতে পারে তার চেয়ে বেশী ভরাট করে দেয় এই নিবিড়, প্রাকৃতিক বনভূমি। এ তার একান্ত ভালবাসার স্থান .প্রতিদিন বিকাল কাজ শেষে একাই এই জায়গায় চলে আসে সে। এমন কি প্রিয়তি কে বলেনা কখন ও আসার জন্য। এই সময় বন্ধ রাখে তার ফোন। প্রিয়তি র ফোন দেখলে সে কেটে দেয়। কিছু টা নিজের আত্মা , বিবেক হৃদয় এর মুখোমুখি হয়। নিজের মনে আসা সব প্রশ্নের জবাব দেয় সে নিজেকে। প্রতিদিন ই একবার নিজেকে শুদ্ধ করে নেয় ভিতর আত্মার সম্মুখীন হয়ে নতজানু হয়ে সব প্রশ্নের জবাব দিয়ে।

নাম তার মাসুদ নীল। আপন জনের নীল।যদিও প্রিয়তি তাকে ডাকে মাসুদ বলে। নীলের চেয়ে মাসুদ ডাকে বেশী আপন মনে হয়। কাজ করে এক প্রাইভেট কোম্পানী তে। তেমন কোন আহামরি কাজ ও না। কিছু একটা কাজে ইনভলভ থাকার জন্য করা। যদিও তার আর প্রিয়তি র একযুগ কাজ না করলে কোন অসুবিধা নেই। বাবা র অনেক ব্যান্ক ব্যালেন্স ,বিশেষ করে প্রিয়তি বাবা মার একমাত্র মেয়ে। প্রচুর টাকা পয়সা তার নামে যা সে খরচ করতে পছন্দ করে। মাসুদের দৃষ্টিতে তা এক ধরনের অপচয়।

আকাশ টার রং আজ অনেক বেশী নীল মনে হচ্ছে। হাতের উপর মাথা ফেলে শুয়ে পড়ে কাশ ক্ষেতে। শুয়ে শুয়ে আকাশ দেখতে দেখতে একসময় ঘুমিয়ে পড়ে সে প্রিয়তির ফোন উপেক্ষা করে।

২.একগাদা কাপড়ের উপর বসে আছে প্রিয়তি। রকমারি সালোয়ার কামিজ ,হরেক রকম শাড়ি ,কোন টাই তার আজ পছন্দ হচ্ছেনা। প্রতি টি কাপড় সে শখ করে মাসুদ সহ কিনেছে। এখন আর ভাল লাগছেনা। মাসুদ টা পাশে না থাকলে তার মন টা এমন ই দ্বিধাগ্রস্থ হয়ে পড়ে। কোন ও কিছু তে সে সিদ্ধান্ত নিতে পারেনা একা একা। এত পরনির্ভরশীল কেন যে হলো সে ভেবে পায়না। বার বার মাসুদ কে ফোন করছে। কি করছে ও ?

তার কান্না পেতে লাগলো।

বাবা এসে ঢুকল সেই সময়ে।

কি হয়েছে আমার মামনির ? ওকে উন্মনা দেখে জিজ্ঞাসা করে।

কিরে নীল কোথায়? ওর উত্তর না পেয়ে আবার ও জিজ্ঞাসা করে বাবা।

আমি জানিনা একটু চড়া গলায় বলে। বাবা বুঝলেন কিছু একটা হয়েছে যার কারনে মেয়ের মন সুবিধা জনক অবস্থায় নেই।

হই হই করে সব বান্ধবী রা ঢুকলো সেই সময়। সবাই একযোগে হামলে পড়ল বিছানায় রাখা ড্রেস গুলোর উপর।

ওহ এত সুন্দর ড্রেস এটা আমি পড়ব। আরেকজন আরেকটা নিয়ে পড়তে চলে গেল।

একজন তাকে ধাক্কা মারলো ” কিরে তোর কি হয়েছে ? এত মরা মরা ভাব কেন ? আজ স্বপ্না র গায়ে হলুদ ভুলে গেলি নাকি ? সবাই কিন্তু স্বপ্নার বাসায় থাকব। আমি মাকে বলে বেরিয়েছি টিনা নামে এক বান্ধবী বলে উঠে।

তোরা যা আমি আজ কোথাও যাবনা।

সব ড্রেস মাটিতে ছুড়ে ফেলে কাদতে শুরু করল সে এবার।

বাবা মা আকূল হয়ে ভাবছে কি হল হাসিখুশী মেয়েটার।

৩ লাপ দিয়ে উঠে বসল নীল।কিছু একটা কামড় দিয়েছে পায়ে।ইশরে রাত হয়ে গিয়েছে দেখি।টর্চ জ্বালিয়ে দেখল অনেকবার প্রিয়তীর ফোন আর ও অনেক বন্ধুদের ফোন।কি এক আলসেমীতে পেয়ে বসেছে তাকে।ইচ্ছে হচ্ছে আবার শুয়ে পড়ে এই জায়গায়।বাসায় ফিরতে ইচ্ছে হচ্ছেনা।কেন যে ঘর বাড়ী মানুষ কিছুই ভাল লাগেনা তার।এক উদাসীন বৈরাগী মন তার ভিতরটাকে যুক্তিহীন ভাবে এলোমেলো করে ফেলে কিছুক্ষনে।

সংসার,ঘরবাড়ী,পরিবার,প্রিয়তি কোন কিছুতে যেন তার দরকার নেই।

এই কাশবন টা তার ঘরের মত ই হয়ে গিয়েছে যেন।

বিকাল পেরিয়ে সন্ধা এখন রাত দশটা।ফোনটা বেজে উঠল আবার।প্রিয়তী।হতাশ হয়ে ফোন ধরল।ওপাশ থেকে প্রিয়তীর ফূফিয়ে কান্নার আওয়াজ শুনতে বিবেকের দংশনে লাপ দিয়ে উঠে দাড়াল।

তুমি এমন কেন? প্রিয়তি ফুফিয়ে কেদেই চলছে ক্র্মাগত।

আসছি এখনই আমায় মাপ কর।

মুক্তি নাই এই শাসরুদ্ধকর ভালবাসা এই বন্ধন থেকে।

সমাপ্ত।

১,১৩৫ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
নিজের সম্পর্কে কিছু বলতে বললে সবসময় বিব্রত বোধ করি। ঠিক কতটুকু বললে শোভন হবে তা বুঝতে পারিনা । আমার স্বভাব চরিত্র নিয়ে বলা যায়। আমি খুব আশাবাদী একজন মানুষ জীবন, সমাজ পরিবার সম্পর্কে। কখনো হাল ছেড়ে দেইনা। কোনো কাজ শুরু করলে শত বাধা বিঘ্ন আসলেও তা থেকে বিচ্যুত হইনা। ফলাফল পসিটিভ অথবা নেগেটিভ যাই হোক শেষ পর্যন্ত কোন কাজ এ টিকে থাকি। জীবন দর্শন" যতক্ষণ শ্বাস ততক্ষণ আশ " লিখালিখির মূল উদ্দেশ্যে অন্যকে ভাল জীবনের সন্ধান পেতে সাহায্য করা। মানুষ যেন ভাবে তার জীবন সম্পর্কে ,তার কতটুকু করনীয় , সমাজ পরিবারে তার দায়বদ্ধতা নিয়ে। মানুষের মনে তৈরী করতে চাই সচেতনার বোধ ,মূল্যবোধ আধ্যাতিকতার বোধ। লিখালিখি দিয়ে সমাজে বিপ্লব ঘটাতে চাই। আমি লিখি এ যেমন এখন আমার কাছে অবাস্তব ,আপনজনের কাছে ও তাই। দুবছর হলো লিখালিখি করছি। মূলত জব ছেড়ে যখন ঘরে বসতে বাধ্য হলাম তখন সময় কাটানোর উপকরণ হিসাবে লিখালিখি শুরু। তবে আজ লিখালিখি মনের প্রানের আত্মার খোরাকের মত হয়ে গিয়েছে। নিজে ভালবাসি যেমন লিখতে তেমনি অন্যের লিখা পড়ি সমান ভালবাসায়। শিক্ষাগত যোগ্যতা :রসায়নে স্নাতকোত্তর। বাসস্থান :টরন্টো ,কানাডা।
সর্বমোট পোস্ট: ২২৯ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৩৬৮৩ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৯-০৫ ০১:২০:৩৫ মিনিটে
banner

১৪ টি মন্তব্য

  1. দীপঙ্কর বেরা মন্তব্যে বলেছেন:

    অফুরান ভালোবাসার অনাবিল সুখ দুঃখ নিয়ে
    ভাল লাগল

    • আরজু মূন জারিন মন্তব্যে বলেছেন:

      অফুরান ভালোবাসার অনাবিল সুখ দুঃখ……….
      অনেক অনেক ধন্যবাদ চমৎকার কমেন্টসের জন্য রেবা দা।কেমন আছেন?
      ভাল থাকবেন কেমন।

  2. সহিদুল ইসলাম মন্তব্যে বলেছেন:

    লেখা নিঃসন্দেহে অনেক সুন্দর। ভালো বা প্রশংসা করার যোগ্যতা আমার আছে কিনা জানিনা,
    তবে আমি বলবো আপু আপনি যাই লিখেন, কেন এতো ভালো লাগে জানি না।

    শ্রদ্ধেয় আপু,
    বেদনা মধুর হয়ে যায়, তুমি ( আপনি) যদি গাও………

    • আরজু মূন জারিন মন্তব্যে বলেছেন:

      ইশ ভাই আপনার কমেন্টস আমি বাধাই করে রাখতে চাই।এ কোন লেখা হয়নি আসলে।আমি আপনাদের এত মিস করছিলাম যে তাড়াহুড়ায় এই লেখাটা দিলাম।তবে এখন থেকে আবার লিখব ভাবছি।লিখালিখি আর ব্লগ ছাড়া নিজেকে মৃত মানুষের মত মনে হচ্ছিল একেবারে।

      আপনি কেমন আছেন ভাই?
      ধন্যবাদ কমেন্টসের জন্য।ভাল থাকবেন কেমন।

  3. আরজু মূন জারিন মন্তব্যে বলেছেন:

    অনাবিল শান্তিতে ভরে উঠুক আপনার ও জীবন,কখনো যেন শুনতে না হয়, আপনি ভালো নেই। ধন্যবাদ আবার ও কমেন্টসের জন্য।ভাল থাকবেন কেমন।

  4. শওকত আলী বেনু মন্তব্যে বলেছেন:

    মুন বিকেলের কাশবনে ভালই কেটেছিলাম । এবার সকালের দুর্বা ঘাসে পা মেলে বসতে চাই । হয়ে যাক আর একটা । ভালো থাকুন নিরন্তর ।

  5. আরজু মূন জারিন মন্তব্যে বলেছেন:

    বেনু ভাই খুজেছিলাম তো কাশবনে আপনাকে।একবার না দুইবার না কাশবনে বারবার যেতে ইচ্ছে করবে।আপনাদের আড্ডায় ফিরে আসলাম আবার

    আপনার ও নুতুন নুতুন লেখা চাই কেমন।অনেক অনেক ধন্যবাদ কমেন্টসের জন্য।শুভেচ্ছা রইল ।

  6. এম, এ, কাশেম মন্তব্যে বলেছেন:

    ভাল লাগায় সিক্ত হলাম
    অনেক অনেক শুভেচ্ছা।

  7. আরজু মূন জারিন মন্তব্যে বলেছেন:

    আমি ও কাশেম ভাইয়ের ভাল লাগায় সিক্ত হলাম
    অনেক অনেক শুভেচ্ছা।।অনেক অনেক ধন্যবাদ কমেন্টসের জন্য..

  8. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    চমৎকার গল্প আপু।

    সবারই নিজের জন্য কিছু সময় রাখা উচিত!

  9. আরজু মূন জারিন মন্তব্যে বলেছেন:

    অনেক অনেক ধন্যবাদ আপু।তুমি পড়েছ দেখে খুশী হয়েছি।

    অনেক অনেক ধন্যবাদ কমেন্টসের জন্য..

  10. হরিশঙ্কর রায় মন্তব্যে বলেছেন:

    সুন্দর প্রকাশ । খুব ভালো লাগল আমার কাছে ।

  11. আরজু মূন জারিন মন্তব্যে বলেছেন:

    ধন্যবাদ হরিশন্কর মন্তব্যের জন্য।শুভেচ্ছা রইল।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top